Amardesh
আজঃ ঢাকা, রোববার ২০ ডিসেম্বর ২০০৯, ৬ পৌষ ১৪১৬, ২ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ঢা বি র স মা ব র্ত ন : প্রাণোচ্ছল এক মিলন মেলা

আরীফ মুহাম্মদ
দিনটির জন্য ৭ বছর অপেক্ষা করেছি, অনেক মজার কেটেছে। যারা অংশ নেয়নি, তাদের এ আনন্দের কথা বোঝানো যাবে না। কথাগুলো বলছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে অংশ নেয়া গ্রাজুয়েট রাফিয়া জান্নাত। গত ১২ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। এবারের সমাবর্তন ছিল ৪৫তম। সমাবর্তনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে বসেছিল প্রাণের মেলা।
১২ ডিসেম্বর সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হলেও সমাবর্তনের সাজ ও আমেজ ছিল ৩/৪ দিন আগে থেকেই। এই দিনগুলোতে শিক্ষার্থীরা সমাবর্তন গাউন পরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে একক বা দলবেঁধে ফটোসেশনে ব্যস্ত ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও ক্যাম্পাসের কার্জন হল এলাকা, টিএসসি, কলাভবন, মলচত্বর, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনেসহ বিভিন্ন স্থানে তৈরি করেছে ফটোসেশন মঞ্চ। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রবেশদ্বারে স্থাপিত সমাবর্তন তোরণগুলো পরিণত হয়েছে ফটোসেশন মঞ্চে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পরিচিত স্থানগুলো ছিল সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের দখলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক এই কার্যক্রম গত ২ বছর বন্ধ থাকায় এবারের সমাবর্তনে শিক্ষার্থীদের অনন্দ-উচ্ছ্বাস ছিল অনেক বেশি। বাঁধভাঙা এ আনন্দমেলা পরিণত হয়েছে নবীন ও প্রবীণদের মিলনমেলায়।
এবারের সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করেছেন সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা গ্রাজুয়েট থেকে শুরু করে কয়েক বছর আগে উত্তীর্ণ হয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছেন এমন শিক্ষার্থীরা। সাবেক শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরে এসে খুঁজে বেড়িয়েছেন হারানো দিনের স্মৃতিগুলো।
তাদের আড্ডার পুরনো সব প্রিয় জায়গা, অপরাজেয় বাংলা, রাজু চত্বর, কলাভবন, কার্জন হল, বাণিজ্য অনুষদ ও নিজ নিজ বিভাগের সামনে গিয়ে ফটোসেশন আর পরিচিতদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেছেন তারা। প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত ইব্রাহিম বিন হারুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে। অনেক দিন ধরে এ দিনটির জন্য অপেক্ষা করছি।’ গ্র্যাজুয়েট ও অতিথির দিক দিয়ে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই সমাবর্তন। এতে মোট ৯ হাজার ৫৮ জনকে সনদ দেয়া হয়। একজন নোবেল বিজয়ীসহ অতিথি ছিলেন প্রায় সাড়ে তিন হাজার। সনদপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিল ৪ হাজার ৩৪৯ জন ছাত্র ও ৪ হাজার ৭০৯ জন ছাত্রী। এদের মধ্যে সম্মানে ৪ হাজার ২০৩ জন, স্নাতকোত্তরে ১ হাজার ৩২৮, এমফিলে ৫৮, পিএইচডিতে ৫৮ এবং অধিভুক্ত কলেজ ও ইনস্টিটিউটের তিন হাজার ৪১১ জন সনদ পেয়েছেন।
সমাবর্তনের প্রধান অতিথি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান এসব পদক প্রদান করেন।
কলা অনুষদের স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী তাহমিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘আজ রাষ্ট্রপতির হাত থেকে এ পদক পাওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের। একজন শিক্ষার্থীর জীবনে এর চেয়ে আনন্দ কিছুই নেই।’
আনন্দ প্রকাশ করে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম বিন হারুন বলেন, গত পাঁচ বছর নিয়মিত অধ্যয়ন ও পরিশ্রমের ফল আজ পেয়েছি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবীদের মধ্য থেকে মেধাবী হিসেবে স্বর্ণপদক পাওয়াতে আমি খুব আনন্দিত। আমার এ পদক পাওয়ার পেছনে আমার পরিবার ও শিক্ষকদের অবদান অনেক বেশি।
এবার সমাবর্তনে ’৮৬ সালে রসায়নে নোবেল বিজয়ী তাইওয়ানের অধ্যাপক ইউয়ান টি লি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ‘সনো-ফিল্টার’-এর উদ্ভাবক যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ম্যাশন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল হুসসামকে ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি দেয়া হয়। ডক্টর অব লিটারেচার ডিগ্রি দেয়া হয় ভারতবর্ষের ইতিহাস চর্চায় নতুন ধারার প্রবর্তক অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নৃবিজ্ঞান বিভাগের ইমেরিটাস রণজিত গুহকে।
সমাবর্তনে তাদের জীবনী তুলে ধরেন উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। লির হাতে সম্মাননা তুলে দেন চ্যান্সেলর জিল্লুর রহমান। তার কাছ থেকে অধ্যাপক আবুল হুসসামের পক্ষে ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি নেন তার ভাই ড. আবুল কে এম মুনির। ক্যান্সার আক্রান্ত ইতিহাসবিদ রণজিত গুহর পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান আহমেদ কামাল ডক্টর অব লিটারেচার ডিগ্রি নেন।
প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর ইচ্ছা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন পাস করার পর সমাবর্তনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ গ্রহণ।
দেশের অন্য সব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের এই চাহিদা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক এই কার্যক্রম সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণ করে শ্রেষ্ঠত্বের আসন ধরে রেখেছে।


 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?