Amardesh
আজঃঢাকা, সোমবার ০১ জুলাই ২০১৩, ১৭ আষাঢ় ১৪২০, ২১ শাবান ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

বামনায় ১২৪ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত

নির্ঝর কান্তি বিশ্বাস ননী, বামনা (বরগুনা)
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
বরগুনার বামনা উপজেলা সদরের সারওয়ারজান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২০১৩ সালের এসএসসি ও ভোকেশনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১২৪ জন শিক্ষার্থীর ট্রান্সক্রিপ্ট ও প্রশংসাপত্র আটকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এসএসসি উত্তীর্ণ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানটির সদ্য অনুমোদন করা কলেজ শাখায় জবরদস্তি ভর্তির জন্য ১২৪ শিক্ষার্থীর কাগজপত্র আটকে রেখেছে। গতকাল সকাল ১১টায় ভুক্তভোগী শতাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ওই প্রতিষ্ঠানের বারান্দায় অবস্থান নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অভিযোগ করেন স্কুল কর্তৃপক্ষ ১২৪ জন এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর ট্রান্সক্রিপ্ট ও প্রশংসাপত্র আটকে রেখেছে, যাতে তারা অন্য কোথাও ভর্তির সুযোগ না পায়। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. মিজানুর রহমান লিখিত বক্তব্য পাঠ করে। অভিযোগে বলা হয়, বামনা সদরের সারওয়ারজান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২০১৩ সালের এসএসসি ও ভোকেশনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১২৪ জন শিক্ষার্থী এসএমএসের মাধ্যমে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার জন্য আবেদন করে। তাদের মধ্যে ৬১ জন শিক্ষার্থীর নাম ভালো কলেজের ভর্তি তালিকায় প্রকাশিত হয়। ওই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সারওয়ারজান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের ট্রান্সক্রিপ্ট ও প্রশংসাপত্র উত্তোলন করতে গেলে টালবাহানা শুরু করে। শিক্ষককরা শিক্ষার্থীদের সাফ জানিয়ে দেন কাগজপত্র দেয়া হবে না, কেননা সবাইকে এই প্রতিষ্ঠানের কলেজ শাখায় বাধ্যতামূলক ভর্তি হতে হবে। এমনকি কলেজ শাখায় ভর্তি হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের চাপ প্রয়োগ করে। ভালো কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের গতকাল ভর্তির শেষ তারিখ ছিল। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কাগজপত্র না দেয়ায় তারা ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। এতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. নাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে, সে এবার ওই প্রতিষ্ঠান থেকে মানবিক বিভাগে সন্তোষজনক ফলাফল করে উত্তীর্ণ হয়। ভালো একটি কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন করে সে ভর্তির সুযোগ পায়। ভর্তির জন্য স্কুল থেকে কাগজপত্র উত্তোলনের জন্য গেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ কাগজপত্র আটকে রাখে। কর্তৃপক্ষ বাধ্যতামূলক ওই স্কুলে সদ্য অনুমোদন করা কলেজ শাখায় ভর্তির জন্য চাপ দেয়। গতকাল ভর্তির শেষ তারিখ থাকলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ সব শিক্ষার্থীর কাগজপত্র আটকে রাখায় সে পছন্দমত ভালো কলেজে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। এ ব্যাপারে বামনা সদরের পশ্চিম শফিপুর গ্রামের বাসিন্দা অভিভাবক তপন কুমার দাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওই স্কুলের নতুন খোলা কলেজ শাখায় কোনো শিক্ষক নেই।
সেখানে আমার ছেলে কোন ভবিষ্যতের আশায় ভর্তি হবে। জবরদস্তি ছেলের কাগজপত্র আটকে রাখায় আমার ছেলে শিক্ষাজীবন নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছে। এর প্রতিকার চাই।
সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল কাদের ফরাজী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি এ বিষয়টি কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারভুক্ত বলে পরে কথা বলার জন্য অনুরোধ করেন।
এ বিষয়ে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. বিমল কৃষ্ণ মজুমদার বলেন, শিক্ষার্থীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে কোনো প্রতিষ্ঠান ভর্তি করাতে পারে না। এটা বেআইনি। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।