Amardesh
আজঃ ঢাকা, শনিবার ১৯ ডিসেম্বর ২০০৯, ৫ পৌষ ১৪১৬, ১ মহররম ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 জব সার্চ
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 বিশেষ বিভাগ
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ভিমরুল লাইভ

ইকবাল খন্দকার
সুপ্রিয় বন্ধু এবং বান্ধবীগণ, আজ আমাদের মাঝে শরীরসহ আই মিন সশরীরে হাজির হয়েছেন বিশিষ্ট রন্ধনশিল্পী আরশোলাতুন্নেসা। তিনি আজ আপনাদের রান্নাবিষয়ক একগাদা প্রশ্নের জবাব দেবেন। অনুষ্ঠানের সময় নিয়ে আপনাদের একটুও টেনশন করতে হবে না। কারণ, আমাদের প্রডিউসার কারওয়ানবাজার গেছেন কাঁচকি মাছ কিনতে। যতক্ষণ না তিনি ফিরবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত ফোন চলতেই থাকবে। কারণ, ফোন কোম্পানির সঙ্গে আমাদের পাক্কা চুক্তি হয়েছে। যাক আমরা একটা ফোন নিচ্ছি। হ্যালো, কে বলছেন?
—জ্বি, আমার নাম বদরুল আলম বদ। আমি আরশোলা আপার সঙ্গে কথা বলব। আপা, আমার বউ আপনার দারুণ ভক্ত। গত বইমেলা থেকে সে আপনার লেখা একটা বই কিনেছিল। কিন্তু এই বই মোতাবেক যেই না সে রান্না শুরু করল, অমনি বাড়ি জুড়ে শুরু হয়ে গেল গণডায়রিয়া। এই কারণে আমি এই বইটা এখন পুরান মার্কেটে বিক্রি করে দিতে চাইছি। আমার প্রশ্ন হচ্ছে আপনার খোঁজে কি ভালো কোনো পুরান মার্কেট আছে? যেখানে রান্নার বই ভালো দামে বিক্রি করা যায়?
আরশোলা : সরি, আপনি মনে হয় ভুল নম্বরে ডায়াল করেছেন। উফ, কোত্থেকে যে আজেবাজে ফোন আসে!
—হ্যালো, আমি মিরপুর থেইকা বলতাছি। আমার নাম কওয়ার দরকার নাই। কারণ, আপার লগে আমার ব্যক্তিগত খাতির আছে। আপা, আপনেরে শাড়িটায় ঝাক্কাস লাগতাছে। দেখতে হইব না কার দোকানের শাড়ি। মনে আছে আপা, শাড়িটা আমি আপনেরে ২০০ টেকা কমে দিছিলাম। আপা, আমার দোকানে এখন আরও সুন্দর সুন্দর শাড়ি আইছে। আপনে যে কোনো সময় চইলা আইসেন। কম রাখমুনে। এছাড়া কোক ঠাণ্ডা যা খাইতে চান, খাওয়ামুনে। আর ফিরতি রিকশা ভাড়া তো দিয়া দিমুই।
উপস্থাপিকা : দর্শক আপনারা প্রাসঙ্গিক বিষয়ে প্রশ্ন করুন। যাই হোক, আমরা চলে যাচ্ছি আরেকটা ফোনে। হ্যালো কে বলছেন?
