Amardesh
আজঃঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৫ আগস্ট ২০১৩, ৩১ শ্রাবণ ১৪২০, ৭ সাওয়াল ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

রক্তঝরা ১৫ আগস্ট আজ

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
আজ রক্তঝরা ১৫ আগস্ট, জাতীয় শোকদিবস। দেশের স্থপতি রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৮তম শাহাদাত্বার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের ওই রাতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে সেনাবাহিনীর একদল উচ্ছৃঙ্খল সদস্যদের হাতে ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর সড়কের নিজ বাসভবনে নৃশংস হত্যার শিকার হন তিনি। ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে শুধু নয়, শিশুপুত্র রাসেলসহ ১৮ জনকে সেদিন হত্যা করে। তবে ওই সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেলজিয়ামে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান।
বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত্বার্ষিকীকে জাতীয় শোকদিবস হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হচ্ছে। দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনে কালো পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। সরকারের নির্দেশে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শোক দিবসের কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রায় তিন যুগ পরে ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি ৫ আসামির ফাঁসির রায় কার্যকর করে।
শোকদিবসের শুরুতে আজ ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। তারপর প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বনানীস্থ কবরস্থানে শাহাদাতবরণকারী বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্য ও অন্য শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। পরে প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মাজারে ফাতেহা পাঠ এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ৬ বছর দিবসটি উদযাপিত হয়েছে জাতীয় শোকদিবস হিসেবে। সরকারিভাবে ওই সময় ১৫ আগস্ট ছুটিও কার্যকর করা হয়। তবে কিছুটা একতরফা সিদ্ধান্তের কারণে পরবর্তী সরকার তা আর কার্যকর রাখেনি। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। হাইকোর্টের রায়ের প্রেক্ষাপটে ২০০৮ সাল থেকে আবার রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হয়। তারাই ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে আবারও এ দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা শুরু হয়।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোররাতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আরও হত্যা করা হয় তার স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশু শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল (খুকী) ও পারভীন জামাল (রোজী), বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ছোট ভাই শেখ আবু নাসের, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মনি, ভগ্নিপতি তত্কালীন মন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাত, মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, সুকান্ত বাবু, আরিফ, আবদুল নঈম খান রিন্টুসহ তার পরিবারের ১৮ জন সদস্য। হত্যা করা হয় সামরিক সচিব কর্নেল জামিলসহ কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মীকে। ঘাতকদের নিক্ষিপ্ত কামানের গোলার আঘাতে মোহাম্মদপুরে একটি পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হয়।
নৃশংসতম এ হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ দীর্ঘদিন রহিত ছিল। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় সংসদে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে এই হত্যার বিচারের বাধা অপসারণ করা হয়। আওয়ামী লীগ আমলেই হত্যার জন্য অভিযুক্তদের বিচার শুরু হয় এবং আদালত ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। হাইকোর্ট ডেথ রেফারেন্স মামলায় প্রথমে বিভক্ত রায় দেন। পরে হাইকোর্টের তৃতীয় বিচারক ৩ জনকে খালাস দিয়ে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এরপর ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় সরকার আসার পর সুপ্রিমকোর্টে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতি না থাকায় বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্য চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে আবারও এ মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়। তত্কালীন প্রধান বিচারপতি মো. তাফাজ্জাল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চ টানা ২৯ কর্মদিবস শুনানি করার পর গত ২০০৯ বছরের ১৯ নভেম্বর চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন। এরপর আসামিদের পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। ওই আদেশের সঙ্গে সঙ্গে এই মামলার ১৩ বছর ধরে চলা আইনি ও বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। আইনি সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরপরই ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ওইদিন রাতে বজলুল হুদা, আর্টিলারি মুহিউদ্দিন, সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও ল্যান্সার মহিউদ্দিন আহমেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরও সাত আসামি পলাতক আছেন। তারা হলেন খন্দকার আবদুর রশিদ, রিসালদার মোসলেম উদ্দিন, শরিফুল হক ডালিম, এ এম রাশেদ চৌধুরী, নূর চৌধুরী, আবদুল আজিজ পাশা ও ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদ। আজিজ পাশা পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে ২০০২ সালে মারা যান। বর্তমান সরকার বিদেশে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করার তত্পরতা অব্যাহত রেখেছে।
