জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে টিভি নাটক
কামরুজ্জামান মাসুম
একটা সময় ছিল যখন টিভি চ্যানেল বলতে ছিল শুধু বাংলাদেশ টেলিভিশন। সেই সময়ে গুণী নাট্যব্যক্তিত্বরা বিটিভিতে কাজ করতেন। তাই তো দর্শকরা অধীর আগ্রহে সপ্তাহের ছয় দিন তাদের পছন্দের নাটক দেখার জন্য অপেক্ষা করে থাকতেন। সেই সময়ে নাটকের জনপ্রিয়তা এত বেশি ছিল যে নাটকের কোনো চরিত্রের পরিণতি দর্শকদের মনমতো না হলে তার বিরুদ্ধে মিছিল করতেও তারা দ্বিধা বোধ করতেন না। এসব দিন-রাত্রি নাটকের ছোট্ট টুনি মারা যাওয়ার পর নয়তো কোথাও কেউ নেই নাটকের বাকের ভাইয়ের ফাঁসি না দেয়ার জন্য মিছিলই বলে দেয় নাটক আমাদের দেশের দর্শকদের কাছে কতটা জনপ্রিয়। টেলিভিশন ড্রইং রুম মিডিয়া হওয়ার কারণে এটিই ঘরের দর্শকদের একমাত্র বিনোদন। টেলিভিশনে হরেক রকম অনুষ্ঠান থাকলেও শুরু থেকে নাটকই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় অনুষ্ঠান হিসেবে নাম লিখিয়েছে। সময়ের আবর্তে এখন আমাদের দেশে টিভি চ্যানেলের সংখ্যা দশ পেরিয়ে গেছে। চ্যানেল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নাটকের পরিমাণও বেড়েছে। আগে যেখানে সপ্তাহে এক দিন নাটক প্রচার হতো, সেখানে এখন প্রতিদিন নাটক প্রচার হচ্ছে। বেশিরভাগ চ্যানেলেই একই দিনে একাধিক নাটক প্রচার হচ্ছে। আর এসব নাটকের সবই দীর্ঘ ধারাবাহিক। এখন এত বেশি নাটক প্রচার হচ্ছে যে, অভিনয় শিল্পীরাও জানেন না কোন চ্যানেলে তাদের কোন নাটক প্রচার হচ্ছে। ব্যবসায়িকভাবে লাভজনক হওয়ার কারণে এখন একক নাটকের চেয়ে দীর্ঘ ধারাবাহিক নাটকই বেশি নির্মিত হচ্ছে। একক নাটক দর্শকদের মাঝে বেশি জনপ্রিয় হলেও তা এখন দিনে দিনে হারিয়ে যেতে বসেছে। মেগা সিরিয়ালের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এখন নির্মিত হচ্ছে ডেইলি সোপ। নাটকের কাহিনীকে টেনে লম্বা করে নির্মিত হচ্ছে তথাকথিত মেগা সিরিয়াল এবং ডেইলি সোপ। কিন্তু ইদানীং দর্শকদের মাঝে কোনো নাটকই আগ্রহ তৈরি করতে পারছে না। গত বছর স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোয় প্রচারিত বেশ কয়েকটি নাটক দর্শকদের মাঝে জনিপ্রয়তা পেয়েছিল। কিন্তুৃ এ বছর এখন পর্যন্ত কোনো নাটক সেভাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি। এক সময় কমেডি প্রধান নাটকের জনপ্রিয়তা ছিল। এ কারণে বেশিরভাগ নির্মাতাই এ ধরনের নাটক নির্মাণের প্রতি নজর দেন। তাই তো এখন চ্যানেলগুলোয় পাল্লা দিয়ে কমেডি নাটক প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু নির্মল বিনোদন বা হাস্যোরসের পরিবর্তে নাটকে ভাড়ামোর কারণে দর্শকরা এসব নাটক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। পাশাপাশি রয়েছে নাটকের মধ্যে বিজ্ঞাপন বিরতি নামের যন্ত্রণা। নাটকের চেয়ে এখন বিজ্ঞাপনই বেশি সময় প্রচার করা হয়। যার কারণে বিরতির পর নাটক দেখার জন্য বসে থাকার ধৈর্য রাখতে ব্যর্থ হচ্ছেন দর্শকরা এমনটিই মন্তব্য করেছেন নাটক সংশ্লিষ্ট অনেকে। এ ছাড়া চ্যানেলগুলো নাটকের দাম কমিয়ে দেয়ার কথা বলেছেন প্রযোজকরা। কেননা তাদের বেঁধে দেয়া টাকাতেই দায়সারাভাবে নির্মাতারা নাটক নির্মাণ করছেন, যা দর্শকপ্রিয়তা হারানোর আরও একটি অন্যতম কারণ বলেই মনে করছেন অনেক নির্মাতা। নাটকের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া প্রসঙ্গে নাট্যনির্মাতা সুমন আনোয়ার বলেন, ‘ইদানীং মেগা সিরিয়ালগুলো অনেক বেশি সস্তা হয়ে যাচ্ছে। ভালো কাজের পরিমাণ কমে গেছে। এ জন্য এক পক্ষ আরেক পক্ষকে দোষারোপ করছে। তবে আমি মনে করি, এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য নির্মাতাদেরই এগিয়ে আসতে হবে। এ জন্য আমি আগের বছরে যে পরিমাণ কাজ করেছি, এ বছর তার অর্ধেক কাজ করব। আমি বেশি কাজ না করে একটু সময় নিয়ে ভালো কাজ করতে চাই। আমি মনে করি, নির্মাতারা চাইলে আবারও নাটককে জনপ্রিয় করে তুলতে পারে।’
নির্মাতারা যদি মেগা সিরিয়াল সস্তা হয়ে যাচ্ছে এ অপবাদ ঘোচাতে উদ্যোগী হন তাহলেই সম্ভব নাটকের মানোন্নয়নের পাশাপাশি নাটককে জনিপ্রয় করে তোলা। তবে এ জন্য চ্যানেল কর্তৃপক্ষ এবং প্রযোজকদের সহযোগিতা প্রয়োজন সবার আগে—এমনটিই মনে করেন নাট্যব্যক্তিত্বরা।
নির্মাতারা যদি মেগা সিরিয়াল সস্তা হয়ে যাচ্ছে এ অপবাদ ঘোচাতে উদ্যোগী হন তাহলেই সম্ভব নাটকের মানোন্নয়নের পাশাপাশি নাটককে জনিপ্রয় করে তোলা। তবে এ জন্য চ্যানেল কর্তৃপক্ষ এবং প্রযোজকদের সহযোগিতা প্রয়োজন সবার আগে—এমনটিই মনে করেন নাট্যব্যক্তিত্বরা।
-
সোনালি রুপালি


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


