Amardesh
আজঃঢাকা, বুধবার ১৭ জুলাই ২০১৩, ২ শ্রাবণ ১৪২০, ০৭ রমজান ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

আশুলিয়ায় যাত্রীবাহী বাস তুরাগে নিহত ৮ আহত ১৫

স্টাফ রিপোর্টার ও সাভার প্রতিনিধি
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
রাজধানীর অদূরে আবদুল্লাহপুর এলাকায় একটি যাত্রাবাহী বাস তুরাগ নদীতে পড়ে ৮ যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ যাত্রী। গতকাল সকালে এ ঘটনা ঘটে।
সকাল ৯টার দিকে আবদুল্লাহপুর থেকে সায়েম পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো জ-১১-১৬৫০) ৩২ সিটের একটি বাস নবীনগরের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। বাসটিতে ৩৫ থেকে ৪০ যাত্রী ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। আশুলিয়ার ধউড় এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মুহূর্তেই অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই বাসটি সড়কের পাশের তুরাগ নদীতে পড়ে যায়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবরি দল ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এক ঘণ্টা পর সেখানে নৌবাহিনীর একটি দল ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে যোগ দেয়। ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনী প্রায় চার ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে নদী থেকে ৮ জনের মৃতদেহ ও পানিতে নিমজ্জিত বাসটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। নিহতদের মধ্যে দুজনের নাম জানা গেছে, তারা হলেন নরসিংদী জেলার রায়পুরা এলাকার আলী নেওয়াজের ছেলে রবিউল্লাহ (২২) ও মিনিবাস গ্রামীণ সেবার কন্ট্রাকটর আবদুর রহমান বাবু (৫০)। নিহত অন্য ৬ জনের পরিচয় জানা যায়নি। তবে তাদের মধ্যে একজন চিকিত্সক রয়েছেন বলে বেশ কয়েক ব্যক্তি শনাক্ত করেন। নিহতরা সবাই পুরুষ এবং তাদের বয়স ২০ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। আহত ১৫ জনকে ইস্টওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ আশপাশের বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো তুরাগ থানা পুলিশের হেফাজতে দেয়া হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের স্টেশন অফিসার শফিউল্লাহ জানান, পানির নিচে থাকা গাড়িটি থেকে জীবিত কিংবা মৃত ব্যক্তিদের উদ্ধারের জন্য ডুবরি দল নামানো হয়। ডুবরিরা সাতজনের লাশ উদ্ধার করলেও জীবিত কাউকে উদ্ধার করতে পারেনি। পরে বাসটি উদ্ধারের জন্য পুলিশের একটি বৃহত্ আকারের ক্রেন ব্যবহার করা হলে পরে আরেকটি ক্রেনের সহায়তায় বাসটি সড়কে তোলা হয়। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি নদীর প্রায় ৪০ ফুট নিচে চলে যায়। এদিকে দুর্ঘটনার খবর শুনে সকাল থেকে ওই এলাকায় উত্সুক জনতা ভিড় করতে থাকে। হরতাল সত্ত্বেও এদিন আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক আহাম্মেদ জানান, অজ্ঞাতদের পরিচয় জানতে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পরিচয় নিশ্চিত হলে তাদের স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের স্টেশন অফিসার শফিউল্লাহ দিদার জানান, ফায়ার সার্ভিসের ডুবরিরা নিখোঁজদের উদ্ধারে প্রাণান্ত চেষ্টা চালাচ্ছে। এদিকে আহতদের স্থানীয় ইস্টওয়েস্ট হাসপাতালে চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন—মশিউর (৩২), হুমায়ুন কবির (৩৫), তারেক (৩২), জিল্লুর রহমান (৩৬), মিজান (২৭), সাইফুল (২২), আবদুস সালাম (২৪), রেজাউল করিম (৩৪), মোস্তফা আহমেদ (২৩), রাসেল (১৮), রফিক (১৯), আবদুর রউফ (৪২), জিল্লুর রহমান (৩৬), সিদ্দিকুর রহমান (৪৫), গোলাম মোস্তফা (৪৬), ফয়েজ (৩০), খোকন সিকদার (২৬), ইয়াসমিন জাহান (৫০), নুরুল আমিন (১৬) ও মাইনুল ইসলাম (৩২)। ইস্টওয়েস্ট মেডিকেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক আবদুল হাই জানান, বাস দুর্ঘটনায় আহত এই ২০ জনের চিকিত্সার ব্যয় তারাই বহন করছেন। এদের মধ্যে ৯ জনের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।