Amardesh
আজঃ ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৭ ডিসেম্বর ২০০৯, ৩ পৌষ ১৪১৬, ২৯ জিলহজ ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 বিশেষ বিভাগ
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

নিয়েনডারথেল হারিয়ে যায় মানুষের কারণেই

মনোয়ারুল ইসলাম
২৪ হাজার বছর আগে পৃথিবীতে বাস করত মানুষেরই আরেকটি প্রজাতি নিয়েনডারথেল। এই নিয়েনডারথেলদেরই বলা হয়ে থাকে আজকের মানুষের সবচেয়ে নিকটাত্মীয়। কেমন ছিল এই প্রজাতির জীবন ধারণ ও জীবনাচরণ তা জানতে গবেষণা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। তারা জানতে চান, নিয়েনডারথেলরা ঠিক কোন বৈশিষ্ট্যের অভাবে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেল?
১৮৫৬ সালে নিয়েনডারথেল প্রজাতি সম্পর্কে অবহিত হয় মানুষ। জার্মানির নিয়েনডার উপত্যকায় প্রথম এদের অস্তিত্বের নমুনা পাওয়া গেছে বলে এদের নিয়েনডারথেল নামকরণ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের নিয়েনডারথেল প্রজাতিটির মধ্যেও মানুষেরই মতো পারিবারিক সূত্রের ধারাবাহিকতা ছিল।
একই শরীরী কাঠামো নিয়ে মানুষের সঙ্গে নিয়েনডারথেলের পার্থক্য ছিল অনেক ক্ষেত্রে। তাদের মাথার গঠন ছিল আমাদের চেয়ে অনেক বড়। ফলে তাদের ঘাড় খাটো এবং দেহ চওড়া। আর মানুষের মাথার খুুলি নিয়েনডারথেলের চেয়ে ছোট। ফলে মানুষের দেহ ও গলা—দুটোই তাদের চেয়ে লম্বা, চওড়া নয়। শারীরিক গঠনের দিক দিয়ে একজন নিয়েনডারথেলকে দেখলে আধুনিককালের একজন রেসলারের কথাই মনে পড়বে। আর মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণে তাদের দেখে মনে হবে একজন দৌড়বিদ, যাকে যেতে হবে অনেক পথ পাড়ি দিয়ে অনেকদূর।
নিয়েনডারথেলকে মানুষ বলা না গেলেও পশু বলা যাবে না। তাদের মধ্যে পশুত্বের চেয়ে আধুনিক যুগের মানুষের বৈশিষ্ট্যই ছিল বেশি। এদের মাথার খুলি যেমন মানুষের চেয়ে বড়, তেমনি খুলির ভেতর মগজের পরিমাণও কিন্তু মানুষের চেয়ে খুব কম ছিল না। তারা আগুন দেখে পশুর মতো ভয়ে পালাত না। আগুনকে বরং নিজেদের কাজে লাগাত। পশুর মতো নখ-দাঁত ছিল না। তাই আঁচড় বা কামড়ে তেমন সুবিধা করতে না পারলেও পাথর তুলে ছুড়ে মারতে জানত শত্রুর দিকে। তারা জানত এটাই তাদের আত্মরক্ষা এবং শিকারের অস্ত্র। তারা শুধু দলবদ্ধই থাকত না, জানত সামাজিকতাও। তাদের ছিল পারিবারিক জীবন, প্রকাশ্য এবং গোপন—দুটোই। মানুষকে যেমন পারিবারিক বৃক্ষে বিভক্ত করা যাবে, তেমনি নিয়েনডারথেলরাও সেভাবে বিভক্ত ছিল। শুধু তা-ই নয়, মানুষের মতো আধ্যাত্ম চেতনাও ছিল তাদের। তারা মৃতদেহ কবর দিত।
একজন বয়স্ক পুরুষ নিয়েনডারথেলের দেহাবশেষ থেকে বোঝা গেছে, লোকটার একটা বাহু ছিল ছোটকাল থেকেই অকেজো। এ থেকে বোঝা গেছে, পরিণত বয়সের লোকটা ছোটকাল থেকেই অকেজো হাত নিয়ে বেঁচেছিল। অন্যের সহায়তা ছাড়া ছোটকাল থেকে একজন শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষের বেঁচে থাকা কখনও সম্ভব নয়।
জিন গবেষকরা এমনও বলছেন, নিয়েনডারথেলদের ভাববিনিময়ে ভাষার হয়তো মৌখিক ব্যবহারও ছিল।
প্রাণিতত্ত্ববিদ ক্যাটারিনা হারভেটি বলেন, পৃথিবীতে এখন মানুষ ছাড়াও যেসব জীব বেঁচে আছে, নিয়েনডারথেলরা এদের সবার থেকে কাছের প্রজাতি আমাদের। মোটামুটি ২৪ থেকে ৩০ হাজার বছর আগে নিয়েনডারথেলরা পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই প্রজাতির বিলুপ্তির জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী। নিয়েনডারথেলদের বিলুপ্তি শুরুর সময় হলো আধুনিক মানুষের উদ্ভবেব সময়। আধুনিক মানুষের টিকে থাকার লড়াই থেকেই অস্তিত্বের সঙ্কট নিয়েনডারথেলদের। প্রাণিতত্ত্ববিদ ইয়ান ট্যাটারসেল বলেন, সম্ভবত আমরা ওদের সঙ্গে সম্পদ নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছিলাম। লড়াইয়ে ওরা হেরে যেতে থাকে। এক সময় বিলুপ্ত হয়ে যায়। আসলে এ পর্যন্ত বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রাণীদের চেয়ে হোমো সেপিয়েন্সদের বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি আলাদা। পৃথিবীকে ওরা নিজেদের মতো চালাতে গিয়ে অনেক প্রজাতির বিলুপ্তির কারণ হয়েছে।


 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?