বইমেলা কেমন হলো : লেখকদের মূল্যায়ন
মা হ মু দা ড লি
স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে যে সাংস্কৃতিক জাগরণের সূচনা হয়েছে, তার উজ্জ্বল অভিব্যক্তি নিঃসন্দেহে অমর একুশে বইমেলা। এ মেলা আজকাল আর কেবল বইয়ের মেলা নয়। পরিণত হয়েছে এক মিলনমেলায়। বাঙালির সার্বজনীন উত্সবে এই মেলা মর্যাদামণ্ডিত হয়েছে। দেশের সাংস্কৃতিক জাগরণকে ক্রমাগত সংহত, শাণিত করে তুলছে একুশে বইমেলা। সংস্কৃতির বিকাশের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
মেলাকে কেন্দ্র করে সৃজনশীল প্রকাশনা জগতে গড়ে উঠছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি গড়ে উঠছে বিশাল পাঠকসমাজ। সাহিত্য ও সৃজনশীল চিন্তাচেতনার যারা নিরন্তর সাধক, তাদের সংখ্যাও ক্রমেই বাড়ছে। সদ্য শেষ হওয়া মাসব্যাপী এবারের মেলার দিকে তাকালেও তার স্বাক্ষর মেলে। এবার মেলায় এসেছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বই। এক মাসে বই বিক্রির হিসাবের অংকটা পৌঁছেছে বিশ কোটি টাকার ঘরে। এরপরও মেলা শতভাগ সফল কিনা, এ প্রশ্ন যেমন আছে, তেমনি ব্যর্থতার কিছু কারণও আছে। সেই কারণগুলো কী, কীভাবে সেগুলো থেকে উত্তরণ সম্ভব, আগামী মেলা কেমন দেখতে চান—এসব বিষয়ে আমরা জানতে চেয়েছিলাম খ্যাতিমান কয়েকজন লেখকের কাছে।
রাবেয়া খাতুন
কথাসাহিত্যিক
একুশে বইমেলা ২০১০ অবশ্যই সফল। এ বইমেলা আলোকিত উজ্জ্বল সম্ভাবনার আয়োজন। প্রত্যেক বছর মেলার সাফল্য বাড়ছে। মেলা উপলক্ষে প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে বইয়ের বিক্রি, পাঠক, ক্রেতা এবং মানুষের কৌতূহল। মেলায় যে কেবল পাঠক, ক্রেতা যান তা নয়, যারা সাহিত্য পড়েন না তারাও যাচ্ছেন। ‘সেখানে কী হচ্ছে, দেখে আসি’ এরকম কৌতূহল থেকে তারা মেলায় যাচ্ছেন। সেটা এক অর্থে সাহিত্যের প্রতি আকর্ষণ। আজকে না পড়লেও, তাদের অনেকে ভবিষ্যতে সাহিত্য পড়বেন।
ছোট ছেলেমেয়েরাও বাবা-মা, অভিভাবকের হাত ধরে মেলায় গেছে। পছন্দের বই কিনেছে, এটা আমরা প্রতিবছরই একুশে বইমেলায় দেখি। মেলায় যাওয়া, বই কেনা শিশুদের অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে। এটা তো ভালো দিক।
বইমেলায় নানারকম অসুবিধাও বিদ্যমান ছিল। মেলার জায়গাটা ছোট। তাতে প্রকাশক, পাঠক, ক্রেতা, দর্শনার্থী—সবার অসুবিধা হয়েছে। বাংলা একাডেমীর সামনের রাস্তায় মেলার স্টল বসানো হয়। তাতে সৌন্দর্য রক্ষা হচ্ছে না। বইমেলা জ্ঞানের মেলা, সৌন্দর্যও তার অংশ। রাস্তায় স্টল থাকায় একদিকে টিএসসি চত্বর, অন্যদিকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ ছিল। তাতে বয়স্ক মানুষ যারা এতদূর হাঁটতে পারেন না, তাদের পক্ষে সে কারণে মেলায় যাওয়ার ইচ্ছে, আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও সম্ভব হয়নি। একুশে বইমেলায় যেসব পাঠক আসেন, তারা সবাই ঢাকায় থাকেন না। শুধু মেলার জন্য অনেকেই ঢাকার বাইরে থেকে আসেন। মেলায় তাদের প্রাথমিক অসুবিধাগুলো দূর করার জন্য বাংলা একাডেমীর ব্যবস্থা নেয়া উচিত। মেলায় প্রচুর ভিড় হয়, তাতে পানির তৃষ্ণা বাড়ে। সে জন্য খাবার পানির ব্যবস্থা রাখা যায়। এটা তো ছিল না। টয়লেটের সমস্যাটাও ছিল। নারীদের এ সমস্যায় আরও বেশি ভুগতে হয়েছে। ধুলোবালির উড়াউড়ি বন্ধ করতে ঠিকমত ব্যবস্থা নেয়া দরকার।
