রাবি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার : দুষ্প্রাপ্য সংগ্রহে সমৃদ্ধ
এরশাদুল বারী কর্নেল
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জ্ঞানসুধার বিশাল ভাণ্ডার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এত সুন্দর, বই-পুস্তক ও জার্নালে সমৃদ্ধ এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) গ্রন্থাগার দেশে আর কোথাও নেই বললেই চলে। ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর প্রশাসনিক ভবনের উত্তর-পশ্চিম এলাকায় মনোরম স্থাপত্যের এই সুদৃশ্য লাল রংয়ের তিনতলা ভবনটি যে কাউকে খুব সহজেই আকর্ষণ করে। প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারের বেশি জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থী গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষ ব্যবহার করে থাকে বলে জানা যায়। গ্রন্থাগারে প্রায় ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৬টি বিভিন্ন বই-পুস্তক, সাময়িকী ও জার্নাল সংগৃহীত রয়েছে। এর মধ্যে ২ লাখ ৯৯ হাজার ২শ’ ৪টি বই এবং ৪০ হাজার ৪শ’ ২টি সাময়িকী রয়েছে।
গ্রন্থাগারের ইতিকথা : স্যাডলার কমিশনের পরিকল্পনায় এবং রাবির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নাটোরের সিংড়ার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মরহুম মাদার বখ্শ-এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৫৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ১৯৫৫ সালে রাজশাহী শহরের প্রাচীন ‘বড়কুঠি’তে ক্ষুদ্র আকারে গড়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার। বছর খানেক পর ভোলানাথ বিশ্বেশ্বর হিন্দু একাডেমি স্কুল ভবনে স্থানান্তর করা হয় গ্রন্থাগারটি। ১৯৫৮-৫৯ সালের দিকে মতিহার কুঠিতে (বর্তমানে বিএনসিসি ভবনে) গ্রন্থাগারের শাখা খোলা হয়। ১৯৬৩ সালে বর্তমান কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের মূল তিনতলা ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১৯৬৪ সালে নতুন ভবনে সব বই-পুস্তক জার্নাল স্থানান্তর করে ১৯৬৬ সালে গ্রন্থাগারটি চালু করা হয়। গ্রন্থাগারে সর্বপ্রথম গ্রন্থাগারিকের দায়িত্ব পালন করেন ফজলে এলাহী।
গ্রন্থাগার যেভাবে সাজানো : গ্রন্থাগার ভবনের প্রধান গেট দিয়ে নিচতলার সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠতেই দুই পাশে রয়েছে ক্যাটালগ কেবিনেট বক্স। বক্সগুলোতে কোন বই কোথায় কোন শেলফে রয়েছে তার দিকনির্দেশনা রয়েছে। ভবনের দ্বিতীয় তলায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রকাশনাসহ দুষ্প্রাপ্য অনেক সংগ্রহ রয়েছে। এখানে কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অনুমতিপ্রাপ্ত গবেষকরা প্রবেশ করতে পারেন। ভবনের তৃতীয় তলায় রয়েছে গ্রন্থাগার প্রশাসকের অফিসসহ গ্রন্থাগার পরিচালনার জন্য বিভিন্ন প্রশাসনিক অফিস। রয়েছে প্রয়োজনীয় ফটোকপির জন্য ফটোকপি শাখা। পাশের সাময়িকী শাখায় বিভিন্ন দেশ ও বিভিন্ন বিষয়ের জার্নাল, ম্যাগাজিন, অর্থনৈতিক সমীক্ষা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক প্রতিবেদন সংগৃহীত রয়েছে। বিপরীত পাশেই রয়েছে ইন্টারনেট ল্যাব। সেখানে কেবল মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা প্রবেশ করে ইন্টারনেট সুবিধা উপভোগ করতে পারে। এর পাশে সংবাদপত্র শাখায় জাতীয় ও স্থানীয় প্রায় ২৯টি দৈনিক পত্রিকা থাকে। এছাড়া সংবাদপত্রের জাদুঘরের মতো অতি প্রাচীন দুষ্প্রাপ্য অনেক পত্রিকার মূল্যবান সংখ্যা সংরক্ষিত রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় এই গ্রন্থাগারে।
তাছাড়া দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত জার্নাল ও এমফিল ও পিএইচডি গবেষণাপত্রে ভরপুর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় এই গ্রন্থাগারটি। আজ থেকে ২৪৫ বছর আগে ১৭৬৪ সালে প্রকাশক উইলিয়াম বের্টন রচিত ‘ব্রিটানিকা অ্যাটলাস’ মানচিত্র বিষয়ক একটি বই ছাড়াও দেশ-বিদেশের প্রকাশিত ১২৭টি সচিত্র মানচিত্র বিষয়ক বই রয়েছে গ্রন্থাগারে।
ডিজিটালাইজড গ্রন্থাগার : গ্রন্থাগার বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য, রেফারেন্স, জার্নাল, গবেষণাপত্রসহ গ্রন্থাগারের সবকিছু প্রায় এখন ডিজিটালাইজড করা হয়েছে।
গ্রন্থাগারে ৮৭০ জন ইন্টারনেট ল্যাব কার্ডধারী শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রতিদিন গড়ে ৭৮ জন শিক্ষার্থী ইন্টারনেট ব্যবহার করছে।
