মিমি আছেন মিমি নেই!
বিজ্ঞাপনের মডেল কিংবা বিজ্ঞাপন নির্মাণ, নাট্যাভিনয় কিংবা নাট্যনির্দেশনা, কাজে ফেরা কিংবা না ফেরা—সব সময়ই আফসানা মিমি থেকেছেন আলোচনায়। যখনই তিনি যা করেছেন তার বেশিরভাগই হয়েছে নন্দিত। আবার তিনি মিডিয়া থেকে যখনই বিরতিতে গেছেন তখনও তার কারণ অনুসন্ধানে তিনি আলোচিত হয়েছেন। কী ব্যক্তিগত জীবন কিংবা পেশাগত জীবন, মিমিকে নিয়ে আগ্রহ আছেই। জনপ্রিয় এই তারকা দীর্ঘ একটি বিরতি দিয়ে আবারও নির্মাণে ফিরেছেন। ফিরেছেন অভিনয়েও। মিমির এই থাকা না থাকা নিয়েই এবারের প্রতিবেদন। লিখেছেন এন হোসেন
বেশ কয়েকটা বছর বিরতি দিয়ে আবারও মেগাসিরিয়াল নির্দেশনায় হাত দিয়েছেন আফসানা মিমি। পৌষ ফাগুনের পালা নামের এ সিরিয়ালটি প্রচার হবে এটিএন বাংলায়। এরই মাঝে নাটকটির শুটিং শুরু করেছেন তিনি। কাজে ফিরেই আলোচনায় চলে এসেছেন তারকা এই অভিনেত্রী। আবার যখন তিনি বিরতিতে ছিলেন তখনও তাকে নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। কেন তিনি নেই? কেন কাজ করছেন না? এসব হিসেবে মেলাতে যখন নিন্দুকেরা পারেননি, তখন তাকে নিয়ে নেতিবাচক সংবাদও প্রকাশ হয়েছে। নেতিবাচক কিংবা ইতিবাচক সংবাদেই রয়েছেন আফসানা মিমি। এটাই বা কম কিসের। তবে অনেক ক্ষেত্রেই তাকে বিব্রতকর অবস্থায়ও পড়তে হয়েছে। নীরবে থেকেও তাকে শুনতে হয়েছে অনেক আকথা-কুকথা। সুবর্ণা মুস্তাফা ফরীদিকে ডিভোর্স দিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করেছেন, এটা নিয়েও কেউ কেউ দোষ দেয়ার চেস্টা করেছেন মিমিকে। মিমির নিজের বিয়ে নিয়েও কম গুজব হয়নি। সেটা থেকে মুক্তির আগে অন্য কাউকে বিয়েতে উত্সাহিত করবেন এটা কেমন কথা?—এমন বক্তব্যই দিয়েছেন মিমির ঘনিষ্ঠজনরা। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনার শুরুতেই আফসানা মিমি বলেন, যেমন চলছিল তেমনই চলছে। আমি ভালো আছি। আর বিয়েশাদির বিষয়ে অনেক গসিফ-গুঞ্জন হয়েছে। তাতে আমার কিছুই যায় আসে না। আমি আমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছি। আপাতত বিয়ের কোন সম্ভাবনাই নেই।
আফসানা মিমি ভক্তদের জন্য সুখবর হলো, পৌষ ফাগুনের পালা নাটকটি তিনি যে শুধু নির্দেশনা দিচ্ছেন তা নয়, তিনি এ নাটকের গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয়ও করছেন। তার মানে আবারও ছোটপর্দায় ফিরছেন গুণী এই নির্দেশক-অভিনেত্রী। নির্দেশনা বিষয়ে আফসানা মিমিকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আসলে আমি সব সময়ই একটু বেছে কাজ করতে চাই। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আমি কিন্তু খুব বেশি সিরিয়াল নির্মাণ করিনি। বন্ধন সিরিয়ালটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর আমি ইচ্ছে করলেই অনেকগুলো কাজ করতে পারতাম। কিন্তু করিনি। বিরতি দিয়েই কাজ করেছি। আবার দীর্ঘ বিরতি দিয়ে নতুন এ কাজটিতে হাত দিয়েছি। স্ক্রিপ্ট পছন্দ না হলে আমি কাজ করি না। অভিনয় প্রসঙ্গে আফসানা মিমি বলেন, মাঝে