Amardesh
আজঃঢাকা, বৃহস্পতিবার ৭ নভেম্বর ২০১৩, ২৩ কার্তিক ১৪২০, ২ মহররম ১৪৩৫ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 বিএনপি ক্রোড়পত্র
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ভারতের সঙ্গে ৩০টি দ্বিপক্ষীয় দলিল স্বাক্ষর হয়েছে - হাসিনা : সংসদ অধিবেশনের মেয়াদ আরেকদফা বাড়ছে

ডেস্ক রিপোর্ট
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন তার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে প্রায় ৩০টি দ্বিপক্ষীয় দলিল স্বাক্ষর হয়েছে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর এসব দলিলের বিস্তারিত কোনো বিবরণ দেননি। সংবিধান অনুযায়ী বিদেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সব চুক্তি জাতীয় সংসদে উত্থাপনের কথা থাকলেও তাও করা হয়নি।
এদিকে সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আগামী সংসদ নির্বাচন একটি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও অবাধ সফল নির্বাচন হবে, যেখানে সব দল অংশগ্রহণ করবে।
অন্যদিকে সংসদের চলতি ১৯তম অধিবেশনের মেয়াদ আরেক দফায় বাড়ার ইঙ্গিত দিয়ে গতকাল সাংবাদিকদেরকে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, এখনো বেশকিছু বিল পাসের অপেক্ষায় আছে। সেজন্য অধিবেশনের মেয়াদ বাড়তে পারে। তবে কতদিন অধিবেশন চলবে, সে বিষয়ে স্পিকার নিশ্চিত করে কিছু বলেননি।
প্রধানমন্ত্রী জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে টেবিলে উত্থাপিত আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য শামসুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকারের বলিষ্ঠ অবস্থানের কারণে ভারতের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সীমান্তে হত্যাকাণ্ড শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসার আশ্বাস পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে সীমান্তে হত্যার ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।’
গত জানুয়ারি মাসে বহিঃসমর্পণ চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা বিষয়ক সহযোগিতার পথ আরও প্রশস্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য আশরাফুন্নেছা মোশারফের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার আন্তরিকভাবে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছে। এটি হচ্ছে মহাজোট সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। সরকার স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার প্রতি কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। বরং সুপ্রিমকোর্টের চাহিদা মোতাবেক আর্থিক স্বাধীনতা প্রদান করেছে।’
দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে বিচার কাজ পরিচালনা করছে বলেও জানান সরকার প্রধান।
স্বতন্ত্র এমপি মোহাম্মদ ফজলুল আজিমের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের সাধারণ জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার প্রথম থেকেই কাজ করছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে বিশেষায়িত হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল, সদর হাসপাতালকে ৫০ থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে, সব দল আসবে -সংসদে হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্তরিকভাবে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছে। সরকার স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার প্রতি কোনো হস্তক্ষেপ করেনি বরং সুপ্রিমকোর্টের চাহিদা অনুযায়ী আর্থিক স্বাধীনতা প্রদান করেছে।
সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নকে অব্যাহত রাখার ব্যাপারে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আগামী সংসদ নির্বাচন একটি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও অবাধ সফল নির্বাচন হবে, যেখানে সব দল অংশগ্রহণ করবে।
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভারতের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যাকাণ্ড শূন্যের কোটায় নিয়ে আসার আশ্বাস পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে সীমান্তে হত্যার ঘটনা উল্লেখযোগ্যহারে হ্রাস পেয়েছে।
আগামী নির্বাচনে পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে সংসদ নেতা বলেন, দেশের জনগণ আমাদের সরকারের বিগত পাঁচ বছরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য এবং বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দৃশ্যমানতা, বিশ্ব শান্তির পক্ষে অগ্রবর্তী ভূমিকা, জলবায়ু পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক অভিবাসন, প্রথাগত এবং অপ্রথাগত নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইস্যুতে বহির্বিশ্বে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করার কারণে আগামী নির্বাচনেও আমাদের জয়যুক্ত করবে।
দেশবাসীকে উদ্দেশ্যে করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে আমরা পুনরায় সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে ইতোপূর্বে বিগত পাঁচ বছরে পার্শ্ববর্তী দেশসমূহসহ বিশ্বের সকল দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বৃদ্ধি করা ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার জন্য যে সমস্ত পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছিল তারই ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতেও আরও বৃহত্ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
সরকারি দলের সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা জানান, বাংলাদেশকে একটি প্রতিশ্রুতিময় এবং দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্র নীতি ও কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে। দারিদ্র্য দূরীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি এবং উদ্যোগের ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তরসহ গতকাল সকল প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। এদিকে কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজ বৃহস্পতিবার সংসদের অধিবেশন শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না।

সংসদ অধিবেশনের মেয়াদ আরেক দফা বাড়ছে
সংসদের চলতি ১৯তম অধিবেশনের মেয়াদ আরেক দফায় বাড়ছে। গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে অধিবেশনের মেয়াদ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, এখনো বেশকিছু বিল পাসের অপেক্ষায় আছে। সেজন্য অধিবেশনের মেয়াদ বাড়তে পারে। তবে কতদিন অধিবেশন চলবে, সে বিষয়ে স্পিকার নিশ্চিত করে কিছু বলেননি।
গত ১২ সেপ্টেম্বর সংসদের ১৯তম অধিবেশন শুরু হয়। প্রথমে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত অধিবেশন চালানোর সিদ্ধান্ত হয়। পরে গত ২৩ অক্টোবর কার্যউপদেষ্টা কমিটি ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অধিবেশন চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ওই সময় কার্যউপদেষ্টা কমিটি অধিবেশনের মেয়াদ বাড়ানো বা কমানোর দায়িত্ব স্পিকারের ওপর দেয়। এ হিসেবে মেয়াদ বাড়ানোর জন্য নতুন করে কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকের কোনো প্রয়োজন পড়বে না।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনের ফলে ২৫ অক্টোবর থেকে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে এই নির্বাচন হবে। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সংসদ চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু ২৫ অক্টোবর থেকে বিরোধী দলের কঠোর হুমকির প্রেক্ষাপটে মহাজোটের সিনিয়র সংসদ সদস্য ২৪ অক্টোবরের পরও অধিবেশন চালানোর দাবি তোলেন। তাদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ২৪ অক্টোবরের পর সংসদের অধিবেশন চালানোর কথা বলেন।