Amardesh
আজঃঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৫ আগস্ট ২০১৩, ৩১ শ্রাবণ ১৪২০, ৭ সাওয়াল ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

হরতালে পুলিশের গুলিতে নিহত ২ অবরোধ সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ শতাধিক : আজ নতুন কর্মসূচি দেবে জামায়াত

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
জামায়াতের অস্তিত্ব রক্ষার ৪৮ ঘণ্টার হরতালে সড়ক অবরোধ, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি ও ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশের নির্বিচার গুলিতে দুই শিবির কর্মী নিহত হয়। এদের একজন ঢাকার যাত্রাবাড়ী এবং অন্যজন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পিকেটিংয়ে নেমেছিল। দু’জনই মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। অবরোধ-সংঘর্ষে সারাদেশে শতাধিক জামায়াত-শিবির কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। পুলিশি হয়রানিতে মারাত্মক আহত অনেকে চিকিত্সাও নিতে পারছে না। পিকেটারদের হটাতে দেশজুড়ে বেপরোয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হরতালের সমর্থনে মিছিল বের হতেই গুলি চালায় পুলিশ। র্যাব-পুলিশের অ্যাকশনের মুখেও মারমুখী রয়েছে শিবির কর্মীরাও। পুলিশের কড়া টহলের মাঝেও রাজধানীসহ সারাদেশে মিছিল বের করে তারা। ইটপাটকেল দিয়েই পুলিশের গুলির জবাব দেয় তারা। আর এতেই গুলিবিদ্ধ হয় অনেকে।
নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের প্রতিবাদ এবং জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করার সরকারি পরিকল্পনার প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর ৪৮ ঘণ্টার হরতাল আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় শেষ হবে। হরতাল শেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জামায়াতের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এদিকে জামায়াতের এই ৪৮ ঘণ্টার হরতাল নিয়ে শুরু থেকেই ‘তথ্যবিভ্রাট’ দেখা দেয়। প্রথমে ১২ ও ১৩ আগস্ট হরতালের ঘোষণা দিলেও পরে ঈদ শেষে নির্বিঘ্নে মানুষের ঢাকায় ফেরার কথা চিন্তা করে একদিন পিছিয়ে ১৩ ও ১৪ আগস্ট হরতাল দেয় দলটি। আবার গতকাল সন্ধ্যায় হঠাত্ কয়েকটি টেলিভিশনে হরতাল ৪৮ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ৩৬ ঘণ্টা করার খবর ব্রেকিং নিউজ হিসেবে প্রচার করা হয়। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে এ খবরের প্রতিবাদ জানানো হয় এবং ৪৮ ঘণ্টা হরতাল আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় শেষ হবে বলে জানানো হয়।
গতকাল অপর এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ৪৮ ঘণ্টার এ হরতালের প্রথম দু’দিন সফলভাবে জনগণ পালন করেছে বলে দাবি করেন। আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত সর্বাত্মক হরতাল সফল করতে দেশবাসীর প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশন থেকে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিলে আদালতের রায়ের প্রতিবাদে দেয়া হরতালে রাজপথে কঠোর অবস্থানে ছিল পিকেটার-পুলিশ। সরকারি দলের ক্যাডার বাহিনীও সশস্ত্র মহড়া দেয়। হরতালবিরোধী মিছিল বের করে সরকার সমর্থক শাহবাগি ব্লগাররা। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগও রাজধানীতে পৃথক পৃথক হরতালবিরোধী মিছিল বের করে।
এ হরতালে সবচেয়ে বড় ভোগান্তিতে পড়েছে ঈদ ফেরত ঢাকামুখী মানুষ। দূরপাল্লার কোনো গাড়ি চলেনি। দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক অবরোধ করে ভাংচুর চালায় পিকেটাররা। মালবাহী ট্রাক ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে তারা। ঢাকার যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, কক্সবাজার, মেহেরপুর, বগুড়া, সাতক্ষীরা ও লক্ষ্মীপুরে পুলিশের সঙ্গে পিকেটারদের সংঘর্ষ হয়।
রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেপরোয়া টহল হরতালে আতঙ্কের সৃষ্টি করে। কিছুক্ষণ পর পর জলকামান ও রায়টকার নিয়ে পুলিশ এবং র্যাবের বিভিন্ন টিম বিভিন্ন পয়েন্টে হুইসেল বাজিয়ে টহল দেয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, কুমিল্লা, খুলনাসহ বিভিন্ন স্থানে বিজিবিও মোতায়েন করা হয়। যাত্রাবাড়ী, মগবাজার, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, গুলশান ও উত্তরায় হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে জামায়াত ও শিবির। দুপুরের দিকে নয়াপল্টনে দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। মোহাম্মদপুরে দুটি বাস ও দুটি প্রাইভেটকারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে কমপক্ষে ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়। রাজধানীতে কিছু আন্তঃনগর বাস চললেও সংখ্যা ছিল অন্য হরতালের চেয়ে অনেক কম। সরকারি অফিস খোলা থাকলেও উপস্থিতি ছিল খুবই কম। স্কুল-কলেজে ঈদের ছুটি এখনও শেষ হয়নি।