মাঠের বাইরে
মাত্র ২২ বছরের শচীন ২৭ বছরের অঞ্জলীকে বিয়ে করেন ১৯৯৫ সালে। তখন সারা দুনিয়াতেই রীতিমত ঝড় বয়ে গেল এ বিয়ের কারণে। অনেকেই বলতে থাকেন এ বিয়ে টিকবে না, কারণ এত বড়-ছোটর সংসার টেকার রেকর্ড নেই। মাঠের অনেক রেকর্ডের মতো করে মাঠের বাইরে ব্যক্তিজীবনে আরও একটি রেকর্ড করে ফেললেন শচীন রমেশ টেন্ডুলকার। ১৫ বছরের সংসারে এক সেকেন্ডের জন্য কোনো ঝড় আসেনি। যেমনভাবে ঝড় আসেনি তার ক্রিকেট জীবনেও। চিকিত্সক স্ত্রী নিজেকে সংসারী বানিয়ে শচীনের একজন ভালো বন্ধুতে পরিণত হয়েছেন। এর বাইরে সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাইয়ের সঙ্গে একই ফ্ল্যাটে একই তলায় পাশাপাশি থেকেও একদিন সংবাদের শিরোনাম হতে পারেননি। এশিয়ার ক্রিকেটে ম্যাচ গড়াপেটার ব্যাপারটি কিছুটা হলেও বেশি। কিন্তু সেখানেও শচীনকে কেউ ছুঁতে পারেনি। মাঠের বাইরের শচীনের মতো ক্রিকেটে ফিফটি করলে নিজ দেশের মানুষ কোনটি দেবে—হাততালি নাকি গালাগালি? মিড উইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকালে কোনটা জোটার কথা,—দোয়া নাকি দুয়ো? মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, এটা কোনো কথা হলো! গালাগালি দিতে যাবে কোন দুঃখে? কোন দুঃখে সেটা জানতে গেলে ভারতের একশ কোটি মানুষকে জিজ্ঞাসা করতে হবে। শচীনের বিশ্বরেকর্ডের ম্যাচে ভারতের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি যখন ২৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন তখন তারা হাততালি দিল না কেন? স্টেইনের বলে ধোনির অতবড় ছক্কার পর স্টেডিয়ামের চার প্রান্ত থেকেই কেন আসতে থাকল দুয়োধ্বনি! কারণ একটাই। তাদের তর সইছিল না। তাদের লিটল মাস্টার শচীন টেন্ডুলকার তখন ১৯৯ রান নিয়ে উইকেটের অপর প্রান্তে দাঁড়িয়ে। আর এক রান হলেই ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাস নতুন করে লেখা হবে। ওই সময় অধিনায়কের ব্যাটের ফিফটি কিংবা চার-ছক্কার চেয়ে রাম তেতো আর কি-ই বা লাগতে পারে! শেষ পর্যন্ত শচীন পেরেছেন। মাঠের বাইরে ছিল কোটি কোটি ক্রিকেট অনুরাগী। যাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ভারতের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী। প্রেসিডেন্ট প্রতিভা পাতিল বলেছেন, শচীন টেন্ডুলকার রানের আরেকটি মাউন্ট এভারেস্ট অতিক্রম করেছেন। ক্রিকেট রেকর্ড নতুন করে লিখেছেন। তাকে অন্তরের অভিনন্দন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেন, এই অর্জন অতুলনীয়। সাফল্য কাকে বলে শচীন তা সবাইকে উদাহরণ দিয়ে শেখালেন। তাকে বুকভরা অভিনন্দন। অপরদিকে বিস্ময়ে হা হয়ে যাওয়া মুখের ফাঁক দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার লেগ স্পিন লিজেন্ড শেন ওয়ার্ন বলেন, আমার কপাল ভালো যে, আজকে আমি শচীনের বিরুদ্ধে বল করতে মাঠে নামিনি! আমার বন্ধু শচীন, তোমাকে অভিনন্দন! তাই সবার এসব অভিনন্দনকে শ্রদ্ধাচিত্তেই নিয়েছেন শচীন। কখনও ক্রিকেট ছাড়া অন্যকিছু চিন্তা করেননি। ইনজুরির কারণে যেটুকু সময় পেয়েছেন সেটুকুই পরিবারকে দিয়েছেন।


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


