Amardesh
আজঃ ঢাকা, বুধবার ১০ মার্চ ২০১০, ২৬ ফাল্গুন ১৪১৬, ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ১.৩০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

কিং ব দ ন্তি : মুখ ও মুখোশ-এর শুটিং হয় রোজির বাসায়

লিয়াকত হোসেন খোকন
খুব ছিমছাম, বনেদী ঘরানার চেহারা ছিল রোজির। রোজি হাতেগোনা কিছু ছবির নায়িকা ছিলেন, চরিত্রাভিনেত্রী হিসেবে তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অসম্ভব জনপ্রিয় ছিলেন।
নায়িকা রোজি তার অভিনয় জীবনে আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে বেশি ছবিতে অভিনয় করে গেছেন। রোমান্টিক নায়িকা হিসেবে রোজি হারুনের বিপরীতে সংগম, রাহী, ইয়ে ভি এক কাহানিতে অভিনয় করেছিলেন। উল্লিখিত ছবিগুলো ছিল উর্দু ভাষায়।
রোজির জন্ম নোয়াখালীর লক্ষ্মীপুর জেলায় ১৯৪৪ সালে। বাবা ওয়ালিউল্লাহ ছিলেন কবি। ৬ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। রোজির বাবা ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, ঢাকায় ছবি নির্মাণের শুরুতে তিনি ফিল্ম লাইনের ডিস্ট্রিবিউটরও ছিলেন। ঢাকার প্রথম ছবি ‘মুখ ও মুখোশ’র শুটিং রোজিদের বাসায় হয়েছিল। রোজি তখন ভিকারুননেসা স্কুলের ছাত্রী। এদিকে রোজির বাবার এক বন্ধু ছিলেন পরিচালক। নাম— জিল্লুর রহিম। ‘এইতো জীবন’ নামে একটা ছবি নির্মাণের কাজে হাত দিয়েছিলেন তিনি, ঠিক তখনই জিল্লুর রহিম রোজিকে ফিল্মে নায়িকা হিসেবে নিতে চাইলেন। রোজির বাবা বন্ধুর একথা ফেলতে পারলেন না। এভাবেই রোজির চলচ্চিত্রে প্রবেশ শুরু হয়েছিল।
১৯৬৩ সালে ‘এইতো জীবন’ ছবিতে প্রথম নায়িকা হিসেবে রোজির অভিনয় শুরু, ছবিতে তার নায়ক ছিলেন শওকত আকবর। আরো ছিলেন রহমান ও সুমিতা দেবী। ছবির কাহিনী অনুযায়ী রোজি অরণ্যে হারিয়ে যান। বনের চৌকিদার কুড়িয়ে পেলেন তাকে। সুমিতা দেবী ছিলেন তার বড় বোনের ভূমিকায়। দু’জনেই ভালোবাসেন শওকত আকবরকে। ছবির গল্প অনুযায়ী শেষতক রোজি ও শওকত আকবর এবং সুমিতা দেবী ও রহমানের মিলন হয়।
রোজির দ্বিতীয় ছবি ‘সংগম’, এই ছবিতে তার রোমান্টিক নায়ক ছিলেন হারুন। তত্কালীন পূর্বপাকিস্তানে (বর্তমানে বাংলাদেশ) ‘সংগম’ ছিল প্রথম কালার ছবি। উর্দু ভাষায় নির্মিত ‘সংগম’-এ কাজ করতে গিয়ে রোজির কোনো অসুবিধা হয়নি। কেননা, শিক্ষাজীবনে উর্দু পাঠ্যসূচি থাকাতে শৈশবকাল থেকেই রোজি উর্দু বলা ও লিখা জানতেন। ‘সংগম’ ছবির শুটিংয়ে অংশ নেয়ার জন্য রোজিকে রাঙ্গামাটি ও কাপ্তাইতে যেতে হয়েছিল। ‘সংগম’র পরে রোজি ও হারুন জুটি হিসেবে অভিনয় করেন ‘রাহী’ এবং ‘ইয়ে ভি এক কাহানি’ ছবিতে। তবে ‘ইস ধরতি পর’ ছবিতে রোজি ও হারুন একত্রে অভিনয় করেছিলেন।
