Amardesh
আজঃঢাকা, মঙ্গলবার ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯ ভাদ্র ১৪২০, ২৬ শাওয়াল ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 বিশেষ ক্রোড়পত্র
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

২৭ অক্টোবর থেকে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন : প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
পরের সংবাদ»
চলতি জাতীয় সংসদ বহাল রেখেই আগামী দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে এ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময়ে সংবিধানের আলোকে জাতীয় সংসদ বহাল থাকবে। তবে কোনো অধিবেশন হবে না। অর্থাত্ সংসদ কার্যকর থাকবে না। মন্ত্রিপরিষদ থাকবে তবে এ পরিষদ কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবে না।
গতকাল সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সচিবদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান বলে সভাশেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আসন্ন নির্বাচনে সার্বিক প্রস্তুত থাকতে সচিবদের নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী ২০১২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হকের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন হবে না। ওইদিন তিনি আরো জানিয়েছিলেন, তিনি অনুরোধ করলে রাষ্ট্রপতি সংসদ ডিজলভ করে যেভাবে নির্দেশ দেবেন সেই অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন নির্বাচন করবে। এর আগে-পরে সংসদে দেয়া ভাষণসহ একাধিক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্টভাবে ২৫ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে সংসদ ভেঙে দেয়ার কথা জানিয়েছেন। কিন্তু গতকাল সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়ে নিজের অবস্থান পাল্টালেন।
এদিকে সংসদের মেয়াদপূর্তির পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন, নাকি পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে, এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে বিতর্ক চললেও গতকাল প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিষয়টিরও আপাত অবসান হলো।
প্রসঙ্গত, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছরের ২৪ জানুয়ারি। আর নির্বাচন হবে সংসদের মেয়াদের শেষ তিন মাসের মধ্যে। অর্থাত্ আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। নির্বাচন বিষয়ে ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “সংসদ-সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে— (ক) মেয়াদ-অবসানের কারণে সংসদ ভাংগিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাংগিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে; এবং (খ) মেয়াদ-অবসান ব্যতীত অন্য কোন কারণে সংসদ ভাংগিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাংগিয়া যাইবার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে।” যেহেতু বর্তমান সরকার তার পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করছে, সেই হিসেবে পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধানটি অনুসরণ করতে হবে।
এদিকে সচিবদের সঙ্গে গতকালের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আমলাদের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, নির্বাচনে জয়ী হলে সবক্ষেত্রে ক্ষমতা রক্ষা করে প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সভায় প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সরকারের আমলে দর্শনীয় উন্নতির চিত্র তুলে ধরে এটিকে অব্যাহত রাখতে আমলাদের সহযোগিতা কামনা করেন। সচিব জানান, গণতন্ত্র ও উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এ ধারায় আরো জোরদারভাবে সম্পৃক্ত হতে সচিবদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
নির্বাচন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে সচিবদের ধারণা স্পষ্ট করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। সচিব বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারের মেয়াদ আছে। এর আগের ৯০ দিন সংসদ থাকলেও এ সময় সংসদ অধিবেশন বসবে না বলে সংবিধানের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন। সংসদীয় পদ্ধতিতে বিভিন্ন দেশে ক্ষমতার পালাবদল যেভাবে হয়, তা পর্যবেক্ষণ করতেও প্রধানমন্ত্রী সচিবদের পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরতে সচিবদের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও সচিব জানান। বিরোধী দলের আন্দোলন এবং জামায়াত ও হেফাজতে ইসলামের ‘অপপ্রচার’ যেন জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে, সে ব্যাপারে প্রশাসনকে সজাগ থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, গত পৌনে পাঁচ বছরে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ নির্মূলে সরকারের সফলতা রয়েছে। এক্ষেত্রে সচিবদেরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন।
একাধিক সচিবের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, তারা স্থায়ী পে-কমিশন ও মহার্ঘ ভাতার দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। বেসরকারি সেক্টরের সঙ্গে সরকারি সেক্টরের সামঞ্জস্য রেখে পে-কমিশন নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তারা।
সচিব সভায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার সুযোগ হয় উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এখানে যখন প্রধানমন্ত্রী আসেন তখন সরাসরি কথা আদান-প্রদান হয়। এখানে কোনো নির্ধারিত আলোচ্যসূচি থাকে না। যে কোনো বিষয় আলোচনা হতে পারে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পেশাদার আমলাদারিত্বের ক্ষেত্রে এটা খুবই দরকার। একজন সচিবের দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা থাকে যা সরকারের কাজের গতিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমামসহ ৫৮ জন সচিব উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ২৩ জন সচিব বক্তব্য দেন। এটিই বর্তমান মেয়াদে সচিবদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শেষ বৈঠক বলে শোনা যাচ্ছে।