Amardesh
আজঃঢাকা, বুধবার ১৭ জুলাই ২০১৩, ২ শ্রাবণ ১৪২০, ০৭ রমজান ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

সহিংস হরতালে পুলিশের গুলি, নিহত ৪ : আজ ফের জামায়াতের হরতাল : রাজধানীতে ঢিলেঢালা কর্মসূচি পালিত

স্টাফ রিপোর্টার
পরের সংবাদ»
সহিংস পিকেটিং, দফায় দফায় সংঘর্ষের পাশাপাশি পুলিশের নির্বিচার গুলি চলেছে রাজপথে। হরতালের দ্বিতীয় দিনে গতকালও সারাদেশে চারজন নিহত হয়েছে। সাতক্ষীরায় পুলিশের গুলিতে জামায়াত-শিবিরের দুই কর্মী নিহত এবং আরও ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এছাড়া হরতালের সহিংসতায় দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে বাসযাত্রী ও গাজীপুরে এক শিশু বাসচাপায় নিহত হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের রায়কে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতালের গতকাল দ্বিতীয় দিনে এসব ঘটনা ঘটে। বরাবরের মতো রাজধানীতে ঢিলেঢালা হরতাল পালিত হলেও বিভাগ ও জেলা শহরগুলোতে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবির কর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
রাজধানীর বাইরে সাতক্ষীরা, বগুড়া, রাজশাহী, কুমিল্লা, দিনাজপুর, গাজীপুর, জয়পুরহাট, নোয়াখালী, রংপুরসহ বিভিন্ন স্থানে হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। সারাদেশে আটক করা হয়েছে শতাধিক জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীকে। হরতালের দ্বিতীয় দিন গতকালও রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদসহ বাস টার্মিনালগুলো থেকে দূরপাল্লার কোনো পরিবহন ছেড়ে যায়নি। স্কুল-কলেজও বন্ধ ছিল।
একই দিনে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেয়া রায়কে প্রত্যাখ্যান করে ডাকা তথাকথিত গণজাগরণ মঞ্চের হরতাল মূলত শাহবাগের গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যার হরতালের ঘোষণা দিলেও রাজধানীর একমাত্র শাহবাগ ছাড়া আর কোথায় হরতালের সমর্থনে পিকেটিং বা মিছিল করতে তেমন দেখা যায়নি প্রগতিশীল সংগঠন ও গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের। সকালের দিকে তারা মিছিল নিয়ে শাহবাগে রাস্তায় বেরিকেড দেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের রায় ঘোষণার দিন ধার্যের প্রতিবাদে আজ ফের সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে সংগঠনটি। এ নিয়ে টানা তৃতীয় দিনেও হরতালের ডাক দিলো দলটি। অন্যদিকে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের রায় ঘোষণা পর্যন্ত শাহবাগে অবস্থান নেয়ারও ঘোষণা দিয়েছে শাহবাগিদের গণজাগরণ মঞ্চ।
গতকাল হরতাল চলাকালে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে জামায়াত-শিবিরের পিকেটারদের লক্ষ্য করে গুলি করেছে পুলিশ। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই এক শিবির নেতা ও এক জামায়াত কর্মী নিহত হয়েছে। এর আগে শিবির-পুলিশ সংঘর্ষে ৫ পুলিশসহ ১২ জন আহত হয়েছে।
দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে পিকেটারদের ধাওয়া খেয়ে পালাতে গিয়ে একটি রিকশাভ্যানকে চাপা দিলে এক আরোহী নিহত হন। অন্যদিকে গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে পিকেটাররা কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করলে আতঙ্কে পালাতে গিয়ে একটি বাস এক স্কুলছাত্রীকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ওই ছাত্রী নিহত হয়।
এদিকে বিভাগীয় শহরগুলোতে বিক্ষিপ্ত পিকেটিং, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে গোলাম আযমের রায় প্রত্যাখ্যান করে গতকালের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করেছে জামায়াত-শিবির।
এর মধ্যে চট্টগ্রামে হরতালের সমর্থনে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করেছে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। হরতাল চলাকালে সকালে পতেঙ্গার গোল্ডেন বিচ ও কোতোয়ালির নাসিমন ভবনের সামনে ৩-৪টি গাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। একই সময় চকবাজার এলাকায় পিকেটারদের ছোড়া ককটেল বিস্ফোরণে আহত হন বাংলাভিশনের এক ফটোসাংবাদিক।
এছাড়া বরিশালে হরতালকালে ৭-৮টি গাড়ি ভাংচুর করেছে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। সিলেটে বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ হরতাল পালিত হয়েছে। সেখানে পিকেটিংকালে ওসমানী মেডিকেল কলেজ এলাকায় কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করা হয়।
রাজশাহীতে নগরীরর বিভিন্ন স্থানে পথচারীসহ অন্তত ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পবা উপজেলা পরিষদের সামনে একটি গাড়িতে আগুন দেয় পিকেটাররা। এ সময় হড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে তিন যাত্রী আহত হন।
এদিকে খুলনায় ককটেল বিস্ফোরণ, বিক্ষোভ মিছিল ও পিকেটিংয়ের মধ্য দিয়ে হরতাল পালন করে জামায়াত-শিবির। সকালে পিকেটিংকালে নগরীর চিত্রালি সুপার মার্কেটের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটালে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হরতালের শুরুতে সকালে রংপুরের লালবাগে সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে শিবির নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে তারা রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাংলোর সামনে টায়ারে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ করে। অন্যদিকে নগরীর রাজা রামমোহন ক্লাবের সামনে ছয়টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় পিকেটাররা।
বিভাগীয় শহরগুলোর বাইরে বগুড়ায় সোমবার রাতে কে বা কারা শহরদীঘিতে রেললাইনের ৩০০ মিটার জুড়ে ৭শ’ প্যান্ডেল ক্লিপ খুলে ফেলে। এতে প্রায় ঘণ্টাখানেক রেল চলাচল বন্ধ থাকে। এছাড়া হরতাল চলাকালে গতকাল জেলাজুড়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াত-শিবির। এ সময় শতাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটনা হয়।
