Amardesh
আজঃ ঢাকা, বুধবার ১০ মার্চ ২০১০, ২৬ ফাল্গুন ১৪১৬, ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ১.৩০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

দানব তারার সৃষ্টি প্রক্রিয়া জানাচ্ছে রেডিও ইমেজ

সেলিনা আক্তার
দানব তারার উত্পাদন স্থল হিসেবে ওরিয়ন বা কালপুরুষ নক্ষত্রপুঞ্জ জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে খুবই আকর্ষণীয় ও প্রিয় একটি স্থান। যারা তারার জন্ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান, তাদের প্রথম লক্ষ্যই হয় ওই কালপুরুষ নক্ষত্রপুঞ্জ। সেখানে রয়েছে গ্রেট নেবুলা বা নীহারিকা। একগুচ্ছ তরুণ দানব তারা ওই নীহারিকাকে উদীপ্ত করে চলেছে। চারদিকে বিরাজমান গ্যাস এবং ধূলিকণার কারণে ওইসব তরুণ গুচ্ছ তারা সাধারণ টেলিস্কোপে দেখা যায় না। তবে রেডিও ইমেজের মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে দানব তারা তৈরির প্রক্রিয়া। ওই অঞ্চলের আগে পাওয়া চিত্রের চেয়ে হাই রেজ্যুলেশনের ওই রেডিও ইমেজ হাজারগুণ বেশি স্বচ্ছ এবং বিস্তারিত চিত্র তুলে আনা সম্ভব হয়েছে। রেডিও ইমেজে দেখা গেছে, দানব তারা তৈরিতে ডিস্ক বা চাকতিগুলোর একীভূত হওয়া এবং চুম্বক ক্ষেত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
সবকিছু মিলিয়েই দানব তারা গঠিত হওয়ার প্রক্রিয়াটা রহস্যময়। কারণ দানব তারা বিরল এবং শৈশবকালে এদের চারদিকে বিরাজমান ধূলিকণা ও গ্যাস এমনভাবে ব্যাপৃত থাকে যে এদের খুঁজেই পাওয়া যায় না। তাই সৃষ্টির শুরুতে তাদের মধ্যে ঠিক কীভাবে এবং কেমন প্রক্রিয়ায় বিবর্তন ঘটে তা চিহ্নিত করা সম্ভব হয় না।
হার্ভার্ড স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্স (সিএফএ) এবং ন্যাশনাল রেডিও অ্যাস্টোনমিক অবজারভেটরির (এনআরএও) বিজ্ঞানীদের নিয়ে গঠিত গবেষণা দলের প্রধান গবেষক লিঙ্কন গ্রিনহিল বলেছেন, ‘আমরা জানি যে, কীভাবে দানব তারারা মারা যায়। কিন্তু তাদের জন্মের ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত ছিলাম না। এখন আমরা জানতে পারছি যে, ওই দানব তারারা কীভাবে জন্ম নেয়।’
হাবল মহাকাশ টেলিস্কোপ এবং অন্যান্য দৃশ্যমান আলোক টেলিস্কোপ মহাকাশের যেসব অঞ্চলে চোখ বুলাতে ব্যর্থ হয়, রেডিও টেলিস্কোপ সেখানে অনায়াসে ঢুকে যেতে পারে। তারাকে কেন্দ্র করে ঘন ধূলিকণার চাদর তার চলার পথে বাধা হতে পারে না। গবেষক দলের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সোর্স আই নামে পরিচিত একটি তরুণ দানব তারা রেডিও ওয়েভলেন্থ বা বেতার তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন। ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের ভেরি লং বেসলাইন অ্যারির (ভিএলবিএ) মাধ্যমে ওই ওয়েভলেন্থ পাওয়া গেছে। কালপুরুষ নক্ষত্রপুঞ্জের যত ছবি হাবল মহাকাশ টেলিস্কোপ পাঠিয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছ ও স্পষ্ট ভিএলবিএর ছবি। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এক মাস পরপর দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে সোর্স আই পর্যবেক্ষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র দাঁড় করিয়েছেন।
ভিএলবিএ তারা তৈরির স্থলে বিপুল পরিমাণ সিলিকন মনোঅক্সাইড গ্যাসের মেঘ চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে। ওই গ্যাসের মেঘ কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারার এতটাই কাছে, যতটা কাছে আমাদের সূর্য ও বৃহস্পতি গ্রহ।
গবেষক লিন ম্যাথিউস বলেছেন, গ্যালাক্সিতে ওই সিলিকন মনোঅক্সাইড গ্যাসের মেঘের সমৃদ্ধ উত্স হচ্ছে সোর্স আই। এই মেঘ না থাকলে আমরা এর গতি চিহ্নিত করতে পারতাম না। ফলে এর ভেতরে বা কাছাকাছি লুকিয়ে থাকা তারা চিহ্নিত করা সম্ভব হতো না। সর্বোপরি এটা নিশ্চিত যে, দানব তারা তৈরিতে ওই গ্যাসের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। স্মিথসোনিয়ানের জ্যোতির্বিজ্ঞানী সিরিআকো গোডি বলেন, জ্যোতির্বিজ্ঞানে কোনো পরিবর্তন মানুষের জীবদ্দশায় দেখতে পাওয়াটা বিরল। এই পরিবর্তন হয়তো ঘটে হাজার হাজার, লাখ লাখ বছর ধরে। কিন্তু ওই দুই বছরের পর্যবেক্ষণের ভেতর দিয়ে আমরা বেশকিছু পরিবর্তন চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছি। লিন ম্যাথিউস বলেন, দানব তারা তৈরির ক্ষেত্রে ম্যাগনেটিক ফিল্ড বা চুম্বক ক্ষেত্রের বিষয়টি হয়তো গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়। তবে ওই গ্যাসের মেঘ গতিশীল করতে নিশ্চয়ই এর ভূমিকা রয়েছে। সবকিছু মিলিয়েই বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। ওই গবেষণার পথ ধরেই হয়তো একদিন উন্মোচিত হবে দানব তারার জন্ম রহস্য।


 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?