Amardesh
আজঃ ঢাকা, শনিবার ১৯ ডিসেম্বর ২০০৯, ৫ পৌষ ১৪১৬, ১ মহররম ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 জব সার্চ
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 বিশেষ বিভাগ
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

রম্য হুল : ঘরজামাই বন্দনা!

হাসান হাফিজ
‘পরথমে বন্দনা করি দয়াল আল্লার নাম/তারপরে বন্দনা করি নবী আসসালাম...।’
প্রথমেই চোখ টাটানো খবরটার ওপর চোখ বুলিয়ে নিই। খবরখানা অভিনব, আচানকও। বেরিয়েছে গত ৭ ডিসেম্বর ’০৯ তারিখে একটি দৈনিকে। শিরোনাম—‘অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে পথে নেমেছে ঘরজামাইরা।’ খবরের অংশবিশেষ তুলে ধরছি। ‘মেহেরপুরের গাংনীর একটি গ্রাম চৌগাছা। ঘরজামাইয়ের গ্রাম নামে এ গ্রামের পরিচিতি। শুধু চৌগাছাই নয়, গাংনী পৌরসভার অধীন বাঁশবাড়িয়া, শিশিরপাড়া, পূর্ব মালশাদহ, ফতাইপুর ও গাংনীতে কম-বেশি ঘরজামাই আছে। ঘরজামাইরা মিলে গড়ে তুলেছে ঘরজামাই পরিষদ।
...ঘরজামাইদের সমাজে ভালো চোখে দেখা হয় না। তাদেরকে কুফা বলে ডাকে। অসম্মানজনক কথাবার্তাও বলা হয়। এসবের প্রতিবাদ করার জন্য তারা সংগঠন গড়ে তুলেছেন। শ্বশুর বাড়িতে দীর্ঘদিন বাস করলেও তারা জমিজমার মালিক নন। জমির মালিক স্ত্রীরা। অনেকেই স্ত্রীর নির্যাতনের শিকার হন। কিন্তু তাদের নির্যাতনের কথা কেউ বলে না।...’ জনৈক নাগরিক এই খবর পড়ে আহা, আহা! বলে কঁকিয়ে উঠলেন (কে জানে ওই লোক নিজেও হয়তো ঘরজামাই, লজ্জায় নিজ পরিচয় উদ্ঘাটন করতে চাচ্ছে না)। সত্যিই তো। এই অনাচার একটা স্বাধীন দেশে চলতে দেয়া যায় না। ভ্রূ কুঁচকে সেই নাগরিক ভাবলেন, নারীবাদী চেতনার কথাই তো এতকাল শুনে আসছি। কান ঝালাপালা শুনে শুনে। এখন থেকে পুরুষবাদী ডকট্রিন (অব নেসেসিটি), চিন্তা-চেতনার কথা ভাবতে হবে। দিনবদল নয়, দিকবদল! ব্রেইন স্টর্মিং করতে হবে সর্বাগ্রে। যা দিনকাল পড়ছে! অদূর ভবিষ্যতে হয়তো পুরুষ কোটার জন্যই সামাজিক আন্দোলন (সফল না হলে আমরণ অনশন বা গেরিলা যুদ্ধ) করতে হবে।
গালে হাত দিয়ে তোম্বা মুখে নাগরিক আরও কিছু ভাবলেন। তার সেই ভাবনার জগতে লুকিয়ে-চুরিয়ে একটু আলো ফেলে দেখাই যাক না তিনি কী কী ভেবেছেন!
নাগরিক লোকটি ভেবেছেন—
সত্যিকারের দিনবদলে ‘ঘরজামাইদের সম্মানজনক স্বীকৃতি আদায় প্রকল্প’ বিরাট ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে পারে। শুধু ভূমিকা পালনই নয়, পিছিয়ে থাকা বেকুব বিশ্ববাসীর কাছে এটি অনুকরণীয় মডেল হিসেবেও ঝলমল করে উঠতে পারে। কি কি কারণে এটা হতে পারে, সেটা একটু তলিয়ে দেখলে কোনো ক্ষতি বৃদ্ধি নেই। এক নজরে দেখাই যাক না এর অন্তর্নিহিত বা লুক্কায়িত উপকারিতাসমূহ কী কী?
