Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ১২ মে ২০১৩, ২৯ বৈশাখ ১৪২০, ১ রজব ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

লিটল ম্যাগাজিন সংবাদ

নন্দন
সম্পাদক : নাজিব ওয়াদুদ
প্রচ্ছদ : পলাশউদ্দীন তরুণ
যোগাযোগ : লিপিকা, ১৬০, অকট্রয় মোড়,
কাজলা, রাজশাহী-৬২০৪
মূল্য : ৫০ টাকা।

সৃজনশীল চিন্তার ছোটকাগজ ‘নন্দন’ এর সপ্তম সংখ্যা (জানুয়ারি-এপ্রিল) সম্প্রতি বাজারে আসে। আধুনিক কথাসাহিত্যের অন্যতম শিল্পী সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজকে এই সংখ্যা উত্সর্গ করা হয়েছে। এই মহান লেখক ২০১২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পরপারে পাড়ি জমান। সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজকে উত্সর্গ করে এ সংখ্যার সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ... এই মহান সাহিত্যিক বাংলা কথাসহিত্যকে পাশ্চাত্যানুসারিতা থেকে মুক্ত করে দেশীয় চারিত্র দিতে চেষ্টা করেছেন। তার এই প্রচেষ্টা সর্বাংশে হয়তো সফল হয়নি, কিন্তু একটা পথ তিনি তৈরি করতে পেরেছেন। সে পথে এগোলে বাংলা কথাসাহিত্য আধুনিক ও বৈশ্বিক ঐতিহ্য ও সর্বজনীনতা ধারণ করেও দেশি ও নিজস্বতা-সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে সে প্রত্যাশা পোষণ করা যায়।...
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজকে স্মরণ করে এই সংখ্যায় লেখা প্রবন্ধগুলো হচ্ছে— সৈয়দ আহসান জামিলের ‘অলীক মানুষ’, আবুল বাশারের ‘অলীক মানুষের রূপকার’, কানুগোপাল দাসের ‘সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ : অলীকচিত্র আলোকবৃক্ষ’, নীহারুল ইসলামের ‘আমাদের রাজা, আমার অভিভাবক’, এবং সুশোভন রফি’র ‘আমার বড় আব্বা সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ : তার লেখা’।
গল্পকার অলোক গোস্বামী ২০০৩ সালে ছোটগল্প সম্পর্কে সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের একটি সাক্ষাত্কার নিয়েছিলেন। গল্পসংক্রান্ত বার্ষিক পত্রিকা গল্পবিশ্ব’র জানুয়ারি ২০০৩ সংখ্যায় এটি প্রকাশিত হয়। সেই সাক্ষাত্কারটি নন্দনের এ সংখ্যায় পুনঃপ্রকাশিত হলো।
গুণী এই লেখক ও তার সাহিত্যকর্মকে মূল্যায়ন করে লেখা প্রবন্ধগুলো হচ্ছে— বেলাল চৌধুরী’র ‘সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ : অবিস্মরণীয় সাহিত্যস্রষ্টা’, শওকত আলী’র ‘অলীক মানুষ- এর করিগর’, মনোজিত্ কুমার দাসের ‘সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ : ব্যতিক্রমধর্মী কথাসিহিত্যিক’, মোহাম্মদ কবীর আহমদের ‘সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ পাঠ কেন জরুরি’, এবং ড. ফজলুল হক সৈকতের ‘সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ : অনুকরণীয় অভিভাবকের প্রস্থান’। এছাড়া আরও যারা লিখেছেন— তারা হলেন ভাগীরথ মিশ্র, নুরুল করিম নাসিম, সৈয়দ হাসমত জালাল, কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, মোমেনুর রসুল, আশরাফ উদ্দীন আহমদ, নূর কামরুন নাহার প্রমুখ।
‘সূর্যমুখী’ সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের সেরা গল্প। সম্পাদকের ব্যাখ্যাসহ সেই গল্পটি এখানে সঙ্কলন করা হয়েছে। আর সর্বশেষ রয়েছে সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জি।
সহিত্যের সব শাখায় ছিল সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের অবাধ বিচরণ। উপন্যাস লিখেছেন দেড় শতাধিক, গল্প লিখেছেন তিন শ’রও বেশি। খ্যাতিমান এই কথাশিল্পীকে নিয়ে লেখাগুলো পাঠককে এই মহান কথাসাহিত্যিক সম্পর্কে কিছুটা হলেও জানতে সহায়তা করবে।

