শুরুর গল্প
১৯৮৯ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে করাচি টেস্ট দিয়ে ১৬ বছরের যে ব্যাটসম্যানটির যাত্রা শুরু হয়েছিল, তিনিই এখন বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় সম্পদের নাম। ইমরান খান, ওয়াসিম আকরাম আর ওয়াকার ইউনুসের বাউন্সারে রক্ত ঝরার পর মাঠে নেমেই করলেন হাফ সেঞ্চুরি। তারপর থেকে টানা খেলে চলেছেন, বনে গেছেন অনেক রেকর্ডের মালিকও। অনেক প্রথমের মতো গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আরও একটি প্রথমের জন্ম দিলেন এই লিভিং লিজেন্ড। সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করে করলেন ২০০ রান। একদিবসীয় ক্রিকেট চালু হওয়ার প্রায় ৪০ বছর পর শচীন টেন্ডুলকার বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলিং আক্রমণকে তুলোধুনো করে এমন ইতিহাস গড়লেন। ওডিআইতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড ভাঙলেন। প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে একদিনের ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি করলেন। তার অপরাজিত ২০০ রানের নিচে চাপা পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় ম্যাচে শুধু ১৫৩ রানেই হারেনি, ওয়ানডে সিরিজও খোয়াল। ৩৬-এও বুড়িয়ে যাওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। চিরযুবা এই জিনিয়াস ২০ বছরের ক্যারিয়ারে একের পর এক রেকর্ড ভেঙেছেন আর গড়েছেন। তবু কোনো ক্লান্তি নেই। একটি নিখুঁত, সুযোগহীন, সাবলীল ইনিংস খেলে ভারতকে পৌঁছে দেন ৪০১-এ। তার জবাব দিতে নেমে পথ হারানো প্রোটিয়াসরা ২৪৮-এর বেশি করতে পারেনি। এবিডি ভিলিয়ার্সের সেঞ্চুরিও (১১৪) রুখতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকার শোচনীয় হার। অনন্য এ রেকর্ড গড়ার দিনে শচীন খেললেন ১৪৭ বলে ২০০ রানের অপরাজিত এক ইনিংস। ২৫ চার আর ৩ ছক্কায় সাজালেন ঝলমলে এ ইনিংসটি। ওয়ানডে ক্রিকেটে ৪০ বছরের ইতিহাসে যে রেকর্ড কেউ করতে পারেনি সেই রেকর্ডই করলেন শচীন। রেকর্ডটা হতে পারত মাস চারেক আগেই। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে হায়দ্রাবাদে গত বছর ৫ নভেম্বরে ১৭৫ রানের এক মহা কাব্যিক ইনিংস খেলেছিলেন। শচীন ভক্তরা আশা করেছিলেন সেদিনই বোধ হয় ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রানের মাইলফলক স্পর্শ করে ফেলবেন। কিন্তু পারেননি। শচীন ব্যর্থ হওয়ার নন। এ কথাটি প্রমাণ করতেই যেন নিজ মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে করলেন অমর কীর্তি। সাঈদ আনোয়ারের রেকর্ড তো ভাঙলেনই। সেই সঙ্গে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডে ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন। হয়তো বা অদূর ভবিষ্যতে টেন্ডুলকারের রেকর্ড নাও থাকতে পারে। তবে টেন্ডুলকারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ডে কেউ ভাগ বসাতে পারবেন না। অনন্য এ রেকর্ড গড়ার দিনে শচীন খেললেন ১৪৭ বলে ২০০ রানের অপরাজিত এক ইনিংস। ২৫ চার আর ৩ ছক্কায় সাজালেন ঝলমলে এ ইনিংসটি। ওয়ানডে ক্রিকেটে ৪০ বছরের ইতিহাসে যে রেকর্ড কেউ করতে পারেনি, সেই রেকর্ডই করলেন শচীন। আসলে শচীন বলেই হয়তো এটি সম্ভব হয়েছে। ক্রিকেটের প্রায় সব রেকর্ডের মালিক যিনি একমাত্র তিনিই তো পারেন এ রেকর্ড করতে। বিধাতাও হয়তো তার জন্যই এটি বরাদ্দ করে রেখেছিলেন। তা না হলে কাছাকাছি গিয়েও অনেক ব্যাটসম্যান যখন ব্যর্থ হলেন তখন শচীন কেন করবেন এই রেকর্ড। ২৪ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভারতের তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি তাই অন্যসব ম্যাচের চেয়ে ক্রিকেট ইতিহাসে একটু আলাদা হয়ে থাকবে। টেস্ট ক্রিকেটে আগে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি ছিল ৩৪টি। সেখান থেকে শচীন সেটাকে নিয়ে গেলেন ৪৭-এ। আর ওয়ানডে ক্রিকেটে ৪৬। প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরির অপেক্ষাটা বোধহয় খুব দ্রুতই শেষ হয়ে যাচ্ছে। ১৯৯৮ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ১৮৯৪ রান করেন। ঠিক একই বছর ৯টি সেঞ্চুরি করেও নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য এক উচ্চতায়। এ ছাড়া ওয়ানডেতে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ১০ হাজার, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬ ও ১৭ হাজার রানের মালিক বনে যান শচীন। তাই অনেক প্রথমের পর এবার প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরি করবেন এমনটাই প্রত্যাশা তার কোটি কোটি ভক্তের।


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


