Amardesh
আজঃঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৫ আগস্ট ২০১৩, ৩১ শ্রাবণ ১৪২০, ৭ সাওয়াল ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

বিসিবির ডিসিপ্লিনারি প্যানেল গঠন : অভিযোগ অস্বীকার রবিনের : বাজেয়াপ্ত হতে পারে গ্ল্যাডিয়েটরস : আজকের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল গঠন

স্পোর্টস রিপোর্টার
পরের সংবাদ»
বিপিএলের ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ডিসিপ্লিনারি প্যানেল গঠন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। প্যানেলের সদস্যরা হচ্ছেন—অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মাহমুদুল আমিন চৌধুরী, বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, জামিলুর রেজা চৌধুরী, আজমালুল হোসেন কিউসি, সাবেক ক্রিকেটার ইশতিয়াক আহমেদ এবং রকিবুল হাসান। বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটি মনোনীত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গঠন করে ফেলবে আজকের মধ্যেই। এ ট্রাইব্যুনালই ফিক্সিংয়ে জড়িতদের শাস্তি দেবে। ফিক্সিংকাণ্ডে যাদের নাম উঠে এসেছে, তাদের দোষ প্রমাণিত হলে জড়িতদের শাস্তি সর্বনিম্ন পাঁচ বছর থেকে আজীবন নিষেধাজ্ঞা পর্যন্ত হতে পারে। আর বিসিবির দেয়া শাস্তিই মেনে নেবে আইসিসি। এদিকে আকসুর তদন্তে উঠে আসা ক্রিকেটার মাহবুব আলম রবিন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন রবিন।
আকসুর রিপোর্ট হাতে পেয়ে বিসিবি ঘোষণা দিয়েছিল—মোহাম্মদ আশরাফুলের শাস্তি কমপক্ষে পাঁচ বছর থেকে সর্বোচ্চ আজীবন। তখনই প্রশ্ন ওঠে ফ্র্যাঞ্চাইজি ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের চ্যাম্পিয়নশিপ বাতিল বা মালিকানা বাজেয়াপ্ত করা হবে কি-না। জবাবটি বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এড়িয়ে গিয়েছিলেন। তবে বিসিবির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের মালিকানা বাজেয়াপ্তের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বিসিবি। সূত্র জানায়, বিসিবি সভাপতি পাপন ঢাকার মালিকপক্ষের কার্যক্রমে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। বিপিএলের প্রথম আসরে জুয়ার ঘটনাগুলো দ্বিতীয় আসরের আগেই পাপনের কানে চলে আসে। যে কারণে এক কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয় করে বিসিবি আকসুকে ম্যাচ পাতানোর ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব দেয়। এখন সবকিছু প্রমাণিত। তাই ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের মালিকানার ব্যাপারে ভাবছে বিসিবি। গ্ল্যাডিয়েটরসের মালিকপক্ষের যে পরিমাণ টাকা ব্যয় হয়েছে, ওই পরিমাণ টাকা তাদের ফেরত দিয়ে মালিকানা পরিবর্তনের পরিকল্পনা নিচ্ছে বিসিবি। তবে গ্ল্যাডিয়েটরসের মালিকানা পরিবর্তন বা বাজেয়াপ্তের ব্যাপারে বিসিবি তাদের পরিকল্পনার কথা এখনই প্রকাশ করছে না। বিসিবির একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আপাতত যা পরিস্থিতি, তাতে এটা নিশ্চিত যে, ঢাকার মালিকপক্ষ (শিহাব ও সেলিম চৌধুরী) বিপিএল থেকে বিতাড়িত হতে চলেছেন। কারণ বিসিবি যদি ঢাকার মালিক পরিবর্তন নাও করে, কিন্তু ট্রাইব্যুনালে তাদের শাস্তি অবধারিত। ম্যাচ পাতানো নিয়ে এখন পর্যন্ত দোষ স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আশরাফুল। নিজ থেকে দোষ স্বীকার করার কারণ হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটের সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান মোহাম্মদ আশরাফুল বলেন, ‘কম শাস্তির প্রত্যাশায় দোষ স্বীকার করেছি। এখন বাকিটা বিসিবির হাতে। বিসিবি ট্রাইব্যুনাল তা ঘোষণা করবে। এরপর ১৪ দিনের মধ্যে আমাদের ডাকবে। সেখানে জবাব দিতে হবে। দেখি কী হয়!’ শাস্তির বিষয় নিয়ে বেশি ভাবছেন না বলে জানান আশরাফুল। তিনি বলেন, ‘আমি যখন আমার দোষ স্বীকার করেছি, তখন শাস্তি যা হোক—সেটা তো আমার হাতে নেই। আমি এতটুকুই প্রত্যাশা করব, খুন করে আদালতে দোষ স্বীকার করলে বিচারক শাস্তি কিছুটা হলেও কমিয়ে দেন। আমি তো খুন করিনি। অন্যদের শাস্তি যা হবে, আমার শাস্তি তাদের চেয়ে কম হবে বলে প্রত্যাশা করতেই পারি। অন্যরা কেউ তো নিজের দোষ স্বীকার করেনি, একমাত্র আমি ছাড়া।’ তবে দোষ স্বীকার করায় আশরাফুলের শাস্তির মেয়াদ কমানোর বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছে আকসু।
এদিকে বিপিএলে স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার বিষয়টি সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছেন ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের পেসার মাহবুবুল আলম রবিন। অভিযুক্ত হিসেবে আকসুর কাছ থেকে চিঠি পাওয়ার কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তিনি। গতকাল মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রবিন সাংবাদিকদের জানান, তার বিরুদ্ধে গত ২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম কিংস এবং ১২ ফেব্রুয়ারি বরিশাল বার্নার্সের বিপক্ষে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের ম্যাচে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। দেশের হয়ে ৪টি টেস্ট ও ৫টি ওয়ানডেতে খেলা মাহবুবুল আলম রবিন বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ; কোনোরকম ফিক্সিংয়ের সঙ্গে আমি জড়িত নই।’ কেউ তার বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার প্রমাণ দেখাতে পারবে না দাবি করে রবিন বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী। দু’একদিনের মধ্যে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের জবাব দেব।’