Amardesh
আজঃঢাকা, বুধবার ১৭ জুলাই ২০১৩, ২ শ্রাবণ ১৪২০, ০৭ রমজান ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

বিরোধীদলীয় নেত্রী মাওলানা শফীর তেঁতুল হতে চাইলে কিছু বলার নেই - হাসিনা : ট্রাইব্যুনাল গোলাম আযমকে যে শাস্তি দিয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট

সংসদ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
জামায়াত ইসলামের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক চাপের মুখে কাজ করতে হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা কাজ করছেন। তারা একের পর এক রায় দিয়ে যাচ্ছেন। এটাই জাতির বড় পাওয়া। গোলাম আযমকে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল যে শাস্তি দিয়েছে আমরা তাতেই সন্তুষ্ট। পাশাপাশি জামায়াত-শিবিরকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। আমাদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা প্রচেষ্টা ও সংগ্রামের ফসল বাস্তবায়ন হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত আল্লামা আহমদ শফীর কথিত ওয়াজের ভিডিও ক্লিপের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, উনি (আল্লামা শফী) ইসলামবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। নারীদেরকে তেঁতুলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এরপরও জানি না কী করে বিএনপি নেত্রী তাকে সমর্থন জানান। অবশ্য উনি (বিরোধীদলীয় নেত্রী) যদি মাওলানা শফীর তেঁতুল হতে চান তাহলে তো আমার কিছু বলার নেই। আমি বিরোধীদলীয় নেত্রীকে বলব, উনার (আল্লামা শফীর) সঙ্গ ছেড়ে যেন নারী জাতির অধিকার রক্ষায় এগিয়ে আসুন।
গতকাল জাতীয় সংসদের সমাপনী ভাষণে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমার অঙ্গীকার অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছি। এই বিচারে সবাই আমাদের সমর্থন দিচ্ছেন। বিচারের রায় শুরু হয়েছে। একে একে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় হতে থাকবে। ইনশাআল্লাহ আমরা ক্ষমতায় থাকতে রায় কার্যকর করা শুরু করতে পারব।
তিনি বলেন, গতকালকে (পরশু সোমবার) গোলাম আযমের বিচারের রায় বেরিয়েছে। তার বিরুদ্ধে ৫টি অভিযোগের সবক’টি প্রমাণিত হয়েছে। আদালত গোলাম আযমকে অভিযুক্ত তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে জামায়াত-শিবিরকে স্বাধীনতাবিরোধী দেশদ্রোহী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করেছে। গোলাম আযমকে ট্রাইব্যুনাল যে শাস্তি দিয়েছ তাতেই আমরা সন্তুষ্ট। সাজা কী হবে না হবে সেটা আদালতের বিষয়। আদালতের বিষয় নিয়ে কোন মতামত দিতে চাই না। তবে বলব, যুদ্ধাপরাধী হিসেবে সে যে সাজা পেয়েছে এটাই আমাদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা আর সংগ্রামের ফসল আজ বাস্তবায়ন হয়েছে।
গোলাম আযমের রায় নিয়ে ক্ষমতাসীন মহাজোটের শরিকসহ বিভিন্ন মহলের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই রায় নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলছেন। এখানেও (সংসদে) কেউ কেউ আওয়ামী লীগকে দোষী করতে চাচ্ছেন। এখানে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, যে জেনারেল জিয়াউর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনেছিলো, সেই জিয়ার সঙ্গে তো অনেকেই হাত মিলিয়েছিল। তার সঙ্গে তো অনেকের ভালো সখ্য ও দহরম-মহরম ছিল। তখন বিএনপিকে সমর্থন দিতে অনেকে পিছপা হননি। যদি ’৭৬ থেকে ’৮১ সাল পর্যন্ত পত্রপত্রিকাগুলো দেখি তাহলে জিয়ার সঙ্গে কার কী সম্পর্ক ছিল তা দেখতে পাবো। জিয়াউর রহমান যখন যুদ্ধাপরাধীদের ফিরিয়ে আনেন তখন সবাই যদি তীব্র প্রতিবাদ করে জিয়াকে প্রত্যাখ্যান করত তাহলে এই ৪২ বছর সময় লাগত না।