মাঝে টুকিটাকি কাজ করেছি। আসলে ভালো চরিত্র না পেলে কাজ করতে ভালো লাগে না। আর আমি নির্মাণ নিয়েই বেশি চিন্তা করি বলে অভিনয়ে বিরতি দিয়েছি। অভিনয়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি নির্দেশনায়। সবচেয়ে বড় কথা, আমি যখনই যা করি তা আমার ভালো লাগা থেকে করি। দেখা যাবে এক সময় অভিনয় করতে আবারও ভালো লাগছে, তখন হয়তো নিয়মিত অভিনয়ই করব। আপাতত নির্মাণ নিয়েই থাকতে চাই। মাঝে বেশকিছু বিজ্ঞাপন নির্মাণ করে আলোচিত হয়েছিলেন আফসানা মিমি। এখন বিজ্ঞাপন নির্মাণ থেকে বেশ দূরে রয়েছেন। কিন্তু কেন? এক গাল হেসে মিমি বলেন, আমি মনে হয় ভালো বিজ্ঞাপন নির্মাণ করতে পারি না, যে কারণে প্রস্তাব পাচ্ছি না। পেলে অবশ্যই করব। বিজ্ঞাপন নির্মাণও আমি ইনজয় করি। তবে একেবারেই যে প্রস্তাব আসে না সেটা বললে মিথ্যা বলা হবে। মাঝে মাঝে আমাকে বলা হয়; কিন্তু বাজেট বা পণ্য নিয়ে আমার একটু খুঁতখুঁতানি রয়েছে। যে কারণে আমি আগ্রহ দেখাইনি।
আফসানা মিমিকে চেনেন না এমন মানুষ খুঁজে পেতে হয়তো সময় লাগবে। আর তার এই ব্যাপক পরিচিতির প্রথম ধাপ রচিত হয় একটি টুথ পেস্টের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। লালজেল টুথপেস্ট নামের সেই পেস্টটি এখন আর বাজারে না দেখা গেলেও দর্শক হৃদয়ে গেঁথে রয়েছে এই পণ্যের মডেলের মিষ্টি হাসি আর গ্ল্যামারাস উপস্থিতি। এরপর আফসানা মিমি অভিনয় শুরু করেন। আবদুল্লাহ আল মামুনের হাত ধরে বিটিভিতে কাজ করেন জিরো পয়েন্ট নাটকে। নাটকটি প্রচার হওয়ার পর তিনি নজরে পড়ে যান বরেণ্য নির্মাতা আমজাদ হোসেনের। বিটিভিতে আবারও মিমিকে দেখা যায় আমজাদ হোসেনের নাটক বউ কথা কও’তে। ব্যাস! এরপর থেকেই মিমি অধ্যায়ের সূচনা। মিমি স্থান করে নেন মিডিয়ার শীর্ষস্থানীয় আসনে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নিজের ঈর্ষণীয় অবস্থানে থেকে মিমি তার মেধাকে ছড়িয়ে দেন নির্দেশনা ও নির্মাণে। সেখানেও সফল। দেশে মেগা সিরিয়ালের যে জোয়ার বইছে তার বুনিয়াদ রচনায় মিমির অবদান অনেক। মেগা সিরিয়ালের পাইওনিয়ার হিসেবে তার নাম বলা যাবে না সত্যি, তবে একুশে টেলিভিশনে বন্ধন মেগা সিরিয়ালের জনপ্রিয়তার কারণেই এ দেশে মেগা সিরিয়াল নির্মাণের হিড়িক তৈরি হয়। এটা তার নিন্দুকেরাও স্বীকার করবেন।
আফসানা মিমি আবারও ফিরেছেন অভিনয় আর নির্দেশনায়। হয়তো এবারও বাজিমাত করবেন। কিন্তু তার মতো গুণীদের কাছ থেকে এত কম কাজ প্রত্যাশিত নয়। মিমি বলেন, আসলে করব করব করেই সময় পার হয়ে যায়। আমাকে এসব বিষয়ে একটু অলসও বলা যেতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, পৌষ ফাগুনের পালা নাটকটির স্ক্রিপ্ট আমি অনেক আগেই পেয়েছি। কিন্তু তারকা শিল্পীদের শিডিউল নিয়ে আমি একটু সময় নিয়েছি। আমি চাই না, কোনো শিল্পীর শিডিউলের কারণে নাটক চলাকালে মাঝপথেই সেই চরিত্রটি হারিয়ে যাক। এতে করে নাটকের কাহিনী বাধাগ্রস্ত হয়। এখন অনেকেই এমন করছেন। যাকে যখন পাচ্ছেন তাকে নিয়েই কাজ করছেন। আমি এই গতানুগতিক বা ব্যবসায়িক কাজে বিশ্বাসী নই। আশা করছি নাটকটি আমার বিগত নাটকগুলোর মতোই দর্শকনন্দিত হবে।
