Amardesh
আজঃঢাকা, বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০১৩, ২৭ আষাঢ় ১৪২০, ০১ রমজান ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ইফতারে ফলের পরিমাণ বেশি রাখুন

আল্ খালিদ
রোজা অতি সন্নিকটে। সারাদিন রোজা রেখে ইফতারি হওয়া চাই স্বাস্থ্যসম্মত। ভাজা-পোড়া খাবারের প্রতি সবারই আগ্রহ বেশি থাকে। ঝালে-ঝোলে ভাজি করা বা তৈলাক্ত খাবার মুখরোচক হলেও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই যতটা সম্ভব তেলে ভাজা বা তৈলাক্ত খাবার পরিহার করুন। ইফতারিতে ফলমূল বেশি বেশি খাবার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে শরীর সুস্থ থাকবে, ত্বকও সুন্দর থাকবে।
সুস্বাস্থ্য ও ফল খাওযার উপকারিতা
* প্রথমত ফলে ভিটামিন এ ও সি থাকে,
* দ্বিতীয়ত এটি লো ক্যালরি খাদ্য অর্থাত্ এটি খেলে মোটা হওয়ার ভয় নাই,
* তৃতীয়ত এটির ফাইবার বা ছিবড়াযুক্ত অংশ কোষ্ঠকাঠিন্য জাতীয সমস্যা দূর করে।
তাছাড়া আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির গবেষণা অনুযায়ী ক্যান্সার থেকে মুক্তি পেতে হলে ফল খেতে হবে। কারণ ফলের ভিটামিন এ ও সি ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে, গোটা ফল চিবিয়ে খাওয়ার উপকারিতা রস করে খাওয়ার চেয়ে আরও বেশি। কারণ গোটা ফলে আঁশের (ফাইবার) গুণটি বজায় থাকে ও ফলের রসে তা কমে যায়। কিছু ফল সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো :
কমলা ও বাতাবি লেবু : কমলালেবু, মুসাম্বি, বাতাবি লেবু, পাতিলেবু এর মধ্যে সবকটিতেই কম-বেশি ভিটামিন সি আছে। তবে বড় যে মোটা খোসার কমলালেবু পাওয়া যায় সেটিতে ভিটামিন সি’র মাত্রা বেশি, কিন্তু অপেক্ষাকৃত ছোট পাতলা খোসার কমলালেবুতে ভিটামিন সি কম থাকলেও ভিটামিন- এ’র মাত্রা বেশি।
আপেল, কলা, পেয়ারা : এই ফলগুলোতে ভিটামিনের মাত্রা কম হলেও এগুলোতে আঁশ বা ফাইবার যথেষ্ট পরিমাণে থাকে। তাই খাদ্য তালিকায় এগুলো থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্যজাতীয় সমস্যা একেবারেই থাকবে না। এতে আয়রনের পরিমাণ যথেষ্ট থাকায় রক্তস্বল্পতায় যারা ভোগেন তাদের জন্য আদর্শ খাদ্য। দামি ফল মানেই ভালো ফল নয়। দৈনিক কমপক্ষে একটি করে ফল খেতে ভুলবেন না।
যে কোনো বয়সেই হার্টের রোগ দেখা দিতে পারে। ফল ও সবজি হার্টের সমস্যায় বেশ কার্যকর। হৃদরোগে তাজা ও শুকনো ফল প্রায় অমৃতের মতো কাজ করে। যেমন নারকেল, নাশপাতি, খেজুর, পানিফল ও আপেল হৃদরোগে টনিকের মতো কাজ করে। অনেক সময় এসব ফল দামি ওষুধের চেয়েও বেশি কাজ করে। প্রাচীন ও আধুনিক চিকিত্সকরা হার্টের রোগে আপেলের গুণ ও উপকারিতা সম্পর্কে একমত। দুর্বল হার্টের রোগীকে আপেলের জ্যাম খাওয়াতে পারলে ভালো হয়। তাজা আঙুর, আনারস, কমলালেবু, আতা ও ফলসা হার্টকে মজবুত করে। বাদাম ভেজানো পানি ও নারকেলের পানি হার্টের পক্ষে সঞ্জীবনীর কাজ করে।
