Amardesh
আজঃঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৫ আগস্ট ২০১৩, ৩১ শ্রাবণ ১৪২০, ৭ সাওয়াল ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে মার্কিন সেনাপ্রধানের মিথ্যাচারের অভিযোগ : অক্টোবরের আগে সিরিয়া শান্তি সম্মেলন হবে না : রাশিয়া

রয়টার্স
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
আগামী অক্টোবর মাসের আগে সিরিয়া বিষয়ক আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছে রাশিয়া। রুশ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী গেন্নাদি গাতিলভ বলেছেন, পরিকল্পিত এ সম্মেলনের আগে আগস্ট মাসের শেষ দিকে রাশিয়া এবং আমেরিকার মধ্যে প্রস্তুতিমূলক আলোচনা হবে। তিনি জানান, ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা এ সম্মেলন অনুষ্ঠানের পক্ষে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, সেপ্টেম্বর মাসে কূটনৈতিক ব্যস্ততা থাকবে অনেক বেশি, সে কারণে সিরিয়া বিষয়ক সম্মেলন অনুষ্ঠানে একটু দেরি হবে।’ গত মে মাসে যখন সিরিয়ার বিদ্রোহীরা সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ধীরে ধীরে সফলতা পাচ্ছিল তখন কথিত জেনেভা-টু সম্মেলন অনুষ্ঠানের বিষয়ে আমেরিকা ও রাশিয়া একমত হয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ তখন জানিয়েছিলেন, শিগগিরই এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু পরে সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর অগ্রাভিযানে দৃশ্যপট পাল্টে যায় এবং আমেরিকাও শান্তি সম্মেলন অনুষ্ঠানের বিষয়ে গড়িমসি শুরু করে। এছাড়া, ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়। রাশিয়া চাইছে ইরান এ সম্মেলনে অংশ নিক, কিন্তু আমেরিকা এর বিপরীত অবস্থানে রয়েছে। আগস্ট মাসের প্রস্তুতিমূলক বৈঠকে এ বিষয়টি আবার আলোচনা হবে বলে গাতিলভ জানান। ধারণা করা হয়, জেনেভা সম্মেলনের মাধ্যমে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও বিরোধী পক্ষকে এক জায়গায় আনা সম্ভব হবে। এদিকে আমেরিকাসহ পাশ্চাত্যের দেশগুলো ও তাদের আরব মিত্ররা বহু মাস ধরে সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারকে কেন্দ্র করে দেশটির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। পাশ্চাত্য দাবি করেছে, সিরিয়ার সেনাবাহিনী বিরোধীদের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে। বিভিন্ন সাক্ষ্যপ্রমাণে দেখা গেছে পাশ্চাত্যের এ দাবি ডাহা মিথ্যা এবং এখন এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ চলাকালে বিদেশি মদতপুষ্ট সশস্ত্র সন্ত্রাসীরাই সাধারণ মানুষের ওপর রাসায়নিক হামলা চালিয়েছে। সিরিয়ায় ইউরোপ ও আমেরিকার সামরিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্র সৃষ্টি করাই ছিল তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। মার্কিন সেনাপ্রধান জেনারেল মার্টিন ডেম্পসি ইসরাইলে এক সংবাদ সম্মেলনে কোনো প্রমাণ ছাড়াই সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের ব্যাপারে দেশটির সরকারকে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি এ ব্যাপারে মার্কিন উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে দাবি করেছেন, আমেরিকা আশঙ্কা করছে, সিরিয়া সরকার তাদের রাসায়নিক অস্ত্র এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তর করছে। এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ডেম্পসি বলেছেন, রাসায়নিক অস্ত্র বারবার এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের বিশ্বাস সিরিয়া সরকার এজন্য আতঙ্কিত যে, এসব অস্ত্র যদি এক জায়গায় অবস্থান করে তাহলে বিদ্রোহীরা এর ক্ষতি করতে পারে। আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্স এমন সময় সিরিয়ার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে যখন রাশিয়াসহ আন্তর্জাতিক নিরপেক্ষ সংস্থাগুলো পাশ্চাত্যের এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে। জাতিসংঘে রুশ রাষ্ট্রদূত ভিতালি চুরকিন গত মাসে বলেছেন, তাদের কাছে এমন কিছু প্রমাণ রয়েছে যাতে বোঝা যায়, বিদেশি মদতপুষ্ট সিরিয়ার বিদ্রোহীরাই রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে। তিনি আরও বলেছেন, রাসায়নিক বোমা হামলার ঘটনার পর রুশ বিশেষজ্ঞরা সিরিয়ার ওই এলাকা সফর করে বেশকিছু নমুনা সংগ্রহ করেছেন। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে রাশিয়া ৮০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন জাতিসংঘে জমা দিয়েছে।
আমেরিকাসহ পাশ্চাত্য ও তাদের আরব মিত্র দেশগুলো সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ তুলে অপপ্রচার চালালেও জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গত মে মাসে বলেছে, বিভিন্ন সাক্ষ্যপ্রমাণে দেখা গেছে সিরিয়ার বিদ্রোহীরাই রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে। এ কমিটি ব্যাপক তদন্তের পর এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, সিরিয়ার বিদ্রোহীরা সারিন নামে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে। জাতিসংঘ তদন্ত কমিটির এক সদস্য কারলা দেল পান্তে বলেছেন, প্রাপ্ত আলামতের ভিত্তিতে আমরা বলতে পারি, সিরিয়ার সরকার কিংবা সেনাবাহিনী নয় বরং বাইরের মদতপুষ্ট সশস্ত্র বিদ্রোহীরাই রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে। জাতিসংঘে উত্থাপিত রাশিয়ার ৮০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন এবং জাতিসংঘ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন থেকে সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে পাশ্চাত্যের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এ ব্যাপারে সিরিয়া সরকারের দাবিই সত্য প্রমাণিত হয়েছে।