একুশে মেলার পরিসর বাড়াতেই হবে। সে জন্য পাশের আণবিক শক্তি কমিশনের মাঠে মেলাকে বিস্তৃত করা যায়। ১৯৯০, ’৯১, ’৯২—এ তিন বছর আমি বাংলা একাডেমীর কাউন্সিল মেম্বার ছিলাম। তখন জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, সরদার ফজলুল করিম, আনিসুজ্জামান, শমসের আলীর মতো বিদগ্ধ ব্যক্তিরা ছিলেন।
এক সভায় তখন একাডেমীর পুকুরটি রাখা হবে, কী ভরাট করা হবে, এ নিয়ে আলোচনা হয়। একটি সাবকমিটিও সে জন্য গঠিত হয়। তাতে শমসের আলী ও আমাকে রাখা হয়। কমিটির পক্ষ থেকে পুকুরটি রাখার জন্য রিপোর্ট দিয়েছিলাম। আমরা বলেছিলাম, সুন্দর করে সাজাতে হবে পুকুরটিকে। তার মধ্যে থাকবে লাল, নীল, সাদা পদ্মফুল। তাতে একাডেমীর জায়গাটার সৌন্দর্য বাড়বে। গত বিশ বছর এ রিপোর্টের বাস্তবায়ন হয়নি। পুকুরটি অযত্নে পড়ে আছে, চারপাশ অপরিচ্ছন্ন। এখন আমি বলব, সুন্দরভাবে যেহেতু সাজিয়ে পুকুরটিকে একাডেমী রাখতে পারছে না, তাই সেটি ভরাট করে ফেলা হোক। তাতে মেলার পরিসর বাড়বে। প্রতিবছর নতুন লেখক বাড়ছে। আমরা তাদের স্বাগত জানাচ্ছি। কিন্তু তাদের লেখার মান বাড়ছে না। একুশে বইমেলায় বইয়ের সংখ্যা বাড়ছে। সব বই মানসম্পন্ন তা বলা যাবে না। আগে লেখালেখি ছিল মানুষের কোমলবৃত্তি, মনের সৌন্দর্য, এখন সেটা বিলাসিতার পর্যায়ে চলে গেছে, কিছু লোকের ফ্যাশনে পরিণত হয়ে পড়েছে। ‘আমি লেখক, কবি হব’ এরকম প্রবণতা থেকে গাঁটের টাকা খরচ করে অনেকে বই প্রকাশ করছেন। তাদের সঙ্গে কিছু অসাধু প্রকাশকও জড়িত। এ প্রবণতা ক্ষতিকর। মানহীন বইয়ের এত ছড়াছড়ি থাকলে পাঠকরা বিভ্রান্ত হন। তারা ভালো বই অনেক সময় খুঁজে পান না। বই প্রকাশের যে স্রোত তৈরি হয়েছে, সেটা সহজে বন্ধ করা যাবে না। কারণ, বইয়ের মান মাপা, যাচাই হবে কি করে? বাংলা একাডেমী এ ক্ষেত্রে কিছুই করতে পারবে না। একটা পুকুরে কয়েকটা পদ্মফুল বসাতে যাদের পক্ষে বিশ বছর সম্ভব হয়ে ওঠেনি, তাদের পক্ষে বইয়ের মান যাচাই করা সম্ভব হবে না। কেননা, সেটা অনেক ব্যাপক একটা ব্যাপার।
এবারের বইমেলায় যে অসুবিধাগুলো ছিল, সেগুলো আগামী মেলায় দেখতে চাই না।
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক
একুশে বইমেলা ২০১০ সফল। দিনে দিনে বইমেলার জায়গা সঙ্কুচিত হয়ে এসেছে। মেলার পরিবেশটা এবার সেজন্য শ্বাসরুদ্ধকর ছিল। বইমেলার আয়োজন হতে হয় খোলামেলা জায়গায়। মেলায় এবার এত পাঠক, ক্রেতা, দর্শনার্থী এসেছেন, জায়গা সঙ্কটের কারণে তাদের পড়তে হয়েছে অস্বস্তিতে।
এবার মেলা উপলক্ষে প্রকাশিত হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বই। আরও বই আসুক, শত ফুল ফুটুক। বইয়ের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের দরকার নেই। একটা প্রবৃত্তি থেকে লেখকেরা বই প্রকাশ করছেন। এটা ভালো দিক। খারাপ দিকটা হলো, সব বই তো আর মানসম্পন্ন নয়। মানহীন বই বেশি থাকলে ভালো বই অনেক সময় আড়ালে পড়ে যায় বা ঢেকে যায়।
