Amardesh
আজঃ ঢাকা, বুধবার ১০ মার্চ ২০১০, ২৬ ফাল্গুন ১৪১৬, ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ১.৩০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

তরুণ বিজ্ঞানীদের নানা উদ্ভাবনা

এমরানা আহমেদ
শতাধিক বিজ্ঞানীর অংশগ্রহণে ২ মার্চ সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ প্রাঙ্গণে বিজ্ঞান পরিষদ আয়োজিত তিন দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলা শেষ হয়েছে। মেলায় অংশ নেয়া বিজ্ঞানীরা প্রত্যেকেই তাদের সৃষ্টিশীল জ্ঞানের সমন্বয় ঘটিয়ে দেশ ও দশের কল্যাণে কাজে লাগে এমন কিছু উদ্ভাবনের চেষ্টা করেছেন। উদ্ভাবিত বিষয়গুলো কীভাবে কাজে লাগানো যায় সেগুলোও উপস্থিত দর্শকদের চমত্কারভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। বিজ্ঞান মেলায় অংশ নেয়া বিজ্ঞানীদের মধ্যে উত্সাহ এবং উদ্দীপনারও কোনো কমতি ছিল না।
অটোমেটিক ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম প্রজেক্ট নম্বর-৫৩ তে সায়েন্স গ্রুপের ছাত্রী ওয়াহিদা জিহান, শাহজালালি বেগম, সৌমিত্র সাহা এবং আফসানা ইমন তাদের এই প্রজেক্টের রাজধানীর যানজট এবং সড়ক দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য উদ্ভাবন করেছে অটোমেটিক ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম পদ্ধতি। এতে তারা যানজট নিরসনে প্রতিটি রাস্তার সিগন্যাল বাতির সামনে ব্যারিকেট দেয়ার কথা বলেন। আর জেব্রা ক্রসিংগুলোতে গাড়ি এসে পৌঁছলেই একসঙ্গে সিগন্যালগুলোর সামনের গাড়ি থামানোর লাল লাইট এবং গাড়ি চলাচলের সবুজ লাইটগুলো একসঙ্গে জ্বলে উঠবে। আর রাজধানীর বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকায় গাড়ি পাকিংয়ের নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করা থাকবে। যাতে গাড়িগুলো রাস্তায় পাকিং করে কেউ যানজট সৃষ্টি করতে না পারে।
মেলা উদ্বোধন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ শফিউল্লাহ। মেলায় ১শ’টির মতো প্রকল্প স্থান পেয়েছে। মেলা শেষ হয়েছে ৪ মার্চ। বিজ্ঞান বিভাগের সায়েন্স প্রজেক্টের ছাত্রীরা মেলায় প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে। প্রথম স্থান অধিকার করেছে ‘ম্যাজিক্যাল ব্রিজ’ প্রজেক্টটি এবং দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে ‘গাঁদা ফুল থেকে অ্যান্টিসেপটিক ও মশক নিধক লোশন’ প্রজেক্টটি। শেষদিন বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। প্রজেক্ট-৫৩ এর অটোমেটিক কারপাকিং কন্ট্রোল সিস্টেমটি মেলায় আসা প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. সৈয়দ শফিউল্লাহসহ উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করছে। এই প্রজেক্টের অংশ নেয়া বিজ্ঞানীরা জানান, তাদের এই পদ্ধতি সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারলে রাজধানীর যানজট দূর করা যেমন সম্ভব হবে পাশাপাশি সময়ের অপচয়ও রোধ করা যাবে।
ভূমিকম্প রোধক বাড়ি—প্রজেক্ট-২ এ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রীরা ভূমিকম্পে কীভাবে সম্পদ এবং প্রাণহানি রোধ করা যায় সেটি তুলে ধরা হয়েছে। ভূমিকম্প রোধক বাড়ি বানানোর উপকরণগুলো হলো—অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি হবে বাড়ি, পিলারগুলো লোহারই থাকবে, দরজা কাঠের হলেও জানালাগুলো থাকবে কাচের তৈরি, ভূমিকম্পের সময় বিদ্যুত্ চলে গেলে অন্ধকার দূর করতে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে আলোর একটি ব্যবস্থা বাড়ির মধ্যে রাখা হবে। এই বাড়ির একটি বড় সুবিধা হলো ভূমিকম্পের সময় নড়বে কিন্তু ভাঙবে না।
