Amardesh
আজঃঢাকা, বুধবার ১৭ জুলাই ২০১৩, ২ শ্রাবণ ১৪২০, ০৭ রমজান ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

এবার শাহবাগি একপক্ষ পেটাল অন্যপক্ষের কর্মীদের : হরতালের সমর্থনে শ’খানেক কর্মীর মিছিল

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
কথিত অহিংস আন্দোলনের ধ্বজাধারী শাহবাগিরা পুলিশ কর্মকর্তাকে পেটানোর পর এবার নিজেদের মধ্যে মারধর শুরু করেছে। গোলাম আযমের রায়ের বিরুদ্ধে ডাকা হরতালে পিকেটিং করার চেষ্টাকালে গতকাল বিকালে একপক্ষের দুই শাহবাগি ব্লগারকে বেধড়ক পিটিয়েছে অন্যপক্ষ।
এদিকে হরতালের সমর্থনে শ’খানেক কর্মী গতকাল শাহবাগে মিছিল করেছে। একপর্যায়ে গাড়ি ভাংচুরে উদ্যত হলে পুলিশের বাধার মুখে তারা তা করতে পারেনি।
বিকালের মারামারির বিষয়টি গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ও রংপুর মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ডা. ইমরান এইচ সরকার মীমাংসা করতে গেলে তাকে ‘নাক না গলানোর’ হুশিয়ারি দেন আক্রান্তরা। পরে ইমরান সেখান থেকে চলে যান। নিজেদের মধ্যে মারামারির পর পরই ফাঁকা হয়ে যায় ‘গণজাগরণ’ মঞ্চও। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের রায় প্রত্যাখ্যান করে জাগরণ মঞ্চের কর্মীরা মঙ্গলবার সকাল থেকে শাহবাগের রাস্তা অবরোধ করে।
এ সময় শাহবাগি অন্যতম ব্লগার বাপ্পাদিত্য বসুর দল বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর কিছু নেতাকর্মী হঠাত্ করে রাস্তার দিকে এগিয়ে গিয়ে গাড়ি ভাংচুরের চেষ্টা করে। এ সময় মিছবাহ ও শিমুল (নিজেকে ছাত্রলীগ কর্মী দাবি করে) নামে দুইজন তাদের বাধা দিতে গেলে বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক উদয়ের নেতৃত্বে এ দু’জনকে ব্যাপক মারধর করা হয়।
এ সময় সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীরা তাদের মারামারির চিত্র ধারণ করতে গেলে তখন উভয়পক্ষের কর্মীরা তাদের ওপর চড়াও হয়। গণমাধ্যম কর্মীরা এর প্রতিবাদ করলে একপর্যায়ে মিছবাহ ও শিমুলকে তারা ছেড়ে দেয়।
এ ঘটনা জানার পর মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার এসে উভয়পক্ষকে এক করে মীমাংসার চেষ্টা করেন। এ সময় মারধরের শিকার মিছবাহ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারকে বলেন, ‘আপনাকে এখানে কে ডেকেছে। আমার বিষয় আমিই সমাধান করব। এ বিষয়ে আপনি আর নাক গলাবেন না।’
পরে বাধ্য হয়ে ইমরান এইচ সরকার ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। এ ঘটনায় শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
পরে নিজেকে ছাত্রমৈত্রীর কর্মী দাবি করে মিছবাহ বলেন, ‘আমাকে যারা মারধর করেছে তারা ছাত্রশিবিরের এজেন্ট। মঞ্চে ঢুকে এরা বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করছে।’
তিনি বলেন, ‘গতকাল সোমবারও এরাই শাহবাগে গাড়ি ভাংচুর ও পুলিশকে লাঞ্ছিত করে। সে সময় তাদের বাধা দিলে আমি আক্রোশের শিকার হই।’ মিছবাহ বলেন, ‘এরপরই ওরা ফোন করে লোক ডেকে এনে উদয়ের নেতৃত্বে আমাকে ও শিমুলকে মারধর করে।’
তবে মারধরের ঘটনা অস্বীকার করেন উদয়। তিনি বলেন, ‘মঞ্চের দুইদল কর্মীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝিতে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনা ঘটেছে। আমি তা মীমাংসার চেষ্টা করেছি মাত্র।’
এদিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সকাল থেকে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের শ’খানেক কর্মীর মিছিল ও সমাবেশ চললেও এ ঘটনার পর থেকে শাহবাগে কোনো আন্দোলনকারীকে দেখা যায়নি। তবে সন্ধ্যার পর কয়েকজনকে জড়ো হতে দেখা গেছে।
এছাড়া সকালে পুলিশের আপত্তিতে রাস্তায় পিকেটিংয়ে নামতে পারেনি তারা।
ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন চলবে। কালকে মুজাহিদের রায়ের আগ পর্যন্ত আমরা শাহবাগে থাকবো।’
উল্লেখ, সোমবার গোলাম আযমের রায় প্রত্যাখ্যান করে উত্তেজিত হয়ে ওঠে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা। এ সময় তারা বেশ কিছু গাড়ি ভাংচুর করে। তখন তাদের বাধা দিলে সহকারী পুলিশ কমিশনার স্নিগ্ধ আকতারকেও মারধর করা হয়।