তিনি বলেন, আমরা ৪২ বছর পরে সাহস নিয়ে যুদ্ধাপরাধের বিচারের কাজ শুরু করেছি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক চাপের মুখে, ট্রাইব্যুনালে যারা কাজ করছে তারা অনেক ঝুঁকি নিয়েও বিচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। একের পর এক রায় দিয়ে যাচ্ছেন। এটাই হচ্ছে জাতির সবচেয়ে বড় পাওনা। ৪২ বছর পরে হলেও আমরা সেই রায় পাচ্ছি, বিচার হচ্ছে।
গত পরশু ও গতকাল বিরোধী দল সংসদে না আসার সমালোচনা করে সংসদ নেতা বলেন, গোলাম আযমের রায়ে ঘোষণার কথা শুনে জামায়াত-শিবির হরতাল ডেকেছে। সেই হরতালের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিএনপি কাল ও আজ (পরশু ও গতকাল) সংসদে না আসায় গোলাম আযম আর যুদ্ধাপরাধীদের প্রতি বিএনপি নেত্রীর সমর্থনের বহির্প্রকাশ ঘটেছে। বিরোধীদলীয় নেত্রী তাদের যে সমর্থন করেন, সংসদে না এসে তা স্পষ্ট করেছেন। অবশ্য দেখাবেন না কেন? তাদের তো একটু দুর্বলতা থাকে। কারণ, তিনি ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে এসব অনেক অপরাধীকে মন্ত্রী বানিয়ে পতাকা তুলে দিয়েছিলেন। যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থনে যারা সংসদে এসেও এলো না, তাদের সমর্থনের প্রতি গোটা জাতি ধিক্কার ও ঘৃণা জানাবে। তাদের বিরোধিতা করবে। দেশবাসীকে যুদ্ধাপরাধী ও তাদের সমর্থনকারী বিএনপি সম্পর্কে ভাবতে হবে। সজাগ হতে হবে।
গত ৫ মে হেফাজতে ইসলামের ঢাকায় অবস্থান প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জামায়াত-শিবির ইসলামের নামে রাজনীতি করে জায়নামাজে আগুন দিয়েছে। কোরআন শরীফ পুড়িয়েছে। জামায়াত-শিবির, হেফাজতি ও বিএনপির ক্যাডাররা এ কোরআন শরীফ পুড়িয়েছে। শত শত হকারকে নিঃস্ব করেছে। দেখে চোখে পানি এসে যায়। এটা কোনো মুসলমানের পক্ষে সহ্য করা সম্ভব নয়।
দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাবা শরীফের গিলাপ পরিবর্তনের ছবি নকল করে আমার দেশ পত্রিকা ক্যাপশন পরিবর্তন করে ওটা নাকি সাঈদীর মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে বলে মানুষকে ধোঁকা দিয়েছে।
বিএনপি ইসলামের নাম বিক্রি করে রাজনীতি করতে চায় অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আগাগোড়া শুনে আসছি আওয়ামী লীগ এলে ইসলাম থাকবে না। ১৯৯৬ সালের আগে বিরোধীদলীয় নেত্রী বলতেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে নাকি মসজিদে আজান শোনা যাবে না, উলুধ্বনি শোনা যাবে। আমরা তো সাড়ে ৪ বছর ক্ষমতায়। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলাম। কোন মসজিদে আজান বন্ধ হয়ে গেছে, উলুধ্বনি শোনা গেছে। কই কোথাও হয়নি। বরং আওয়ামী লীগের আমলেই মসজিদ মাদরাসার উন্নয়ন হয়েছে। ইসলামের সেবা ও উন্নতির জন্য কেউ কাজ করে থাকলে তা আওয়ামী লীগই করেছে। আর নামাজ রোজার দিক থেকেও যদি দেখেন আওয়ামী লীগের লোকজনই বেশি নামাজ রোজা পালন করে। সংসদের মসজিদে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন বিএনপির কয়জন এমপি যায় আর আওয়ামী লীগের কয়জন এমপি যায়। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, তাদের মিথ্যাচারের সঙ্গে আমরা পেরে উঠি না। কারণ, এতো মিথ্যা বলার পারদর্শিতা আমরা অর্জন করতে পরিনি। মিথ্যা প্রচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার ব্যাপারে জামায়াত-বিএনপি চ্যাম্পিয়ন।
হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা আহমদ শফীর কথিত ভিডিও ক্লিপের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন ইসলামিক চিন্তাবিদ নামে যাকে জানতেন তিনি সব জায়গায় আজ আলোচিত। তার মুখে আমাদের নারী জাতি সম্পর্কে যেসব নোংরা কথা প্রচার হয়েছে এটা অত্যন্ত লজ্জার ও ঘৃণার। তিনি বলেছেন মেয়েদেরকে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়তে হবে। তারপর ঘরে বসে যেতে হবে। তারা চাকরি করতে পারবে না। চাকরি ছেড়ে ঘরে গিয়ে অভুক্ত থাকতে হবে। আজকে সংসদ থেকে শুরু করে উচ্চ আদালত পর্যন্ত মেয়েদের যে অবস্থান তা বন্ধ করে দিতে হবে। যে জঘন্য কথা তিনি বলছেন! উনি (আল্লামা শফী) মেয়েদেরকে তেঁতুলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তেঁতুল দেখলে যেভাবে মানুষের জিবে পানি আসে তেমনি। তারপরও জানি না কী করে আমাদের বিএনপি নেত্রী তাকে সমর্থন জানান।
