Amardesh
আজঃঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৫ আগস্ট ২০১৩, ৩১ শ্রাবণ ১৪২০, ৭ সাওয়াল ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্রের প্রতিবাদে বাগেরহাটে সংবাদ সম্মেলন : রামপালে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ প্রতিহত করতে হবে

বাগেরহাট প্রতিনিধি
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে সুন্দরবনের সন্নিকটে বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র দেয়ার প্রতিবাদে বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশন ও বাগেরহাট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি যৌথ আয়োজনে গতকাল সকালে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা ও বাগেরহাট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সেভ দ্য সুন্দরবনের খুলনা বিভাগীয় প্রধান সুশান্ত দাস, সুপ্রিমকোর্টের অ্যাডভোকেট শেখ তাহসিন আলী, বাগেরহাটের সাবেক ছাত্রনেতা সাইদ নিয়াজ হোসেন শৈবাল, ব্যবসায়ী রাকিব হাসান প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ব্যারিস্টার জাকির হোসেন বলেন, বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ বাংলাদেশের সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় বে-আইনিভাবে তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে এলাকার সাধারণ মানুষ ও পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন গত ৩ বছর ধরে আন্দোলন করে আসছে। বিশ্বখ্যাত ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন ধ্বংসের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে দেশের সাধারণ মানুষ চরম বিক্ষুব্ধ। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে একাধিক রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য আদালত স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশনাসহ সরকারের উপর রুল জারি করেছে। আদালতের ওই রুল এখনও বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু সরকার জনমত ও আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে গোপন চুক্তি বাস্তবায়নে সবকিছু উপেক্ষা করে চলেছে। সর্বশেষ কোনো প্রকার প্রাক যাচাই ছাড়াই পরিবেশ অধিদফতর গোপনে ছাড়পত্র প্রদান করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সব নিয়ম-বিধি উপেক্ষা করে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় খোদ পরিবেশ অধিদফতর ছাড়পত্র প্রদান করায় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ গভীরভাবে ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। দেশের সব মহল আজ সুন্দরবনের পাদদেশে বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা করছে। সুন্দরবনকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে। অথচ গুটিকয়েক স্বার্থান্ধ মহল ও প্রতিবেশী দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য এই সুন্দরবনকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা ভারত সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, একটি তাজমহল নষ্ট হলে আরও একটি তাজমহল বানাতে পারবেন; তবে একটি সুন্দরবন ধ্বংস হলে এই সুন্দরবন সৃষ্টি করতে পারবেন না। কারণ এটি প্রাকৃতিক উপায়ে সৃষ্ট বনভূমি। তাই বাংলাদেশের মানুষ ও দক্ষিণাঞ্চলের গরিব মানুষের পরিবেশবান্ধব এই প্রাকৃতিক সম্পদকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র থেকে সরে দাঁড়ান। অন্যথায়, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ জীবন দিয়ে হলেও, এই ক্ষতির হাত থেকে সুন্দরবনকে রক্ষা করবে। যে কোনো মূল্যে জনগণ এই জনস্বার্থ বিরোধী প্রকল্পের কর্মকাণ্ড প্রতিহত করবে।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এই জনস্বার্থ বিরোধী প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিবাদে মানববন্ধন, উচ্চ পর্যায়ে স্মারকলিপি প্রদান, গণঅনশন ও প্রয়োজনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে হরতালের মতো কর্মসূচি দেয়ার হুশিয়ারি দেয়া হয়।