এ বছরই সিনেমা : অনেকদিন ধরেই আফসানা মিমি বলে আসছেন, তিনি একটি হলেও সিনেমা নির্মাণ করতে চান। আর সেজন্য তিনি যুঁত্সই একটি স্ক্রিপ্ট খুঁজছিলেন। প্রায় অর্ধযুগ ধরেই আফসানা মিমি সিনেমার স্ক্রিপ্টের পেছনে ছুটেছেন। কিন্তু মনের মতো গল্প পাননি। অবশেষে তার সেই বন্ধ্যত্ব ঘুচেছে। আফসানা মিমি পেয়ে গেছেন তার পছন্দের সিনেমার কাহিনী। গল্প ফাইনালও করেছেন। মিমি বলেন, আপাতত এ বিষয়ে আমি কিছুই বলব না। শুধু বলা যায়, কাহিনী ফাইনাল হয়েছে। আগামী এপ্রিল মাসে আমি সিনেমাটি নির্মাণের বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেব। আর এ বছরই ছবিটির কাজ শেষ করার ইচ্ছে আছে আমার। তবে আমি সিনেমা করলে সিনেমার মতোই করব। সিনেমার নামে টিভি নাটক বানানোর কোনো ইচ্ছে আমার নেই। অনেকেই হয়তো জানেন না, আফসানা মিমির সিনেমার সঙ্গে সখ্য অনেক নিবিড়। কেননা নিজে সিনেমাভিনয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিন সিনেমার অনেক তারকা নায়িকার ডাবিং করেছেন। বিশেষ করে পপির কণ্ঠে দীর্ঘদিন দর্শক শুনেছেন মিমির কণ্ঠ, যা হয়তো অনেকেই জানেন না। যেসব তারকা নায়িকা ডাবিং করতে চান না বা ডাবিং করতে পারেন না, তাদের লিপে আফসানা মিমির কণ্ঠ এক সময় ছিল নিয়মিত। এখন অবশ্য তিনি আবার সিনেমার ডাবিং করেন না। যাই হোক, সিনেমার সঙ্গে তার এই গভীর সম্পর্কের কারণে তিনি ভালো করেই জানেন, মূলধারার সিনেমার ভাষা কী? আর সেই পথেই তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতার পরিচয় ধারণ করবেন বলে উল্লেখ করেছেন।
ছবি : জিয়াউদ্দিন আলম
বেশ কয়েকটা বছর বিরতি দিয়ে আবারও মেগাসিরিয়াল নির্দেশনায় হাত দিয়েছেন আফসানা মিমি। পৌষ ফাগুনের পালা নামের এ সিরিয়ালটি প্রচার হবে এটিএন বাংলায়। এরই মাঝে নাটকটির শুটিং শুরু করেছেন তিনি। কাজে ফিরেই আলোচনায় চলে এসেছেন তারকা এই অভিনেত্রী। আবার যখন তিনি বিরতিতে ছিলেন তখনও তাকে নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। কেন তিনি নেই? কেন কাজ করছেন না? এসব হিসেবে মেলাতে যখন নিন্দুকেরা পারেননি, তখন তাকে নিয়ে নেতিবাচক সংবাদও প্রকাশ হয়েছে। নেতিবাচক কিংবা ইতিবাচক সংবাদেই রয়েছেন আফসানা মিমি। এটাই বা কম কিসের। তবে অনেক ক্ষেত্রেই তাকে বিব্রতকর অবস্থায়ও পড়তে হয়েছে। নীরবে থেকেও তাকে শুনতে হয়েছে অনেক আকথা-কুকথা। সুবর্ণা মুস্তাফা ফরীদিকে ডিভোর্স দিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করেছেন, এটা নিয়েও কেউ কেউ দোষ দেয়ার চেস্টা করেছেন মিমিকে। মিমির নিজের বিয়ে নিয়েও কম গুজব হয়নি। সেটা থেকে মুক্তির আগে অন্য কাউকে বিয়েতে উত্সাহিত করবেন এটা কেমন কথা?—এমন বক্তব্যই দিয়েছেন মিমির ঘনিষ্ঠজনরা। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনার শুরুতেই আফসানা মিমি বলেন, যেমন চলছিল তেমনই চলছে। আমি ভালো আছি। আর বিয়েশাদির বিষয়ে অনেক গসিফ-গুঞ্জন হয়েছে। তাতে আমার কিছুই যায় আসে না। আমি আমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছি। আপাতত বিয়ের কোন সম্ভাবনাই নেই।