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় হরতালের পিকেটিং চলাকালে পুলিশের গুলিতে খলিলুর রহমান নামে এক শিবির নেতা নিহত হন। তিনি ৮৮ নম্বর ওয়ার্ড শিবিরের সভাপতি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অতি কাছাকাছি এসে মাথায় গুলি করে খলিলকে আহত করে পুলিশ। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। পরে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিত্সক খলিলকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে পুলিশের দাবি, গুলিতে নয়, ধাওয়া খেয়ে গাড়িচাপায় তিনি মারা গেছেন। এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন।
সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দনিয়া স্কুলের সামনে থেকে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে জামায়াত ও শিবির কর্মীরা। তারা প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে জামায়াতের নিবন্ধন বহাল রাখাসহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে হরতাল সমর্থকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় পুলিশের গুলিতে শিবির নেতা খলিলুর রহমান নিহত হন। একই সময় ঘটনাস্থলে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গুলিবিদ্ধ হন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশনের ক্যামেরাপার্সন জহিরুল ইসলাম জনি। পরে সাংবাদিকরা তাকে দনিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ ব্যাপারে কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাযহারুল ইসলাম বলেন, জামায়াত ও শিবির কর্মীরা মিছিল বের করলে পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন দিকে চলে যেতে থাকলে একটি গাড়ির সঙ্গে ওই ছেলেটির ধাক্কা লাগে। এতে তার মাথা থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশের গুলিতেই খলিলুর রহমান নিহত হয়েছে বলে জানান। নিহত খলিলুর রহমান সাঁথিয়া উপজেলার করমজা মল্লিকপাড়া গ্রামের আব্দুল বাতেন মল্লিকের ছেলে। চার ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তার বাবা কৃষি কাজ করেন।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সদস্য মো. জামাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শান্তিপূর্ণ হরতাল পালনের সময় পুলিশের নির্বিচার গুলিতে শিবির নেতা খলিলুর রহমান নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন সাংবাদিকসহ আরও ১৫ নেতাকর্মী। গ্রেফতার করা হয় দুই কর্মীকে। ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান ভূইয়ার নেতৃত্বে সকাল ৭টায় রাজধানী ধনিয়া এলাকায় নেতাকর্মীরা মিছিল বের করে। এ সময় যাত্রাবাড়ী থানার ওসি অবণী সরকারের নেতৃত্বে পুলিশ পেছন থেকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে মাথায় গুলি লেগে ঘটনাস্থলেই ছাত্রশিবির ৮৮নং ওয়ার্ড সভাপতি খলিলুর রহমান (২২) নিহত হন বলে শিবিরও দাবি করে।
এদিকে, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকায় জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে শিবিরকর্মী নাসির উদ্দিন নিহত হয়েছেন। এ সময় অন্তত ৩০ জন আহত হন। গতকাল কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে পুলিশ দুই শতাধিক টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। শিবিরকর্মী নাসির উদ্দিনকে চিকিত্সার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পথে তিনি সন্ধ্যা ছয়টায় মারা যান।
সূত্র জানায়, পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থেকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসেন গাড়িযোগে ফরিদগঞ্জে যাচ্ছিলেন। পথে ফরিদগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় জামায়াত-শিবিরকর্মীরা তার গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।
খবর পেয়ে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটকে উদ্ধার করে। এ সময় জামায়াত-শিবিরকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। পুলিশ দুই শতাধিক রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। মাঝে মাঝে নির্বিচারে শর্টগানের গুলি চালায় পুলিশ। এতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন শিবির কর্মী নাসির।