প্রতি বছরই একুশে বইমেলায় বইয়ের সংখ্যা বাড়ছে। এর অনেক কারণ রয়েছে। বই প্রকাশ করা আজকাল অনেক সহজ হয়ে পড়েছে আগের তুলনায়। আগে অনেকে খুব সহজে বই প্রকাশ করতে পারতেন না। এমনকি করতেনও না। এখন সবাই প্রকাশিত লেখক। অর্থনৈতিকভাবে উন্নতি, প্রযুক্তির প্রসার ও অগ্রগতির কারণে তারা সহজে বই প্রকাশ করতে পারছেন। আমি মনে করি, প্রকাশনাকে সত্যিকারের ব্যবসাভিত্তিক শিল্প হিসেবে দাঁড় করাতে পারলে ভবিষ্যতে এত বই প্রকাশিত হবে না। তবে বইয়ের সংখ্যা কমাবার জন্য আমার বক্তব্য, পরামর্শ নেই।
আগামীতে একুশে বইমেলাকে আরও সুন্দর, খোলামেলা দেখতে চাই। সেজন্য মেলার পরিসর, জায়গা বাড়াতে হবে। জায়গাটা বাংলা একাডেমীর মধ্যেই হতে হবে। পাশের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একটা অংশ মেলার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
শামসুজ্জামান খান
মহাপরিচালক, বাংলা একাডেমী
একুশে বইমেলা ২০১০ সফল করেছেন পাঠকেরা। মেলাকে সফল করতে বাংলা একাডেমীর সব কর্মকর্তা, কর্মচারী অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। মেলায় যারা বই কিনতে এসেছেন, তারা অত্যন্ত সংযম, ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। তাদের সহযোগিতার ফলেই মেলা অনেকটা গোছানো ছিল। বাংলা একাডেমীর চত্বর একুশে বইমেলার জন্য আজ আর পর্যাপ্ত জায়গা নয়। পাঠক, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বেড়েছে। সে জন্য বইমেলার আয়োজন করতে আরও বড় পরিসরের জায়গা দরকার।
মেলাকে কীভাবে আরও সুন্দর করে সাজানো যায়, এ নিয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমীতে একটি মতবিনিময় সভা হয়েছে। তাতে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, লেখক, সাংবাদিকসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। সভায় তারা বেশ কিছু সুপারিশ করেছেন আগামীতে মেলা আয়োজন সংক্রান্ত। যেমন—মেলার পরিসর বাড়ানো, অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমানো, যেসব প্রকাশনা সংস্থা সৃজনশীল, মানসম্পন্ন বই প্রকাশ করে এবং বইয়ের জন্য লেখককে প্রাপ্য রয়্যালটি পরিশোধ করে, সেগুলোকে অংশ নিতে দেয়া।
মেলার পরিসর বাড়াবার ক্ষেত্রে তারা সুপারিশ করেছেন, বাংলা একাডেমীর পাশে অবস্থিত পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রের মাঠটি ব্যবহার করার। মেলার জন্য বাংলা একাডেমী আগামী বছর এ মাঠ পাবে কিনা, সেটা আমরা জানি না। কারণ, শোনা যাচ্ছে তারা মাঠটি ছাড়তে চাচ্ছেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও সেটি পাচ্ছে না। সেখানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মিত হবে। তবুও আমরা প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলব।
আমার মতে, মাঠটা পেলে বইমেলাকে ঘিরে গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক বলয়ের আরও বিস্তৃতি ঘটবে। মেলার আয়োজনের জন্য সেটা দিতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। জায়গা বাড়লে মেলায় লেখক, প্রকাশক, পাঠকদের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উত্সব করাও সম্ভব হবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেলা বিস্তৃত করার কথাও আমরা চিন্তা করছি।