আফসানা মিমি ভক্তদের জন্য সুখবর হলো, পৌষ ফাগুনের পালা নাটকটি তিনি যে শুধু নির্দেশনা দিচ্ছেন তা নয়, তিনি এ নাটকের গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয়ও করছেন। তার মানে আবারও ছোটপর্দায় ফিরছেন গুণী এই নির্দেশক-অভিনেত্রী। নির্দেশনা বিষয়ে আফসানা মিমিকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আসলে আমি সব সময়ই একটু বেছে কাজ করতে চাই। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আমি কিন্তু খুব বেশি সিরিয়াল নির্মাণ করিনি। বন্ধন সিরিয়ালটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর আমি ইচ্ছে করলেই অনেকগুলো কাজ করতে পারতাম। কিন্তু করিনি। বিরতি দিয়েই কাজ করেছি। আবার দীর্ঘ বিরতি দিয়ে নতুন এ কাজটিতে হাত দিয়েছি। স্ক্রিপ্ট পছন্দ না হলে আমি কাজ করি না। অভিনয় প্রসঙ্গে আফসানা মিমি বলেন, মাঝে মাঝে টুকিটাকি কাজ করেছি। আসলে ভালো চরিত্র না পেলে কাজ করতে ভালো লাগে না। আর আমি নির্মাণ নিয়েই বেশি চিন্তা করি বলে অভিনয়ে বিরতি দিয়েছি। অভিনয়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি নির্দেশনায়। সবচেয়ে বড় কথা, আমি যখনই যা করি তা আমার ভালো লাগা থেকে করি। দেখা যাবে এক সময় অভিনয় করতে আবারও ভালো লাগছে, তখন হয়তো নিয়মিত অভিনয়ই করব। আপাতত নির্মাণ নিয়েই থাকতে চাই। মাঝে বেশকিছু বিজ্ঞাপন নির্মাণ করে আলোচিত হয়েছিলেন আফসানা মিমি। এখন বিজ্ঞাপন নির্মাণ থেকে বেশ দূরে রয়েছেন। কিন্তু কেন? এক গাল হেসে মিমি বলেন, আমি মনে হয় ভালো বিজ্ঞাপন নির্মাণ করতে পারি না, যে কারণে প্রস্তাব পাচ্ছি না। পেলে অবশ্যই করব। বিজ্ঞাপন নির্মাণও আমি ইনজয় করি। তবে একেবারেই যে প্রস্তাব আসে না সেটা বললে মিথ্যা বলা হবে। মাঝে মাঝে আমাকে বলা হয়; কিন্তু বাজেট বা পণ্য নিয়ে আমার একটু খুঁতখুঁতানি রয়েছে। যে কারণে আমি আগ্রহ দেখাইনি।
আফসানা মিমিকে চেনেন না এমন মানুষ খুঁজে পেতে হয়তো সময় লাগবে। আর তার এই ব্যাপক পরিচিতির প্রথম ধাপ রচিত হয় একটি টুথ পেস্টের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। লালজেল টুথপেস্ট নামের সেই পেস্টটি এখন আর বাজারে না দেখা গেলেও দর্শক হৃদয়ে গেঁথে রয়েছে এই পণ্যের মডেলের মিষ্টি হাসি আর গ্ল্যামারাস উপস্থিতি। এরপর আফসানা মিমি অভিনয় শুরু করেন। আবদুল্লাহ আল মামুনের হাত ধরে বিটিভিতে কাজ করেন জিরো পয়েন্ট নাটকে। নাটকটি প্রচার হওয়ার পর তিনি নজরে পড়ে যান বরেণ্য নির্মাতা আমজাদ হোসেনের। বিটিভিতে আবারও মিমিকে দেখা যায় আমজাদ হোসেনের নাটক বউ কথা কও’তে। ব্যাস! এরপর থেকেই মিমি অধ্যায়ের সূচনা। মিমি স্থান করে নেন মিডিয়ার শীর্ষস্থানীয় আসনে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নিজের