Amardesh
আজঃঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৫ আগস্ট ২০১৩, ৩১ শ্রাবণ ১৪২০, ৭ সাওয়াল ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

জামায়াতের ডাকা হরতালের শেষ দিন : সড়ক অবরোধ ককটেল বিস্ফোরণ

ডেস্ক রিপোর্ট
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
দলের নিবন্ধন বাতিলের রায়ের প্রতিবাদে গতকাল বুধবার সারা দেশে জামায়াতের দু’দিনের ডাকা হরতালের শেষ দিন পালিত হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—
সৈয়দপুর (নীলফামারী) : হরতালে সব দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও উপস্থিতি ছিল অনেক কম। শহরে রিকশা ছাড়া কোনো যানবাহন চলাচল করেনি। সৈয়দপুরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার ও অভ্যন্তরীণ বাস চলাচল বন্ধ ছিল। তবে ট্রেন চলাচল ছিল স্বাভাবিক। দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় হরতালের কারণে উপস্থিতির সংখ্যা ছিল কম। নাশকতার আশঙ্কায় মোড়ে মোড়ে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
লক্ষ্মীপুর : জামায়াতের ডাকা ৩৬ ঘণ্টা হরতালের দ্বিতীয় দিনে লক্ষ্মীপুর শহরের মিয়ার রাস্তার মাথায়, বাস টার্মিনাল এলাকায় গাছের গুঁড়ি ফেলে টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে সড়ক অবরোধ করে রাখে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। পরে তারা হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে। এসময় পরপর কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। একই সময়ে রামগঞ্জ উপজেলার আলীপুর ও কাটাখালীতে হরতালের সমর্থনে জামায়াত-শিবির মিছিল বের করলে যুবলীগের নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। এসময় উভয়ের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়া শহরের বিসিক শিল্পনগরী এলাকায়, জকসিন, মান্দারী চন্দ্রগঞ্জ, মীরগঞ্জ ও দালাল বাজারসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল বিকালে জেলার রামগঞ্জ উপজেলার বাহাদুর ইউনিয়নে সন্ত্রাসীরা ৮টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে।
সেনবাগ (নোয়াখালী) : হরতাল চলাকালে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করেনি। অফিস, ব্যাংক-বীমা খোলা থাকলেও কোনো লেনদেন হয়নি। স্কুল-কলেজ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল বন্ধ। হরতালের সমর্থনে জামায়াত ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেনবাগ পৌর শহরে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে এবং গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে রাখে। দিনভর দফায় দফায় পৌর শহরে হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ করেছে জামায়াত ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
নাটোর : জেলার বড়াইগ্রামে হরতালের প্রথম দিন রাতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা দুই জামায়াত কর্মীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে। এর আগে তারা স্থানীয় থানা ছাত্র শিবির সভাপতির মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়। বুধবার সকালে শহরের হরিশপুর এলাকায় নাটোর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে পিকেটিং ও সমাবেশ করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। এসময় ব্যাপক সংখ্যক র্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শহরের আল সান হাসপাতালের সামনে টায়ার জ্বালিয় ও বিক্ষোভ মিছিল করে দলটির নেতাকর্মীরা। পরে বড়হরিশ শেরেবাংলা স্কুলের সামনে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শহর জামায়াতের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম, জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আলমগীর হোসেন ও সাবেক ছাত্রনেতা আনোয়ারুস সাদাত টুটুল।
জয়পুরহাট : হরতাল চলাকালে শহর জামায়াতের আমির হাসিবুল আলম লিটন, সদর জামায়াতের নায়েবে আমির হাকিকুল ইসলামের নেতৃত্বে শহরের বিভিন্ন স্থানে পিকেটিংসহ বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। এদিকে হরতাল চলাকালে জয়পুরহাটের পুরানাপৈল বাজারে শিবির কর্মীরা পিকেটিং করার সময় পুলিশের ধাওয়ার মুখে পাশের গলিতে ঢুকে পড়ে। এসময় স্থানীয় এক মহিলা তার শিশু সন্তানের খোঁজে বাড়ির বাইরে বের হলে সাদা পোশাকের পুলিশ তাকে বিনা উসকানিতে মারধর করে আটকের চেষ্টা করে। অন্যদিকে হরতাল চলাকালে পিকেটার সন্দেহে একই স্থান থেকে আবদুল মোমেন ও শহরের হাড়াইলের আরিফ নামে ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