নায়িকা হিসেবে রোজি অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবি হলো— বন্ধন (১৯৬৪, নায়ক আনোয়ার হোসেন) একালের রূপকথা (১৯৬৫, নায়ক—আনোয়ার হোসেন); রাহী (১৯৬৫, নায়ক—হারুন), ইয়েভি এক কাহানী (১৯৬৫, নায়ক—হারুন); পুণম কি রাত (১৯৬৬, নায়ক— শওকত আকবর), উলঝন (১৯৬৭, নায়ক—খলিল); বেদের মেয়ে (১৯৬৮, নায়ক—খাজিম); জোয়ার ভাটা (নায়ক—খান আতা); ঈশা খাঁ (১৯৭০ নায়ক—আনোয়ার হোসেন), জীবন থেকে নেয়া (১৯৭০, নায়ক—শওকত আকবর), নিজেরে হারায়ে খুঁজি (১৯৭৩, নায়ক— আনোয়ার হোসেন) প্রভৃতি।
রোজির তৃতীয় ছবি ‘বন্ধন’ এই ছবির গল্প ছিল অনেকটা মেহেবুব খান পরিচালিত নার্গিস অভিনীত ‘মাদার ইন্ডিয়া’ ছবির গল্পের মতো। ‘বন্ধন’ ছবিতে রোজি ১৪ বছরের মেয়ের ভূমিকা ছাড়াও ৪০ বছরের মহিলার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। রোজির ছেলের ভূমিকায় ছিলেন গোলাম মুস্তফা। ‘বন্ধন’ ছবির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯৬৩ সালে। তখন রোজির বয়স ছিল ১৮ কি ১৯ বছর। মেকআপ করে রোজিকে বুড়ি বানানো হয়েছিল। ‘মাদার ইন্ডিয়া’ ছবিতে নার্গিসকে যেভাবে বুড়ি বানানো হয়েছিল অনুরূপ রোজিকেও বুড়ি সাজতে হয়েছিল। ‘বন্ধন’ মুক্তি পায় ১৯৬৪ সালে। ‘বন্ধন’ ছবিতে রোজির লিপে ‘চল হ্যায় কাহা চলি হ্যায়’ গানটি দারুণ হিট হয়েছিল। ‘বন্ধন’-এ চিত্রা সিনহা হয়েছিলেন রোজির ছেলের বউ। অথচ এই চিত্রা সিনহা রোজির চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন।
রোজি তার অভিনয় জীবনে নায়িকা চরিত্রকে কখনও প্রাধান্য দেননি। বরাবর তিনি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে গেছেন। সিরিয়াস চরিত্রই বেছে নিতেন। ‘তিতাস একটি নদীর নাম’-এ রোজি ছিলেন বাসন্তীর চরিত্রে। গুরুত্বপূর্ণ এ চরিত্রের বিপরীতে কোনো হিরো ছিল না। অথচ বাসন্তী চরিত্রটি নায়িকার চেয়ে কোনো অংশে কম ছিল না। তাই বাসন্তী চরিত্রে অভিনয় করে রোজি এখন পর্যন্ত স্মরণীয় হয়ে রইলেন।
১৯৮৪ সালের দিকে রোজি চলচ্চিত্র প্রযোজনায় জড়িয়ে পড়েন। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়েছিলেন ‘রোজি ফিল্মস’। বেশ কয়েকটি ছবি প্রযোজনা করে পরবর্তীকালে তিনি ‘আশা-নিরাশা’ ছবির মাধ্যমে পরিচালিকা হিসেবে আত্ম প্রকাশ করেন (১৯৮৭ সালে)। রোজি প্রথম বিয়ে করেছিলেন চিত্রগ্রাহক এমএ সামাদকে। সে ঘরে তার এক কন্যাসন্তান রয়েছে। বিবাহিত জীবন সুখের না হওয়ায় পরবর্তীকালে তিনি পরিচালক মালেক আফসারীকে বিয়ে করেন। মাত্র কয়েক বছর তারা সুখের সংসার করেছিলেন। রোজি ২০০৭ সালের ৯ মার্চ মারা যান। বন্ধন, এইতো জীবন, জীবন থেকে নেয়া, সংগমসহ শতাধিক ছবির মাধ্যমে রোজিও কিংবদন্তি হয়ে রইলেন।


 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?