সংক্ষিপ্ত জীবনী : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ব্রিটিশ উপনিবেশবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং পাকিস্তান স্বাধীন হলে পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্যমূলক আচরণ এবং সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্রলীগ গঠনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোচনায় উঠে আসেন। এরপর ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৫৪-তে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন, ’৬৬-তে ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষণা এবং ’৬৮-তে তথাকথিত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামি হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হন। ১৯৬৯-এ ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়ে তাকে কারামুক্ত করে এবং তারপরই ছাত্ররা তাকে বঙ্গবন্ধু খেতাবে ভূষিত করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী, গতিশীল এবং ঐন্দ্রজালিক সাহসী নেতৃত্বে এদেশের মানুষ পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য। নিজস্ব জাতি-রাষ্ট্র। ১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র ১৯ দিন আগে ৭ মার্চ ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তত্কালীন রেসকোর্স ময়দান) স্মরণকালের এক বৃহত্তম জনসভায় আবেগঘন কণ্ঠে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার চূড়ান্ত ডাক—‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম; এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ সমগ্র জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে। তার বজ্রকণ্ঠে স্বাধীনতার এই ডাকে সাড়া দিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন লড়াকু বাঙালি জাতি। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালোরাতে ইতিহাসের নৃশংস গণহত্যার পর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস তাকে বন্দি থাকতে হয়েছে পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে। মাথার ওপরে ঝুলে ছিল মৃত্যুর পরোয়ানা। তবু স্বাধীনতার প্রশ্নে আপস করেননি মহান এই নেতা। যার কারণে পাকিস্তানি স্বৈরশাসককেও নতিস্বীকার করতে হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের শেষে বাঙালির প্রাণের এই নেতা বীরের বেশে ফিরে আসেন তার স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে।
বঙ্গবন্ধুর দৃঢ়বিশ্বাস ছিল, তার দেশের মানুষ কখনও তার ত্যাগ এবং অবদানে বিস্মৃত হবে না। অকৃতজ্ঞ হবে না। নবগঠিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান তাই সরকারি বাসভবন গণভবনের পরিবর্তে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের সাধারণ বাড়িটিতেই বাস করতেন। স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধের বিধ্বস্ত দেশ গড়ার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। দেশের উন্নয়নে প্রতিটি মানুষকে সম্পৃক্ত করছেন। কিন্তু কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও চারপাশের কিছু স্বার্থন্বেষী মহলের কারণে টার্গেট হন তিনি। সেনাবাহিনীর বিপথগামী ও উচ্চাভিলাষী কিছু সদস্যকে ব্যবহার করে চক্রান্তকারীরা রাতের আঁধারে কাপুরুষের মতো হামলা চালিয়েছে স্বাধীনতার সূতিকাগার ৩২ নম্বরের সেই বাড়িতে।
রাষ্ট্রপতির বাণী : রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তার বাণীতে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর পরে হলেও জাতির জনক ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকারী ঘাতকদের বিচার বাংলার মাটিতে সম্পন্ন হয়েছে। জাতি আজ অনেকটা কলঙ্কমুক্ত। যেসব মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ঘাতক আজও বিদেশে পালিয়ে রয়েছে তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর করতে সর্বোচ্চ তত্পরতা চালাতে হবে। জাতি জানবে হত্যাকারীদের ঠাঁই পৃথিবীর কোথাও নেই।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সারা জীবন সমুন্নত রেখেছেন। দুঃখী মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তাই ঘাতকচক্র তাকে হত্যা করলেও তার আদর্শ ও নীতিকে ধ্বংস করতে পারেনি। এই দেশ ও জনগণ যতদিন থাকবে ততদিন বঙ্গবন্ধুর নাম এদেশের লাখো-কোটি বাঙালির অন্তরে চিরঅক্ষয় হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, আমাদের দায়িত্ব হবে দেশকে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করে জাতির জনকের সেই স্বপ্ন পূরণ করা। তাহলেই তার আত্মা শান্তি পাবে এবং আমরা এই মহান নেতার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতে পারবো।
প্রধানমন্ত্রীর বাণী : বঙ্গবন্ধু কন্যা ও দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর থেকেই এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত স্বাধীনতাবিরোধীচক্র হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করে। ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ বন্ধ করে দেয়। জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে। মার্শাল ল’ জারির মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করে। সংবিধানকে ক্ষতবিক্ষত করে। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করে। স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধীদের নাগরিকত্ব দেয়। রাষ্ট্রক্ষমতার অংশীদার করে। রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে পুনর্বাসিত করে। পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত সরকারও একই পথ অনুসরণ করে।
তিনি বলেন, আমরা এবার বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করেছি। জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী-মানবতাবিরোধীদের বিচার শুরু হয়েছে। কয়েকজনের বিরুদ্ধে রায়ও এসেছে। এই রায়ও কার্যকর করতে পারব। আমরা গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর। কোনো ষড়যন্ত্রই আমাদের সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি : ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত্বার্ষিকীর কর্মসূচির অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ আজ ভোর সাড়ে ৬টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের কার্যালয়গুলোতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। উত্তোলন করা হবে কালো পতাকা। পৌনে ৭টায় দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ ও দোয়া মোনাজাত করবে। সাড়ে ৭টায় বনানী করবস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও কবরস্থান সংলগ্ন মসজিদের মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সোয়া ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বাদ জোহর মিলাদ মাহফিল। আগামীকাল বেলা ৩টায় বঙ্গবন্ধু কনভেনশন সেন্টারে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে রাজধানীর বাইরেও অন্যান্য বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা শহরে শোকদিবসের কর্মসূচি পালিত হবে। সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিদের্েশ দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শোকদিবস উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি এক বৃিতিতে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী, জাতীয় শোকদিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডসহ সব শাখার নেতাদেরকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করে দিবসটি স্মরণ ও পালন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।