Amardesh
আজঃঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৫ আগস্ট ২০১৩, ৩১ শ্রাবণ ১৪২০, ৭ সাওয়াল ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

কাউখালী উপজেলার পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের গ্রামগুলোতে দুর্ভোগ : অন্ধকারে সন্ধ্যাপাড়ের ২৫ হাজার মানুষ

রফিকুল ইসলাম রফিক, কাউখালী (পিরোজপুর)
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
উপকূলীয় জেলা পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার নদীবেষ্টিত ১নং সয়না-রঘুনাথপুর ও ২নং আমরাজুড়ি ইউনিয়নের এক অংশের মানুষ এখনও আধুনিক চিকিত্সাসেবা, শিক্ষা, বিদ্যুত্, যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ আধুনিক সমাজের সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এ এলাকায় স্বাধীনতার পর থেকে নদীভাঙন রোধে নেয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা।
সন্ধ্যা, কঁচা ও কালীগঙ্গা নদীর ভাঙনে পাল্টে যাচ্ছে উপজেলার পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মানচিত্র। সোনাকুর, হোগলা, বেতকা, সয়না, রঘুনাথপুর ও গন্ধর্ব এলাকার বিস্তীর্ণ জনপথ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
সোনাকুরের পালবাড়ি ও ঐতিহ্যবাহী মৃিশল্প নদীগর্ভে বিলীন হতে চলেছে। সহায়-সম্বল হারিয়ে শত শত পরিবার আজ পথে বসেছে। চাষাবাদের জমি দূরের কথা, নেই মাথা গোঁজার মতো আবাসনের ব্যবস্থাও। ভিক্ষা করে দিন কাটাচ্ছে অসংখ্য পরিবার। কোনো প্রকার সহায়তা না পেয়ে নদীভাঙা মানুষগুলো আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন আবাসনে, প্রতিবেশীর আঙিনায় বা কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে। ২৫-৩০ বছর ধরে নদীভাঙনে মানচিত্র পরিবর্তন হলেও ভাঙন রোধে নেই কোনো পদক্ষেপ।
কালীগঙ্গা নদীর পূর্ব তীরে বেতকা এলাকায় দাঁড়িয়ে পশ্চিম দিকে তাকালে যতদূর চোখ যায় এক সময় তা ছিল কাউখালী উপজেলার হোগলা বেতকা ভূখণ্ড, যা এখন পিরোজপুর সদর উপজেলা ভূখণ্ডে পরিণত হয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকার হাতেম আলী, আঃ হক, দেলোয়ার, নূরজাহান এক সময় তাদের সব কিছু ছিল আজ তারা অসহায়। তারা বেচেঁ আছে মানুষের দয়ায়। কালীগঙ্গা পাড়ের ইউনুস খান তার বাড়ির উঠানে ফাটল দেখিয়ে বলেন, ‘সামনে কত খানি জমি ছিল, তা রাক্ষুসী নদী লইয়া গেছে। এহন ঘুমাইনার জায়গাও যাওয়ার পথে।’ এছাড়া ওই ভূখণ্ডের পূর্ব প্রান্ত দিয়ে বয়ে গেছে কঁচা ও সন্ধা নদী। প্রমত্তা সন্ধ্যা ও কঁচা কেড়ে নিয়েছে এক ইউনিয়নের সয়না রঘুনাথপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা দত্তেরহাট নামে একটি গ্রাম এবং আমরাজুড়ি ইউনিয়নের দুই-তৃতীয়াংশ ভূমি। এলাকার উল্লেখযোগ্য সয়না পালবাড়ি, আমরাজুড়ি সিও রেভিনিউ অফিস, সাবেক গন্ধর্ব ও মেঘপাল প্রাথমিক বিদ্যালয় এখন সন্ধ্যা নদীগর্ভে। এই এলাকার ভাঙন এতই তীব্র, যা নৌ-চলাচলের জন্য অত্যন্ত ভীতিকর অবস্থা। পারতপক্ষে কেউ এই অংশ থেকে নৌকা চালায় না।
উপজেলা পশ্চিম পাড়ের ১৪টি গ্রামে ৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২টি দাখিল মাদরাসা, ১৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।
ওইসব বিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই খারাপ থাকায় বহু ছেলে-মেয়ে, বিশেষ করে শিশুরা বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ে যায়। উপজেলায় ঝরে পড়ার হার শতকরা ৮-৯ ভাগ হলেও ওইসব এলাকায় ঝরে পড়া শিশুর হার ১৬-১৭ ভাগে দাঁড়িয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে ফলাফল কিছুটা ভালো হলে এরপর উচ্চশিক্ষার হার ১৫-২০ ভাগের বেশি এগোয়নি।
এই বদ্ধ দ্বীপের কোনো সরকারি অফিসের তদারকি খুব একটা না থাকায় সরকারি কাজকর্ম অনেকটা কাগজ-কলমের দিকে সেরে নেয়া হচ্ছে। এ জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা, দরিদ্রতা ও অসচেতনতাই দায়ী বলে এলাকার সুধী সমাজ মনে করে। এ এলাকায় এখনও অধিকাংশ গ্রামে বিদ্যুতের লাইন আসেনি। তাই এসব গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ বিদ্যুতের আলো থেকে বঞ্চিত।
এলাকার নদী ভাঙনকবলিত মানুষের প্রতি সমর্থন জানিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আহসান কবীর জানান, নদীভাঙা মানুষ দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। নদীভাঙন রোধকল্পে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা চলছে।