Amardesh
আজঃ ঢাকা, সোমবার ২১ ডিসেম্বর ২০০৯, ৭ পৌষ ১৪১৬, ৩ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

শিরোপা পুনরুদ্ধার

সাদিকুর রহমান সাকী
সাফ ফুটবলে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ফিরে পেল ভারত। অনেকে বলতে পারেন তারা যোগ্যতর দল হিসেবেই এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। কেননা এর আগে তিনবার অর্থাত্ এই টুর্নামেন্টের সর্বাধিক চ্যাম্পিয়ন দল কিন্তু তারা। যারা এমনটি ভাবছেন তাদের জন্য তথ্যটা দিচ্ছি। ভারত এবারের সাফ ফুটবলে যে দলটা পাঠিয়েছিল সেটা কিন্তু তাদের এক নম্বর দল নয়। এটা ছিল দ্বিতীয় সারির অর্থাত্ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। যাদের দু’একজন এরই মধ্যে মূল দলে খেলতে শুরু করেছেন এবং ভবিষ্যতে তারাই হবেন জাতীয় দলের কর্ণধার, এটা বলে দেয়া যায়। তাই বলে এই টুর্নামেন্টের জন্য অবশ্যই তারা ফেভারিট ছিল না। অথচ সবাইকে চমকে দিয়ে শিরোপাটা তাদের হাতেই উঠল।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে স্বাগতিক বাংলাদেশ দলকে ভাবা হয়েছিল আসরের ফেভারিট। আর সেটা স্বাগতিক বলেই। সেই সঙ্গে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মালদ্বীপ ছিল সম্ভাব্য শিরোপা জয়ীদের তালিকায়। সে হিসেবে মালদ্বীপ তাদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারলেও বাংলাদেশ তা মোটেও পারেনি। সেমিফাইনালে থেমে যেতে হয় তাদের। হারতে হয় এই ভারতের কাছে। এখন প্রশ্ন আসতে পারে, বাংলাদেশও শুরুতে কমবয়সী খেলোয়াড়দের নিয়ে জাতীয় দল গঠন করতে যাচ্ছিল। সেই কাজটি শুরু করেছিলেন সাবেক কোচ এডসন সিলভা ডিডো। তিনি ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই হোক আর শিরোপা জয়ের জন্য হোক, তরুণদের ওপর বেশি আস্থাশীল ছিলেন। কিন্তু তার সেই আস্থায় আশাবাদী হতে পারেনি বাফুফে। বিপরীতে তারা ক্ষেপে যায় কোচের ওপর। এক পর্যায়ে সিনিয়র ফুটবলারদের বাদ দিয়ে প্রাথমিক দল গঠন করায় বরখাস্ত করা হয় তাকে। কিন্তু সময়ের ধারাবাহিকতায় এখন প্রমাণ হচ্ছে, ডিডোর চিন্তাধারাই ঠিক ছিল। ভারত যদি বয়সভিত্তিক দল নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হতে পারে তাহলে আমরাও পারতাম। তাছাড়া সামনে রয়েছে এসএ গেমস। এটার আবার আয়োজক বাংলাদেশ। সেখানে কিন্তু জাতীয় দল নয়, খেলবে বয়সভিত্তিক দল। আর এজন্য আমাদের ফুটবলারদের পরখ করার একটা সুযোগ হয়ে যেত। যেটা করেছে ভারত, তারা মূলত শিরোপা জয়ের জন্য নয়, ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই এই দলটিকে সাফে পাঠায়। কারণ তাদের এই দলই আগামী এসএ গেমসে অংশ নেবে। আপাতত তাদের এই পরিকল্পনা শতভাগ সফল। সেই সঙ্গে আগামী এসএ গেমসের জন্য আগাম বার্তাও দিয়ে গেল ভারতীয় দল।
যারা অতি উত্সাহী হয়ে ডিডোকে বরখাস্ত করলেন তারা এখন কি বলবেন তাদের সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল? নিশ্চয় না, তাহলে কেন এমনটি করা হলো তার সঠিক জবাব হয়তো এখন দিতে পারবেন না। কেননা আমাদের কর্মকর্তারা কোনোকিছু করার আগে ভাবেন না। করার পরে ভাবেন, তখন আর এসব কিছু কোনো কাজে আসে না। তাই সাফের ব্যর্থতা থেকে অন্তত শিক্ষা নেয়া উচিত, যাতে করে আগামী এসএ গেমসে হতাশ হতে না হয়। নয় তো এই কিছুদিনে বাংলাদেশের মরে যাওয়া ফুটবল যতখানি না এগুচ্ছিল তার চেয়ে পিছিয়ে যাবে। আপাতত ফুটবলের উত্তরণকে ধরে রাখতে হলে সাফল্য দরকার। সাফে যেহেতু হয়নি সুতরাং সবেধন নীলমণি এসএ গেমসে যাতে সুযোগটা হাতছাড়া না হয় সেজন্য এখন থেকে সঠিকভাবে প্রস্তুতি নেয়া দরকার।
