চলে গেলেন শাহরুখ শহীদ
আবু সুফিয়ান কবির
শাহরুখ শহীদ একজন ডিজাইনার- এক অসাধারণ প্রাণোচ্ছল মানুষ। বারো হাতের শাড়ির ক্যানভাসে প্রকৃতিকে তুলে ধরেছিলেন নিজস্ব আঙ্গিকে, আপন মহিমায়। বসন্ত ঋতুকে ভালোবাসতেন। কোনো এক বসন্তে শাড়ির ডিজাইন করা প্রদর্শনীর মাধ্যমে উন্মেষ ঘটে শাহরুখ শহীদের। এ বসন্তেই তিনি চলে গেলেন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নিজস্ব স্টুডিওতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। মাত্র ৪৫ বছর বয়সে সবসময় হাস্যোজ্জ্বল, প্রাণবন্ত মানুষটি হঠাত্ চলে গেলেন। প্রকৃতির প্রতি ছিল অবাধ টান। ১৯৯৪ সালে এক প্রদর্শনীর মাধ্যমে জনপ্রিয় করেছিলেন নিজের কাজ। বুটিক শিল্পের ধারণাকে করেছিলেন প্রতিষ্ঠিত। এভাবেই প্রদর্শনীর মাধ্যমে শাহরুখ শহীদ হয়ে উঠেছিলেন একজন ডিজাইনার, জনপ্রিয় করেছিলেন বুটিক শিল্পকে।
ডিজাইনার ইমেজ ছাড়িয়ে শাহরুখ শহীদ তৈরি করেছিলেন বন্ধুত্ব স্মৃষ্টির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সব বয়সের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতেন খুব সহজে। যারা তার থেকে একটু বয়সে ছোট, তাদের ঘাড়ে হাত দিয়ে কাছে টেনে নিতেন, কুশল বিনিময় করতেন। মুখে তখন থাকত শ্মশ্রুমণ্ডিত হাসি। তার স্টুডিও ছিল প্রাণবন্ত আড্ডাস্থল। যতটুকু পেরেছেন অন্যকে সহযোগিতা করেছেন। তাই তো তার মৃত্যুসংবাদ পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে ছুটে এসেছিলেন অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী, বন্ধু, সুধীজন, ডিজাইনার আর আত্মীয়স্বজন। চোখের পানি সংবরণ করতে পারেননি কেউই।
ইউসুফ আল মামুন বর্তমানে একজন এনজিও কর্মী। এক সময় ‘বাংলাদেশ ডট কম’ নামে একটি সিডি ম্যাগাজিন বের করতেন। সেই বারো বছর আগের স্মৃতিচারণ করে কেঁদে ফেলেছেন। বলেছেন, ‘সেই সময় শাহরুুখ ভাই না থাকলে তার পক্ষে ম্যাগাজিন বের করা সম্ভব হতো না’। ‘হেনরিজ হেরিটেজ শুরুর পর থেকে তার সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছে পামির। ছোট ভাইয়ের মতো আদর-স্নেহ দিয়ে একজন যোগ্য ডিজাইনাররূপে তৈরি করেছিলেন পামিরকে। পামির এখন ‘পামসি’ বুটিক হাউসের কর্ণধার। বলছিলেন সেসব দিনের স্মৃতিকথা। ‘শাহরুখ ভাই আমাকে নিজের সন্তানের মতো স্নেহ করতেন। তিনি ছিলেন আমার গুরু। প্রকৃতি তাকে কাছে টানত। শাড়িকে ভাবতেন ক্যানভাস। এক ডিজাইনের একটি পোশাকের ধারণা শাহরুখ ভাই প্রচলন করেন। বসন্ত, বৈশাখ আর বিভিন্ন ওকেশনে শাহরুখ ভাই প্রদর্শনীর মাধ্যমে নতুন এক ইমেজ তৈরি করেছিলেন।’
১৯৯০ সালে ফ্যাশন স্টুডিও ‘হেনরিজ হেরিটেজ’ দিয়ে যাত্রা শুরু ডিজাইনার শাহরুখ শহীদের। ১৯৯৪ সালে তিনি প্রথম নিজের হাতের আঁকা মোটিফ দিয়ে শাড়ির বসন্তকালীন প্রদর্শনী করেন অলিয়ঁস ফ্রঁসেজে। বেশ কয়েক বছর পর তিনি ধানমন্ডির ২৭ নাম্বারে গড়ে তোলেন হেনরিজ হেরিটেজ বিশাল শোরুম। এখানেই আড্ডা দিতেন বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় সব মডেল ও অভিনয় শিল্পী। ২০০২ সালে তিনি শাহরুখ কালেকশন নামে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তিনি এক সময় এসিডদগ্ধদের পুনর্বাসনে কাজ করেছেন। ডিজাইন স্টুডিও থেকে তৈরি করেছেন অনেক তরুণ ডিজাইনার। তিনি কখনও স্থির ছিলেন না। সবাই যখন ভাবছে, তিনি স্থির হন কিছু একটা করবেন। তখন তিনি হঠাত্ সবাইকে কাঁদিয়ে চিরবিদায় নিলেন। তার প্রতি রইল আমাদের গভীর ভালোবাসা।