মেলায় অংশ নেয়ার জন্য যে কোনো প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ২০টি প্রকাশিত সৃজনশীল বই থাকতে হবে। প্রকাশকরা যেসব বই বাংলা একাডেমীতে জমা দেবেন, সেগুলোর মান যাচাই করার
জন্য আগামীতে একটি কমিটি থাকবে। ২০টি বইয়ের মধ্যে দশটি বই অবশ্যই উন্নতমানের হতে হবে। তার মধ্যে তিনটি বই হতে হবে প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ লেখকদের।
এবার বইমেলায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার বই এসেছে। এর মধ্যে সবই মানসম্পন্ন, রুচিশীল নয়। অনেক প্রকাশকের মধ্যে ব্যবসায়িক মনোবৃত্তিটা বেশি কাজ করে। তারা মান বিচার না করেই বই প্রকাশ করে থাকেন। তাতে বইয়ের সংখ্যা বাড়ে। এভাবে প্রকাশের ধারাটা চললে আগামীতে বইয়ের সংখ্যাটা আরও বেশি হতে পারে।
২০১১ সালের মেলাকে আরও সুন্দর দেখতে, করতে চাই। কীভাবে তা করব, মেলার পরিসর বাড়াবার জন্য জায়গা পেলেই জানাব।
হাসান আজিজুল হক
কথাসাহিত্যিক
একুশে বইমেলায় এবার প্রায় বিশ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে। একটি বইমেলা, মেলার জায়গা এত ছোট যে ঠাসাঠাসি করে বই দেখতে বা কিনতে হয়েছে। সেখানে এত টাকার বই বিক্রি হওয়াটা মোটেও চাট্টিখানি কথা নয়। বইও এসেছে তিন হাজারের বেশি। এটা আনন্দের খবর। চমকের খবরও বটে। আমাদের তাতে এই ভেবে খুশি হওয়া উচিত যে, বিদ্বত্সমাজ জেগেছে, বই পড়বার প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে।
তবে চমক কাটতেই নানা প্রশ্ন আসে। এই যে বিশ কোটি টাকার বই বিক্রি হলো, কারা সেগুলো কিনলেন, তারা কী কিনলেন, কেন কিনলেন, প্রকৃত পাঠকের কাছে বইগুলো গেল কিনা, কিনবার পর তারা পড়ছেন বা পড়বেন কিনা, নাকি হুজুগে মেতে ওঠে বই কিনলেন। প্রশ্নগুলো আসার কারণ হচ্ছে, বাকি এগারো মাস তো এভাবে তাদের বই কিনতে দেখা যায় না। তারপরও মেলায় বিশ কোটি টাকার বই বিক্রির খবরটা শুনলে ভালো লাগে।
প্রতিবছর মেলায় বই, পাঠক, ক্রেতা, দর্শনার্থী বাড়ছে। মেলার পরিসর বাড়াবার কথাও আমরা প্রতিবারই বলছি। কর্তৃপক্ষ তা কানে নিচ্ছেন কিনা জানি না। একুশে বইমেলাকে আন্তর্জাতিক মেলায় রূপান্তরিত করতে পারলে ভালো হয়। আমরা আজকাল ‘মুক্তবাজার, ‘বিশ্বায়নের’ কথা বলছি। মুক্তবাজার বা বিশ্বায়ন কি শুধু আমাদের কেনার জন্য? আমাদের জিনিস বিক্রির জন্য নয়? পণ্যের ব্যবসার জায়গায় আমাদের চিন্তাচেতনা, শিল্প-ভাবনার বিশ্বায়নের কথা বলছি না কেন? একুশে বইমেলাকে উপলক্ষ করে আমরা সেটা করতে পারি।
একুশে মেলায় হাজারও বই বেরুচ্ছে। এক বছর থেকে পরের বছর সংখ্যাটা বাড়ছে। প্রকাশনা সবার কাছে গ্রাহ্য, শ্রদ্ধেয় একটা জগত্। এক হিসেবে সত্য যে, প্রকাশকরা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য থেকে বই প্রকাশ করেন। কিন্তু বইয়ের মাধ্যমে জাতির চিন্তাভাবনা, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির প্রকাশ পাচ্ছে। এদিক থেকে দেখতে গেলে প্রকাশনার জগত্টা মহত্। কিন্তু একুশে বইমেলায় যেনতেন প্রকারের বইও বেরুচ্ছে। এ ধরনের বই বের করার মতো পরিস্থিতি দেশে সৃষ্টি হয়ে আছে, সেজন্য বেরুচ্ছে। বই বের করলে প্রকৃত প্রকাশকদের মাধ্যমেই করতে হবে। এরকম একটা আইন প্রণয়ন করা যায়। তাতে মানহীন বই বের হওয়ার স্রোত অনেকটা বন্ধ হতে পারে। প্রকাশকদেরও নিজস্ব কিছু সমস্যা আছে। সেগুলোর সমাধান তারা নিজেরাই করতে পারেন। তাদের মধ্যে সংঘবদ্ধতা নেই। মানহীন বই প্রকাশ না করাসহ প্রকাশনা সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত তারা নিজেও নিতে পারেন।