—জ্বি, আমার নাম আলফাজ উদ্দিন ওরফে আলফু। আমি আসলে কোনো দরকারে ফোন করি নাই। গতকাল টিএনটি লাইনটা ঠিক করলাম তো, ভাবলাম একটু টেস্ট কইরা দেখি, এখনও ঠিক আছে নাকি নষ্ট হয়ে গেছে। যাক তাইলে ঠিক আছে।
উপস্থাপিকা : আমরা আরেকটা ফোন নিচ্ছি। হ্যালো, আপনি আপনার নাম বলে কথা বলুন আপার সঙ্গে।
—আপা আমার নাম খাইরুল। আমি খুব রোল খাই তো, তাই আমার নামই হইয়া গেছে খাইরুল। আমি আপার একটা রান্নাবিষয়ক অনুষ্ঠান দেইখা তার রেসিপি মোতাবেক বাসায় রান্না কইরা খাইছিলাম। এরপর থেইকা আমি আমার পেটের মইদ্যে বজ্রপাতের আওয়াজ পাইতাছি। ডাক্তারের কাছে গেছিলাম, এই আওয়াজ শুইনা ডাক্তারও ডরাইয়া অজ্ঞান হইয়া গেছিল। জ্ঞান ফিরার পর তিনি আমারে কইছেন আমার বাঁচার কোনো সম্ভাবনা নাই। আইজ আমি আপনাদের এই খানে ফোন করলাম, আপনাদের চ্যানেলের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছ থেকে শেষ বিদায় এবং দোয়া নেয়ার লাইগা। এই যে, এই যে আবারো ঠাডা পড়ার আওয়াজ হইল পেটের ভিতর। শুনতে পাইছেন?
আরশোলা : এইটাও মনে হয় রং নম্বরের ফোন। আসলে রং নম্বরের ফোনগুলো এত ডিস্টার্ব করে!
উপস্থাপিকা : আমরা চলে যাচ্ছি আরেকটা ফোনে। হ্যালো...
—হ্যালো আপা, বলেন তো দেখি আমি কে? বুঝছি, বলতে পারতাছেন না। এক কাজ করেন। আমি কে, আমার নাম কী। এইটার উপর একটা ধাঁধা রাইখা দেন। যারা আমার নাম-ঠিকানা সঠিক লিখতে পারব, তাদের জন্য থাকব আমার ‘আক্কাস পান স্টোরের’ ইস্পেশাল পান। হায় হায় আমি তো আমার নাম বইলা ফালাইলাম। এখন কী করি? ও আপা, এই ব্যাপারে জটিল একটা পরামিশ দেন তো।
উপস্থাপিকা : আপনাদের বার বার বলা হচ্ছে প্রাসঙ্গিক বিষয়ে প্রশ্ন করার জন্য। তবু করছেন না। খুবই দুঃখের ব্যাপার। যাক, আমরা আরেকটা ফোন নিচ্ছি। হ্যালো কে বলছেন?
—আফা, আমার নাম মুখলেছ। আসলে আমি ফোন করতে চাই নাই। মিসকল দিতে চাইছিলাম। কিন্তু টিএনটি ফোন দিয়া ক্যামনে মিসকল দেয়, আমি খুব একটা জানতাম না। তাই ধরা খাইছি। দয়া কইরা ফোনটা কাইট্টা দেন।
উপস্থাপিকা : আমরা আরেকটা ফোন নিচ্ছি। হ্যালো কে বলছেন?
—কে বলতাছি, সেইটা আপনের জাইনা লাভ নাই। এই আরশোলা, আমি তোমার সোয়ামি। তাড়াতাড়ি বাড়িত আসো। অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে তুমি যে তরকারি রান্না কইরা গেছ, এই তরকারি খাইয়া তোমার পোলা-মাইয়া খিঁচুনি শুরু কইরা দিছে। তাগোরে আমি হাসপাতালে নিয়া গেলাম। কিন্তু ভুল কইরা ঘরের দরজা খোলা রাইখা চইলা আসছি। তুমি চটজলদি বাড়িতে আসো।
আরশোলা : প্রিয় বন্ধুরা, আজ আমাদের অনুষ্ঠান এখানেই শেষ করতে হচ্ছে।
উপস্থাপিকা : জ্বি বন্ধুরা, ইতোমধ্যে আমাদের প্রডিউসার সাহেব কারওয়ানবাজার থেকে কাঁচকি মাছ নিয়ে চলে এসেছেন। তার পচা কাঁচকি মাছের গন্ধে এখানে বসার জো নেই। অতএব, নাক চেপে ধরে এখান থেকে পালাচ্ছি। আপনারাও পালান।


 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?