ডিজাইনার ইমেজ ছাড়িয়ে শাহরুখ শহীদ তৈরি করেছিলেন বন্ধুত্ব স্মৃষ্টির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সব বয়সের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতেন খুব সহজে। যারা তার থেকে একটু বয়সে ছোট, তাদের ঘাড়ে হাত দিয়ে কাছে টেনে নিতেন, কুশল বিনিময় করতেন। মুখে তখন থাকত শ্মশ্রুমণ্ডিত হাসি। তার স্টুডিও ছিল প্রাণবন্ত আড্ডাস্থল। যতটুকু পেরেছেন অন্যকে সহযোগিতা করেছেন। তাই তো তার মৃত্যুসংবাদ পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে ছুটে এসেছিলেন অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী, বন্ধু, সুধীজন, ডিজাইনার আর আত্মীয়স্বজন। চোখের পানি সংবরণ করতে পারেননি কেউই।
ইউসুফ আল মামুন বর্তমানে একজন এনজিও কর্মী। এক সময় ‘বাংলাদেশ ডট কম’ নামে একটি সিডি ম্যাগাজিন বের করতেন। সেই বারো বছর আগের স্মৃতিচারণ করে কেঁদে ফেলেছেন। বলেছেন, ‘সেই সময় শাহরুুখ ভাই না থাকলে তার পক্ষে ম্যাগাজিন বের করা সম্ভব হতো না’। ‘হেনরিজ হেরিটেজ শুরুর পর থেকে তার সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছে পামির। ছোট ভাইয়ের মতো আদর-স্নেহ দিয়ে একজন যোগ্য ডিজাইনাররূপে তৈরি করেছিলেন পামিরকে। পামির এখন ‘পামসি’ বুটিক হাউসের কর্ণধার। বলছিলেন সেসব দিনের স্মৃতিকথা। ‘শাহরুখ ভাই আমাকে নিজের সন্তানের মতো স্নেহ করতেন। তিনি ছিলেন আমার গুরু। প্রকৃতি তাকে কাছে টানত। শাড়িকে ভাবতেন ক্যানভাস। এক ডিজাইনের একটি পোশাকের ধারণা শাহরুখ ভাই প্রচলন করেন। বসন্ত, বৈশাখ আর বিভিন্ন ওকেশনে শাহরুখ ভাই প্রদর্শনীর মাধ্যমে নতুন এক ইমেজ তৈরি করেছিলেন।’
১৯৯০ সালে ফ্যাশন স্টুডিও ‘হেনরিজ হেরিটেজ’ দিয়ে যাত্রা শুরু ডিজাইনার শাহরুখ শহীদের। ১৯৯৪ সালে তিনি প্রথম নিজের হাতের আঁকা মোটিফ দিয়ে শাড়ির বসন্তকালীন প্রদর্শনী করেন অলিয়ঁস ফ্রঁসেজে। বেশ কয়েক বছর পর তিনি ধানমন্ডির ২৭ নাম্বারে গড়ে তোলেন হেনরিজ হেরিটেজ বিশাল শোরুম। এখানেই আড্ডা দিতেন বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় সব মডেল ও অভিনয় শিল্পী। ২০০২ সালে তিনি শাহরুখ কালেকশন নামে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তিনি এক সময় এসিডদগ্ধদের পুনর্বাসনে কাজ করেছেন। ডিজাইন স্টুডিও থেকে তৈরি করেছেন অনেক তরুণ ডিজাইনার। তিনি কখনও স্থির ছিলেন না। সবাই যখন ভাবছে, তিনি স্থির হন কিছু একটা করবেন। তখন তিনি হঠাত্ সবাইকে কাঁদিয়ে চিরবিদায় নিলেন। তার প্রতি রইল আমাদের গভীর ভালোবাসা।


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


