Amardesh
আজঃঢাকা, সোমবার ০১ জুলাই ২০১৩, ১৭ আষাঢ় ১৪২০, ২১ শাবান ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

আমের বাজারে ধস বিপাকে ব্যবসায়ীরা

এইচএম শাহনেওয়াজ, পুঠিয়া (রাজশাহী)
পরের সংবাদ»
চলতি বছর রাজশাহীর পুঠিয়ায় আমের আড়তগুলোতে কেনাবেচায় ব্যাপক ধস নেমে আসায় মহাবিপাকে পড়েছেন স্থানীয় আম বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। আমে মড়ক, অসাধু ব্যবসায়ীদের আমে মানবদেহের ক্ষতিকারক ওষুধ প্রয়োগ এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের আম ক্রয়ে অপারগতা প্রকাশ করায় এ বছর প্রায় ১০ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ বছর ফজলি আম বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ মাত্র ১ হাজার ১শ’ থেকে ১ হাজার ২শ’ টাকা, আশ্বিনী ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকা। এছাড়া ল্যাংড়া বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ১ হাজার ৪শ’ ৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ৬শ’ টাকা দরে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, নতুন ও পুরনো মিলে এ বছর প্রায় সাড়ে ৮শ’ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ হেক্টর বেশি। গত মৌসুমে আমের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল সাড়ে ৪ হাজার মে. টন এবং উত্পাদন হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মে. টন আম। এ বছর বেশিরভাগ বাগানে আম দেখা দেয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকূল বিরাজ করায় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মে. টন আম। কিন্তু চলতি মৌসুমের শুরু থেকে আমে বিভিন্ন ধরনের মড়ক দেখা দিয়েছে। অপর দিকে বেশি লাভের আশায় এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে অপরিপকস্ফ আমের রং ভালো করতে মেশিয়েছে বিষাক্ত কার্বাইড এবং রাইপেনসহ বিভিন্ন ওষুধ। এছাড়া আম পাকা ও পচন রোধ করতে বর্তমানে ব্যবহার করছে ফরমালিন। সাধারণ আম বাগান মালিকরা ধারণা করছেন এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই নষ্ট হয়ে যাবে রাজশাহীর আমের কদর।
উপজেলার বৃহত্ আম আড়ত বানেশ্বর, বিড়ালদহ, শাহাবাজপুর, ধোপাপাড়া ঘুরে দেখা গেছে, আম ক্রেতা-বিক্রেতাদের চরম দুর্ভোগ। আমবাগান মালিক আমজাদ আলী ও সাজেদুর রহমান জানান, বিগত বছরের তুলনায় এ বছর আমে রেকর্ড পরিমাণ দর পতন ঘটেছে। আমের আড়তগুলোতে পর্যাপ্ত ক্রেতা না থাকায় এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে আম নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এতে চলতি বছর আমাদের বাগানগুলোতে প্রায় ২৫ লক্ষাধিক টাকা লোকসান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমের দাম কম থাকায় আগামী বছরের জন্য নতুন করে আমবাগান (পাতা) কেনাবেচা হচ্ছে না। এতে আমাদের মতো অনেক বাগান মালিক ক্ষতির শিকার হবেন। বানেশ্বর আম আড়তদার বজলুর রহমান জানান, এ বছরের প্রথম থেকে নাটোরে অবস্থিত প্রাণ অ্যাগ্রো কোং পর্যাপ্ত আম ক্রয় করেনি। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উত্পাদনের চেয়ে আমের চাহিদা অনেক কম। যার ফলে আমের দাম বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেকাংশে কম হয়েছে। আমের ব্যাপক দরপতন হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে এবার আম ব্যবসায়ী ও চাষীদের প্রায় ১০ কোটি টাকার বেশি লোকসান হবে।