তিনি বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। একমাত্র ইসলামই নারীদের অধিকার দিয়েছে। প্রথম যিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তিনি একজন নারী—বিবি খাজিদা। তিনি ঘরে বসে থাকতেন না। ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন। তার অর্থ দিয়ে ইসলামের প্রচার ও প্রসার ঘটেছে। ইসলামে যে জিহাদের কথা বলা হয়, তার প্রথম শহীদ হচ্ছেন একজন নারী বিবি সুমাইয়া। বিবি আয়েশা যুদ্ধে শামিল হতেন। যে ধর্ম নারীদের এত অধিকার দিয়েছে, সেই নারীদের নিয়ে তিনি (আল্লামা শফী) এ ধরনের কথা বলবেন, এটা বাংলাদেশ কেন সারা বিশ্বের নারীসমাজ তা মেনে নিতে পারে না। এসব ইসলামবিরোধী বক্তব্য কখনো গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা ওই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা জানাই।
চলতি অর্থবছরের বাজেটকে বর্তমান সরকারের শেষ বাজেট উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে সব বাজেট সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। সরকার দক্ষতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করেছে বলেই মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের নিরানব্বই ভাগের বেশি বাস্তবায়িত হয়েছে। এডিবির ৯২ থেকে ৯৩ ভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে। জিনিসপত্রের দাম ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। এবারের বাজেট কার্যকর করতে আমরা খুব বেশি পারব না। তবে জনগণের ভোটে যদি আমরা আবার ক্ষমতায় আসতে পারি, জনগণ যদি আমাদের বাজেট বাস্তবায়ন করে, তাহলে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের সক্ষম হব।
সংসদে বিরোধীদলীয় সদস্যদের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা সংসদে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও নোংড়া ভাষায় যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে সংসদের মান-মর্যাদা খাটো হয়েছে।
বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাদের সময় হাওয়া ভবন ছিল দুর্নীতির আখড়া। হাওয়া ভবনের পাওনা বুঝিয়ে না দিলে কোনো ব্যবসায়ী ব্যবসা করতে পারত না। খোয়াব ভবনের কুকীর্তির কথা মানুষ এখনো ভোলেনি। বিরোধীদলীয় নেতা তার ছেলে আর মন্ত্রিসভার সদস্যকে দিয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন। তারা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। কিন্তু আমরা ক্ষমতায় এসে চেয়েছি জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস বাংলাদেশ থেকে নির্মূল হোক। তার জন্য আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা কাউকে ছাড় দেইনি। যেখানে যে ঘটনা ঘটেছে, আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছি।
বিএনপির দুর্নীতির কারণে দেশের কোনো উন্নয়ন হয়নি, এমন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, তারা দুর্নীতি না করলে তো দেশের উন্নতি হতো। উন্নয়ন করলে তারা বিদ্যুত্ উত্পাদন বাড়াতে পারেনি কেন? আমরা চার হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ রেখে গেলাম আর বিএনপি আসায় তা কমে দাঁড়াল তিন হাজার ২০০ মেগাওয়াটে। আমরা আবার ক্ষমতায় এসে ৬ হাজার ৭৫০ মেগাওয়াট করেছি। রেন্টাল কুইক রেন্টালের কথা বলা হয়। কুইক রেন্টাল মাত্র ১৮টা তো। আমরা ৪ বছরে ৫৫টা বিদ্যুেকন্দ্র করেছি। আরো ৩৪টার কাজ চলছে। দুর্নীতি করলে এটা পারা যেত না। ‘দুর্নীতি, দুর্নীতি’ বলে তো কোনো চিত্কার করলে হবে না, এটা তো হাতেনাতে প্রমাণ।