ঈর্ষণীয় অবস্থানে থেকে মিমি তার মেধাকে ছড়িয়ে দেন নির্দেশনা ও নির্মাণে। সেখানেও সফল। দেশে মেগা সিরিয়ালের যে জোয়ার বইছে তার বুনিয়াদ রচনায় মিমির অবদান অনেক। মেগা সিরিয়ালের পাইওনিয়ার হিসেবে তার নাম বলা যাবে না সত্যি, তবে একুশে টেলিভিশনে বন্ধন মেগা সিরিয়ালের জনপ্রিয়তার কারণেই এ দেশে মেগা সিরিয়াল নির্মাণের হিড়িক তৈরি হয়। এটা তার নিন্দুকেরাও স্বীকার করবেন।
আফসানা মিমি আবারও ফিরেছেন অভিনয় আর নির্দেশনায়। হয়তো এবারও বাজিমাত করবেন। কিন্তু তার মতো গুণীদের কাছ থেকে এত কম কাজ প্রত্যাশিত নয়। মিমি বলেন, আসলে করব করব করেই সময় পার হয়ে যায়। আমাকে এসব বিষয়ে একটু অলসও বলা যেতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, পৌষ ফাগুনের পালা নাটকটির স্ক্রিপ্ট আমি অনেক আগেই পেয়েছি। কিন্তু তারকা শিল্পীদের শিডিউল নিয়ে আমি একটু সময় নিয়েছি। আমি চাই না, কোনো শিল্পীর শিডিউলের কারণে নাটক চলাকালে মাঝপথেই সেই চরিত্রটি হারিয়ে যাক। এতে করে নাটকের কাহিনী বাধাগ্রস্ত হয়। এখন অনেকেই এমন করছেন। যাকে যখন পাচ্ছেন তাকে নিয়েই কাজ করছেন। আমি এই গতানুগতিক বা ব্যবসায়িক কাজে বিশ্বাসী নই। আশা করছি নাটকটি আমার বিগত নাটকগুলোর মতোই দর্শকনন্দিত হবে।
এ বছরই সিনেমা : অনেকদিন ধরেই আফসানা মিমি বলে আসছেন, তিনি একটি হলেও সিনেমা নির্মাণ করতে চান। আর সেজন্য তিনি যুঁত্সই একটি স্ক্রিপ্ট খুঁজছিলেন। প্রায় অর্ধযুগ ধরেই আফসানা মিমি সিনেমার স্ক্রিপ্টের পেছনে ছুটেছেন। কিন্তু মনের মতো গল্প পাননি। অবশেষে তার সেই বন্ধ্যত্ব ঘুচেছে। আফসানা মিমি পেয়ে গেছেন তার পছন্দের সিনেমার কাহিনী। গল্প ফাইনালও করেছেন। মিমি বলেন, আপাতত এ বিষয়ে আমি কিছুই বলব না। শুধু বলা যায়, কাহিনী ফাইনাল হয়েছে। আগামী এপ্রিল মাসে আমি সিনেমাটি নির্মাণের বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেব। আর এ বছরই ছবিটির কাজ শেষ করার ইচ্ছে আছে আমার। তবে আমি সিনেমা করলে সিনেমার মতোই করব। সিনেমার নামে টিভি নাটক বানানোর কোনো ইচ্ছে আমার নেই। অনেকেই হয়তো জানেন না, আফসানা মিমির সিনেমার সঙ্গে সখ্য অনেক নিবিড়। কেননা নিজে সিনেমাভিনয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিন সিনেমার অনেক তারকা নায়িকার ডাবিং করেছেন। বিশেষ করে পপির কণ্ঠে দীর্ঘদিন দর্শক শুনেছেন মিমির কণ্ঠ, যা হয়তো অনেকেই জানেন না। যেসব তারকা নায়িকা ডাবিং করতে চান না বা ডাবিং করতে পারেন না, তাদের লিপে আফসানা মিমির কণ্ঠ এক সময় ছিল নিয়মিত। এখন অবশ্য তিনি আবার সিনেমার ডাবিং করেন না। যাই হোক, সিনেমার সঙ্গে তার এই গভীর সম্পর্কের কারণে তিনি ভালো করেই জানেন, মূলধারার সিনেমার ভাষা কী? আর সেই পথেই তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতার পরিচয় ধারণ করবেন বলে উল্লেখ করেছেন।
ছবি : জিয়াউদ্দিন আলম
-
সোনালি রুপালি


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