গাবতলী (বগুড়া) : হরতাল চলাকালে সব প্রকার যানবাহন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। অফিস-আদালত খোলা থাকলেও তেমন লেনদেন হয়নি। গাবতলীর বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে জামায়াত ও শিবিরের কর্মীদের অবস্থান নিয়ে পিকেটিং করতে দেখা গেছে। হরতাল চলাকালে জামায়াত ও শিবির এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে উপজেলা সদরের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে।
শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) : শিবগঞ্জ থেকে কোনো রুটেই কোনো যানবাহন চলাচল করেনি। সরকারি অফিসগুলো খোলা থাকলেও মানুষ ছিল কম। ব্যাংকগুলোতে লেনদেনও হয়েছে সীমিত। সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ভারত থেকে পণ্য এলেও বাংলাদেশের ট্রাকের অভাবে দেশের অভ্যন্তরে যায়নি। হরতাল চলাকালীন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে। হরতালের সমর্থনে সকালে জামায়াত-শিবিরের মিছিল বের হয়।
সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) : হরতালে পিকেটিংয়ের সময় পুলিশ ৫ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। হরতাল চলাকালে পিকেটাররা জেলার দত্তেরহাটে ৪টি, সেনবাগের ছমির মুন্সিরহাটে ৩টি মোটরসাইকেল, ১টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ১টি মিনিবাস ভাংচুর করে। চাটখিল সিঅ্যান্ডবি সড়কের পাশে ৮টি অটোরিকশা ভাংচুর ও ১টিতে আগুন ধরিয়ে দেয় হরতাল সমর্থকরা। সেনবাগের ডুমুরয়াি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন খোকন গত মঙ্গলাবার রাতে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে হরতাল সমর্থকদের হামলার শিকার হন। এ সময় তারা খোকনকে মারধর করে তার মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে। হরতালে নাশকতা সৃষ্টির আশঙ্কায় মঙ্গলবার রাত থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত পুলিশ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে জামায়াত-শিবিরের ৫ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে।
ওসমানীনগর (সিলেট) : ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমেছে স্থবিরতা। স্কুল, কলেজ, অফিস ও ব্যাংক খোলা থাকলেও কার্যক্রম নেই বললেই চলে। অপর দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছাড়া উপজেলার আঞ্জলিক রাস্তাগুলোও ছিল গাড়ি এবং লোকশূন্য। উপজেলার বাজারগুলো ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি মোড়ে মোড়ে ছিল পুলিশের সরব উপস্থিতি।
নোয়াখালী : হরতালের সমর্থনে নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদী নতুন বাসস্ট্যান্ড, পৌরবাজার, রশিদ কলোনী, দত্তেরহাট, জেলার প্রধান বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনী, সোনাইমুড়ী, সেনবাগ, চাটখিল, কবিরহাট, কোম্পানীগঞ্জ, সুবর্ণচর উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থানে মিছিল ও পিকেটিং করে হরতাল সমর্থকরা। হরতালের সমর্থনে মিছিলে নেতৃত্ব দেন শহর শিবিরের সেক্রেটারি গিয়াস কামাল সাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবে এলাহী, জামায়াত নেতা মাওলানা বোরহান উদ্দিন, নাসিমুল গণী চৌধুরী মহল, শিবির নেতা মায়াজ, আলাউদ্দিন, আমিরুল ইসলাম, আহসান উল্যাহ প্রমুখ।
গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) : হরতালের দ্বিতীয় দিনে গতকাল গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করে জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা অন্তত চারটি যানবাহন ভাংচুর ও ভোরে ফাসিতলা মাস্তা নামক এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগ করে।
এ সময় শিবির কর্মীদের ইটের আঘাতে শাহিন নামের এক যাত্রী আহত হয়। তাকে গোবিন্দগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
চারঘাট (রাজশাহী) : মিছিল শেষে পথসভায় বক্তব্য রাখেন চারঘাট জামায়াতের উপজেলা আমির অধ্যক্ষ নাজমুল হক ও উপজেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক কামারুজ্জামান। পরে হলিদাগাছী হাইস্কুল মোড় ও সরদহ হেমন্তের মোড়ে গাছ ও কাঠের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে রাখে এবং জামায়াত-শিবিরের সব নেতাকর্মীর মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ করতে থাকে। হরতাল চলাকালে একটি মোটরসাইকেল ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।