Amardesh
আজঃঢাকা, সোমবার ০১ জুলাই ২০১৩, ১৭ আষাঢ় ১৪২০, ২১ শাবান ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

তিন দফা দাবিতে সড়ক ও নৌপথ অবরোধ পালিত : খাগড়াছড়িতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাসে গুলি আহত অর্ধশত

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
নৈশকোচে গুলি, গাড়ি ভাংচুর, গম বোঝাই ট্রাকে অগ্নিসংযোগ ও বিক্ষিপ্ত ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যদিয়ে খাগড়াছড়িতে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
গতকাল দুপুর পৌনে ১২টার দিকে শহরতলীর দক্ষিণ খবংপুড়িয়া এলাকায় পুলিশের সঙ্গে অবরোধ আহ্বানকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পিকেটাররা ইট-পাটকেল গুলতি ছুড়লে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড ফাঁকা রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছুড়ে জবাব দেয়। এতে ৬ জন পুলিশসহ অন্তত অর্ধশত আহত হয়। আহতদের মধ্যে দক্ষিণ খবংপুড়িয়া গ্রামের চঞ্চলা চাকমা (৪৭) নামের একজন নারী গুলিবিদ্ধ হন। তাকে খাগড়াছড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পুলিশ প্রহরায় খাগড়াছড়িতে নৈশকোচ শহরে নিয়ে আসার সময় ফায়ার সার্ভিস এলাকায় পিকেটাররা হামলা করে ব্যাপক ভাংচুর শুরু করে। পুলিশ বাধা দিলে ইট-পাটকেল, মারবেল পাথর দিয়ে গুলতি নিক্ষেপ করতে থাকে। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে পিকেটারদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এ সময় ৯৪ রাউন্ড রাবার বুলেট এবং ২৫ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
খাগড়াছড়ির সহকারী পুলিশ সুপার জয়নুল আবেদীন জানান, বিভিন্ন স্থানে অবরোধকারীরা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। এসব ঘটনায় ২০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সেক্রেটারি মাইকেল চাকমা জানান, পুলিশ বিনা উসকানিতে পাহাড়ি গ্রামে হামলা চালিয়েছে। এতে চঞ্চলা চাকমা, কনি চাকমা, শ্যামলী চাকমাসহ ৬ জন আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃষ্টি উপেক্ষা করে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন উপজেলায় ভোর থেকে পিকেটিং শুরু করে পিকেটাররা। সকালে খাগড়াছড়ি শহরের কয়েকটি স্থানে টায়ারে আগুন দেয়ার চেষ্টা করা হলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। টায়ারে আগুন দেয়া নিয়ে পিকেটারদের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডাও হয়। পিকেটারদের হামলার শিকার হন এক পিকেটার।
অবরোধের কারণে দূরপাল্লার ও অভ্যন্তরীণ সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল ছিল। জেলার বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পাহাড়ি সংগঠনটি সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলসহ তিন দফা দাবিতে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলায় সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ ডাকে। তাদের অপর দুটি হলো- রাঙামাটিতে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘোষণার নামে অবৈধ ভূমি বেদখল প্রক্রিয়া বন্ধ করা ও রামগড়ের মেহ্লাপ্রু কার্বারিপাড়া থেকে ৫০ পাহাড়ি পরিবারকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র বন্ধ করা।