আম : ফলের বহুমাত্রিক ব্যবহার মানব ইতিহাসের শুরু থেকেই চলে আসছে। শুধু মুখরোচক খাবার হিসেবেই নয় পুষ্টিগুণ, ওষুধ তৈরিসহ ফলের রয়েছে বহুমাত্রিক ব্যবহার। কিছু ফল সারা বছর পাওয়া গেলেও জ্যৈষ্ঠ মাসে এসব ফল বাজারে আসে বেশি। স্বাদ, পুষ্টি ও গন্ধে আম অতুলনীয়। পাকা আমে রয়েছে প্রচুর ক্যারোটিন। আম লিভার বা যকৃতের জন্য ভীষণ উপকারী। রাতকানা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধে কাঁচা ও পাকা আম অতুলনীয়। বর্তমানে আমের দাম কম হলেও রোজায় একটু বেশি হবে।
এখন বাজারে আমের দাম কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ১৫০ টাকা হলেও রোজায় বেড়ে যেতে পারে।
জাম : বাংলাদেশের সুপরিচিত একটি ফল। এই ফলের কচি পাতা পেটের অসুখ সারাতে সহায়ক। আম ও জামের রস একত্রে খেলে বহুমূত্র রোগ ভালো হয়। লোকমুখে প্রচলিত আছে, জামের রস রক্তকণিকা পরিষ্কারে সহায়তা করে। ৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকায় এক কেজি জাম পাওয়া যাচ্ছে।
কাঁঠাল : কাঁঠাল জাতীয় এই ফল দেশের প্রায় সব জেলাতেই কমবেশি হয়। কাঁঠালে রয়েছে প্রচুর শর্করা, আমিষ ও ভিটামিন-এ। কাঁচা কাঁঠাল তরকারি হিসেবে আর পাকলে ফল হিসেবে খাওয়া যায়। এর দানা ভেজে কিংবা রান্না করে খেতেও মজা।
কাঁঠালে রয়েছে প্রচুর ভেষজগুণ। এর শাঁস ও দানা চীনে বলবর্ধক হিসেবে বিবেচনা করে। ফলটি সাধারণত জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাসে পাকে। আকারভেদে কাঁঠালের দাম ৮০ থেকে ৩০০ টাকা। তাই ভালোভাবে দেখে কাঁঠাল কিনবেন।
বেল : বেল সারা বছর পাওয়া গেলেও গরমকালে এই ফলের চাহিদা বেশি দেখা যায়। কোষ্ঠকাঠিন্য ও আমাশয় সারাতে বেল অনেক উপকারী। এই ফলের পাতার রস মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে চোখের ছানি ও চোখ জ্বালা করা রোগের উপশম হয়।
জামরুল : রসালো ও হালকা মিষ্টি জামরুল গ্রীষ্মকালেই পাওয়া যায়। এটি ভিটামিন বি-২ সমৃদ্ধ ফল। বহুমূত্র রোগীর জন্য জামরুল অনেক উপকারী। বর্তমানে সাদা, খয়েরি-লাল ও হালকা গোলাপি রঙের জামরুল দেখা যায়। কেজিপ্রতি দাম ৫০ থেকে ৮০ টাকা।
বেশি বেশি ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি। ভাজা-পোড়া ইফতারি আইটেম থেকে কমিয়ে ফলের পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খান, সুস্থ থাকুন।
আনারস : পাকা আনারস শক্তি বাড়ায়। কফ নিরাময়ে সহায়ক, পিত্তনাশক এবং হজম বৃদ্ধি করে। এ ফলের শাঁস ও পাতার রস মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে কৃমি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। আনারসের জ্যাম-জেলি তৈরি করেও সংরক্ষণ করা যায়। হালিপ্রতি আনারসের দাম ৮০ থেকে ১৬০ টাকা।