১. ঘরজামাইদের প্রতিভা অন্বেষণে হান্টিং কর্মসূচির প্রবর্তন করা আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকাল তো চাষী, কামার-কুমোর, রিকশাঅলাদের ঈদের খেলাধুলা, গান কুইজের রমরমা চল শুরু হয়েছে। মায়ের পেট থেকে পড়তে না পড়তেই দুধের শিশুরা তারকা বনে যাচ্ছে। ইনস্ট্যান্ট, রাতারাতি! কারেন্ট জাল দিয়ে (কাঁচকি পোনা, আণ্ডা বাচ্চাও যাতে বাদ পড়তে না পারে) প্রতিভা খোঁজার দুরূহ পবিত্র কর্মে উদয়াস্ত ন্যস্ত ও শশব্যস্ত রয়েছে বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো। ঘরজামাইরা তো কোনো অপরাধ করেনি। তাদের নিয়েও প্রতিভা অন্বেষণ করা যায়। কোনো বহুজাতিক কোম্পানিকে পটিয়ে নিতে পারলেই কেল্লা ফতে। আনুষঙ্গিক টাকা-পয়সা নিয়ে মাথা ঘামানোর কোনো প্রয়োজন নেই।
২. ঘরজামাইরা শ্বশুরবাড়িতে থাকলে আবাসন সঙ্কট ভবিষ্যতে তীব্রতর হবে না। অনেক শ্বশুরবাড়ি তো বছর বছর খালিই পড়ে থাকে! আর জামাই বেচারারা আদরের ‘মাইয়া’সমেত অল্প আয়ের কারণে বস্তিসদৃশ খুপরিতে ঘাড় গুঁজে দিন গুজরান করে। আহা রে! এই লানত সহ্য করা যায় না।
৩. আজকাল কাজের লোকের যা আকাল! বাজারহাট করার কাজটা তো জামাই বাবাজি নিজেই করে দিতে পারে। তাহলে এই ক্রমবর্ধমান সঙ্কট থেকে জাতি নিজেকে অনেকটাই বাঁচাতে সক্ষম হবে। নিজের সংসারের বাজার নিজে করার মধ্যে কোনো ধরনের শরমিন্দা বোধ করা বাঞ্ছনীয় নয়।
৪. পরের ছেলে যখন কাজের লোক হয়, বাজারের টাকা থেকে তারা প্রায়ই (কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিয়মিতই) একটা অংশ নিপুণ দক্ষতায় হাপিশ করে দেয়। ঘরজামাই বাবাজি যদি সেই একই তরিকাভুক্ত হয়, তাতেও কুছ পরোয়া নেহি! নিজের লোক, নিজের মেয়ের জামাইয়ের পকেটেই তো হক্কের টাকাটা যাচ্ছে। মেয়ে পুরোটা না পেলেও ছিটেফোঁটা তো পাচ্ছে। ঘরের পয়সা ঘরেই থাকছে। অতএব, লস নাইক্ক্যা।
৫. মেয়ে-জামাইয়ের সংসারে যদি কোনো মেয়ে জন্মায়, অনাগত ভবিষ্যতে তার স্বামীও ঘরজামাই থাকতে পারবে। এতে পরম্পরা রক্ষিত হবে। দামি ঐতিহ্যে কোনো আঁচড় লাগবে না। ঘরজামাই মেয়ের বাবা তস্য ঘরজামাইকে ভুলেও হেনস্থা বা গালমন্দ/সম্পত্তিবঞ্চিত করবে না। যদি কোনো উজবুক করেই ফেলে, সেটা হবে তার নিজের গায়ে থুতু ছিটানোর শামিল।
৬. ঘরের ছেলে পরের ছেলে—এই দু্’রকম নিন্দনীয় অভিধা যে সমাজে চালু রয়েছে, তার দু্রত অবসান ঘটবে। এই কলঙ্ক ও বৈষম্য যুগ যুগ ধরে চলতে পারে না।
৭. ইনডোর গেমসের চর্চা হু হু করে বাড়বে। চর্চা বাড়লে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সম্মান অর্জনের সম্ভাবনাও ক্রমেই বাড়বে। তাগড়া জোয়ান জামাইদের কোনো উত্পাদনমুখী কাজ না থাকায় বিরক্ত ও বাধ্য হয়ে তারা রকমারি ইনডোর গেমস খেলে (যেমন লুডু, ক্যারম, বাগাডুলি কিংবা ব্যাডমিন্টন, টেনিস ইত্যাদি) সময় কাটাতে বাধ্য হয়।
৮.‘জামাই আদর’ কালচারের সঙ্গে ঘরজামাই বলে নিন্দামন্দ করবার বিষয়টি সাংঘর্ষিক। সুতরাং ঘরজামাইদের কোণঠাসা করে জামাই আদর কালচার লালন করা, প্রবাদ প্রবচনে ব্যবহার করার বিষয়টি সম্পূর্ণ অনৈতিক!


 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?