যশোরে হরতালকালে বিক্ষিপ্ত পিকেটিং ও সড়ক অবরোধ করেছে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। যশোর-সাতক্ষীরা সড়কসহ বিভিন্ন সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করেন পিকেটাররা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পিকেটারদের ছোড়া ককটেলের আঘাতে ৩ শিশুসহ ৮ জন আহত হয়েছে। সেখানে সোমবার পুলিশ-বিজিবির সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের ৫১ জনের নাম উল্লেখসহ ৬৫১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নোয়াখালীতে বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। সকালে চাটখিলে হালিমা দীঘির পাড় এলাকায় শিবিরকর্মীরা মিছিল বের করলে গুলি চালায় পুলিশ। পরে সেখান থেকে ৪ কর্মীকে আটক করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন স্থান থেকে ১৬ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নীলফামারীর জলঢাকা-ডিমলা সড়কে হরতালের সমর্থনে মিছিল থেকে শিবির কর্মীরা অন্তত ৫টি গাড়ি ভাংচুর করে। এছাড়া কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পিকেটিংকালে চান্দুলা, মিয়াবাজার, দৌলবাড়ি, হায়দারপুল, আমজাদের বাজার ও চিওড়া এলাকায় কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে শিবিরকর্মীরা।
রাজধানীর হরতালচিত্র : আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারির কারণে রাজধানীর কয়েকটি স্থানে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা ঝটিকা মিছিল বের করার চেষ্টা করলেও গতকাল রাজধানীতে বড় ধরনের কোনো সহিংস ঘটনা ও পিকেটিং করতে দেখা যায়নি হরতাল সমর্থকদের।
হরতালের সমর্থনে গতকাল সকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও ধলপুর এলাকায় শিবির-পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যাত্রাবাড়ী ফারুক রোড, ভাঙা প্রেস ও ধলপুর কমিউনিটি সেন্টার মোড়ে শিবিরকর্মীরা হরতালের সমর্থনে মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশি বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়। সকাল ৭টার দিকে কাজলার ভাঙা প্রেস এলাকায় জামায়াত-শিবিরকর্মীরা মিছিলের চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া করে। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্য ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় শিবিরের পক্ষ থেকে কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত বা আটকের খবর পাওয়া যায়নি। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাসাবোতে হরতাল সমর্থকরা মিছিল বের করে। এ সময় তারা ৫টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায়।
সকাল ৬টার দিকে বনশ্রীতে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা। এ সময় তারা রাস্তায় পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে এখান থেকে পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। পুলিশ আসার আগেই হরতাল সমর্থকরা স্থান ত্যাগ করে। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দনিয়ায় হরতালের সমর্থনে মিছিল করে ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ। তবে এখান থেকেও পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি।
হরতালের সমর্থনে গতকাল সকালে লালবাগ থানার উদ্যোগে একটি মিছিল বের করে জামায়াত কর্মীরা। মিছিলটি আজিমপুর থেকে শুরু হয়ে শাহসাহেব বাজারে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন থানার ভারপ্রাপ্ত আমির গোলাম মহিউদ্দিন সেলিম, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি শামিমুল বারী। কামরাঙ্গীরচর এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল কামরাঙ্গীরচর সেকশন থেকে শুরু হয়ে শহিদনগরে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। হরতালের সমর্থনে খিলগাঁও এলাকায় মিছিল করেছে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা। মিছিলটি গোড়ান বাজার থেকে শুরু হয়ে টেম্পোস্ট্যান্ডে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সকালে কাফরুল ও ভাসানটেক এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল পাকার মাথা থেকে শুরু হয়ে ইব্রাহিমপুর বাজারে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সমাবেশে বক্তৃতা করেন ঢাকা মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য লস্কর মোহাম্মদ তাসনিম, ভাসানটেক থানার ভারপ্রাপ্ত আমির সোলাইমান হোসেন প্রমুখ।
ভাষাসৈনিক অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ফরমায়েশি দণ্ডাদেশ প্রত্যাহার ও হরতাল-পরবর্তী সমাবেশে বংশাল এলাকায় জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি বংশাল থেকে শুরু হয়ে নাজিরাবাজার চৌরাস্তায় গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে বক্তৃতায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁঁইয়া বলেন, অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের কোনো প্রামাণ্য দলিল-প্রমাণ না থাকলেও সম্পূর্ণ আবেগতাড়িতভাবে তাকে দীর্ঘমেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান এ কথা অকাতরে স্বীকার করার পরও সরকার নির্ধারিত ছকে তাকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। তাই এই ফরমায়েশি দণ্ডাদেশ জনগণ কখনই মেনে নেবে না বরং জীবন দিয়ে হলেও সরকারের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে। তিনি ফরমায়েশি দণ্ডাদেশ প্রত্যাহার করে অবিলম্বে বর্ষীয়ান মজলুম জননেতা ও ভাষাসৈনিক অধ্যাপক গোলাম আযমসহ শীর্ষ নেতাদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন এবং সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক হরতাল পালন করায় সর্বস্তরের জনগণের প্রতি অভিনন্দন জানান। এছাড়াও হাজারীবাগ, মোহাম্মদপুর, সূত্রাপুর, শ্যামপুর, যাত্রাবাড়ী, সবুজবাগ, মতিঝিল, দক্ষিণখান ও বিমানবন্দরসহ মোট ২৫ স্পটে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা হরতালের সমর্থনে মিছিল, সমাবেশ ও পিকেটিং করেছে।
