Amardesh
আজঃঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৫ আগস্ট ২০১৩, ৩১ শ্রাবণ ১৪২০, ৭ সাওয়াল ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

সীমান্তে ৩ বাংলাদেশীকে হত্যা বিএসএফ ও ভারতীয় নাগরিকদের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ

ডেস্ক রিপোর্ট
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
শেরপুরের ঝিনাইগাতী সীমান্তে লাকড়ি কুড়াতে গিয়ে বিএসএফের হাতে আটক দুই বাংলাদেশীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে ভারতীয়রা। এদিকে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে বাংলাদেশী গরু পারাপারকারীদের আটকের পর একজনকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। একইভাবে অপর একজনকে গুরুতর জখম করা হয়। হত্যার পর বাংলাদেশীর লাশ নদীতে ফেলে দেয় বিএসএফ সদস্যরা। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত :
আমার দেশ-এর শেরপুর ও ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি জানান, শেরপুরের ঝিনাইগাতী সীমান্তে লাকড়ি কুড়াতে গিয়ে বিএসএফের হাতে আটক দুই বাংলাদেশীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে ভারতীয়রা।
নওকুচি বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আবদুল কুদ্দুছ জানান, নিহতরা ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী রাংটিয়া গ্রামের কান্ত কোঁচের ছেলে হেমন্ত কোঁচ (২১) ও প্রেমানন্দ কোঁচের ছেলে শীতল কোঁচ (২২)। নিহতদের স্বজন ও এলাকাবাসী জানান, এ উপজাতি যুবকরা লাকড়ি কুড়াতে রাংটিয়ার গহীন বনাঞ্চলে গেলে বিএসএফ তাদের ধরে নিয়ে যায়। নিহত দুই যুবকের লাশ ভারতের বারাঙ্গাপাড়া থানা থেকে বিজিবি সদস্য ও নিহতদের আত্মীয়-স্বজনরা আনার জন্য গেছে বলে বিজিবি জানায়।
তবে বিজিবি সুত্র জানায়, মেঘালয়ের স্থানীয় লোকজন ‘চোর সন্দেহে’ তাদের নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে প্রচার করা হচ্ছে সীমান্তের ওপারে চিচিঙ্গাপাড়ায় সোমবার রাতে গণপিটুনিতে ওই দুই বাংলাদেশী যুবকের মৃত্যু হয়েছে। হতভাগ্য ওই দুই যুবকের বাড়ি ঝিনাইগাতীর সীমান্তবর্তী রাংটিয়া গ্রামে।
নকসি বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার জানান, সোমবার দিবাগত রাতে রাংটিয়া গ্রামের পাঁচ যুবক গোপনে সীমানা পেরিয়ে ভারতের মেঘালয় যায়। এ সময় ভারতীয় লোকজন তাড়া করলে তিনজন সীমানা পেরিয়ে দেশে ফিরতে পারলেও বাকি দু’জন ধরা পড়ে। এ সময় ‘চোর সন্দেহে’ স্থানীয় লোকজন হতভাগ্য দুই বাংলাদেশীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে।
ঝিনাইগাতী থানার অফিসার ইনচার্জ বেলাল উদ্দিন তরফদার জানান, ভারত থেকে পালিয়ে ফিরে আসা রাংটিয়া গ্রামের জয়ন্ত কোঁচের ছেলে সুশান্ত কোঁচ, চেছিন কোঁচের ছেলে বিশ্বনাথ ও ওয়ারলেছ কোঁচের ছেলে মাধব কোঁচ গ্রেফতার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ফলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাচ্ছে না।
এদিকে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ভারতের তুড়ায় পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ হস্তান্তর করা হবে। গতকাল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লাশ হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছিল।
পাটগ্রাম সীমান্তে বাংলাদেশীকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করেছে বিএসএফ : এদিকে আমাদের পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি জানান, বাংলাদেশী গরু পারাপারকারীদের আটকের পর একজনকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। একইভাবে অপর একজনকে গুরুতর জখম করা হয়। হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলে দেয় বিএসএফ সদস্যরা।
সীমান্ত সূত্র ও নিহতের পরিবার জানিয়েছে, ভারতীয় ইচ্ছামারির ঘাট থেকে নাউয়ারডাঙ্গা সীমান্তের ৮৬২ নম্বর মেইন পিলারের সীমান্ত রিংরোড সংলগ্ন সড়ক দিয়ে ভারতীয় গরু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে গরু নিয়ে গত সোমবার ফেরার পথে ৩৫ রানীনগর বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বিএসএফ সদস্যরা লালমনিরহাট জেলার জগতবেড় ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের ছলেমান আলীর ছেলে নুরনবী (২৫) ও জবেদ আলীর ছেলে মোস্তফাকে ধাওয়া দিয়ে আটক করে। এরপর নুরনবীর কোমর ও পেটে বাঁশের তৈরি সূচালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তাকে হত্যা করে লাশ ভারতীয় শংলী নদীতে ফেলে দেয়া হয়। মোস্তফাকেও মাথায় আঘাত করে নদীতে ফেলে দেয়া হয়। পরে স্থানীয় গ্রামবাসী মোস্তফাকে গতকাল (১৪ আগস্ট) উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ব্যাপারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) লালমনিরহাট অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহবুবার রহমান জানান, সীমান্তে একটা লাশের সন্ধান পাওয়া গেছে। বিএসএফ মেরেছে কীনা তা আমরা সঠিক বলতে পারছি না। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে সত্যতা পাওয়া গেলে আমরা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাবো।