Amardesh
আজঃঢাকা, বুধবার ১৭ জুলাই ২০১৩, ২ শ্রাবণ ১৪২০, ০৭ রমজান ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিবৃতি : সংশোধিত আইনেও শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত হয়নি : দাতা ও ক্রেতাদের চাপ সৃষ্টির আহ্বান

ডেস্ক রিপোর্ট
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
নিউইয়র্কভিত্তিক খ্যাতনামা মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বলেছে, বাংলাদেশ সরকার শ্রম আইনের সংশোধনী পাস করলেও এতে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার, যৌথ দরকষাকষি এবং কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি। বাংলাদেশ সরকার শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত না করে একটি সোনালি সুযোগ হাতছাড়া করেছে বলে মন্তব্য করে এইচআরডব্লিউ বলেছে, দাতা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশ সরকারকে চাপ দিতে হবে, যাতে শ্রমিকদের পূর্ণাঙ্গ অধিকার নিশ্চিত করে।
এইচআরডব্লিউ বলেছে, বাংলাদেশে শ্রম আইনের সংশোধনীর মাধ্যমে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কিন্তু এখনও শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় এটা যথেষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড থেকেও পিছিয়ে আছে।
সোমবার শ্রম আইনের সংশোধনী বিলটি জাতীয় সংসদে পাস হয়। কিন্তু এতে গার্মেন্ট শ্রমিকদের অন্যতম দাবি ট্রেউ ইউনিয়ন করার অধিকার নিশ্চিত করা হয়নি।
শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া, ট্রেড ইউনিয়নের অনুপস্থিতি এবং রানা প্লাজা ও তাজরীন ফ্যাশনে ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে শত শত শ্রমিকের মৃত্যুর পর সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার দেশে-বিদেশে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধাও বাতিল করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নও কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেয়। এ অবস্থায় সরকার শ্রম আইনের সংশোধনী আনতে বাধ্য হয়।
গতকাল এইচআরডব্লিউর নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা ‘বাংলাদেশ : অ্যামেন্ডেড লেবার ল ফলস শর্ট’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রেড ইউনিয়ন এবং যৌথ দরকষাকষিসহ বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার শ্রমমানবিষয়ক বেশিরভাগ আইন অনুমোদন করেছে। তবে সংশোধিত আইনেও এসব মান অর্জিত হয়নি। নতুন আইনে কিছু জটিল বিধান সংযোজন করা হয়েছে এবং অন্যান্য অনেক বিষয় স্পর্শ করা হয়নি।
এ বিষয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়াবিষয়ক পরিচালক ফিল রবার্টসন বলেন, ‘রানা প্লাজার বিপর্যয় থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নিতে ভীষণ তত্পর বাংলাদেশ সরকার। তারা এখন দেখাচ্ছে, বিলম্বে হলেও শ্রমিকের অধিকারের বিষয়ে নজর দিয়েছে। এতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। নতুন আইনে যদি আন্তর্জাতিক মান অর্জন করা যেত, তাহলে সেটি খুশির খবর হতো। কিন্তু দুভার্গ্যজনকভাবে সরকার সচেতনভাবেই শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার সীমিত করেছে এবং শ্রমিকদের ঝুঁকির মধ্যে কাজ করার এবং শোষিত হওয়ার ব্যবস্থা করেছে।’
যেমন সংশোধিত আইনে শ্রমিকদের ইউনিয়ন করার ক্ষেত্রে নিজ প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদেরই নেতা নির্বাচিত করতে হবে। এতে মালিকরা নেতাদের অন্য কারণ দেখিয়ে চাকরিচ্যুত করবে। সারা দুনিয়ায়ই এই ব্যবস্থা চলছে। অন্যদিকে ইপিজেডে শ্রমিকদের ইউনিয়ন করার অধিকার রহিত করা হয়েছে। শর্তসাপেক্ষে শ্রমিকদের ধর্মঘট করার অধিকার স্বীকার করা হলেও নতুন আইনে বলা হয়েছে, সরকার চাইলে জাতীয় স্বার্থে ধর্মঘট বন্ধ করে দিতে পারবে।
বিদেশি অথবা যৌথ মালিকানায় স্থাপিত কারখানায় প্রথম তিন বছরে কোনো শ্রমিক ইউনিয়ন করা যাবে না। যেসব কারখানার শ্রমিকের সংখ্যা ৫০ জনের কম সেখানে ‘অংশগ্রহণ কমিটি’ এবং ‘নিরাপত্তা কমিটি’ নামে কার্যত ক্ষমতাহীন কমিটি গঠনের কথা বলা হলেও এর কাজ কী হবে তা স্পষ্ট করা হয়নি।
রবার্টসন বলেন, ‘সরকার শুধু শ্রমিকদের অধিকার সীমিত করার বিধান করে সোনালি সুযোগ হাতছাড়া করেই ক্ষান্ত হয়নি, উপরন্তু নতুন আইনে ক্ষতিকর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। রানা প্লাজা ধসের পরও সরকার শ্রমিকদের অধিকার এবং নিরাপত্তার ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ নয়।’
বিবৃতিতে বলা হয়, শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর বিদেশি তহবিল ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে সরকার অন্যান্য বেসরকারি সংস্থাগুলোর মতোই ভয়াবহ প্রভাব সৃষ্টি করতে চায়। এ ব্যাপারে দাতা দেশগুলোর উচিত শ্রমিক ইউনিয়নের ব্যাপারে সরকারে হস্তক্ষেপের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করা।
তৈরি পোশাক কারখানায় নারী নির্যাতন বন্ধের কোনো পদক্ষেপ নেই নতুন শ্রম আইনে। অথচ পোশাক কারখানার বেশিরভাগ শ্রমিকই নারী। কর্মস্থলে যৌন নিপীড়ন বন্ধে হাইকোর্টের একটি নীতিমালাও রয়েছে। একেও উপেক্ষা করেছে সরকার।
এইচআরডব্লিউ বলেছে, সরকারের সামনে পরীক্ষা হচ্ছে শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং ইউনিয়ন করা ও যৌথ দর কষাকষির ব্যাপারে অঙ্গীকারগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হয়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার কারখানার মালিকদের সমর্থনপুষ্ট এবং সংসদের অনেক সদস্যই (পোশাক) কারখানার মালিক।
শ্রমিকদের ইউনিয়ন করার অধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করে এইচআরডব্লিউ বলেছে, এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের উচিত সরকারকে চাপ দেয়া। যদি শ্রমিক ইউনিয়ন থাকত তবে রানা প্লাজা ধসের দিন শ্রমিকরা সেখানে কাজ করতে বাধ্য হতো না।