Amardesh
আজঃঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৫ আগস্ট ২০১৩, ৩১ শ্রাবণ ১৪২০, ৭ সাওয়াল ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

জাতিসংঘ ও অ্যামনেস্টির গভীর উদ্বেগ : অবিলম্বে আদিলুর রহমান খানকে মুক্তি দিন : অধিকার কার্যালয়ে মজীনাসহ পশ্চিমা কূটনীতিকরা

কূটনৈতিক রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর সম্পাদক আদিলুর রহমান খান শুভ্রকে গ্রেফতার করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তাকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ মনে করে, মানবাধিকার রক্ষার কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকেও অবিলম্বে আদিলুর রহমান খানকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়ে বলা হয়েছে, এ গ্রেফতারের ঘটনা মতপ্রকাশের অধিকারের চরম লঙ্ঘন।
এদিকে গতকাল ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনাসহ পশ্চিমা কূটনীতিকরা অধিকার কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন। সেখানে তারা সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে অধিকার-এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ঘন্টারও বেশি সময় ধরে বৈঠক করেন।
জাতিসংঘ : গতকাল জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দফতরের (ওএইচসিএইচআর) পক্ষ থেকে আদিলুর রহমানের গ্রেফতারে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে অবিলম্বে তার মুক্তির জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
ওএইচসিএইচআরের মুখপাত্র লিজ থ্রসেল জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, আদিলুর রহমান খান যেন শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকেন তা নিশ্চিত করতে আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই। মানবাধিকার রক্ষার কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মুখপাত্র বলেন, কোনো ধরনের পরোয়ানা ছাড়াই সাদা পোশাকের পুলিশ ১০ আগস্ট আদিলুর রহমানকে তার বাড়ির সামনে থেকে গ্রেফতার করে। গত মে মাসে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সরকারি বাহিনীর সহিংসতার বিষয়ে মিথ্যা তথ্য প্রকাশের অভিযোগে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৫৪ ধারা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই ঘটনায় হতাহতের বিষয়ে সরকারের দেয়া তথ্য চ্যালেঞ্জ করে ৬১ জন নিহত হওয়ার দাবি করেছে অধিকার।
লিজ থ্রসেল আরো বলেন, গ্রেফতারের পরদিন আদিলুর রহমানের জামিন নামঞ্জুর করে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। আদালতে হাজির করার আগে আদিলুর রহমানের সঙ্গে তার আইনজীবীকে সাক্ষাতের সুযোগ দেয়া হয়নি ।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল : আদিলুর রহমান খানকে গ্রেফতারে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে গতকাল অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের স্বনামধন্য এই মানবাধিকার সংগঠককে গ্রেফতারের ঘটনা স্বাধীন মতপ্রকাশের যে অধিকার রয়েছে তার সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। কোনো পরোয়ানা জারি না করে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অ্যামনেস্টি বন্দি আদিলুর রহমানকে একজন বিবেকবন্দি হিসেবে মনে করে। বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী দ্বারা মানবাধিকারের যে লঙ্ঘন হচ্ছে, তাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর কারণেই আদিলুর রহমান খানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অধিকার সম্পাদককে অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ বিষয়ক গবেষক আব্বাস ফয়েস বলেন, বাংলাদেশ সরকার আদিলুর রহমান খানকে গ্রেফতারের মাধ্যমে সরকারের সমালোচকদের এই বার্তা দিতে চাইছেন যে, আপনি যদি মানবাধিকার বিষয়ে কোনো ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন, তাহলে আপনার পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। তিনি বলেন, অধিকার সম্পাদককে অবিলম্বে নিঃশর্তভাবে মুক্তি দিতে হবে। মানবাধিকার কর্মী ও সংগঠকদের শাস্তি না দিয়ে বাংলাদেশ সরকারের উচিত যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
অধিকার সম্পাদককে গ্রেফতারের পাশাপাশি অধিকার কার্যালয়ে অভিযান চালানোর ঘটনায়ও উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, অধিকার কার্যালয় থেকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কম্পিউটারসহ অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে গেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী বিরোধী দল বিশেষ করে হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে যে ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, তার সমালোচনা করে আসছে অধিকার। গত ৫ ও ৬ মে হেফাজতের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে কমপক্ষে ৪৪ জন নিহত হয়েছে এবং এ সময় নিরাপত্তা বাহিনী মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। আব্বাস ফয়েস আরো বলেন, ৫ ও ৬ মের ঘটনার স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশ সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার এই ব্যাপক হতাহতের ঘটনার তদন্ত না করে অধিকার-এর বিরুদ্ধে লেগেছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করার কাজকে অনুমোদন দিচ্ছেন। এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে যারা প্রতিবাদ করতে চান, তাদের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা করছেন তিনি। বিবৃতিতে মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
অধিকার কার্যালয়ে কূটনীতিকরা : গতকাল বেলা ৩টায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড এবং কানাডাসহ অন্যান্য পশ্চিমা দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে নিয়ে অধিকার কার্যালয় পরিদর্শন করেন। অধিকার-এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ঘন্টারও বেশি সময় ধরে বৈঠক করেন কূটনীতিকরা। আদিলুর রহমান খানকে গ্রেফতার, অধিকার কার্যালয়ে অভিযানসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তারা আলোচনা করেন। তারা অবিলম্বে আদিলুর রহমান খানকে মুক্তি দেয়ারও দাবি জানিয়েছেন। পশ্চিমা এসব কূটনীতিক সরকারি কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে খুব শিগগিরই এ নিয়ে আলোচনায় বসবেন বলেও জানা গেছে।