Amardesh
আজঃ ঢাকা, বুধবার ১০ মার্চ ২০১০, ২৬ ফাল্গুন ১৪১৬, ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ১.৩০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 কার্টুন
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের যাত্রা শুরু

সোহেল রানা বীর
মনের ভেতরে লুকায়িত ভাবের বহিঃপ্রকাশের মাধ্যম হিসেবে চিত্রশিল্প অন্যতম। শিল্পী তার মনের মাধুরী মিশিয়ে সৃজনশীল চিত্রকল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলেন তার না বলা অনেক কথা। অন্যায়-অত্যাচারে নিষ্পেষিত অসহায় মানুষের করুণ পরিণতি আর যুদ্ধবিধ্বস্ত ধ্বংসাবশেষ, আবেগ ছুঁয়ে যাওয়া নৈসর্গিক প্রকৃতির উন্মত্ত হিমেল হাওয়ায় উদ্ভাসিত কোনো নারীর অবয়ব কিংবা নিষ্পাপ শিশুর নিষ্পলক চাহনি শিল্পী তার রং তুলির আঁচড়ে তুলে ধরেন আপন মহিমায়। সৃষ্টি করেন নবযুগের নবসৃষ্টির সূচনা। বৃষ্টির পর এক টুকরো মিষ্টি রৌদ্দুরের দূর পশ্চিমাকাশে রংধনুর সাত রংয়ে রাঙিয়ে তোলার দৃশ্য দেখেই হয়তো মানুষের মাঝে রং তুলিতে নিজের অস্ফুট ভাব প্রকাশের জন্ম নেয়। তারপর থেকেই হয়তো মানুষ আঁকতে শিখে। আর সেই চিত্রকর্মের আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত আর্ট স্কুল। নিষ্পাপ শিশু-কিশোরদের কোমল হাতে রং তুলির আছড়ে মনের অজানা ভাবকে প্রকাশ করার জন্য ১৯০৪ সালে খুলনার মহেশ্বরপাশায় ভৈরব নদীর তীরে ছোট্ট গোলপাতায় বাঁধা ঘরে শিল্পী শশী ভূষণ পাল প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশের প্রথম আর্ট স্কুল। শশী ভূষণ পাল তার এ স্কুলকে নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন দেখতেন। এই আর্ট স্কুলটি ছিল তার তীর্থ, তার সাধনার ধন। তাই তো জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিরলসভাবে কাজ করেছেন স্কুলের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য। অবশেষে সবাইকে কাঁদিয়ে নিয়তির ডাকে ১৯৪৫ সালে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যান শিল্পী শশী ভূষণ পাল। কিন্তু তিনি যে কার্যক্রম শুরু করেছিলেন তার গতি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। পরবর্তী সময়ে এ স্কুলটি ‘শশী ভূষণ আর্ট কলেজ’-এ রূপান্তরিত হয়। অবশেষে ১৯৮৩ সালে এটি খুলনা আর্ট কলেজ হিসেবে খুলনা শহরের গল্লামারী নামক স্থানে পরিত্যক্ত রেডিও স্টেশনে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। ১৯৯০ সালে কলেজটি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেছন দিকে ছোট বয়রায় পরিত্যক্ত একটি ইংরেজি স্কুল ভবনে স্থানান্তরিত করা হয়। এমনিভাবে শুরু হয় খুলনা আর্ট কলেজের যাত্রা।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর ১৯৯১ সাল থেকেই খুলনা আর্ট কলেজকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে রূপান্তরের জোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন এ অঞ্চলের সচেতন মহল। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত ১৭ মে ’০৯ তারিখে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সভায় খুলনা আর্ট কলেজকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইনস্টিটিউটে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এতে পূর্ণতা পায় এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবি। এবছর ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষ থেকে ইনস্টিটিউটের অধীনে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ইনস্টিটিউটের অধীনে চার বছরমেয়াদি স্নাতক কোর্সে এরই মধ্যে ছাত্রছাত্রী ভর্তি প্রক্রিয়াও প্রায় শেষ পর্যায়ে। বর্তমানে ইনস্টিটিউটের মোট আসন সংখ্যা ৪৭ এবং শিক্ষকতা করছেন সর্বমোট ৮ জন শিক্ষক। ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক আফরোজা পারভীন। তিনি বলেন, চারুকলা ইনস্টিটিউটকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আত্তীকরণ করায় এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। তবে শুরুতেই আমরা অনেক সমস্যার সম্মুখীন হই, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহযোগিতায় আমরা এ বছর থেকেই ক্লাস শুরু করতে যাচ্ছি। এ ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীদের ড্রইং ও পেন্টিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, প্রিন্ট মেকিং, স্কাল্পচার, শিল্পকলার ইতিহাস ছাড়াও বিভিন্ন তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক কোর্স করানো হবে। ইনস্টিটিউটের অধীনে চার বছরমেয়াদি কোর্সে স্নাতক ডিগ্রি প্রদান করা হবে। প্রতিটি সাফল্যের অন্তরালে যেমন লুকিয়ে থাকে অনেক অজানা ইতিহাস, অনেকের ত্যাগ আর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, তেমনি চারুকলা ইনস্টিটিউটের এ ইতিহাস আমাদের আজও মনে করিয়ে দেয় বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের শিল্পী শশী ভূষণ পালের সেই অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা। শিল্পী শশী ভূষণ পালের সেই অব্যর্থ প্রচেষ্টা আজকের এই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট। এ চারুকলা ইনস্টিটিউটই তার সেই স্বপ্ন পূরণে কালের সাক্ষী হয়ে থাকবে অনন্তকাল আর শিল্পী শশী ভূষণ পাল বেঁচে থাকবেন আজীবন প্রতিটি চিত্র শিল্পীর প্রতিটি চিত্রকর্মে।


 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?