Amardesh
আজঃঢাকা, বুধবার ১৭ জুলাই ২০১৩, ২ শ্রাবণ ১৪২০, ০৭ রমজান ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

পপির অভিনয় নেশা ...

পরের সংবাদ»
নিজের অভিনয় ও গ্ল্যামার দিয়ে দেশীয় চলচ্চিত্রে চিত্রনায়িকা পপি তার সুন্দর একটি অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন অনেক আগেই। এই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এরই মধ্যে তিনি তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি পপি বেশকিছু নাটক ও টেলিফিল্মে কাজ করেও ছোট পর্দার দর্শকদের আকর্ষণ করেছেন। তাকে নিয়ে লিখেছেন অভি মঈনুদ্দীন
উত্তরার ক্ষণিকালয় শুটিং বাড়ির ছাদ। পরিচালক হিমেল আশরাফ দৃশ্য বুঝিয়ে দিচ্ছেন চিত্রনায়িকা পপি ও চঞ্চল চৌধুরীকে। একটু পর সেটে প্রবেশ করলেন পপি ও চঞ্চল। পরিচালকের নির্দেশনা পেয়ে তারা সংলাপ আওড়াতে শুরু করেছেন। কারও মাঝে কোনো জড়তা নেই। প্রথম টেকেই দৃশ্যটি ওকে হলো। এরপর পপির কাছে যেতেই নাটকের গল্প নিয়ে তিনি বললেন, “চঞ্চলের সঙ্গে এটা আমার প্রথম কাজ। নাটকটির শিরোনাম ‘আমি ভালোবাসিনি’। গল্পটা চমত্কার। এমনিতে আমি নাটকে খুব কম কাজ করি। তবে ঈদের সময় একটু বেশি কাজ করতে হয়। কারণ ভালো ভালো পরিচালকের যেমন চাপ থাকে, তেমনি অনেক ভালো ভালো গল্পও মন ছুঁয়ে যায়। অনেক সময় সেসব কাজ এড়িয়ে যেতে পারি না বলেই নাটকে কাজ করি। তাছাড়া এখন চলচ্চিত্রের কাজ যেহেতু একটু কম, তাই সময় করে নাটকে কাজ করার চেষ্টা করি।” পপির এই নাটকটি প্রযোজনা করছেন নাট্যাভিনেত্রী রিচি সোলায়মান। তার ‘নীলাঞ্জনা প্রেডাকশন’ থেকে নাটকটি নির্মিত হয়েছে। এদিকে পপি এরই মধ্যে আরেকটি নাটকেরও কাজ শেষ করেছেন। শুভ পরিচালিত ওই নাটকের নাম ‘নবনীতা তোমার জন্য’। এই নাটকে তার বিপরীতে আছেন চিত্রনায়ক আমিন খান। আমিন খানের সঙ্গে চলচ্চিত্রে পপি প্রথম অভিনয় করেন দীলিপ সোম পরিচালিত ‘তোমার জন্য ভালোবাসা’ ছবিতে। তবে নাটকে এই প্রথম তারা জুটি হয়ে অভিনয় করেছেন। এই সময়ের চলচ্চিত্র নিয়ে পপি বলেন, ‘মাঝে সবার মধ্যে চলচ্চিত্র নিয়ে হতাশা কাজ করলেও সেটা এখন অনেকটাই দূর হয়ে গেছে ডিজিটাল চলচ্চিত্রের সুবাদে। এখন সত্যিই অনেক ভালো ভালো ছবি হচ্ছে। সেসব ছবি আবার দর্শক দেখছেনও হলে গিয়ে। এটা নিশ্চয়ই আমাদের জন্য অনেক পজিটিভ। আমি নিজেও এ ধারার কয়েকটি ছবিতে কাজ করছি। কাজের পরিবেশও এখন অনেক বদলে গেছে। মনে হচ্ছে আমরা আবারও সুদিন ফিরে পাচ্ছি। এটা সত্যিই আমাদের জন্য আনন্দের সংবাদ।’ পপি এই মুহূর্তে কাজ করছেন মুহাম্মদ জাকির খান পরিচালিত ‘চার অক্ষরের ভালোবাসা’ ছবিতে। এতে তিনি অভিনয় করছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌসের বিপরীতে। চলচ্চিত্রে কাজ করা নিয়ে পপির বড় অর্জন হলো তিনি এরই মধ্যে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। কালাম কায়সার পরিচালিত কারাগার, নারগিস আক্তার পরিচালিত মেঘের কোলে রোদ ও ওয়াহিদুজ্জামান ডায়মন্ড পরিচালিত গঙ্গাযাত্রা ছবিতে কাজের জন্য তাকে এই পুরস্কার দেয়া হয়। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া নিয়ে পপি বলেন, ‘কাজের স্বীকৃতি পেতে কার না ভালো লাগে। তবে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী হিসেবে সরকারের কাছ থেকে যে ধরনের সহযোগিতা পাওয়া উচিত তার কোনোকিছুই আমরা পাই না। যদি তাই হয়, তবে এ পুরস্কারের কী মানে আছে!’ সময়ের বিবর্তনে এখনও পপির অভিনয়ের নেশায় হলমুখী হন দর্শক। তার অভিনীত নতুন কিংবা পুরনো কোনো ছবি সিনেমা হলে চলাকালীন তাকে নিয়ে নতুন আলোচনা চলে দর্শকমহলে। এদিকে ভিন্নধারার চরিত্রে অভিনয়ের প্রতি পপির রয়েছে মারাত্মক ঝোঁক। কারণ গত্বাঁধা চরিত্রের চেয়ে ভিন্নধারার চরিত্রে কাজ করতে গিয়ে তিনি নিজেকে ভুলে গিয়ে রূপান্তরিত হন অন্য পপিতে। পপি বললেন, ‘মেঘের কোলে রোদ’ ছবির রোদেলা চরিত্রটিতে ভিন্নতা ছিল। রোদেলার রেশ নিজের মধ্যে অনেক দিন ছিল আমার। আসলে আমার যারা দর্শক, তারা আমাকে একই ধরনের চরিত্রে দেখে অভ্যস্ত নয়। তাই ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের যে ধরনের পজিটিভ প্রতিক্রিয়া পাই, তা আমাকে নতুন ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করতে সাহস জোগায়। যেমনটা পেলাম স্বামী আমার বেহেশত ও গঙ্গা যাত্রা করে।’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মূলধারার ছবির অবস্থান নিয়ে পপি বলেন, ‘আমি মনে করি আমাদের দেশের শতকরা ৯৫ ভাগ ছবি বাণিজ্যিকই হওয়া উচিত। আর ৫ ভাগ হবে অফট্র্যাক ছবি। তবে আমি মনে করি, ছবি ছবিই। অফট্র্যাক কিংবা অন্যকিছু বলে এর মধ্যে বিভাজন তৈরি করা উচিত নয়। দর্শক যেটাকে ভালোভাবে গ্রহণ করে, যে ছবির ভালো ব্যবসা হয়, সেটিই মূলত ভালো ছবি। আর যেসব ছবি একটা নির্দিষ্ট শ্রেণীর দর্শকদের জন্য নির্মাণ করা হয়, অল্প দর্শক হলে গিয়ে তা দেখেন, সেটা ব্যবসায়িকভাবে সফল ছবি নয়। আমি চাই যারা ছবি নির্মাণ করবেন, তারা যেন সব শ্রেণীর দর্শকের জন্য ছবি নির্মাণ করেন। আর এমনভাবে ছবি নির্মাণ করা উচিত, যা শুধু বাংলাদেশের দর্শকই নয়, দেশের বাইরেও যেন এর বাজার তৈরি হয়। সরকারের এ ব্যাপারে যথাযথ লোকদের সহযোগিতা করা উচিত। অন্য দেশের ছবি যদি আমাদের দেশে অবাধে চলতে পারে, তবে কেন আমার দেশের ছবি অন্য দেশের দর্শকের কাছে দেখার মতো হয়ে উঠবে না। তবে কি নির্মাণে আমরা পিছিয়ে আছি। মূলধারার ছবির যারা নির্মাতা, তাদের ছবি নির্মাণের আগে এখন থেকে এই চিন্তা মাথায় রেখে নির্মাণ করা উচিত যে, আমরা যে ছবিটি নির্মাণ করব তা যেন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রদর্শনের উপযোগী হয়। শিল্পীদেরও তাদের অভিনয়ের প্রতি মনোযোগী হওয়া উচিত।’ নাটকে অভিনয়ের আগে অনেকেই মঞ্চ থেকে অভিনয় শিখে আসেন। কিন্তু চলচ্চিত্রে যারা কাজ করছেন, তাদের বেশির ভাগেরই এ শিক্ষাটা নেই। এ প্রসঙ্গে পপি বলেন, ‘চলচ্চিত্রে কাজ করার আগে অভিনয়ের বিভিন্ন দিক কিছুটা হলেও জানা জরুরি। স্কুলে না পড়ে যেমন কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া সম্ভব নয়, তেমনি মঞ্চে কাজ করা ছাড়া বড় পরিসরে ভালো অভিনয় করা সম্ভব নয়। বাইরের দেশগুলোতে চলচ্চিত্রে আসার আগে তাদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা দেয়া হয়। আর আমাদের দেশে চেহারা ভালো, মিষ্টি করে কথা বলে, তাতেই ছবির নায়িকা হিসেবে কাস্ট হয়ে যান। কিন্তু এভাবে আর কতদিন। তাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাটা জরুরি।’ দেশীয় চলচ্চিত্রের সব শিল্পীর অভিনয়ই পপির ভালো লাগে। কারণ একেকজনের কাছে পপি একেক রকম অভিনয় বৈচিত্র্য খুঁজে পান। তবে কাউকেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করেন না। পপি বলেন, ‘অভিনয়ের দৌড়ে এক, দুই কিংবা তিন হতে হবে—এমন ভাবনা কখনোই ভাবিনি। আমি মনে করি, আমি একজন শিল্পী। আর এটাই আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়। একজন গুণী শিল্পীর প্রতিযোগিতা করার দরকার হয় না। তার অভিনয় ভালো হলে দর্শক এমনিতেই তাকে গ্রহণ করবেন।’ কাজের বাইরে অবসরের সময়গুলো পপি একান্ত নিজের মতো করে কাটান। অবসরে পরিবারকেই সময় দিতে বেশি পছন্দ করেন তিনি। তার প্রায়ই মনে পড়ে স্কুলজীবনের বন্ধু শাবানা, শিমু আর শিউলীকে।
ছবি : আলিফ হোসেন রিফাত