Amardesh
আজঃঢাকা, বুধবার ১৭ জুলাই ২০১৩, ২ শ্রাবণ ১৪২০, ০৭ রমজান ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

নবীর দেশে রমজান

রোকন রাইয়ান
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
আমাদের দেশে যখন রমজান এলেই ব্যবসায়ীরা খুলে বসেন দাম বাড়ানোর ক্যালকুলেটর, ঠিক উল্টোটিই দেখা যায় নবীর দেশ সৌদি আরবে। সেখানে রমজান উপলক্ষে বিভিন্ন কোম্পানির থাকে বিশেষ ছাড়। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য থাকে হাতের নাগালে। আর ক্রয়-অক্ষম মানুষদের জন্য বাদশার পক্ষ থেকে দেয়া হয় গিফট বক্স। যাতে থাকে তেল-চিনি-দুধসহ অন্যান্য দ্রব্য। মহিমান্বিত রমজান মাস পালনে সৌদিতে মাস দুয়েক আগ থেকে চলে প্রস্তুতি। একে অপরে দেখা হলেই ‘শাহরু আলাইকা মুবারাকা’ (রমজান তোমার জন্য বরকতময় হোক) বলে কুশল বিনিময় করেন। রমজানে এদেশে ব্যাপকভাবে চলে দাওয়াতি কাজ। রমজান শুরুর আগে থেকেই বিভিন্নভাবে অনেকে নিজেদের দাওয়াতি কাজে নিয়োজিত করেন। নানা রকম হ্যান্ডবিল, লিফলেট, বই, সহিহ হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত সকাল-সন্ধ্যার দোয়ার ছোট কার্ড ইত্যাদি ছাপিয়ে মসজিদে মসজিদে বিতরণ করে থাকেন। এটি চলতে থাকে পুরো রমজান জুড়েই। বিভিন্ন বিষয়বস্তু নিয়ে এসব ছাপা হয়। যেমন রমজানের ফজিলত, রোজার ফজিলত, রমজানের গুরুত্বপূর্ণ আমল ইত্যাদি। ঈদ কাছাকাছি চলে এলে জাকাতের আহকাম, রমজান শেষের করণীয় ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বের হয় বই-পুস্তক। মজার ব্যাপার হলো, এসব কাজ কেবল বড় ব্যবসায়ীরা করেন এমন নয়। বরং একেবারে সাধারণ মানুষরাই এ কাজগুলো করে থাকেন। রমজান শুরু হওয়ার সপ্তাহ-দশদিন আগে থেকেই এখানে রাস্তার পাশে কিংবা বাজার-মার্কেটে শোভা পায় সারি সারি তাঁবু। অনেকগুলো আবার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। রোজাদারদের ইফতার করানোর জন্যই তৈরি করা হয় এসব। তাঁবুগুলোতে ব্যবস্থা করা হয় সর্বোত্কৃষ্টতম ইফতারের। খেজুর, বোতলজাত পানি, জুস, মাঠা, ফল, কফি, চিকেন বিরিয়ানি, এলাকাভিত্তিক ঘরোয়া খাবার ইত্যাদি। একেক তাঁবুতে শ’ থেকে শুরু করে হাজারেরও অধিক রোজাদার ইফতার করে থাকেন। বিভিন্ন তাঁবুতে আবার আয়োজন করা হয় প্রতিযোগিতার। যেখানে পুরস্কারের ব্যবস্থা হিসেবে ওমরায় যাওয়ার টিকিট ইত্যাদি থাকে। এছাড়া মসজিদগুলোতেও ব্যবস্থা থাকে উন্নত ইফতারির। সংখ্যায় গুটিকয়েক মসজিদ পাওয়া যাবে যেখানে ইফতারের ব্যবস্থা থাকে না। অনেকে মানুষকে দাওয়াত দিয়ে থাকেন নিজ এলাকায় ইফতার করার জন্য। পুরো রমজান মাসে ভিনদেশি শ্রমিকদের ইফতার বা সাহরি কখনও কিনতে হয় না। এসব কাজ পুরোপুরি নিজস্ব উদ্যোগেই হয়ে থাকে। এতে সরকারের কোনো হাস্তক্ষেপও থাকে না। সবচেয়ে আশ্চর্যের কথা হলো, যারা এ কাজগুলোর অর্থ জোগানদাতা তাদের কেউ চেনে না, কেউ জানে না কে তাদের ইফতার করাচ্ছে! এর উদ্দেশ্য একটাই। তারা কোনো বাহ্বা পেতে বা নামের জন্য এ কাজ করছে না। শুধু আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতেই তাদের এই প্রচেষ্টা। যা আমাদের দেশে একেবারেই বিরল। রমজান এলেই এখানে দান-খয়রাত অত্যধিক পরিমাণে বেড়ে যায়। এখানকার মানুষ ব্যক্তিগতভাবে এবং বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে বেশি পরিমাণ দান করেন। দানের সময় শর্ত জুড়ে দেন যেন তার নাম প্রকাশ না হয় এবং রসিদ নেয়ার সময় রসিদে নাম পর্যন্ত লিখান না। লেখা হয় একজন দাতা।
লেখক : তরুণ আাালেম, প্রাবন্ধিক