হরতালে ঢাকার বাইরে সারাদেশের চিত্র : রাজধানীর বাইরে বড় সহিংতার ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণাঞ্চলের সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে। এছাড়া বগুড়া, রাজশাহী, কুমিল্লা, দিনাজপুর, গাজীপুর, জয়পুরহাট, নোয়াখালী, রংপুরসহ বিভিন্ন স্থানে হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে।
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে পুলিশের গুলিতে ২ শিবিরকর্মী নিহত : সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে পুলিশের গুলিতে জামায়াত-শিবিরের দুই কর্মী নিহত হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলার পাওখালী তালতলা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে পুলিশসহ আরো ১২ জন আহত হয়েছে।
নিহতরা হলো কালীগঞ্জ পাইলট স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র শিবিরের সাথী বাজারগ্রামের আফতাবউদ্দীনের ছেলে শেখ শরিফুজ্জামান (১৬) ও ধলবাড়িয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে জামায়াতকর্মী রুহুল আমীন (৩৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার পাওখালী তালতলা মোড়ে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা সকালে কাঠের গুঁড়ি ফেলে রাস্তা অবরোধ করে পিকেটিং করছিল। এ সময় থানা পুলিশ পিকেটারদের হটাতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পিকেটাররা পাল্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে পুলিশ পিকেটারদের লক্ষ্য করে ১৫-২০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলিতে ঘটনাস্থলেই শিবিরের সাথী শরিফুজ্জামান ও জামায়াতকর্মী রুহুল আমীন নিহত হয়। আহত হয় পুলিশসহ জামায়াত-শিবিরের ১০-১২ নেতাকর্মী। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে নিহত শরিফুজ্জামানের বাবা আফতাবউদ্দীন, নাজমুল হুদা, ইমরান হোসেন, রুহুল আমীন ও শামসুদ্দীনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
কালীগঞ্জ থানার ওসি আলি আজম জানান, পিকেটারদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে জামায়াত-শিবির কর্মীরা তাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। তাদের ছোড়া ইটপাটকেলে পাঁচ পুলিশ আহত হয়েছে। এ সময় তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে।
শিবিরের জেলা সভাপতি রুহুল আমীন জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ হরতাল চলাকালে স্থানীয় আ.লীগ নেতা রুহুল আমীন ভ্যাদলের নেতৃত্বে পুলিশ পিকেটারদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। এতে দুজন নিহতসহ জামায়াত-শিবিরের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছে।
গাজীপুরে বাসে আগুন, গাড়ি ভাংচুর, নিহত ১ : হরতাল চলাকালে গাজীপুরে একটি বাসে আগুন দিয়ে কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করেছে হরতাল সমর্থনকারীরা। গতকাল দুপুর ১টার দিকে গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় হরতাল সমর্থনকারীরা। পরে দমকল বাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে তারা। ভাংচুরের সময় দ্রুতগতিতে বাস চালাতে গিয়ে পথচারী এক স্কুলছাত্রীকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। নিহতের নাম নাদিয়া সুলতানা। সে নেত্রকোনা জেলার রাজপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এছাড়া সকাল ১০টার দিকে চৌরাস্তা এলাকায় স্কাইলাইনের একটি বাসে আগুন দেয় হরতাল সমর্থনকারীরা।
চিরিরবন্দরে পিকেটিংয়ের সময় ট্যাংকলরির ধাক্কায় নিহত ১ : দিনাজপুরের রানীরবন্দরে পিকেটারদের ধাওয়া খেয়ে পালাতে গিয়ে রিকশা আরোহীকে চাপা দিয়েছে ট্যাংকলরি। আবদুল কুদ্দুস (৫০) নামে ওই রিকশা আরোহী হাসপাতালে মারা যান। এ ঘটনাটি গতকাল সকালে উপজেলার সৈয়দপুর-দশমাইল মহাসড়কের রানীরবন্দরের বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড অফিসের কাছে ঘটেছে।
সকালে শিবিরকর্মীরা পিকেটিং করার সময় সৈয়দপুরগামী একটি ট্যাংকলরিকে ধাওয়া করে। ট্যাংকলরিটি দ্রুত পালাতে গিয়ে রাস্তায় একটি রিকশাভ্যানকে ধাক্কা দেয়। এতে ট্যাংকলরির ধাক্কায় রিকশাভ্যান আরোহী আবদুল কুদ্দুস গুরুতর আহত হন। তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তিনি চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান। আবদুল কুদ্দুস উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়নের ড্রাইভারপাড়ার মৃত মজিবর রহমানের ছেলে। তিনি একজন বাস ড্রাইভার বলে জানা গেছে। চিরিরবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) হারিসুল ইসলাম জানান, বর্তমানে রানীরবন্দর এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
যশোরে হরতালে রাজপথে জামায়াত-শিবির, দেখা মেলেনি গণজাগরণের : যশোরে হরতালে রাজপথে ছিল জামায়াত-শিবির। দেখা মেলেনি গণজাগরণ মঞ্চের।
হরতালের সমর্থনে সকালে রাজপথে নামে জামায়াত ও শিবিরের কর্মীরা। সকাল ৯টার দিকে শহরের দড়াটানা মোড়ে জামায়াত-শিবির মিছিল বের করে। মিছিল শেষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তৃতা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাস্টার নূরুন্নবী, সহকারী সেক্রেটারি ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী, শহর শাখার সেক্রেটারি অধ্যাপক শামসুজ্জামান, শহর শিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম। সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবস্থান নিয়ে পিকেটিং করে। এছাড়া যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের মনিরামপুরের কয়েকটি স্পটে রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে শিবির কর্মীরা।
এদিকে হরতাল ডেকেও মাঠে থাকেনি গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী-সংগঠকরা। বিকালে তারা সমাবেশ করবেন বলে জানানো হয়।
গতকালের হরতালে দূরপাল্লার ও অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে যানবাহন চলাচল করেনি। তবে শহরে ছোট যানবাহন চলাচল করেছে অবাধে। অফিস-আদালতে উপস্থিতি ছিল কম। হরতাল চলাকালে শহরের মুজিব সড়কে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে তিনজন সামান্য আহত হয়েছে।
