Amardesh
আজঃঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৫ আগস্ট ২০১৩, ৩১ শ্রাবণ ১৪২০, ৭ সাওয়াল ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধে ধস : প্রকৃতিকে দায়ী করছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
যমুনা নদীর বিচিত্র গতি-প্রকৃতিকে দায়ী করে নিজেদের দায় ভার এড়ানোর চেষ্টা করছে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তরা। গত ৮ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাতে সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধের ১১০ মিটার যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। বরাবরের মতো সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজিরুল ইসলাম সরদার এই ধসের জন্য প্রকৃতিকে দায়ী করেছেন। এর আগে ২০০৯ সালের ১০ জুলাই প্রথম দফা এবং ১৭ জুলাই দ্বিতীয় দফা, ২০১১ সালের ১৮ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত ৬ দিনে তিনটি পয়েন্টে বাঁধের ২৭৫ মিটার এলাকা যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এর মধ্যে ১৮ জুলাই রাতে প্রথম পয়েন্টে ৭০ মিটার, ২২ জুলাই রাতে দ্বিতীয় পয়েন্টে ১০৫ মিটার এবং সর্বশেষ ২৪ জুলাই রাতে তৃতীয় পয়েন্টে ১০০ মিটার বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
বারবার শহররক্ষা বাঁধে ধস নামায় বাঁধটি মূলত ভাঙনরোধে এখন আর পুরোপুরি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারছে না। আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এই বাঁধে বারবার ধস নামার প্রকৃত কারণ নিয়েও খোদ পানি উন্নয়ন বোর্ড রয়েছে খানিকটা বিভ্রান্তিতে। শহরবাসীর দাবি, ধস ঠেকাতে কোটি কোটি টাকা লুটপাটের উত্সব না করে পকিল্পিতভাবে নতুন করে বাঁধ নির্মাণের। তবে দুর্নীতিমুক্ত ও পরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণের জন্য তারা আন্তর্জাতিকভাবে দরপত্র গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। সিরাজগঞ্জের কাছে যমুনা নদীর ভাঙন ঠেকাতে প্রথম ব্যবস্থা নেয়া হয় ১৯৪০ সালে ব্রিটিশ আমলে। তারপর থেকে দীর্ঘ ৭০ বছর ধরে নানাভাবে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে ভাঙন ঠেকাতে। কিন্তু যমুনার পশ্চিম দিকের আগ্রাসন বন্ধ হয়নি। সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ৩৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আড়াই কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হলেও তাতে বারবার ধস নামে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিগত ১শ’ বছরে যমুনা নদীর গতি-প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে এই হার্ডপয়েন্ট নির্মাণ করা হয়েছিল। আগামী ১০০ বছরের স্থায়িত্ব নির্ধারণ করেই এ বাঁধের ডিজাইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। কিন্তু সে পরিকল্পনা সফল হয়নি। মূলত বর্তমানে এই বাঁধটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। সূত্রমতে, সে সময়ে যমুনা নদীর তলদেশের গভীরতা, ঘূর্ণাবর্ত এবং ভাঙনের যে পরিসংখ্যান রাখা হয়েছিল বর্তমানে তা নেই।
নদীর তলদেশে আরও গভীরতা বাড়তে থাকায় বাঁধে ধস নামে। যে কোনো মুহূর্তে নতুন ধস সৃষ্টি হওয়া অসম্ভব নয়।
অনেকের মতে, ধস ঠেকানোর নামে কোটি কোটি টাকা খরচ না করে জরুরি ভিত্তিতে নতুন করে বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। তাছাড়া এই বাঁধের পূর্বদিকে নদীর তলদেশে ডুবোচর থাকায় পানি পশ্চিম দিকে ধেয়ে আসছে। যে কারণে বাড়ছে ভাঙন। স্থানীয় সচেতন মানুষেরা তাদের প্রিয় সিরাজগঞ্জ শহরকে রক্ষা করতে ক্ষতবিক্ষত এ বাঁধটির ওপর আর ভরসা রাখতে পারছে না। এজন্য তারা দাবি করেছেন নতুন করে পরিকল্পিত নতুন প্রযুক্তিতে শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণের। তবে তাদের বিগত দিনের অভিজ্ঞতায় এই বাঁধ নির্মাণের দায়িত্ব আর পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দিতে রাজি নন। তাদের অভিযোগ, এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হুন্দাই লিমিটেড এই শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করেছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নির্মাণ কাজ দেখাশোনা শেষে দায়িত্ব বুঝে নেন। কিন্তু নির্মাণের ১২ বছর পর ২০০৯ সালে প্রথম দফা বাঁধে ধস শুরু হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড দায়ী করে নির্মাণকালের ডিজাইন ত্রুটিকে। মূলত বাঁধটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য হুন্দাই কোম্পানি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ ছক তৈরি করে বেশ কিছু যন্ত্রপাতি দিয়েছিল। অথচ দায়িত্ব গ্রহণের ১২ বছরের মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড সেই পর্যবেক্ষণ চালায়নি। ২০০৯ সালে প্রথম ধস নামার পর থেকে তারা এ পর্যবেক্ষণ শুরু করে। কিন্তু ততক্ষণে সংস্কারবিহীন বাঁধে বেহাল দশা সৃষ্টি হয়েছে। সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধের বেহাল দশা কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার জন্যই সৃষ্টি হয়েছে বলে সিরাজগঞ্জবাসী মনে করছেন।