Amardesh
আজঃ ঢাকা, সোমবার ২১ ডিসেম্বর ২০০৯, ৭ পৌষ ১৪১৬, ৩ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

হিমালয়ের হিমবাহ গলছে খরায় পড়বে এশিয়া

আবদুস সোবহান
এশিয়া মহাদেশের ১৩০ কোটি মানুষ হিমালয় পর্বতমালার হিমবাহগুলো থেকে সৃষ্ট পানির উেসর ওপর নির্ভরশীল। অথচ এ হিমবাহগুলো বর্তমানে আশঙ্কাজনক হারে গলে যাচ্ছে এবং এতে মহাদেশের একটি বিশাল অংশ খরায় আক্রান্ত হতে পারে। হিমালয়ের ২ হাজার ৪শ’ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে থাকা হিমবাহগুলো পাকিস্তান, ভারত, চীন, নেপাল ও ভুটানের মূল পানির উত্স।
এই অঞ্চলে তিন দশক ধরে প্রতি দশকে শূন্য দশমিক ১৫ থেকে শূন্য দশমিক ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বেড়েছে। ফলে হিমবাহ গলে যাওয়ার হার নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। এর জন্য গ্রিন হাউস গ্যাসকে দায়ী করা হয়।
এদিকে এই প্রথমবারের মতো মার্কিন সরকার গ্রিন হাউস গ্যাসকে মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে মার্কিন প্রশাসন দেশটির পরিবেশ রক্ষাকারী সংস্থা মার্কিন পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থাকে (ইপিএ) ক্ষতিকর গ্যাসের উদ্গীরণ বন্ধে পর্যাপ্ত ক্ষমতা দিল। এখন থেকে ইপিএ মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ক্ষতিকর গ্যাসের উদ্গীরণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবে।
কোপেনহেগেনে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন যুক্তরাষ্ট্র গ্রিন হাউস গ্যাসকে ক্ষতিকর বলে ঘোষণা দেয়। ইপিএ’র প্রশাসক লিসা জ্যাকসন বলেন, ইপিএ এখন থেকে গ্যাস নির্গমনে যুক্তিসঙ্গত উদ্যোগ নেয়ার ক্ষমতা পেল।
বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এই ঘোষণা ক্ষতিকর গ্যাসের উদ্গীরণ বন্ধে একটি ঐকমত্যে আনার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে জলবায়ু বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।
ইপিএ’র প্রশাসক লিসা জ্যাকসন আরও বলেন, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে এটা স্পষ্টই প্রমাণিত, গ্রিন হাউস গ্যাস মানব স্বাস্থ্যের জন্য
অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং জলবায়ু পরিবর্তনে এর প্রভাব অপরিসীম। তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এই ঘোষণাকে ঐতিহাসিক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ২০০৯ সাল যুক্তরাষ্ট্র তথা বিশ্বের ইতিহাসে এক স্মরণীয় বছর হতে চলেছে। কারণ, এ বছরই ওবামা প্রশাসন গ্রিন হাউস গ্যাসের ক্ষতির দিকগুলো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, বেশ কিছুদিন ধরে অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা এ ঘোষণা এমন সময় দেয়া হলো, যখন সারা বিশ্বের দৃষ্টি কোপেনহেগেনের দিকে। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে জলবায়ু সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অনেক সংহত হলো।
সম্মেলনে হিমবাহ গলে যাওয়ার বিষয় সম্পর্কে বিশ্ব নেতাদের সতর্ক করতে এ ব্যাপারে প্রচার অভিযান চালাচ্ছেন পরিবেশবাদীরা। পরিবেশবাদী সংগঠন ডব্লিউডব্লিউএফের জীবনের জন্য জলবায়ু আন্দোলনের নেতা প্রশান্ত সিং বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, আগামী ৪০ বছরের মধ্যে বেশির ভাগ হিমবাহ গলে যাবে। কোপেনহেগেন সম্মেলনে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে তাই হিমালয়ের পানির উেসর ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনায় নিতে হবে।
জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তঃসরকার প্যানেল (আইপিসিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, ২০৩৫ সালের মধ্যেই হিমালয়ের সব হিমবাহ গলে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব এরই মধ্যেই অনুভূত হচ্ছে।
নেপাল ও ভুটানে গলে যাওয়া হিমবাহ থেকে বিশালাকৃতির হ্রদ সৃষ্টি হয়েছে। এসব হ্রদ উপচে ভাটিতে থাকা গ্রামগুলো প্লাবিত করতে পারে।
নেপালের পর্বতারোহী ও পরিবেশকর্মী দাভা স্টিভেন শেরপা বলেন, ২০০৭ সালে মাউন্ট এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে একটি তুষারপাতের ঘটনার পর থেকে তিনি পরিবেশ বিষয়ে সচেতন হয়ে উঠেছেন। হিমালয়ে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি জানান, একটি হিমবাহের ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার কয়েক মিনিট পর সেটি ধসে পড়ে।
এদিকে এক সমীক্ষায় জানা গেছে, হিমবাহ গলে যাওয়ার হার দ্রুত বেড়ে যাওয়ার কারণে বেশি মাত্রায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা হচ্ছে। আর হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণে দীর্ঘমেয়াদে নদীর প্রবাহ হ্রাস পাবে বলে ওই সমীক্ষায় জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হিমালয়ের উত্সগুলো থেকে পানির প্রবাহ কমে গেলে ভারত ও চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
আইপিসিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশের মতো ভাটির দেশগুলোতেও ব্যাপক বন্যা দেখা দিতে পারে এবং পরে সেখানকার নদীগুলো শুকিয়ে খরা দেখা দিতে পারে। তবে বিজ্ঞানীদের একটি অংশ হিমবাহ গলে যাওয়ার এই ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে একমত নন। তারা জানিয়েছেন, হিমবাহগুলো বরং আরও জমাট বাঁধছে। সম্প্রতি এই ধারণার সমর্থক ভারতীয় ভূতত্ত্ববিদ বিজয় কুমার রায়নাকে উদ্ধৃত করে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবকে খাটো করে বর্ণনা করতে গিয়ে সমালোচিত হয়েছেন সে দেশের পরিবেশমন্ত্রী জয়রাম রমেশ।
নেপালভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (আইসিআইএমওডি) তিন দশক ধরে হিমালয় অঞ্চলের ওপর গবেষণা চালাচ্ছে এবং সতর্ক করে বলেছে, এ অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিরূপণে আরও গবেষণা দরকার।। নেচার জিওসায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা জানান, জলবায়ু নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে ব্যবহৃত একটি উপাত্তের কারণে সম্ভবত কার্বন-ডাই অক্সাইডের নিঃসরণের কারণে প্রাকৃতিকভাবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রক্রিয়াটির প্রতি ভালো করে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। আর এতে কার্বন নিঃসরণের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ার হিসাব-নিকাশে গোলমাল হয়ে থাকতে পারে।
গবেষণা প্রতিবেদনের মূল রচয়িতা ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টলের ড্যান লান্ট বলেন, আমরা অনেক বেশি আতঙ্ক তৈরি করতে চাচ্ছি না। তবে বিশ্ববাসী কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে চাইলে এর মাত্রা কতটুকু হওয়া উচিত, তা নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী আমরা। কার্বন নিঃসরণের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কেও আমাদের জানতে হবে।


 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?