বায়োগ্যাসের ব্যবহার সম্পর্কে সায়েন্স গ্রুপ-৪ এর জেবিনা আক্তার, জান্নাতুল ফেরদৌস, আমিনা খাতুন জানান, তিতাস গ্যাসের মতো এ গ্যাস দিয়ে রান্না করা যায়, ম্যান্টল জ্বেলে হ্যাজাক লাইটের মতো আলো পাওয়া যায়, এই গ্যাস দিয়ে গাড়ি চালানো সম্ভব, পাম্পের সাহায্যে জমিতে সেচ করা যায়, এই গ্যাস ব্যবহারে ফলমূল, খাদ্যশস্যে সংরক্ষণ করা যায়।
বিজ্ঞান পরিষদের আহ্বায়ক এবং সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজের প্রাণী বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক জিন্নাত আরা বলেন, ছাত্রীদের মধ্যে সৃষ্টিশীলতা এবং সৃজনশীল মননের বিকাশ ঘটানোর জন্যেই মূলত এধরনের বিজ্ঞান মেলা আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। এধরনের মেলায় অংশ নেয়া ছাত্রীরা তাদের বাস্তব জ্ঞান কাজে লাগিয়ে ভবিষত্ জীবনে সফলতার সাক্ষর রাখতে পারে। বিজ্ঞানের বাস্তব রূপ দিতে পারে। কারণ এধরনের মেলা থেকেই বেরিয়ে আসবে ভবিষ্যত্ বিজ্ঞানীরা।
একাদশ শ্রেণীর বিজ্ঞান গ্রুপের ছাত্রীরা তাদের প্রজেক্ট-১ এ গাঁদা ফুল থেকে অ্যান্টিসেপটিক ও মশক নিরোধক লোশন তৈরি পদ্ধতি তুলে ধরেন। ফাতেমা মির্জা, তাসলিম চৌধুরী এবং মেহরা তানযীন নাবিলা তাদের প্রজেক্ট সম্পর্কে জানান, বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত ফুল গাঁদা ফুল। সৌন্দর্যের পাশাপাশি এর মাঝে যে অনেক ওষুধি গুণাবলী আছে তা হয় তো অনেকেরই অজানা। গাঁদা ফুলের তেমনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার নিয়ে তাদের এ প্রজেক্ট-১। এটি তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ—গাঁদা ফুল ও পাতা, জেডএনও, গ্লিসারিন। পদ্ধতি—প্রথমে হামান দিস্তাবের সাহায্যে গাঁদা ফুল ও এর পাতা পিষ্ট করে রস সংগ্রহ করা হয়। তারপর প্রাপ্ত রসকে ফিল্টার করে পরিশ্রুত তরল সংগ্রহ কর হয়। পরিশ্রুত তরলের প্রধান উপাদান হলো—ফেনল (৫৫%), সালফার এবং পানি। পরে পরিশ্রুত তরলের সঙ্গে পরিমাণ মতো জেডএনও মেশানো হয়। এতে পরিশ্রুত তরলের সালফার জেডএনএস রূপে অধোক্ষিপ্ত হয়। তারপর আবার ফিল্টার পেপারের সাহায্যে জেডএনএসের অধোক্ষেপকে ছেঁটে আলাদা করা হয়। এই ধাপে প্রাপ্ত পরিশ্রুত তরলে ফেনল ও জেডএনও বিদ্যমান। প্রাপ্ত পরিশ্রুতকে তাপ প্রয়োগের মাধ্যমে অতিরিক্ত পানি দূরীভূত করা হয়। তারপর এর সঙ্গে গ্লিসারিন মিশিয়ে অ্যান্টিসেপটিক তৈরি করা হয়।
মানবিক বিভাগের গ্রুপ-৫ এর ছাত্রী ফারজানা জাহান, আফিয়া আফরোজা এবং সুমাইয়া আলী মেলায় অংশ নিয়ে তাদের প্রজেক্ট—৫৬ এ নদীর উত্পাদন ও ক্রমবিকাশ তুলে ধরেন। উন্নত দ্বিমুখী-চিমনিযুক্ত চুলা ব্যবহারে শতকরা ৬০ থেকে ৬৫ ভাগ জ্বালানি বাঁচানো যাবে, দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব, পারিবেশ দূষণ হবে না বলে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র তানজিমা জাহুয়া, ফৌজিয়া মাহবুবা তাদের ‘উন্নত দ্বিমুখী-চিমনিযুক্ত চুলা’ প্রজেক্টে তুলে ধরেন। কাজী তাসনিম তালিহা এবং উম্মে হাবীবা মালিহা প্রজেক্ট ১০৪৮’এ সৌরকোষ এবং সৌরশক্তির সাহায্যে বিদু্যুত্ উত্পন্ন এবং এর ব্যবহারে শিরোনামের এই প্রজেক্টে লোডশেডিং দূর করা, বিদ্যুত্ ঘাটতি কমানো, বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো যাবে বলে জানান। এটি গ্রামে ঘরের ছাদে এবং শহরে বাড়ির ছাদে রেখে অতি সহজেই এটি ব্যবহার করা যাবে বলে জানান ক্ষুদে এই দুই বিজ্ঞানী। বন্যাকবলিত মানুষের জন্য সহজে বিশুদ্ধ পানি পাওয়ার জন্য মানবিক বিভাগের ছাত্রী নিশীথা ও সাদিয়া প্রজেক্ট-১০৫০ প্রজেক্টে কলাপাতা থেকে ফিটকেরি তৈরির নিয়মাবলী তুলে ধরেন।


 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?