বাংলাদেশের ফুটবলকে এখন ঘুরে দাঁড়াতে হবে। সামনে এসএ গেমস, এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপ রয়েছে। সেখানে ভালো করতে হলে এখনই কাজ শুরু করতে হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি একটি পরিকল্পনার মাধ্যমেই বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া উচিত। কোথায় আমাদের সমস্যা, কেন বিদেশি কোচরা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশে থাকতে পারছেন না, এসব কারণ কাজী সালাউদ্দিন ও বাফুফেকে খুঁজে বের করতে হবে। রোগ ভালো করতে হলে প্রকৃত কারণ নির্ণয় করতে হয়। নতুবা আবারও ওই সমস্যায় পড়তে হবে। আর সালাউদ্দিন ও বাফুফেকে মাথায় রাখতে হবে জাতীয় দল সাফল্য না পেলে, উন্নতির চিত্র তুলে ধরতে না পারলে, দেশের ফুটবলকে জাগিয়ে তোলার শত প্রচেষ্টা সবটাই ব্যর্থ হবে। দর্শকদের স্টেডিয়ামমুখী করার সব আয়োজন দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
মালদ্বীপকে টাইব্রেকারে ৩-১ গোলে পরাজিত করে বঙ্গবন্ধু সাফ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০০৯ এর চ্যম্পিয়ন হলো ভারত। অপেক্ষাকৃত তরুণ ও অনভিজ্ঞ জাতীয় দল নিয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মালদ্বীপকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলল ভারত। এ নিয়ে এশিয়ার বিশ্বকাপ হিসেবে পরিচিত এই টুর্নামেন্টের শিরোপা চারবার জয় করল ভারত। ফাইনাল ম্যাচে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের ফ্লাড লাইটে শিরোপা ঘরে তোলার লড়াইয়ে শুরু থেকে দু’দল দেখেশুনে বল বাড়াতে থাকে। শুরুতে মাঝ মাঠের নিয়ন্ত্রণে দু’দলের প্রাধান্য সমানভাবে বজায় ছিল।
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে শেষের দিকে খেলা ভালোই জমে ওঠে। শ্বাসরুদ্ধকর কিছু আক্রমণে দু’দল গ্যালারি মাতিয়ে রাখে। নির্দিষ্ট সময় গোলশূন্য থাকায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। মাঠের দর্শক এই ম্যারাথন খেলা উপভোগ করেছে, পুরোপুরি উসুল করে নিয়েছে টিকিটের পয়সা—সে কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়।
প্রথম শর্টে ভারতের পক্ষে ধিমান সিং ফাইনালের প্রথম গোল করেন। ফাসিল ইব্রাহিম মালদ্বীপের হয়ে খেলায় সমতা ফেরান। এনজেল দ্বিতীয় গোলে ভারতকে এগিয়ে দেন। অরিন্দম ভারতের পক্ষে মালদ্বীপের শট ফিরিয়ে দিয়ে এগিয়ে যায়। ভারত ৩-১ গোলে চ্যাম্পিয়ন। বঙ্গবন্ধু সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা তুলে দিতে মাঠে উপস্থিত হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খেলা শেষে তিনি বিজয়ী ও বিজিত দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
একবুক অভিমান নিয়ে বঙ্গবন্ধু সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল দেখতে মাঠে ভিড় করে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা। পতাকা নাড়িয়ে দুু’দলকেই উত্সাহ প্রদান করেছে গ্যালারির দর্শকরা। কিন্তু এই জায়গায় যদি বাংলাদেশ হতো তাহলে কত না আনন্দ করত আমাদের ফুটবলামোদী দর্শকরা।


 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?