ফরিদগঞ্জ থানার ওসি নাজমুল হক বলেন, দুপুর ২টায় ঘটনার সূত্রপাত হলেও বিকাল সোয়া পাঁচটায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়ে আসে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। লক্ষ্মীপুরের এসআই আবুল বাশার শিবিরকর্মী নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে।
ঢাকায় ৩ জনের কারাদণ্ড : হরতালের সমর্থনে রাজধানীর ৩৫টি স্পটে বিক্ষোভ করে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। লালবাগে মিছিলে নেতৃত্ব দেন থানার ভারপ্রাপ্ত আমির গোলাম মহীউদ্দীন সেলিম, সেক্রেটারি শামীমুল বারী, জামায়াত নেতা মহসিন করীর, নূর মোহাম্মদ, সেলিম হোসেন ও মাইনুদ্দীন প্রমুখ। বংশাল থানায় মিছিলে নেতৃত্ব দেন ভারপ্রাপ্ত থানা আমির এম আলম, জামায়াত নেতা আবদুল জব্বার, তোফাজ্জল হোসেন ও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ প্রমুখ। কামরাঙ্গীরচর থানার মিছিলটি সেকশন থেকে শুরুুু হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ নগরে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন থানা সেক্রেটারি আবু আবদুল্লাহ, জামায়াত নেতা মাসুমবিল্লাহ ও আবু সেকেন্দার প্রমুখ।
হরতালের সমর্থনে কাফরুল ও ভাষানটেক থানার যৌথ উদ্যোগে নগরীতে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলটি ১৩নং থেকে শুরু হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কৃষিব্যাংকের সামনে এসে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ভাষানটেক থানার আমির সোলাইমান হোসেন, সেক্রেটারি আলাউদ্দীন, কাফরুল থানা সেক্রেটারি অধ্যাপক আনোয়ারুল করীম, জামায়াত নেতা জালাল উদ্দীন, ইকবাল হোসেন ও ছাত্র নেতা সাজিদ হোসেন প্রমুখ। হাজারীবাগ ও ধানমন্ডি থানার যৌথ উদ্যোগে শংকর বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জাতরাবাদ এসে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন হাজারীবাগ থানা আমির শেখ শরীফ উদ্দীন আহমদ, সেক্রেটারি আবদুল বারী আকন্দ ও ধানমন্ডি থানা সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।
হরতালের সমর্থনে ডেমরা থানার মিছিলে জামায়াত নেতা মোহাম্মদ আলী, মির্জা হেলাল, মিজানুর রহমান ও ছাত্রনেতা আমানুল্লাহ, পল্টন থানার মিছিলে ঢাকা মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দীন, মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন খান, পল্টন থানা সেক্রেটারি আমিনুর রহমান, জামায়াত নেতা আ ফ ম ইউসুফ, পল্টন থানা শিবির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও ছাত্রনেতা মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।
পল্লবী ও রূপনগর থানার যৌথ উদ্যোগে হরতালের সমর্থনে নগরীতে মিছিল ও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পল্লবী থানা আমির আবদুস সালাম, রূপনগর থানা আমির আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, সেক্রেটারি নাসির উদ্দীন, পল্লবী থানা সেক্রেটারি মাহফুজ বুলবুল ও জামায়াত নেতা নওশাদ আলম প্রমুখ।
মিরপুর, উত্তরা, মতিঝিল, শাহজাহানপুর, আদাবর, যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর, কদমতলী, কোতোয়ালি, সবুজবাগ, খিলগাঁও, সূত্রাপুর, বাড্ডা, ভাটারা, রামপুরা, উত্তরা পশ্চিম, শেরেবাংলানগর, বিমানবন্দর, গুলশান ও মহাখালীসহ মোট ৩৫ স্পটে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা হরতালের সমর্থনে মিছিল, সমাবেশ ও পিকেটিং করে। পুলিশ ১১ জনকে গ্রেফতার করে। পুলিশি হামলায় ৯ আহত হন। গুলিবিদ্ধ হয় ২ জন। পুলিশের গুলিতে যাত্রাবাড়িতে শিবির নেতা খলিলুর রহমান শাহাদাতবরণ করেন। ১ জনকে ৪ মাস এবং ২ জনকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
অপরদিকে বুধবার হরতালের সমর্থনে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, সরকারের জুলুম, নির্যাতন, নিপীড়ন, গণগ্রেফতার এবং জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মিথ্যা মামলায় প্রতিবাদে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে এসেছে।
এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, সরকার গণআন্দোলনে ভীত হয়ে এখন জনগণের ওপর জুলুম-নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা জনতার গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে নির্বিচারে হামলা চালিয়ে শত শত মানুষকে হত্যা করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় যাত্রাবাড়িতে শিবির নেতা খলিলুর রহমানকে নির্মমভাবে শহীদ করা হয়েছে। কিন্তু গুলি চালিয়ে, শহীদ করে সরকারের শেষরক্ষা হবে না। জনগণ জালিম সরকারের বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল পালন করে গণঅনাস্থা জানিয়েছে। তারা আর এক মুহূর্তও এ সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তিনি জুলুম, নির্যাতন, গণগ্রেফতার, গণহত্যা ও জামায়াত নির্মূলের ষড়যন্ত্র বন্ধ করে অবিলম্বে আমিরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ শীর্ষ নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি ও স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল পালন করায় সর্বস্তরের জনতার প্রতি অভিনন্দন জানান। সরকার জনতার দাবি মানতে ব্যর্থ হলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অপমৃত্যু হবে বলেও তিনি সরকারকে সতর্ক করে দেন।