গ্রন্থাগারের বর্তমান প্রশাসকের কথা : বর্তমান প্রশাসক প্রফেসর ড. মোঃ দেলওয়ার হোসেন জানান, এখানে বর্তমানে ১১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকা সত্ত্বেও ২৬টি পদ শূন্য রয়েছে। আগের তুলনায় গ্রন্থাগার ব্যবহারকারী ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকের সংখ্যা বাড়লেও সেটা শিক্ষার্থীর তুলনায় সন্তোষজনক নয়। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা তাদের ব্যক্তিগত জ্ঞান ভাণ্ডারের পরিধি বাড়াতে বিশাল এই জ্ঞান ভাণ্ডার থেকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী জ্ঞান আহরণ করুক।
গ্রন্থাগারের ইতিকথা : স্যাডলার কমিশনের পরিকল্পনায় এবং রাবির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নাটোরের সিংড়ার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মরহুম মাদার বখ্শ-এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৫৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ১৯৫৫ সালে রাজশাহী শহরের প্রাচীন ‘বড়কুঠি’তে ক্ষুদ্র আকারে গড়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার। বছর খানেক পর ভোলানাথ বিশ্বেশ্বর হিন্দু একাডেমি স্কুল ভবনে স্থানান্তর করা হয় গ্রন্থাগারটি। ১৯৫৮-৫৯ সালের দিকে মতিহার কুঠিতে (বর্তমানে বিএনসিসি ভবনে) গ্রন্থাগারের শাখা খোলা হয়। ১৯৬৩ সালে বর্তমান কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের মূল তিনতলা ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১৯৬৪ সালে নতুন ভবনে সব বই-পুস্তক জার্নাল স্থানান্তর করে ১৯৬৬ সালে গ্রন্থাগারটি চালু করা হয়। গ্রন্থাগারে সর্বপ্রথম গ্রন্থাগারিকের দায়িত্ব পালন করেন ফজলে এলাহী।
গ্রন্থাগার যেভাবে সাজানো : গ্রন্থাগার ভবনের প্রধান গেট দিয়ে নিচতলার সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠতেই দুই পাশে রয়েছে ক্যাটালগ কেবিনেট বক্স। বক্সগুলোতে কোন বই কোথায় কোন শেলফে রয়েছে তার দিকনির্দেশনা রয়েছে। ভবনের দ্বিতীয় তলায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রকাশনাসহ দুষ্প্রাপ্য অনেক সংগ্রহ রয়েছে। এখানে কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অনুমতিপ্রাপ্ত গবেষকরা প্রবেশ করতে পারেন। ভবনের তৃতীয় তলায় রয়েছে গ্রন্থাগার প্রশাসকের অফিসসহ গ্রন্থাগার পরিচালনার জন্য বিভিন্ন প্রশাসনিক অফিস। রয়েছে প্রয়োজনীয় ফটোকপির জন্য ফটোকপি শাখা। পাশের সাময়িকী শাখায় বিভিন্ন দেশ ও বিভিন্ন বিষয়ের জার্নাল, ম্যাগাজিন, অর্থনৈতিক সমীক্ষা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক প্রতিবেদন সংগৃহীত রয়েছে। বিপরীত পাশেই রয়েছে ইন্টারনেট ল্যাব। সেখানে কেবল মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা প্রবেশ করে ইন্টারনেট সুবিধা উপভোগ করতে পারে। এর পাশে সংবাদপত্র শাখায় জাতীয় ও স্থানীয় প্রায় ২৯টি দৈনিক পত্রিকা থাকে। এছাড়া সংবাদপত্রের জাদুঘরের মতো অতি প্রাচীন দুষ্প্রাপ্য অনেক পত্রিকার মূল্যবান সংখ্যা সংরক্ষিত রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় এই গ্রন্থাগারে।
তাছাড়া দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত জার্নাল ও এমফিল ও পিএইচডি গবেষণাপত্রে ভরপুর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় এই গ্রন্থাগারটি। আজ থেকে ২৪৫ বছর আগে ১৭৬৪ সালে প্রকাশক উইলিয়াম বের্টন রচিত ‘ব্রিটানিকা অ্যাটলাস’ মানচিত্র বিষয়ক একটি বই ছাড়াও দেশ-বিদেশের প্রকাশিত ১২৭টি সচিত্র মানচিত্র বিষয়ক বই রয়েছে গ্রন্থাগারে।
ডিজিটালাইজড গ্রন্থাগার : গ্রন্থাগার বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য, রেফারেন্স, জার্নাল, গবেষণাপত্রসহ গ্রন্থাগারের সবকিছু প্রায় এখন ডিজিটালাইজড করা হয়েছে।
গ্রন্থাগারে ৮৭০ জন ইন্টারনেট ল্যাব কার্ডধারী শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রতিদিন গড়ে ৭৮ জন শিক্ষার্থী ইন্টারনেট ব্যবহার করছে।
গ্রন্থাগারের বর্তমান প্রশাসকের কথা : বর্তমান প্রশাসক প্রফেসর ড. মোঃ দেলওয়ার হোসেন জানান, এখানে বর্তমানে ১১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকা সত্ত্বেও ২৬টি পদ শূন্য রয়েছে। আগের তুলনায় গ্রন্থাগার ব্যবহারকারী ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকের সংখ্যা বাড়লেও সেটা শিক্ষার্থীর তুলনায় সন্তোষজনক নয়। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা তাদের ব্যক্তিগত জ্ঞান ভাণ্ডারের পরিধি বাড়াতে বিশাল এই জ্ঞান ভাণ্ডার থেকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী জ্ঞান আহরণ করুক।


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


