মঙ্গলগ্রহের উত্তর মেরুতে হয়তো মহাসমুদ্র ছিল
সেলিনা আক্তার
প্রতিবেশী গ্রহ মঙ্গল নিয়ে গবেষণার অন্ত নেই জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের। এসব গবেষণার ধারাবাহিকতায় প্রায়ই বেরিয়ে আসছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেখানে একসময় পানি ছিল, তাই প্রাণও হয়তো ছিল। এখন নেই। সব শুকনো। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এরই মধ্যে বহু মহাকাশ যান পাঠানো হয়েছে গ্রহটির কক্ষপথে। কিছু কিছু যান গ্রহটির বুকে অবতরণ করে পাঠিয়েছে নানা তথ্য-উপাত্ত। তারপরও গবেষণা থেমে নেই। সম্প্রতি জানা গেছে, মঙ্গলগ্রহের উত্তর মেরুতে হয়তো একসময় বিশাল এবং মহাসমুদ্র বিরাজমান ছিল। গ্রহটির নতুন এক মানচিত্র নিয়ে গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা এ সম্ভাবনার কথা বলেছেন। মানচিত্রটিতে শুষ্ক ওই গ্রহে এক সময় আর্দ্রতাভরা বৃষ্টিমুখর জলবায়ু ছিল এমন আভাস দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব জিওফিজিক্যাল রিসার্চে। নতুন এই মানচিত্রভিত্তিক গবেষণাটি করেছেন নর্দান ইলিনয় ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ওয়েই লিও এবং টেক্সাসের লুনার অ্যান্ড প্লানেটারি ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী টমাস স্টেপিনসকি। যৌথ গবেষণায় বিজ্ঞানীরা বলেছেন, মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার নিয়ন্ত্রণে থাকা স্যাটেলাইটগুলো ব্যবহার করে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ওই মানচিত্র তৈরি করা হয়। এ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে কম্পিউটার প্রযুক্তি। নতুন এ মানচিত্র গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছেন, মঙ্গল সাগরের তীরবর্তী বিস্তৃত এলাকাজুড়ে রয়েছে উপত্যকা। আগেও এমনটি ধারণা করা হতো। তবে এবারের ধারণা আগের চেয়ে অনেক ব্যাপক। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, আগের ধারণার চেয়ে ওই উপত্যকার বিস্তৃতি দ্বিগুণ।
অধ্যাপক ওয়েই লিও বলেছেন, পৃথিবীতে বৃষ্টি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক কারণে যেভাবে উপত্যকার সৃষ্টি হয়, মঙ্গলগ্রহেও একইভাবে উপত্যকার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, মঙ্গলগ্রহের উত্তর মেরুতে সমুদ্র থাকার কারণেই সেখানে উপত্যকার বিস্তৃতি রয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ মেরুতে এমন সমুদ্র না থাকায় কিংবা বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় সেখানে তুলনামূলক কম উপত্যকার উপস্থিতির আভাস পাওয়া গেছে। মঙ্গলগ্রহে যে উপত্যকার অস্তিত্ব রয়েছে তা নাসার বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন ১৯৭১ সালে। ওই আবিষ্কারের পর থেকেই বিতর্ক চলে আসছে যে পানিবিধৌত ক্ষয়ের কারণে ওইসব উপত্যকার সৃষ্টি হয়েছে কিনা। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, যদি পানিবিধৌত ক্ষয়ের কারণে ওইসব উপত্যকার সৃষ্টি হয়, তাহলে ধরে নিতে হবে, গ্রহটিতে আর্দ্রতা ছিল এবং বৃষ্টিপাত হয়েছে। অথচ এ বিষয়টি এখনও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। দৃশ্যত মৃত ওই গ্রহে একাধিক মহাকাশ যান গেলেও সেখানে বৃষ্টিপাত বা পানির অস্বিত্ব থাকার প্রত্যক্ষ প্রমাণ আজও মেলেনি। তবে সম্প্রতি আভাস মিলেছে গ্রহটিতে হয়তো বরফ আকারে পানির অস্তিত্ব থাকতে পারে। এখন পর্যন্ত এতটুকুই বলতে পারছেন বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। সবই ধারণাকেন্দ্রিক। নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না তারা কিছুই। কোনোদিন যদি গ্রহটিতে মানুষ পাঠানো যায় তখনই হয়তো জানা যাবে প্রকৃত সত্য। এর আগ পর্যন্ত ধারণাই এগিয়ে যাবে নিজস্ব গতিতে। গ্রহটিতে প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে যে বিতর্ক রয়েছে তারও হয়তো সমাধান হবে তখন। যদিও এ ব্যাপারে সবাই একমত যে গ্রহটিতে যদি পানি থাকে বা কোনোদিন থেকে থাকত তাহলে সেখানে প্রাণের উদ্ভব হওয়া স্বাভাবিক। কেমন ছিল সে প্রাণ সেটাই সবার ভাবনার বিষয়। প্রকৃত সত্য জানার আগে কল্পনাকেই এগিয়ে যেতে দিতে হবে বৈকি।
অধ্যাপক ওয়েই লিও বলেছেন, পৃথিবীতে বৃষ্টি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক কারণে যেভাবে উপত্যকার সৃষ্টি হয়, মঙ্গলগ্রহেও একইভাবে উপত্যকার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, মঙ্গলগ্রহের উত্তর মেরুতে সমুদ্র থাকার কারণেই সেখানে উপত্যকার বিস্তৃতি রয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ মেরুতে এমন সমুদ্র না থাকায় কিংবা বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় সেখানে তুলনামূলক কম উপত্যকার উপস্থিতির আভাস পাওয়া গেছে। মঙ্গলগ্রহে যে উপত্যকার অস্তিত্ব রয়েছে তা নাসার বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন ১৯৭১ সালে। ওই আবিষ্কারের পর থেকেই বিতর্ক চলে আসছে যে পানিবিধৌত ক্ষয়ের কারণে ওইসব উপত্যকার সৃষ্টি হয়েছে কিনা। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, যদি পানিবিধৌত ক্ষয়ের কারণে ওইসব উপত্যকার সৃষ্টি হয়, তাহলে ধরে নিতে হবে, গ্রহটিতে আর্দ্রতা ছিল এবং বৃষ্টিপাত হয়েছে। অথচ এ বিষয়টি এখনও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। দৃশ্যত মৃত ওই গ্রহে একাধিক মহাকাশ যান গেলেও সেখানে বৃষ্টিপাত বা পানির অস্বিত্ব থাকার প্রত্যক্ষ প্রমাণ আজও মেলেনি। তবে সম্প্রতি আভাস মিলেছে গ্রহটিতে হয়তো বরফ আকারে পানির অস্তিত্ব থাকতে পারে। এখন পর্যন্ত এতটুকুই বলতে পারছেন বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। সবই ধারণাকেন্দ্রিক। নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না তারা কিছুই। কোনোদিন যদি গ্রহটিতে মানুষ পাঠানো যায় তখনই হয়তো জানা যাবে প্রকৃত সত্য। এর আগ পর্যন্ত ধারণাই এগিয়ে যাবে নিজস্ব গতিতে। গ্রহটিতে প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে যে বিতর্ক রয়েছে তারও হয়তো সমাধান হবে তখন। যদিও এ ব্যাপারে সবাই একমত যে গ্রহটিতে যদি পানি থাকে বা কোনোদিন থেকে থাকত তাহলে সেখানে প্রাণের উদ্ভব হওয়া স্বাভাবিক। কেমন ছিল সে প্রাণ সেটাই সবার ভাবনার বিষয়। প্রকৃত সত্য জানার আগে কল্পনাকেই এগিয়ে যেতে দিতে হবে বৈকি।


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