অন্যদিকে, আজ জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মামলার রায় ঘোষণার খবরে মঙ্গলবার যশোরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াত-শিবির।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণ, তিন শিশুসহ আহত ৮ : চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের পুরাতন বাজার ও মসজিদপাড়া এলাকায় সকালে হরতালের সমর্থনে বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে শিবিরকর্মীরা। এতে তিন শিশুসহ আট জন আহত হয়েছে। এ ঘটনার পর পুলিশ চার জনকে আটক করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১১টার দিকে শহরের পুরাতন বাজার ও মসজিদপাড়া এলাকায় হঠাত্ কয়েকজন শিবিরকর্মী কয়েকটি ককটেল ফাটায়। এতে তিন শিশুসহ আট জন আহত হয়। এদের মধ্যে মসজিদপাড়া এলাকার আলিমের ছেলে অন্তু, বারির মেয়ে মুনিফা, আবদুস সামাদের ছেলে সজীব, বালুবাগানের নজরুল ইসলাম ও ভেলুরমোড় এলাকার আসাদুল হক নামে পাঁচ জনকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ওসি বজলুর রশীদ জানান, ঘটনার পর শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে সোমবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বিজিবি সদস্যসহ ১৫ জন আহত হওয়ার ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের ৬৫১ জনকে আসামি করে রাতেই শিবগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেছেন ৯ বিজিবি’র নায়েক সুবেদার আবু তাহের। ওই মামলায় ৫১ জনের নাম উল্লেখসহ আরও পাঁচ-ছয়শ’ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর বিভিন্ন স্থানে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৬ জামায়াত-শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে জামায়াত-শিবির কর্মীদের সংঘর্ষে বোমার আঘাতে ৯ বিজিবি’র মেজর মিজান, শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন, বিজিবি’র ল্যান্স নায়েক নুপুল কুমার, সিপাহী হাবিবুর রহমান, নায়েক সুবেদার আবু তাহেরসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। এছাড়া একই ঘটনায় গুলিতে জামায়াতকর্মী নুরুল ইসলাম (৪২) ও শিবিরকর্মী জিয়াউর রহমান (১৭) নিহত এবং উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়।
সিলেটে শান্তিপূর্ণ হরতাল : বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া সিলেটে শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালিত হয়েছে। সকাল সাড়ে ৯টার পর নগরীর ওসমানী মেডিকেল কলেজ রোড, আম্বরখানা এবং পাঠানটুলা এলাকায় ঝটিকা মিছিল এবং বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করে শিবিরকর্মীরা। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৯টায় নগরীর ওসমানী মেডিকেল কলেজ এলাকায় ঝটিকা মিছিল করে ছাত্রশিবির। পরে মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ওসমানী মেডিকেল থেকে পাঠানটুলা এলাকা পর্যন্ত পিকেটিং করে। এ সময় তারা কয়েকটি যানবাহনে ভাংচুর চালায়। এর আগে মেডিকেল রোড এলাকায় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে শিবিরকর্মীরা।
এদিকে, সকাল সাড়ে ১০টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা থেকে হরতালের সমর্থনে মিছিল করে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা। মিছিলটি নগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কোর্ট পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় ওই এলাকায় অবস্থান নেয় গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা।
সকাল থেকে নগরীতে সীমিত সংখ্যায় সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশা চলাচল করলেও ভারী যানবাহন চলেনি। সিলেট থেকে ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার কোনো বাস। তবে যথাসময়ে ট্রেন ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ের একটি সূত্র। হরতালে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি ছিল র্যাব ও বিজিবির টহল।
হরতালে নোয়াখালীতে শিবির-পুলিশ সংঘর্ষ, গুলি, আটক ২০ : জামায়াতের ডাকা হরতাল চলাকালে নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শিবিরকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এদিকে হরতালকে কেন্দ্র করে পুলিশ জামায়াত-শিবিরের ২০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে।
হরতাল চলাকালে দুপুর ১টার দিকে শিবিরকর্মীরা নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর সড়কের কেন্দুরবাগ এলাকায় পিকেটিং করছিল। খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে গেলে শিবিরকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় শিবিরকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের বাড়িগুলোতে অভিযান চালালেও কাউকে আটক করতে পারেনি। সকালে চাটখিল হালিমা দীঘিরপাড় এলাকায় শিবির মিছিল বের করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ আট রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পুলিশ সেখান থেকে শিবিরের চার কর্মীকে আটক করে। এর আগে হরতালে নাশকতা সৃষ্টির আশঙ্কায় পুলিশ গত ২৪ ঘন্টায় আরো ১৬ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীকে আটক করে।
এদিকে হরতাল চলাকালে জেলা শহর মাইজদীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের সক্রিয় দেখা গেলেও গণজাগরণ মঞ্চের কাউকে রাজপথে দেখা যায়নি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দুপুর পৌনে ২টায় জেলার কোথাও কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আনিছুর রহমান জানান, হরতাল শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি র্যাব-বিজিবি মোতায়েন ছিল।