মেলাকে কেন্দ্র করে সৃজনশীল প্রকাশনা জগতে গড়ে উঠছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি গড়ে উঠছে বিশাল পাঠকসমাজ। সাহিত্য ও সৃজনশীল চিন্তাচেতনার যারা নিরন্তর সাধক, তাদের সংখ্যাও ক্রমেই বাড়ছে। সদ্য শেষ হওয়া মাসব্যাপী এবারের মেলার দিকে তাকালেও তার স্বাক্ষর মেলে। এবার মেলায় এসেছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বই। এক মাসে বই বিক্রির হিসাবের অংকটা পৌঁছেছে বিশ কোটি টাকার ঘরে। এরপরও মেলা শতভাগ সফল কিনা, এ প্রশ্ন যেমন আছে, তেমনি ব্যর্থতার কিছু কারণও আছে। সেই কারণগুলো কী, কীভাবে সেগুলো থেকে উত্তরণ সম্ভব, আগামী মেলা কেমন দেখতে চান—এসব বিষয়ে আমরা জানতে চেয়েছিলাম খ্যাতিমান কয়েকজন লেখকের কাছে।
রাবেয়া খাতুন
কথাসাহিত্যিক
একুশে বইমেলা ২০১০ অবশ্যই সফল। এ বইমেলা আলোকিত উজ্জ্বল সম্ভাবনার আয়োজন। প্রত্যেক বছর মেলার সাফল্য বাড়ছে। মেলা উপলক্ষে প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে বইয়ের বিক্রি, পাঠক, ক্রেতা এবং মানুষের কৌতূহল। মেলায় যে কেবল পাঠক, ক্রেতা যান তা নয়, যারা সাহিত্য পড়েন না তারাও যাচ্ছেন। ‘সেখানে কী হচ্ছে, দেখে আসি’ এরকম কৌতূহল থেকে তারা মেলায় যাচ্ছেন। সেটা এক অর্থে সাহিত্যের প্রতি আকর্ষণ। আজকে না পড়লেও, তাদের অনেকে ভবিষ্যতে সাহিত্য পড়বেন।
ছোট ছেলেমেয়েরাও বাবা-মা, অভিভাবকের হাত ধরে মেলায় গেছে। পছন্দের বই কিনেছে, এটা আমরা প্রতিবছরই একুশে বইমেলায় দেখি। মেলায় যাওয়া, বই কেনা শিশুদের অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে। এটা তো ভালো দিক।
বইমেলায় নানারকম অসুবিধাও বিদ্যমান ছিল। মেলার জায়গাটা ছোট। তাতে প্রকাশক, পাঠক, ক্রেতা, দর্শনার্থী—সবার অসুবিধা হয়েছে। বাংলা একাডেমীর সামনের রাস্তায় মেলার স্টল বসানো হয়। তাতে সৌন্দর্য রক্ষা হচ্ছে না। বইমেলা জ্ঞানের মেলা, সৌন্দর্যও তার অংশ। রাস্তায় স্টল থাকায় একদিকে টিএসসি চত্বর, অন্যদিকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ ছিল। তাতে বয়স্ক মানুষ যারা এতদূর হাঁটতে পারেন না, তাদের পক্ষে সে কারণে মেলায় যাওয়ার ইচ্ছে, আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও সম্ভব হয়নি। একুশে বইমেলায় যেসব পাঠক আসেন, তারা সবাই ঢাকায় থাকেন না। শুধু মেলার জন্য অনেকেই ঢাকার বাইরে থেকে আসেন। মেলায় তাদের প্রাথমিক অসুবিধাগুলো দূর করার জন্য বাংলা একাডেমীর ব্যবস্থা নেয়া উচিত। মেলায় প্রচুর ভিড় হয়, তাতে পানির তৃষ্ণা বাড়ে। সে জন্য খাবার পানির ব্যবস্থা রাখা যায়। এটা তো ছিল না। টয়লেটের সমস্যাটাও ছিল। নারীদের এ সমস্যায় আরও বেশি ভুগতে হয়েছে। ধুলোবালির উড়াউড়ি বন্ধ করতে ঠিকমত ব্যবস্থা নেয়া দরকার।
একুশে মেলার পরিসর বাড়াতেই হবে। সে জন্য পাশের আণবিক শক্তি কমিশনের মাঠে মেলাকে বিস্তৃত করা যায়। ১৯৯০, ’৯১, ’৯২—এ তিন বছর আমি বাংলা একাডেমীর কাউন্সিল মেম্বার ছিলাম। তখন জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, সরদার ফজলুল করিম, আনিসুজ্জামান, শমসের আলীর মতো বিদগ্ধ ব্যক্তিরা ছিলেন।