উত্সঙ্গ
সম্পাদক : আহমদ বাসির, আফসার নিজাম ও রেদওয়ানুল হক
প্রচ্ছদ : মোমিন উদ্দীন খালেদ
যোগাযোগ : পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
মূল্য : ১০০ টাকা।
সৃজনশীল চিন্তার ছোট কাগজ ‘উত্সঙ্গ’ এর সাজজাদ হোসাইন খান সংখ্যা প্রকাশিত হয় গত ফেব্রুয়ারিতে। সাজজাদ হোসাইন খান বাংলা ছড়ার জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ছড়া সাহিত্যে তিনি এরই মধ্যে নিজস্ব একটি জগত্ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়া তিনি আপাদমস্তক একজন কবি। একজন সৃষ্টিশীল সাহিত্যিক। আর তাই তো গুণী এই কবি-ছড়াকারকে নিয়ে উসঙ্গের এই সংখ্যা।
এই সংখ্যায় সাজজাদ হোসাইনকে নিয়ে সমসাময়িক বাংলা সহিত্যের যেসব কবি-সাহিত্যিকের প্রবন্ধ-নিবন্ধ স্থান পেয়েছে, সেগুলো হলো— আল মাহমুদের ‘সে একজন তন্ময় সাহিত্যপ্রেমিক’, মোহাম্মদ মাহ্ফুজউল্লাহ’্র ‘সাজজাদ হোসাইন খানের কবিমানস এবং তাঁর ছড়া ও কবিতার বৈশিষ্ট্য’, আবদুল মান্নান সৈয়দের ‘কালের ছবি’, আল মুজাহিদী’র ‘সাজজাদ হোসাইন খান-এর ছড়া-শব্দশিল্প’, শেখ তোফাজ্জল হোসেন-এর ‘বন্ধু সাজজাদ’, আবু সালেহ-এর ‘আমার বন্ধু ছড়াকার সাজজাদ হোসাইন খান’ এবং ফারুক নওয়াজ-এর ‘আমাদের প্রিয় শিশুসাহিত্যিক’।
এই ছড়াকারকে নিয়ে আরও যার প্রবন্ধ লিখেছেন, তারা হলেন— জুলফিকার আহমদ কিসমতী, মুহম্মদ মতিউর রহমান, ড. মাহফুজ পারভেজ, মোহাম্মদ সা’দাত আলী, সোলায়মান আহসান, হাসান আলীম. মোশাররফ হোসেন খান, শরীফ আবদুল গোফরান, সাজজাদ বিপ্লব, ফাহিম ফিরোজ, সায়ীদ আবু বকর, খালিদ সাইফ, জুলফিকার শাহাদাত্, ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ, আহমদ বাসির প্রমুখ।
রয়েছে সাজজাদ হোসাইন খানের বেশ কয়েকটি সাক্ষাত্কার। ব্যক্তি এবং সাহিত্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রথম সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন আহমদ বাসির, আফসার নিজাম ও রেদওয়ানুল হক। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পত্রিকা ও ছোট কাগজে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি সাক্ষাত্কার সঙ্কলন করা হয়েছে।
নিবেদিত কবিতা-ছড়া লিখেছেন— মতিউর রহমান মল্লিক, আবদুল হালিম খাঁ, দেলওয়ার বিন রশিদ, মানসুর মুজাম্মিল, খালীদ শাহাদাত্ হোসেন, সৈয়দ সাইফুল্লাহ শিহাব, সা’দত সিদ্দিক, মাসুদা সুলতানা রুমী, নূর আল ইসলাম, আবদুল কুদ্দুস ফরিদী, মৃধা আলাউদ্দিন ও সাইফ মেহেদী।
সাজজাদ হোসাইন খানের বিভিন্ন গ্রন্থ নিয়ে মূল্যায়ন করেছেন দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, মুকুল চৌধুরী, তমসুর হোসেন, রফিক মোহাম্মদ, সালেহ মাহমুদ, রফিকুল ইসলাম ফারুকী, চৌধুরী দোদায়েভ ও তাজ ইসলাম।
সাজজাদ হোসাইন খানকে লেখা বেশ কয়েকজন সাহিত্যিকের চিঠিপত্র এখানে স্থান পেয়েছে। এছাড়া রয়েছে তার নির্বাচিত কিছু রচনা। এছাড়া রয়েছে কবির সংক্ষিপ্ত জীবনী ও তার রচিত গ্রন্থের প্রচ্ছদ। সবশেষে রয়েছে ফটো অ্যালবাম।

সম্প্রীতি
সম্পাদক : স্বকৃত নোমান
প্রচ্ছদ : চারু পিন্টু
যোগাযোগ : রোদেলা প্রকাশনী
ইসলামি টাওয়ার (২য় তলা)
১১/১ বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০
মূল্য : ৭০ টাকা
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রীতির সংখ্যা। তাদের লেখা ছাড়াও স্থান পেয়েছে অন্য লেখকদের পর্যবেক্ষণমূলক আলোচনা। সব লেখকের আলোচনা-সমালোচনায় নন্দিত হয়েছেন সদ্য প্রয়াত তিন লেখক।
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজকে নিয়ে লিখেছেন আবুল বাশার, সুমিতা চট্টোপাধ্যায়, সাইফুদ্দিন হেলাল ও নূর কামরুন নাহার।
সুনীলকে নিয়ে লিখেছেন অমর মিত্র, আবুল হোসেন চৌধুরী, সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, গওহার নঈম ওয়ারা, অঞ্জন আচার্য, পলাশ মজুমদার, মামুন রশীদ, আসমার ওসমান ও মুহিত হাসান।
হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে লিখতে প্রয়াসী হয়েছেন সাখাওয়াত টিপু, হামীম কামরুল হক, পিয়াস মজিদ ও সীমান্ত নওশের।
সদ্য প্রয়াত এ তিন কিংবদন্তির সংক্ষিপ্ত জীবনকথা গ্রন্থনা করেছেন জুবায়ের হাসান। রোদেলা প্রকাশনী থেকে বের হওয়া নান্দনিক এ কাগজটি সম্পাদনা করেছেন ঔপন্যাসিক স্বকৃত নোমান।
সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও হুমায়ূন আহমেদের আগ্রহী পাঠকদের জন্য এ সংখ্যাটি একটি মাইলফলক। লেখাগুলো পাঠ করলেই বোঝা যাবে এ সংখ্যার প্রত্যেক লেখকই তাদের প্রতিভা ও পরিশ্রমের স্বাক্ষর রেখেছেন। সম্পাদক হিসেবে এই কৃতিত্ব অবশ্যই স্বকৃত নোমানের।
সাহিত্য প্রতিবেদক