নীলফামারীতে ট্রাক ভাংচুর : জামায়াতের ডাকা দ্বিতীয় দিনের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়েছে নীলফামারীতে। সকালে জলঢাকা-ডিমলা সড়কের চাপানী বাজারে তিনটি ও বালাগ্রামে দুটি ট্রাক ভাংচুর করেছে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। এদিকে সকালে হরতালের সমর্থনে বড় বাজার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ইসলামী ছাত্রশিবির। শিবিরের জেলা সেক্রেটারি মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে বের হওয়া ঝটিকা মিছিলটি বাজারে গিয়ে শেষ হয়।
অপরদিকে গণজাগরণ মঞ্চ হরতালের ডাক দিলেও কোথাও তাদের কোনো নেতাকর্মীকে দেখা যায়নি।
চৌদ্দগ্রামে মিছিল, ভাংচুর : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মিছিল, পিকেটিং ও ভাংচুরের মধ্য দিয়ে হরতাল পালন করেছে শিবির। সকালে জামায়াত-শিবির কর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দুল, মিয়াবাজার, দৌলবাড়ি, হায়দারপুল, আমজাদের বাজার ও চিওড়া এলাকায় মিছিল ও পিকেটিং করে। এ সময় তারা বেশ কয়েকটি গাড়ির গ্লাস ভাংচুর করে।
কাহালুতে দাপটের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের পিকেটিং : অধ্যাপক গোলাম আযমের রায় ঘোষিত হওয়ার দিন ডাকা হরতালের পক্ষে বগুড়ার কাহালুতে জামায়াত-শিবির ব্যাপক পিকেটিং করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাহালু স্টেশন এলাকায় অবস্থানরত পুলিশ ছিল অনেকটা নিশ্চুপ। এর ফলে জামায়াত-শিবির দাপটের সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে পিকেটিং ও মিছিল করেছে। এমনকি কাহালু সাবরেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে কাজকর্ম বন্ধ রাখার জন্য জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা বলে এসেছে বলেও জানান উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিজার রহমান। সাধাণন মানুষের ভাষ্যমতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও পুলিশের নীরবতায় এ উপজেলায় জামায়াত-শিবিরের প্রভাব প্রচণ্ড।
সরকারের অপকর্ম, দুর্নীতি, জুলুম, নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন —চাঁদপুর জেলা জামায়াত : জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার অন্যতম সদস্য, প্রবীণ রাজনীতিবিদ, চাঁদপুর জেলা আমির এ এইচ আহমদ উল্যাহ মিয়া বলেছেন, সরকার জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে একের পর এক মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্যে উঠেপড়ে লেগেছে। তিনি গতকাল এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকার নীল নকশার মাধ্যমে মিথ্যা, কাল্পনিক ও বায়বীয় অভিযোগ রচনা করে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে দলীয় ট্রাইব্যুনালে প্রহসনের বিচার মঞ্চস্থ করছে। জনসমর্থন না পেয়ে শাহাবাগে নাস্তিক ব্লগারদের সমাবেশ ঘটিয়ে ফাঁসির দাবি তোলা হচ্ছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী সমাবেশের দাবি বিবেচনায় নিয়ে রায় প্রদানের জন্য বিচারপতিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তৃতা করে। মন্ত্রী-এমপিরা জামায়াত নেতাদের ফাঁসির দিন-তারিখ নির্ধারণ করে বক্তৃতা করেন। সেই তারিখেই দুটি মামলার রায় ঘোষিত হয়। এসব থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয়, সরকারের নির্দেশিত দিকে ও নীলনকশা অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ চলছে।
তিনি বলেন, সরকার নিজেদের দুর্নীতি ও ব্যর্থতা ঢাকতে জুডিশিয়াল কিলিংয়ের চক্রান্ত করছে। জনগণ প্রহসনের রায় কখনো মেনে নেবে না। ১৯৭৩ সালে তত্কালীন সরকার ১৯৫ পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধী সেনা কর্মকর্তার বিচারের জন্যই আইনটি করেছিল। কিন্তু দীর্ঘ ৪০ বছর পর শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত জামায়াত নেতাদের নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে ওই আইনে নিজেদের মনগড়া সংশোধনী এনে মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার হরণ করে জামায়াত নেতাদের বিচার করছে। অধ্যাপক গোলাম আযম বাংলাদেশের ভাষাসৈনিক। এ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রয়েছে তার ঐতিহাসিক ভূমিকা। সবকিছু বিসর্জন দিয়ে শুধু জামায়াতকে প্রশ্নবিদ্ধ করাই যেন সরকারের একমাত্র কাজে পরিণত হয়েছে। সরকারের এসব অপকর্ম, দুর্নীতি, জুলুম, নির্যাতনের বিরুদ্ধে এখনই রুখে দাঁড়াতে হবে। রমজান মাসে রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছে জামায়াতকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য। কিন্তু এ দেশের ইসলামপ্রিয় জনতা রোজা রেখে বদরযুদ্ধের চেতনায় দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করে সরকারের অপকর্ম ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ধিক্কার জানিয়েছে।
তিনি রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে চার জামায়াত-শিবির নেতা হত্যার তীব্র নিন্দা জানান এবং সরকারের জুলুম, নির্যাতনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
চট্টগ্রামে মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়ি ভাংচুর মাঠে ছিল না গণজাগরণমঞ্চ : জামায়াত ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ৯০ বছর কারাদণ্ডের রায় প্রত্যাখ্যান করে জামায়াতের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়ি ভাংচুরের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে পালিত হয়েছে। সকাল থেকেই নগরী থেকে গানম্যান পাহারায় ট্রেন চলাচল করলেও কোনো দূরপাল্লার যানবাহন ছাড়েনি। অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে সিএনজি ও রিকশা চলাচল করলেও গণপরিবহন ছিল হাতেগোনা। এদিকে হরতাল ডাকলেও প্রেস ক্লাবের কয়েকশ’ গজের মধ্যে পুলিশ পাহারায় দু-একটি মিছিল ছাড়া আর কোনো তত্পরতা ছিল না তথাকথিত গণজাগরণ মঞ্চের। এছাড়া গত সোমবারের হরতালে বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় দুটি মামলা করেছে পুলিশ। আরও ৬টি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