এক সভায় তখন একাডেমীর পুকুরটি রাখা হবে, কী ভরাট করা হবে, এ নিয়ে আলোচনা হয়। একটি সাবকমিটিও সে জন্য গঠিত হয়। তাতে শমসের আলী ও আমাকে রাখা হয়। কমিটির পক্ষ থেকে পুকুরটি রাখার জন্য রিপোর্ট দিয়েছিলাম। আমরা বলেছিলাম, সুন্দর করে সাজাতে হবে পুকুরটিকে। তার মধ্যে থাকবে লাল, নীল, সাদা পদ্মফুল। তাতে একাডেমীর জায়গাটার সৌন্দর্য বাড়বে। গত বিশ বছর এ রিপোর্টের বাস্তবায়ন হয়নি। পুকুরটি অযত্নে পড়ে আছে, চারপাশ অপরিচ্ছন্ন। এখন আমি বলব, সুন্দরভাবে যেহেতু সাজিয়ে পুকুরটিকে একাডেমী রাখতে পারছে না, তাই সেটি ভরাট করে ফেলা হোক। তাতে মেলার পরিসর বাড়বে। প্রতিবছর নতুন লেখক বাড়ছে। আমরা তাদের স্বাগত জানাচ্ছি। কিন্তু তাদের লেখার মান বাড়ছে না। একুশে বইমেলায় বইয়ের সংখ্যা বাড়ছে। সব বই মানসম্পন্ন তা বলা যাবে না। আগে লেখালেখি ছিল মানুষের কোমলবৃত্তি, মনের সৌন্দর্য, এখন সেটা বিলাসিতার পর্যায়ে চলে গেছে, কিছু লোকের ফ্যাশনে পরিণত হয়ে পড়েছে। ‘আমি লেখক, কবি হব’ এরকম প্রবণতা থেকে গাঁটের টাকা খরচ করে অনেকে বই প্রকাশ করছেন। তাদের সঙ্গে কিছু অসাধু প্রকাশকও জড়িত। এ প্রবণতা ক্ষতিকর। মানহীন বইয়ের এত ছড়াছড়ি থাকলে পাঠকরা বিভ্রান্ত হন। তারা ভালো বই অনেক সময় খুঁজে পান না। বই প্রকাশের যে স্রোত তৈরি হয়েছে, সেটা সহজে বন্ধ করা যাবে না। কারণ, বইয়ের মান মাপা, যাচাই হবে কি করে? বাংলা একাডেমী এ ক্ষেত্রে কিছুই করতে পারবে না। একটা পুকুরে কয়েকটা পদ্মফুল বসাতে যাদের পক্ষে বিশ বছর সম্ভব হয়ে ওঠেনি, তাদের পক্ষে বইয়ের মান যাচাই করা সম্ভব হবে না। কেননা, সেটা অনেক ব্যাপক একটা ব্যাপার।
এবারের বইমেলায় যে অসুবিধাগুলো ছিল, সেগুলো আগামী মেলায় দেখতে চাই না।
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক
একুশে বইমেলা ২০১০ সফল। দিনে দিনে বইমেলার জায়গা সঙ্কুচিত হয়ে এসেছে। মেলার পরিবেশটা এবার সেজন্য শ্বাসরুদ্ধকর ছিল। বইমেলার আয়োজন হতে হয় খোলামেলা জায়গায়। মেলায় এবার এত পাঠক, ক্রেতা, দর্শনার্থী এসেছেন, জায়গা সঙ্কটের কারণে তাদের পড়তে হয়েছে অস্বস্তিতে।
এবার মেলা উপলক্ষে প্রকাশিত হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বই। আরও বই আসুক, শত ফুল ফুটুক। বইয়ের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের দরকার নেই। একটা প্রবৃত্তি থেকে লেখকেরা বই প্রকাশ করছেন। এটা ভালো দিক। খারাপ দিকটা হলো, সব বই তো আর মানসম্পন্ন নয়। মানহীন বই বেশি থাকলে ভালো বই অনেক সময় আড়ালে পড়ে যায় বা ঢেকে যায়।
প্রতি বছরই একুশে বইমেলায় বইয়ের সংখ্যা বাড়ছে। এর অনেক কারণ রয়েছে। বই প্রকাশ করা আজকাল অনেক সহজ হয়ে পড়েছে আগের তুলনায়। আগে অনেকে খুব সহজে বই প্রকাশ করতে পারতেন না। এমনকি করতেনও না। এখন সবাই প্রকাশিত লেখক। অর্থনৈতিকভাবে উন্নতি, প্রযুক্তির প্রসার ও অগ্রগতির কারণে তারা সহজে বই প্রকাশ করতে পারছেন। আমি মনে করি, প্রকাশনাকে সত্যিকারের ব্যবসাভিত্তিক শিল্প হিসেবে দাঁড় করাতে পারলে ভবিষ্যতে এত বই প্রকাশিত হবে না। তবে বইয়ের সংখ্যা কমাবার জন্য আমার বক্তব্য, পরামর্শ নেই।
