Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ৬ অক্টোবর ২০১৩, ২১ আশ্বিন ১৪২০, ২৯ জিলকদ ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

অন্যের ভাগ্য দেখে যে গ্রামের মানুষ তারাই আজ ভাগ্যহত

কামরুল হাসান, শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ)
পরের সংবাদ»
হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলাধীন চিচিরকোট একটি হিন্দু অধ্যুষিত গ্রাম। এ গ্রামের শতভাগ মানুষের পেশা জ্যোতিষি। যারা হাতের রেখা দেখে, নাম জেনে কিংবা জন্মতারিখ দেখে বলে দেন সম্ভাব্য ভবিষ্যদ্বাণী। মানুষের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের বিভিন্ন সমস্যা-সম্ভাবনার কথা শোনান তারা। রাশিচক্রে যারা বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন, সেসব মানুষের চিকিত্সাও করেন তারা। তবে তাদের চিকিত্সাব্যবস্থা একটু ব্যতিক্রম ধরনের। তাবিজ-কবচে যারা বিশ্বাসী, তাদের চিকিত্সা দিয়ে থাকেন তারা। মানুষ আগ্রহভরে তাদের কথা শোনেন। আবার কেউ কেউ তাদের কথা বিশ্বাসও করেন। এত সুন্দর সুন্দর কথা বলে মানুষকে আশার বাণী শুনিয়ে জীবিকা নির্বাহকারীরা কিন্তু আজও তাদের নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের কাজ করতে পারেননি। পূর্বপুরুষের জাতপেশা আজও ধরে রেখেছেন। কথা বলে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার গ্রাম-গঞ্জে রয়েছে তাদের পদচারণা।
সম্প্রতি কয়েকজন সংবাদকর্মী গিয়েছিলেন জ্যোতিষিদের গ্রামে। বাহুবল উপজেলার মিরপুর বাজার থেকে পূর্বদিকে নতুনবাজারের পাশ দিয়ে দক্ষিণে পাকা রাস্তার সামনে এগুলেই চিচিরকোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে পূর্বদিকে মাটির রাস্তা দিয়ে ঢুকে জ্যোতিষিদের কালভৈরব বটতলা।
গ্রামের একদল শিশু-কিশোর গাড়ি দেখে দৌড়ে কাছে আসতে থাকে। তাদের সঙ্গে কথা হলে জানা যায় দিনের বেলায় বাড়িতে পুরুষরা থাকেন না বললেই চলে। তারা বিভিন্ন এলাকায় পেশার কাজে বেরিয়ে যান। তারপরও কয়েকটি কিশোরকে নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরতে লাগলাম। ভাগ্যক্রমে দেখা হলো অর্জুন সন্ন্যাসী, শ্রীধাম সন্ন্যাসী, সুবল সন্ন্যাসীর সঙ্গে। তাদেরকে সংবাদকর্মী হিসেবে পরিচয় দিলে প্রথমে কথা বলতে রাজি না হলেও পরে আগ্রহ নিয়ে তাদের পেশার কথা শোনান।
তারা জানান, গ্রামে প্রায় একশ’ পরিবারের বসবাস। লোকসংখ্যা পাঁচ শতাধিক। প্রতিটি পরিবারের কেউ না কেউ জ্যোতিষি পেশায় আছেন। গ্রামে দু’একজন ডিগ্রিধারী লোক ছাড়া শিক্ষিত লোক তেমন নেই। যেন গোবরে পদ্মফুল মনিন্দ্র চক্রবর্তী। বাপ-দাদার পেশা ভুলে পড়ালেখা করে বেছে নিয়েছেন আইন পেশা। গ্রামের আরেক আলোকিত মানুষ শিক্ষক মনিন্দ্র সন্ন্যাসী।
সবশেষে দেখা হলো রাখাল সন্ন্যাসীর সঙ্গে। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বয়স যখন পনের বছর, তখন দশম শ্রেণীর ছাত্র। বিদ্যালয়ে পড়ালেখার পাশাপাশি বাবার রেখে যাওয়া মনোবিজ্ঞান বই, হস্তরেখার বই পড়ে জ্যোতিষি পেশায় জড়িয়ে পড়ি। সারাদিন এ গ্রাম-ও গ্রাম ঘুরে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা রোজগার হয়। হাত দেখে নির্দিষ্ট কোনো পরিমাণ টাকা-পয়সা নেন না তারা। মানুষ খুশি হয়ে যা দেয়, তাই-ই নেন। হাত দেখে রোগ ধরতে পারলে তাবিজ-কবচ দেন। সন্ন্যাসী সুধীর বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। তাই পেশাগত কাজ ছেড়ে দিয়েছেন। তবে তার ছেলেরা এ পেশায় আছেন। তিনি বলেন, গ্রামের প্রতিটি পরিবারেই এই পেশার লোক আছে। বাপ-দাদার পেশাকে গ্রামের মানুষ ধরে রেখেছে।