গতকাল হরতাল শুরু হওয়ার পরই সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে পতেঙ্গা থানার গোল্ডেন বিচ এলাকায় একটি টেম্পোতে আগুন দেয় পিকেটাররা। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কোতোয়ালি থানার নাসিমন ভবন এলাকায় বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পিকেটাররা কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ও দুটি সিএনজি অটোরিকশা ভাংচুর করে। চকবাজার এলাকায় শিবিরের ঝটিকা মিছিল থেকে ককটেল ছুড়ে মারলে বাংলাভিশনের ফটোসাংবাদিক পলাশ আহত হয়। তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হরতালকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন ছিল।
হরতাল চলাকালে চট্টগ্রাম থেকে কোনো দূরপাল্লার যানবাহন ছাড়েনি। টাউন সার্ভিস গাড়িগুলোও চলেনি বললেই চলে। রিকশা, সিএনজি চললেও অন্যান্য হরতালের দিন থেকে তুলনামূলক অনেক কম। বন্দরে পণ্য খালাস হলেও ডেলিভারি হয়নি। দেশের বৃহত্তর পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জও ছিল অনেকটা স্থবির।
এদিকে সকালে নগরীর বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবির ঝটিকা মিছিল বের করলেও মাঠে দেখা যায়নি গণজাগরণ মঞ্চের কাউকে। তবে সকাল ১০টার দিকে পুলিশ পাহারায় ২০-২৫ জন গণজাগরণ মঞ্চেরকর্মী প্রেস ক্লাবের সামনে একটি মিছিল করেছে।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাক আহমদ বলেন, হরতাল চলাকালে দিনভর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত-শিবিরকর্মীরা ঝটিকা মিছিল বের করে কয়েকটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। তারা পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করেও ককটেল ছুড়েছে। তবে নগরীতে কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু জামায়াতের টানা হরতালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে সোমবার জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের রায়কে কেন্দ্র করে ডাকা প্রথম দিনের হরতালে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় নগরীর ডবলমুরিং থানায় দুটি মামলা করেছে পুলিশ। সোমবার হরতাল চলাকালে নগরীর আগ্রাবাদের বড়পুল এলাকায় সংঘর্ষের সময় গুরুতর জখম হয়ে জামালউদ্দিন নামের স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর একটি পা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনায় জামাল উদ্দিনের মামা মো. বশির মিয়া বাদী হয়ে নগরীর ডবলমুরিং থানায় একটি মামলা করেছেন। এছাড়া ডবলমুরিং থানার এসআই মো. শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মামলায় পাঁচ শিবির কর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এছাড়া সোমবার সীতাকুণ্ডে সড়ক অবরোধ, সংঘর্ষ ও ট্রাকে আগুন দেয়ার ঘটনায় আরও ৫টি মামলা করা হয়েছে।
রাজশাহীতে অগ্নিসংযোগ, সংঘর্ষ : হরতালে রাজশাহী নগরীতে একটি যাত্রীবাহী বাস ও একটি কভার্ড ভ্যানে আগুন দিয়েছে পিকেটাররা। মঙ্গলবার দুপুর দুটার দিকে নগরীর খড়খড়ি বাইপাস ও উপকণ্ঠ পবা এলাকায় পৃথক এ ঘটনা ঘটে। এছাড়া হরতাল চলাকালে নগরীর বেশ কয়েকটি পয়েন্টে পিকেটারদের সঙ্গে পুলিশের বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পৃথক এ ঘটনায় সন্দেহভাজন আটজনকে আটক করেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হরতাল চলাকালে বেলা দুটোর দিকে ১০-১৫ জন পিকেটার রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ পবা উপজেলা পরিষদের সামনের রাজশাহী-নওগাঁ সড়ক অবরোধ করে। এ সময় তারা রাজশাহী থেকে তানোরগামী আল রাহী পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-জ-০৪-০৬৫০) যাত্রীবাহী বাসে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এ সময় তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে বাসের তিন যাত্রী আহত হন। আহতদের প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়েছে। খবর পেয়ে নগরীর শাহমখদুম থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার আগেই হরতাল সমর্থকরা পালিয়ে যায়। পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে শিবিরকর্মী সন্দেহে দুজনকে আটক করে পুলিশ।
একই সময়ে নগরীর খড়খড়ি এলাকায় রাজশাহী বাইপাস সড়কে একটি কভার্ড ভ্যানেও আগুন দেয় হরতাল সমর্থকরা। খবর পেয়ে পুলিশ আসার আগেই তারা কেটে পড়ে। পরে এ ঘটনায় জড়িতদের আটকে ওই এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। এর আগে হরতালের শুরুতেই ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে নগরীর শেখেরচক এলাকার পদ্মা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রশিবিরকর্মীর। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভকারীদের বাধা দিলে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।
এ সময় শিবিরকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। জবাবে পুলিশ পাল্টা বেশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে হরতাল সমর্থকরা ছত্রভঙ্গ করে দেয়। একই সময়ে নগরীর হোসনিগঞ্জ এলাকার সড়কে টায়ারে আগুন করে বিক্ষোভ করে শিবিরকর্মীরা। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই তারা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে শিবিরকর্মী সন্দেহে পথচারীসহ ছয়জনকে আটক করে।
এছাড়া সকাল সাড়ে আটটা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত নগরীর শালবাগান, বায়া বিমানবন্দর রোড়, খড়খড়ি, এবং রানীবাজার-অলোকার মোড় এলাকায় সড়ক অবরোধসহ পুলিশের সঙ্গে হরতাল সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। তবে পৃথক এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া হরতাল চলাকালে নগরীতে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
