Amardesh
আজঃঢাকা, বুধবার ১৭ জুলাই ২০১৩, ২ শ্রাবণ ১৪২০, ০৭ রমজান ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

মিসরকে বিনামূল্যে তেল সহায়তা দিল কুয়েত : কায়রোর রাস্তায় ফের সংঘর্ষ

বিবিসি, রয়টার্স, এএফপি
পরের সংবাদ»
গতকাল ভোরে মুরসি সমর্থকরা নীল নদের সেতু অবরোধের চেষ্টাকালে স্থানীয় বাসিন্দারা উত্তেজিত হয়ে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এর ধারাবাহিকতায় মুরসি সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশেরও সংঘর্ষ হয়। এর আগে, সোমবার রাতে মুরসি সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে আহত হয় ২৪ জন। সোমবার শত শত বিক্ষোভকারী ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির মুক্তির দাবিতে মিছিল বের করলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করলে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে পুলিশসহ ২৪ জন আহত হয়। আহতদের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
মিসর সফররত মার্কিন দূত উইলিয়াম বার্নসের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতাদের বৈঠকের পরপরই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বার্নস এসব বৈঠকে মিসরের নেতাদের জানান, যুক্তরাষ্ট্র জনমতের ওপর সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। তারা মিসরের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কোনো দল বা নেতার প্রতি সমর্থন জানাবে না। মিসরে কীভাবে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা যায় শুধু সে ব্যাপারে কায়রোকে সহযোগিতা করে যাবে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট মুরসিকে মুক্তি দিতে মিসরের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়। গত ৪ জুলাই মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটিতে এটাই প্রথম কোনো মার্কিন কর্মকর্তার সফর। বার্নসের এ বৈঠকের পরপরই মুরসি সমর্থকরা রাজপথে নেমে তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। তবে সোমবারের এ সংঘর্ষে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত সপ্তাহে মুরসি সমর্থকদের সমাবেশে সেনাবাহিনীর গুলিতে ৫৩ জন নিহত হয়। আর এ ঘটনার পর আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মিসরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। তবে এবারের সংঘর্ষ আগের মতো ব্যাপক ছিল না। ছোট ছোট এই সংঘর্ষের ঘটনাগুলো স্থানীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ ছিল। কায়রোর অধিকাংশ এলাকাতে এসব সংঘর্ষের কোনো প্রভাব পড়েনি। গত ৩ জুলাই মিসরের ইতিহাসে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মুরসিকে সেনাবাহিনী ক্ষমতাচ্যুত করে। পরে এর জের ধরে সৃষ্ট ব্যাপক সংঘর্ষে ৯২ জন নিহত হয়। এরপর এক সপ্তাহ মোটামুটি শান্ত থাকার পর আবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। কায়রোর অন্যতম পর্যটন এলাকা মিসরীয় জাদুঘরের সামনেও সংঘর্ষ হয়।
কাঁদানে গ্যাস থেকে রক্ষা পেতে মুখ বেঁধে তরুণ-যুবকরা পুলিশের দিকে পাথর নিক্ষেপ করে মুরসির পক্ষে স্লোগান দিচ্ছিল, মাঝে মাঝে ‘আল্লাহু আকবর’ও বলছিল তারা। ৩০ জুনের মুরসিবিরোধী যে সমাবেশের জের ধরে সেনাবাহিনী নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করে, তাতে অংশগ্রহণকারী অনেকেই চলতি পরিস্থিতিতে হতাশ। সেনাবাহিনীর দাবি, জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলনে মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে; এর বিপরীতে মুরসি সমর্থক মুসলিম ব্রাদারহুডের দাবি, পরিস্থিতির সুযোগে সেনা অভ্যুত্থান ঘটানো হয়েছে। এ বিষয়ে ৩৪ বছর বয়সী কম্পিউটার প্রকৌশলী আলা আল দিন বলেন, ‘সেনাবাহিনী জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।’
এদিকে মিসরের ভঙ্গুর অর্থনীতি চাঙ্গা করার জন্য দেশটিকে বিনামূল্যে ২০ কোটি ডলার দামের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল দিয়েছে কুয়েত। মিসরের সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর দেশটির অর্থনীতি শক্তিশালী করার নামে কুয়েত ৪০০ কোটি ডলার অর্থ সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে; এ তেল তারই অংশ। কুয়েতের একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে আল-রায় পত্রিকা জানিয়েছে, প্রায় এক লাখ টন ডিজেল এবং ১১ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে দুটি ট্যাঙ্কার মিসরের বন্দরে ভিড়েছে। গত বুধবার কুয়েতের আমির ঘোষণা করেন, মিসরকে জরুরি সহায়তা হিসেবে ৪০০ কোটি ডলার অর্থ সহায়তা দেয়া হবে। এর মধ্যে অর্ধেক অর্থ জমা থাকবে মিসরের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এবং বাকি অর্থের মধ্যে ১০০ কোটি ডলার নগদ দেয়া হবে মিসর সরকারকে আর বাকি ১০০ কোটি ডলার দামের জ্বালানি তেল ও তেলজাত পণ্য দেয়া হবে।
কুয়েতের প্রতিবেশী সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতও মিসরকে অর্থ সহায়তা দেয়ার কথা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে সৌদি আরব দেবে ৫০০ কোটি ডলার এবং আরব আমিরাত দেবে ৩০০ কোটি ডলার। প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে চলতি মাসের প্রথম দিকে সেনাবাহিনী উত্খাত করার পর আরব এ তিন দেশ সব মিলিয়ে মিসরের সেনাসমর্থিত সরকারকে ১২০০ কোটি ডলার অর্থ সহায়তা করার ঘোষণা দিয়েছে।