Amardesh
আজঃঢাকা, সোমবার ০১ জুলাই ২০১৩, ১৭ আষাঢ় ১৪২০, ২১ শাবান ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ব্রাজিলের স্পেন বধ

ডেস্ক রিপোর্ট
অন্য সময় যেমনই হোক, কনফেডারেশন্স কাপ মানেই ব্রাজিলের সাফল্যের জয়গান। বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোর চারটায় শুরু হওয়া এই ফাইনাল ম্যাচে সেটা তারা আবারও প্রমাণ করলো। বিশ্ব ও ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে ফাইনালে দাঁড়াতেই দেয়নি স্বাগতিকরা, জিতেছে ৩-০ গোলের সুস্পষ্ট ব্যবধানে।

রিও ডি জেনিরোর বিখ্যাত মারাকানা স্টেডিয়ামে তিন গোলের দুটোই স্ট্রাইকার ফ্রেডের। অন্যটির গোলদাতা টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নেইমার।

ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল স্পেন শুধু পর্য্যুদস্তই হয়নি, সার্জিও রামোসের পেনাল্টি মিস এবং নেইমারকে মারাত্মক ফাউল করে জেরার্ড পিকের লাল কার্ড ভীষণ লজ্জায়ও ফেলেছে তাদের সুন্দরের পূজারীদের।

টানা ২৯টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে অপরাজিত থাকার পর স্প্যানিশদের যে এভাবে হারতে হবে, তা-ই বা কে ভাবতে পেরেছিল! গত বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে যাওয়ার পর প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে এটাই তাদের প্রথম হার। প্রীতি ম্যাচের হিসাব ধরলে স্পেন সর্বশেষ হেরেছিল ২০১১ সালের নভেম্বরে, ইংল্যান্ডের কাছে।

দুই সপ্তাহ আগে জাপানের বিপক্ষে প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে নেইমারের বুলেট-গতির শট ব্রাজিলকে এগিয়ে দিয়েছিল। ফাইনালেও শুরুতেই এগিয়ে যায় পাঁচ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এবার মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই।

ডান দিক থেকে আসা একটি ক্রস বক্সের মধ্যে থাকা নেইমার ঠিক মতো পায়ে জমাতে পারেননি। স্পেনের ডিফেন্সও পারেনি বিপদমুক্ত করতে। মাটিতে পড়ে যাওয়া ফ্রেড কিছুটা অস্বস্তিকর অবস্থায় বল পেয়ে যান। তবে বসে পড়া অবস্থাতেই স্পেনের গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াসকে বোকা বানিয়ে জালে পাঠিয়ে দেন তিনি।

অষ্টম মিনিটে অস্কারের অমার্জনীয় ভুলে ব্রাজিল আরেকটি গোলের দেখা পায়নি। ফ্রেডের চতুর ব্যাকহিল অরক্ষিত অবস্থায় পেয়ে গেলেও বাইরে মেরে দেন অস্কার।

১৪ মিনিটে আবার মারাকানায় হতাশার দীর্ঘশ্বাস। পলিনিয়োর দারুণ এক ভলি কোনো রকমে ঠেকিয়ে দলকে রক্ষা করেন ক্যাসিয়াস।

ব্রাজিলের একের পর এক আক্রমণে বিপর্যস্ত স্পেন কিছুক্ষণ পর আরেকটি বিপদ থেকে রক্ষা পায়। একটা পাল্টা আক্রমণ থেকে মাঝ বৃত্তের ভেতরে বল পেয়ে গিয়েছিলেন নেইমার। স্পেনের ডিফেন্সে তখন আলভেরো আরবেলোয়া ছাড়া আর কেউ নেই। নিরুপায় আরবেলোয়া নেইমারকে ফাউল করে, হলুদ কার্ডের বিনিময়ে সে যাত্রা রক্ষা করেন দলকে।

গত কয়েক মাসের ব্যর্থতায় ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ২২ নম্বরে নেমে যাওয়া ব্রাজিল তাই আবারো কনফেডারেশন্স কাপে চ্যাম্পিয়ন। প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার আগে ফ্রান্সকে এক প্রীতি ম্যাচে হারিয়েছিল তারা। এরপর ইতালি, উরুগুয়েকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে পরাক্রমশালী স্পেন ‘বধ’।

ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপ জয়ী কোচ লুই ফেলিপে স্কলারির কণ্ঠে তাই বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস। খেলা শেষে তিনি বলেন, “আমরা চার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের সঙ্গে খেলেছি। তাই আমাদের আত্মবিশ্বাস কিছুটা হলেও বেড়েছে। আর আমরাও এটাই চাইছিলাম।”

“আজ আমাদের দলের খেলোয়াড়রা দুর্দান্ত খেলেছে। আমি নিজের ইচ্ছা মতো খেলোয়াড়দের ব্যবহার করেছি এবং কেউ আমাকে একটুও হতাশ করেনি।”