অন্যদিকে, ট্রাইব্যুনালের দেয়া জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের রায় প্রত্যাখ্যান করে তার ফাঁসির দাবিতে ডাকা হরতালের সমর্থনে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে একাত্তর মঞ্চ। দুপুর ১২টার দিকে নগরীর আলুপট্টির মোড় থেকে মছিলটি বের হয়। পরে মিছিলটি বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফের সেখানে গিয়ে শেষ হয়।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ডা. সৈয়দ সাফিকুল আলমের নেতৃত্বে এতে অংশ নেন বিশিষ্ট কলামিস্ট প্রশান্ত সাহা, নাট্য ব্যক্তিত্য মলয় কুমার ভৌমিক, রাবি অধ্যাপক ডা. সুজিত সরকার, সংস্কৃতিকর্মী কামারউল্লার সরকার, দীলিপ কুমার ঘোষ, মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহান, রাজনীতিবিদ আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ। এরপর হরতালের সমর্থনে রাস্তায় দেখা মেলেনি গণজাগরণ মঞ্চ ও প্রগতিশীল ১১টি ছাত্র সংগঠনের নেতা কর্মীদের।
এদিকে, হরতালের শুরুতেই নগরীর মাঠ দখলে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ফলে নগরীর কেন্দ্রে পিকেটারদের চোখে পড়েনি। হরতালে গতকাল সকালে রাজশাহী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছাড়েনি। তবে দুপুরের পর থেকে সীমিত আকারে আন্ত:জেলা রুটের বাস চলাচল করেছে। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে আন্ত:নগর, মেইল ও লোকাল ট্রেনের চলাচল ছিল আগের মতোই।
এছাড়া সীমিত আকারে রিকশা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, সিএনজি, হিউম্যান হলার, মিশুক ও টেম্পোসহ সব ধরনের হালকা যানবাহন চলাচল ছিল অনেকটাই স্বাভাবিক। পিকেটিং না থাকায় বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরীতে কিছু কিছু দোকানপাট খুলতে শুরু করে। দুপুরের পর জনজীবন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসে।
এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার এসএম মনির-উজ-জামান জানান, হরতালে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিপুল পরিমাণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া র্যাব-পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া জনগণের জানমাল রক্ষায় যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা কঠোরহস্তে দমন করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, হরতাল চলাকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের থানায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পরে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানায় পুলিশ।
খুলনায় ককটেল বিস্ফোরণ ও পিকেটিং : ককটেল বিস্ফোরণ, বিক্ষোভ মিছিল ও পিকেটিংয়ের মধ্যদিয়ে গতকাল সকাল-সন্ধ্যা হরতাল খুলনায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালিত হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির ও ভাষা সৈনিক অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মিথ্যা রায়ের প্রতিবাদে দেশব্যাপী এ হরতালের ডাক দেয়া হয়। হরতাল চলাকালে খুলনার অফিস-আদালত, ব্যাংক, বীমার প্রধান দরজা বন্ধ ছিল। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিপণিবিতান, শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ ছিল। সীমিত আকারে রিকশা-ভ্যান চললেও কোনো ধরনের যন্ত্রচালিত যানবাহন চলাচল করেনি। লঞ্চ ও ট্রেন নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
দলীয় সূত্র জানায়, সকাল পৌনে ৯টায় খুলনা মহানগরী ছাত্রশিবির নেতা মো. তাসনিমের নেতৃত্বে হরতালের সমর্থনে নগরীর খালিশপুর চিত্রালী সুপার মার্কেটের সামনে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এখানে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এ সময় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সকাল পৌনে ১০টায় মহানগরী ছাত্রশিবির তারিকুর রহমানের নেতৃত্বে নগরীর সোনাডাঙ্গা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় তারা টায়ার ও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ ও বিক্ষোভ করে। এখানে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়।
এদিকে কেন্দ্রঘোষিত মঙ্গলবার হরতালের দ্বিতীয় দিন সকাল-সন্ধ্যা হরতাল সফল করতে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও পিকেটিং করে খুলনা মহানগর জামায়াতে ইসলামী। খালিশপুর থানা আমির কেএম রায়হানুল হকের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও পিকেটিং করেছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মোশাররফ হোসেন, মহিব্বুর রসুল, মুজাহিদুল ইসলাম, মাহবুব বিল্লাহ প্রমুখ। খুলনা সদর থানার সেক্রেটারি মো. অলিউল্লাহর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও পিকেটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন আকরামুজ্জামান রাজা, আবুবকর সিদ্দিক, আবদুল মান্নান, রহমতউল্লাহ, নাজমুস সাকিব, সাব্বির আহমেদ, রুস্তম আলী, তানভীর আহমেদ, গোলাম মোস্তফা প্রমুখ। এছাড়াও নগরীর ডাকবাংলো, সোনাডাঙ্গা, ময়লাপোতা, নতুন রাস্তার মোড়, বৈকালী মোড়, লিবার্টি মোড়, ক্রিসেন্ট মোড়, নিউজপ্রিন্ট মোড়, দৌলতপুর মুহসিন মোড়, ফুলবাড়ী গেট, মানিক তলা, মহসিন মোড় এলাকায় পিকেটিং করা হয়। এসব স্থানে উপস্থিত ছিলেন হাফেজ আবুল বাশার, মাহফুজুর রহমান, আবদুল মান্নান, ইকবাল হোসেন, শামীম আহমেদ, মো. সুজন, মো. আবদুল্লাহ, সাদ্দাম হোসেন, মিনার হোসেন, আবুল হোসেন, শহিদুল ইসলাম, আসলাম হোসেন, সোলায়মান, ইমরান হোসাইন, মোস্তাফিজুর রহমান, নজরুল ইসলাম, রফিক, শাহাজান হোসেন, সাহাদাত হোসাইন, মামুন, হাফিজুর রহমান প্রমুখ।
প্রগতিশীল ছাত্র জোটের বিক্ষোভ মিছিল : খুলনায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে প্রগতিশীল ছাত্র জোট। গণজাগরণ মঞ্চ ও জামায়াতের ডাকা মঙ্গলবারের পাল্টাপাল্টি হরতাল চলাকালে বেলা ১০টা ৪৫ মিনিটে নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ছাত্র ইউনিয়নের খুলনা জেলা সভাপতি অনন্ত মজুমদার। বক্তৃতা করেন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর খুলনা জেলা সভাপতি জিতেন্দ্র চৌধুরী জিতু ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের খুলনা জেলা সভাপতি গৌর রায়। সংহতি প্রকাশ করে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির খুলনা মহানগর সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবু, খুলনা নির্দলীয় গণমঞ্চের সমন্বয়ক সাইফুল ইসলাম বাপ্পী, গণসংহতি খুলনার সমন্বয়ক মুনীর চৌধুরী সোহেল প্রমুখ।
