Amardesh
আজঃ ঢাকা, শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০১০, ১৫ শ্রাবণ ১৪১৭, ১৭ শাবান ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছর

কামরুল হাসান
২০০৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ঐতিহাসিক লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। অতি দ্রুত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে ৩০০ ছাত্র ভর্তি ও ৩০ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগের মাধ্যমে ২০০৭ সালের ২৮ মে শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম। শুরু হয় পথচলা।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের ইতিহাস দীর্ঘ হলেও এর পথচলার ইতিহাস খুব বেশিদিনের নয়। এই স্বল্প ইতিহাসে শিক্ষার্থী এবং কুমিল্লাবাসী মেলাতে পারছে না তাদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব। বাজনীতি ও ধূমপানমুক্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রথম বছর ভালোভাবে কেটেছে। তারপরই শুরু হয় স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র। ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে বিদায় নিতে হয় প্রতিষ্ঠাতা ভিসি ড. গোলাম মাওলাকে। পরে ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় রাবি’র শিক্ষক ড. জেহাদুল করিমকে। রাজনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলনের মুখে বিদায় নিতে হয় তাকেও। প্রতিষ্ঠার ৪ বছরের মাঝে গত একটি বছর কেটেছে ব্যাপক অরাজকতার মাঝে। অনিয়ম, দুর্নীতি, দলীয়করণ ও রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসে ছাত্র-শিক্ষকদের অপরাজনীতিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সৃষ্টি হয় অচলাবস্থা। ভিসির পদত্যাগ দাবিতে ছাত্রলীগের একাংশের আন্দোলন এবং হল দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ-শিবিরের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গত এক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়টি বন্ধ থাকে ৬ মাসেরও বেশি সময়। গত ১২ নভেম্বর ভিসি পদত্যাগ করলে নতুন ভিসির দায়িত্ব দেয়া হয় জাবি’র পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. আমির হোসেন খানকে। শিক্ষার্থী এবং কুমিল্লাবাসী আশায় বুক বেঁধেছিল, বিশ্ববিদ্যালয়টি এবার আলোর পথে চলবে। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর ক্যাম্পাসে অরাজকতা রোধকল্পে সব ধরনের মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু এ নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ছাত্রলীগ বিভিন্ন সময় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগানে মিছিল করলেও অজ্ঞাত কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নীরব ভূমিকাই পালন করেছে। অথচ শিক্ষকের বিরুদ্ধে চাকরি দেয়ার নামে এক লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের সংবাদ ছাপানোর অপরাধে দৈনিক ইনকিলাবের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাসুদ মুন্সীকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। চরম শিক্ষক সঙ্কট থাকলেও সাবেক ভিসির পক্ষে অবস্থান নেয়ার কারণে ইংরেজি ও মার্কেটিং বিভাগের দুই শিক্ষক শরিফুল করিম ও আমজাদ হোসেন সরকারকে গত ৬ মাস ধরে বাধ্যতামূলক ছুটিতে রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন অভিজ্ঞ শিক্ষকরা। সেশন ফি দ্বিগুণ করার প্রতিবাদে আবারও আন্দোলনমুখী হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। সেশন ফি না কমালে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ আরও কঠোর আন্দোলনে নামবে তারা।
বর্তমান অবকাঠামো : কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে কোটবাড়ির সালমানপুরে ৫০ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। ৪টি ব্যাচে ১১টি বিভাগে মোট ১৬০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। রয়েছে প্রশাসনিক ভবন, দুটি একাডেমিক ভবন, দুটি ছাত্র হল, একটি ছাত্রী হল। দু’বছর ধরে নির্মাণাধীন রয়েছে কেন্দ্রীয় মসজিদ, ক্যাফেটেরিয়া ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।
সমস্যার আবর্তে ক্যাম্পাস
শিক্ষক সঙ্কট : বিশ্ববিদ্যালয়টিতে রয়েছে তীব্র শিক্ষক সঙ্কট। প্রতিটি বিভাগে ৪টি ব্যাচে শিক্ষক রয়েছে ৩-৪ জন। শিক্ষক সঙ্কটের কারণে নির্দিষ্ট সময়ে কোর্স শেষ করতে না পারায় পরীক্ষা বিলম্বিত হচ্ছে। ফলে ভয়াবহ সেশনজটে পড়ছে শিক্ষার্থীরা।
ক্লাসরুম সঙ্কট : ক্লাসরুম সঙ্কটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেয়া হয় দুই শিফটে। মাঝে-মাঝে এক ব্যাচ ক্লাস করে বের হলে অন্য ব্যাচ ক্লাস করতে ঢোকে। ক্লাসরুম না থাকায় অনেক শিক্ষার্থীকে বারান্দায় বসেই সময় কাটাতে দেখা যায়। কিন্তু ক্লাসরুম বাড়াতে কিংবা নতুন ভবন তৈরি করতে কর্তৃপক্ষের কোনো তত্পরতাই লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
আবাসন সমস্যা : আবাসন সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। দুটি ছাত্র হলে প্রায় ৩০০ সিট এবং একমাত্র ছাত্রী হলে রয়েছে ২০০ সিট। যা প্রায় ১৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য যথেষ্ট নয়। গত বাজেটে একটি আবাসিক হল ও একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণের কথা থাকলেও তার কাজ আজও শুরু হয়নি। এছাড়াও রয়েছে পরিবহন সমস্যা, লাইব্রেরিতে নেই পর্যাপ্ত বই। প্রতিনিয়ত নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।


 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?