Amardesh
আজঃঢাকা, সোমবার ০১ জুলাই ২০১৩, ১৭ আষাঢ় ১৪২০, ২১ শাবান ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

আশুলিয়ায় ময়লা পানি পানে ৩ শতাধিক গার্মেন্ট শ্রমিক অসুস্থ

সাভার প্রতিনিধি
পরের সংবাদ»
শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় আবারও বিজিএমইএ’র সভাপতি আতিকুল ইসলামের মালিকানাধীন দি রোজ ড্রেসেস লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সাপ্লাই করা ময়লা পানি পান করে ৩ শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়। অসুস্থ শ্রমিকদের গতকাল সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র, নাইটিঙ্গেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পপার জেনারেল হাসপাতাল, সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। কারখানাটির শ্রমিকরা জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় ওভারটাইম করার মুহূর্তে কারখানার পরিবেশিত টিফিন কলা, রুটি, ডিম ও কেক খেয়ে ৫ শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিত্সা নিয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার শ্রমিকদের দাবিতে কারখানা কর্তৃপক্ষ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ও শ্রমিকদের বিশ্রাম দিতে শনিবার ছুটি ঘোষণা করে। গতকাল কারখানাটির সাড়ে ৬ হাজার শ্রমিক সকাল ৮টায় কারখানায় কাজে যোগদান করে। এ সময় কাজে যোগদানরত শ্রমিকদের কিছু অংশ কারখানার সাপ্লাই করা পানি পান করে। ঘণ্টা খানেকের ব্যবধানে পানি পান করা শ্রমিকদের মধ্যে বমি, পেটে ব্যথা ও খিঁচুনি দেখা দেয় এবং তারা চিত্কার করতে থাকে। শ্রমিকদের এ অবস্থায় কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে চিকিত্সার জন্য পাঠায়। অসুস্থ শ্রমিক মামুন, নাসরিন, আলেয়া, ফাতেমাসহ আরও অনেকে জানান, গতকাল সকালে কাজে যোগ দিয়ে তারা কারখানার পানি পান করে উত্পাদন শুরু করেন। পানি পানের প্রায় ঘণ্টাখানিক পর পেটে ব্যথা অনুভব হয় আর বমি শুরু হয়। হাত-পায়ের রগ টান টান অনুভব হয়। অনেকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিত্সক সুরজিত শাহা ও আরিফুর রহমান নয়ন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পানি পানের কারণেই শ্রমিকরা অসুস্থ হয়েছে।
পানিতে কোনো ধরনের বিষাক্ত কেমিক্যাল ছিল কিনা তা পরীক্ষা ছাড়া কিছু বলা যাবে না। দি রোজ ড্রেসেস’র ব্যবস্থাপক সাধন চন্দ্র জানান, বৃহস্পতিবার রাতে টিফিন খেয়ে শতাধিক অসুস্থের পর গতকাল সকালে হঠাত্ করে কয়েক শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি জানান, অসুস্থ শ্রমিকদের মধ্যে নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১৪৫ জন, নাইটিঙ্গেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮০ জন, ল্যাব ওয়ান ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ১২ জন, ডক্টরস হাসপাতালে ২০ জন, পপার জেনারেল হাসপাতালে ২০ জন ও সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ জনকে চিকিত্সার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। কারখানার পানির নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকার মহাখালী কলেরা হাসপাতালের (আইসি ডিডিআরবি’তে) পাঠানো হয়েছে। কারখানাটি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ বদরুল আলম বলেন, শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালগুলোতে চিকিত্সা নিচ্ছে। তাদের তথ্যমতে কারখানার পানিতে বিষাক্ত কিছু রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হতে পানির নমুনা পরীক্ষার জন্য বিএসটিআই-তে পাঠানো হয়েছে। কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত জেলা পুলিশসহ শিল্প পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কারখানাটি পরিদর্শনে এসপি সার্কেল রাশেল শেখ, শিল্প পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছে। তবে কারখানাটিতে গত ৩ দিনের পৃথক দুটি ঘটনায় গতকাল কর্তৃপক্ষের কেউ এ ব্যাপারে কোনো প্রকার মন্তব্য করতে রাজী হননি।