রংপুরে ককটেল বিস্ফোরণ সড়ক অবরোধ আগুন : জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের সাজা বাতিল করে মুক্তির দাবিতে ডাকা হরতালে উত্তরের বিভাগীয় নগরী রংপুরে শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল হয়েছে। হরতালের সমর্থনে সকালে শিবিরকর্মীরা ককটেল বিস্ফোরণ, মহাসড়কে আগুন ও অবরোধ করে। এ সময় তারা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ৭টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় নগরীতে উত্তেজনা বেড়ে যায়। পুলিশি টহল জোরদার ছাড়াও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
হরতালের শুরুতে সকালে নগরীর লালবাগে সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে শিবির নেতাকর্মীরা। এছাড়া রোকেয়া বিশ্ববিদালয়ের ভিসির বাংলোর সামনে টায়ারে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ করে তারা। অন্যদিকে নগরীর রাজা রামমোহন কাবের সামনে ছয়টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় পিকেটাররা।
হরতালে রংপুর মহানগরী থেকে কোনো ভারী ও মাঝারি পরিবহন চলাচল করেনি। দোকানপাট বন্ধ থাকলেও নগরীতে রিকশা-অটোরিকশা চলাচল করেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানি মোড়, গ্র্যান্ড হোটেল মোড়, শাপলা চত্বর, মডার্ন মোড়, সুপার মার্কেট মোড়, ধাপ, ডিসির মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া পুরো নগরীতে দিনভর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, র্যাব, পুলিশ টহল দেয়।
রংপুর জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবীর জানান, হরতালে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ প্রস্তুত আছে।
শৈলকূপায় ১০০ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীর নামে মামলা : ঝিনাইদহের শৈলকূপায় রোববার রাতে হরতালের সমর্থনে ৪টি ট্রাক পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের ৪০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে ১০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সোমবার রাতে কচুয়া ক্যাম্পের আইসি এবারত আলী বাদী হয়ে এ মামলাটি করেন। তবে এ মামলায় পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
শৈলকূপা থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, রোববার রাতে হরতালের সমর্থনে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা শৈলকূপা উপজেলার শেখপাড়া বাজারে পিকেটিং করে। এ সময় তারা মহাসড়কে চলন্ত ৪টি ট্রাক থামিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে মালবাহী ট্রাকগুলো ভস্মীভূত হয়। এছাড়া পিকেটাররা ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়।
বগুড়ায় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ : জামাতের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলাকালে বগুড়ায় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সকাল থেকে মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করে রাখে পিকেটাররা। শহরের প্রধান প্রধান পয়েন্টগুলোতে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে হরতাল সমর্থকরা। মিছিল সমাবেশ করেছে শহরের সাবগ্রাম, চারমাথা, বনানী, মাটিডালীসহ কয়েকটি স্থানে জামায়াত-শিবির। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সদর থানা গেটে, সূত্রাপুর, খান্দার, কলোনি, সাবগ্রাম, সেউজগাড়ী, তিনমাথা, চারমাথা, সাবগ্রাম, কলোনি, বনানীসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ৩-৪টি টেম্পো ভাংচুর করে পিকেটাররা। তবে হতাহতের খরব পাওয়া যায়নি।
এদিকে শহরতলীর শহরদীঘিতে সোমবার গভীর রাতে কে বা কারা ৩০০ মিটারজুড়ে ৭০০ রেললাইনের প্যান্ডেল ক্লিপ খুলে ফেলে। এতে করে রাত ১টা ৪০ মিনিট থেকে রাত ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত রেল চলাচল বন্ধ থাকে। বগুড়া রেলের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন জানান, পরে মেরামত করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
হরতাল ডেকে মাঠে নেই কথিত গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীরা : এদিকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের রায় প্রত্যাখ্যান করে ফাঁসির দাবিতে ডাকা হরতালের সমর্থনে রাজধানীর শাহবাগের বাইরে কথিত গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীদের উল্লেখ করার মতো কোনো কর্মসূচিই লক্ষ্য করা যায়নি।
কেবল বিভাগীয় কয়েকটি শহরে হরতালের পক্ষে সামান্য মিছিল-মিটিং করা হলেও এতেই সীমিত থাকে গণজাগরণ মঞ্চের সকাল-সন্ধ্যা হরতালের কর্মসূচি।
এর মধ্যে চট্টগ্রামে পুলিশ পাহারায় নগরীর প্রেস ক্লাব এলাকায় ২০-২৫ কর্মী নিয়ে হরতালের পক্ষে মিছিল বের করে কথিত গণজাগরণ মঞ্চ। এছাড়া নগরীতে আর কোনো কর্মসূচি দেখা যায়নি গণজাগরণ মঞ্চের।
সিলেটে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা থেকে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা। তবে হরতালের সমর্থনে গণজাগরণ মঞ্চের সারাদিনের কর্মসূচি এতেই সীমাবদ্ধ থাকে।
রাজশাহীতে দুপুর ১২টার দিকে নগরীর আলুপট্টির মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে কথিত গণজাগরণ মঞ্চ ও প্রগতিশীল ১১টি ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তবে এরপর সারাদিন তাদের আর কোনো অস্তিত্ব রাজপথে দেখা যায়নি।
খুলনায় সকাল পৌনে ১১টার দিকে নগরীর পিকচার প্যালেস এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে গণজাগরণ মঞ্চ। মিছিল নগরীর কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
বরিশালে নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হল চত্বর এলাকায় মিছিল বের করে একই মঞ্চের নেতাকর্মীরা। কিছুক্ষণ পর মিছিলটি একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।