আগামীতে একুশে বইমেলাকে আরও সুন্দর, খোলামেলা দেখতে চাই। সেজন্য মেলার পরিসর, জায়গা বাড়াতে হবে। জায়গাটা বাংলা একাডেমীর মধ্যেই হতে হবে। পাশের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একটা অংশ মেলার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
শামসুজ্জামান খান
মহাপরিচালক, বাংলা একাডেমী
একুশে বইমেলা ২০১০ সফল করেছেন পাঠকেরা। মেলাকে সফল করতে বাংলা একাডেমীর সব কর্মকর্তা, কর্মচারী অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। মেলায় যারা বই কিনতে এসেছেন, তারা অত্যন্ত সংযম, ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। তাদের সহযোগিতার ফলেই মেলা অনেকটা গোছানো ছিল। বাংলা একাডেমীর চত্বর একুশে বইমেলার জন্য আজ আর পর্যাপ্ত জায়গা নয়। পাঠক, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বেড়েছে। সে জন্য বইমেলার আয়োজন করতে আরও বড় পরিসরের জায়গা দরকার।
মেলাকে কীভাবে আরও সুন্দর করে সাজানো যায়, এ নিয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমীতে একটি মতবিনিময় সভা হয়েছে। তাতে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, লেখক, সাংবাদিকসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। সভায় তারা বেশ কিছু সুপারিশ করেছেন আগামীতে মেলা আয়োজন সংক্রান্ত। যেমন—মেলার পরিসর বাড়ানো, অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমানো, যেসব প্রকাশনা সংস্থা সৃজনশীল, মানসম্পন্ন বই প্রকাশ করে এবং বইয়ের জন্য লেখককে প্রাপ্য রয়্যালটি পরিশোধ করে, সেগুলোকে অংশ নিতে দেয়া।
মেলার পরিসর বাড়াবার ক্ষেত্রে তারা সুপারিশ করেছেন, বাংলা একাডেমীর পাশে অবস্থিত পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রের মাঠটি ব্যবহার করার। মেলার জন্য বাংলা একাডেমী আগামী বছর এ মাঠ পাবে কিনা, সেটা আমরা জানি না। কারণ, শোনা যাচ্ছে তারা মাঠটি ছাড়তে চাচ্ছেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও সেটি পাচ্ছে না। সেখানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মিত হবে। তবুও আমরা প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলব।
আমার মতে, মাঠটা পেলে বইমেলাকে ঘিরে গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক বলয়ের আরও বিস্তৃতি ঘটবে। মেলার আয়োজনের জন্য সেটা দিতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। জায়গা বাড়লে মেলায় লেখক, প্রকাশক, পাঠকদের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উত্সব করাও সম্ভব হবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেলা বিস্তৃত করার কথাও আমরা চিন্তা করছি।
মেলায় অংশ নেয়ার জন্য যে কোনো প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ২০টি প্রকাশিত সৃজনশীল বই থাকতে হবে। প্রকাশকরা যেসব বই বাংলা একাডেমীতে জমা দেবেন, সেগুলোর মান যাচাই করার
জন্য আগামীতে একটি কমিটি থাকবে। ২০টি বইয়ের মধ্যে দশটি বই অবশ্যই উন্নতমানের হতে হবে। তার মধ্যে তিনটি বই হতে হবে প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ লেখকদের।