তিনি বলেন, আজ ব্যাংকের লুটপাটের কথা বলা হচ্ছে। হলমার্কের সৃষ্টি তো হাওয়া ভবন থেকে। হাওয়া ভবনের খাস লোক। এই অন্যায় দীর্ঘদিন চলে আসছিল। কেউ ধরেনি। হলমার্ক-ডেসটিনির অন্যায়গুলো তো আমাদের সরকার ধরেছে। এখন চোর ধরার জন্য আমাদের চোর বানাচ্ছে। শেয়ারবাজারের কথা বলা হচ্ছে, ফালু আর বাদলকে ধরলেই তো এটা বেরিয়ে আসবে। তাদের নিয়ে কথা বলতে তো দেখি সবাই লজ্জা পায়। তার ছেলেরা মানি লন্ডারিং করেছে। এফবিআই এসে সাক্ষী দিয়ে গেছে। তিনি তো বারবার সিঙ্গাপুর ছুটে গিয়েছিলেন ছেলের টাকা রক্ষা করতে পারেননি তো। তাদের দুর্নীতির টাকা আমরা ফেরত এনেছি, আরো আসবে।
ছাত্রলীগ-যুবলীগের ঢুকে কিছু লোক সরকারের বদনাম করেছে, এমন দাবি করে তিনি বলে, এ দেশে কতগুলো লোক বা গ্রুপ থাকে যখন যে ক্ষমতায় থাকে তার দলের হয়ে যায়। এরা হচ্ছে পার্মান্যান্ট গভরমেন্ট পার্টি। যখনই আমরা ক্ষমতায় এসে দেখি কেউ কেউ ছাত্রলীগ-যুবলীগে নাম নিয়ে দলে ভিড়ে যায়। আর ছাত্রলীগ-যুবলীগও তাদের দল ভারী করতে তাদের নিয়ে ফেলে। আর তারপর যখন অঘটনা ঘটে তখনই আসলটা বেরিয়ে পড়ে।
বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই হত্যাকাণ্ডের জন্য যারা জড়িত তারা সবাই কিন্তু ছাত্রলীগের সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করেছিল। তাদের সদস্য করা হয়নি। ওই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হওয়ার পর আমরা সঙ্গে সঙ্গে সবাই সবাইকে গ্রেফতার করেছি। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছি। তাদের বিচার শুরু হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের ভাই আত্মীয়-স্বজন অনেকে বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতিতে জড়িত। অথচ এরা রাতারাতি ছাত্রলীগ হয়ে গেছে। এরা মনে করে, সরকারি দলে যোগ দিলে মনে হয়, তাদের অপকর্মগুলো ঢাকা পড়ে যাবে। কিন্তু আমরা সেটা হতে দেইনি। ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের মধ্যে যারা ছাত্রলীগের ছিল তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগেও যারা অপকর্ম করছে তাদের ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অপরাধী যে-ই হোক তার বিরুদ্ধে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। ছাত্রলীগের নামধারী চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী বা টেন্ডারবাজির সঙ্গে জড়িত ৬০০ গ্রেফতার করেছি। এটা অতীতের কোনো সরকার করেনি। অন্যায়কে আমরা প্রশ্রয় দেইনি, দেব না এটাই আমাদের নীতি। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত কেবল সন্ত্রাস নয়, দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে। এটা তো সর্বজনবিদিত।
বর্তমান সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত সব নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়েছে এমন দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের আমলে এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৬৪৪টি নির্বাচন হয়েছে। এর কোনো নির্বাচন নিয়ে কেউ কথা বলতে পারেনি। সরকারি দল হিসেবে আমরা অনেক সময় নির্বাচনে পরাজিত হয়েছি। কিন্তু তার পরও আমরা তা মেনে নিয়েছি। নির্বাচনগুলো সুষ্ঠুভাবে যাতে হয়, জনগণের ভোটের অধিকার যাতে নিশ্চিত হয়, সেই ব্যবস্থা আমরা করেছি। কিন্তু বিএনপির আমলে আমরা কী দেখেছি—নির্বাচন মানেই অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যা, সন্ত্রাস, সিলমারা, বাক্স ভরা নানা ধরনের অপকর্ম। কথাই ছিল ১০টা হুন্ডা, ২০টা গুণ্ডা, নির্বাচন ঠাণ্ডা। তবে আমরা মহাজোট সরকার এ ধরনের ঘটনা ঘটতে দেইনি। আমরা গণতন্ত্রকে সম্মান করি। সংবিধান মোতাবেক দেশ এগিয়ে যাবে। গণতান্ত্রিক ধারা যাতে অব্যাহত থাকে, সেটাই চাই।
তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে। তারা আর্থিকভাবেও স্বাধীন। অতীতে কোনো নির্বাচন এত স্বাধীনতা ভোগ করতে পারেনি। কিন্তু আমরা সেই ব্যবস্থা করেছি।