Amardesh
আজঃঢাকা, বুধবার ১৭ জুলাই ২০১৩, ২ শ্রাবণ ১৪২০, ০৭ রমজান ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

মুনীর চৌধুরীকে আলবদর বাহিনীর সদস্যরা ধরে নিয়ে যায় : সাক্ষী

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত পলাতক আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মাঈনুদ্দীনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর ছেলে আসিফ মুনীর চৌধুরী (তন্ময়)। জবানবন্দি অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করেছে ট্রাইব্যুনাল। গতকাল চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষী জবানবন্দিতে বলেন, আমার নাম আশিফ মুনীর ওরফে তন্ময়। ১৯৭১ সালে আমি ৪ বছরের শিশু ছিলাম। আমার জন্ম ১৯৬৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর। তিন ভাইয়ের মধ্যে আমি কনিষ্ঠ। তবে মিশুক মুনীর মারা যাওয়ার পরে আমরা দুই ভাই জীবিত। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর আমার বাবা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীকে ঢাকার সেন্ট্রাল রোডের বাসা থেকে আলবদর বাহিনীর সদস্যরা ধরে নিয়ে যায়। সে সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। তিনি বলেন, আমার বড় ভাই ভাষণের বয়স তখন ১৬। সে সময় তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।’
সাক্ষী বলেন, আমার বাবা পঞ্চাশের দশকে বাম রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরে রাজনীতি থেকে সরে আসেন। তত্কালীন পাকিস্তান সরকারের গণবিরোধী নীতি এবং কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন তার লেখায়। তিনি বলেন. বাবা একইসঙ্গে নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, গল্পকার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে নাট্যকার হিসেবেই তিনি বেশি পরিচিতি পেয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সংগঠক হিসেবে কাজ করার জন্য তাকে জেলে যেতে হয়েছে। ১৯৫৩ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লেখা ‘কবর’ নাটকটি জেলখানায় বসেই লেখা।
পারিবারিক সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিতে গিয়ে সাক্ষী বলেন, আমরা তিন ভাই ছিলাম। আমার মেজো ভাই আশফাক মুনীর মিশুক (মিশুক মুনীর)। ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। আমার বড় ভাইয়ের নাম আহমদ মুনীর ভাষণ আমার থেকে ১৬ বছরের বড়। তিনি বর্তমানে জাতিসংঘের আইভরিকোস্টের অফিসে কাজ করছেন।
আসিফ মুনীর জানান, মা লিলি চৌধুরীর বর্তমান বয়স ৮৪। বার্ধক্যের কারণে বর্তমানে তিনি বনানীর বাসাতেই থাকেন। ২০১১ সালে মেজো ভাই মিশুক মুনীর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। যে কারণে কারও সঙ্গে কথা বলার মানসিক অবস্থা তার নেই।
জবানবন্দি গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শাহিদুর রহমান। এর আগে এ মামলার প্রথম সাক্ষী মাসুদা বানু রত্নার জেরা শেষ করেন রাষ্ট্র নিয়োজিত আসামি পক্ষের দুই আইনজীবী আবদুস শুকুর খান এবং সালমা হাই টুনি।