এবার বইমেলায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার বই এসেছে। এর মধ্যে সবই মানসম্পন্ন, রুচিশীল নয়। অনেক প্রকাশকের মধ্যে ব্যবসায়িক মনোবৃত্তিটা বেশি কাজ করে। তারা মান বিচার না করেই বই প্রকাশ করে থাকেন। তাতে বইয়ের সংখ্যা বাড়ে। এভাবে প্রকাশের ধারাটা চললে আগামীতে বইয়ের সংখ্যাটা আরও বেশি হতে পারে।
২০১১ সালের মেলাকে আরও সুন্দর দেখতে, করতে চাই। কীভাবে তা করব, মেলার পরিসর বাড়াবার জন্য জায়গা পেলেই জানাব।
হাসান আজিজুল হক
কথাসাহিত্যিক
একুশে বইমেলায় এবার প্রায় বিশ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে। একটি বইমেলা, মেলার জায়গা এত ছোট যে ঠাসাঠাসি করে বই দেখতে বা কিনতে হয়েছে। সেখানে এত টাকার বই বিক্রি হওয়াটা মোটেও চাট্টিখানি কথা নয়। বইও এসেছে তিন হাজারের বেশি। এটা আনন্দের খবর। চমকের খবরও বটে। আমাদের তাতে এই ভেবে খুশি হওয়া উচিত যে, বিদ্বত্সমাজ জেগেছে, বই পড়বার প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে।
তবে চমক কাটতেই নানা প্রশ্ন আসে। এই যে বিশ কোটি টাকার বই বিক্রি হলো, কারা সেগুলো কিনলেন, তারা কী কিনলেন, কেন কিনলেন, প্রকৃত পাঠকের কাছে বইগুলো গেল কিনা, কিনবার পর তারা পড়ছেন বা পড়বেন কিনা, নাকি হুজুগে মেতে ওঠে বই কিনলেন। প্রশ্নগুলো আসার কারণ হচ্ছে, বাকি এগারো মাস তো এভাবে তাদের বই কিনতে দেখা যায় না। তারপরও মেলায় বিশ কোটি টাকার বই বিক্রির খবরটা শুনলে ভালো লাগে।
প্রতিবছর মেলায় বই, পাঠক, ক্রেতা, দর্শনার্থী বাড়ছে। মেলার পরিসর বাড়াবার কথাও আমরা প্রতিবারই বলছি। কর্তৃপক্ষ তা কানে নিচ্ছেন কিনা জানি না। একুশে বইমেলাকে আন্তর্জাতিক মেলায় রূপান্তরিত করতে পারলে ভালো হয়। আমরা আজকাল ‘মুক্তবাজার, ‘বিশ্বায়নের’ কথা বলছি। মুক্তবাজার বা বিশ্বায়ন কি শুধু আমাদের কেনার জন্য? আমাদের জিনিস বিক্রির জন্য নয়? পণ্যের ব্যবসার জায়গায় আমাদের চিন্তাচেতনা, শিল্প-ভাবনার বিশ্বায়নের কথা বলছি না কেন? একুশে বইমেলাকে উপলক্ষ করে আমরা সেটা করতে পারি।
একুশে মেলায় হাজারও বই বেরুচ্ছে। এক বছর থেকে পরের বছর সংখ্যাটা বাড়ছে। প্রকাশনা সবার কাছে গ্রাহ্য, শ্রদ্ধেয় একটা জগত্। এক হিসেবে সত্য যে, প্রকাশকরা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য থেকে বই প্রকাশ করেন। কিন্তু বইয়ের মাধ্যমে জাতির চিন্তাভাবনা, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির প্রকাশ পাচ্ছে। এদিক থেকে দেখতে গেলে প্রকাশনার জগত্টা মহত্। কিন্তু একুশে বইমেলায় যেনতেন প্রকারের বইও বেরুচ্ছে। এ ধরনের বই বের করার মতো পরিস্থিতি দেশে সৃষ্টি হয়ে আছে, সেজন্য বেরুচ্ছে। বই বের করলে প্রকৃত প্রকাশকদের মাধ্যমেই করতে হবে। এরকম একটা আইন প্রণয়ন করা যায়। তাতে মানহীন বই বের হওয়ার স্রোত অনেকটা বন্ধ হতে পারে। প্রকাশকদেরও নিজস্ব কিছু সমস্যা আছে। সেগুলোর সমাধান তারা নিজেরাই করতে পারেন। তাদের মধ্যে সংঘবদ্ধতা নেই। মানহীন বই প্রকাশ না করাসহ প্রকাশনা সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত তারা নিজেও নিতে পারেন।
-
সাহিত্য-সাময়িকী


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