কুমিল্লায় শিবির-আ.লীগ সংঘর্ষ, আহত ১০ : কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার ফয়েজগঞ্জে ছাত্রশিবির ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছেন। জামায়াতের ডাকা হরতালের দ্বিতীয় দিন সকাল ছয়টায় কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কে সদর দক্ষিণ উপজেলার ফয়েজগঞ্জে এ ঘটনা ঘটে।
বুধবার সকাল ছয়টায় জামায়াত-শিবিরকর্মীরা হরতালের সমর্থনে সড়কে অবস্থান নেয় এবং পিকেটিং ও মিছিল করে। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীরা শিবিরকর্মীদের ধাওয়া করার চেষ্টা করলে উভয়পক্ষের কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এদিকে হরতালের সমর্থনে জেলার দাউদকান্দি, চান্দিনা, বুড়িচং, নিমসার, সৈয়দপুর, দেবীদ্বার, মনোহরগঞ্জ, চৌদ্দগ্রাম, নাঙ্গলকোটে সড়ক অবরোধ, টায়ারে আগুন দেয় শিবিরকর্মীরা।
রাজশাহীতে পুলিশ-শিবির সংঘর্ষ, আহত ৫ : বুধবার রাজশাহীতে পুলিশের সঙ্গে শিবির কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কমপক্ষে পাঁচজন আহত হন। পুলিশ সন্দেহভাজন পাঁচ শিবির কর্মীকে আটক করেছে।
হরতালের সমর্থনে বুধবার সকাল সাতটার দিকে নগরীর নওদাপাড়াস্থ আরডিএ ভবনের সামনে রাজশাহী-নওগাঁ সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করে শিবিরকর্মীরা। এ সময় তারা বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষকালে শিবিরকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েকটি ককটেল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। আর পুলিশ শিবিরকর্মীদের লক্ষ্য করে পাল্টা রাবার বুলেট ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে কমপক্ষে পাঁচজন আহত হন। একই সময়ে নগরীর ডিঙ্গাডোবা এলাকায় শিবিরকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এ সময় তারা কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছার আগেই তারা পালিয়ে যায়।
টঙ্গীতে পুলিশ-পিকেটার ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া : বুধবার সকালে গাজীপুর মহানগরের টঙ্গীর হোসেন মার্কেট এলাকা থেকে দুটি অবিস্ফোরিত তাজা ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় পুলিশ শিবিরকর্মী সন্দেহে একজনকে আটক করেছে। তার নাম খোরশেদ আলম (২১)। এর আগে পুলিশের সঙ্গে হরতাল সমর্থক জামায়াত-শিবিরের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
সকাল ১০টার দিকে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা টঙ্গীর হোসেন মার্কেট এলাকায় হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে তার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। হরতালকারীরা এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে।
সাতক্ষীরায় সড়ক অবরোধ, আটক ৯ : সাতক্ষীরায় বুধবার টায়ার জ্বালিয়ে, গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ, ককটেল বিস্ফোরণ ও বিক্ষোভ মিছিলের মধ্য দিয়ে হরতাল পালিত হয়েছে। বুধবার সকালে শহরের অদূরে কদমতলা মোড় এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে, গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ ও ছয়টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় পিকেটাররা। এখানে পুলিশ ও হরতাল সমর্থক জামায়াত-শিবিরকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।
শহরের বাঁকাল এলাকায় সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ সড়কে ইট বিছিয়ে, টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ ও পিকেটিং করে হরতাল সমর্থকরা। শহরের নারকেলতলা এলাকায় হরতাল সমর্থকরা পিকেটিং করে ও ছয়টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়।
এদিকে পিকেটিং করার চেষ্টাকালে সাতক্ষীরা শহর ও তালা উপজেলা সদর থেকে ৯ শিবিরকর্মীকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হলো শিবিরকর্মী আসাদুজ্জামান, আবুল কালাম আজাদ, আল আমিন গাজী। সাতক্ষীরা শহর থেকে আটক করা হয়েছে শিবিরকর্মী খায়রুল বাশার, আবু রায়হান ও ইমাম উল্লাহসহ আরও তিনজনকে।