Amardesh
আজঃঢাকা, সোমবার ০১ জুলাই ২০১৩, ১৭ আষাঢ় ১৪২০, ২১ শাবান ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

অর্থনীতি আরও ভালো হলে শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক হবে : প্রধানমন্ত্রী

বাসস
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অর্থনীতি আরও ভালো হলে আগামীতে দেশে শিক্ষা সম্পূর্ণভাবে অবৈতনিক করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল তার তেজগাঁও কার্যালয়ে গ্র্যাজুয়েট ও সমমানের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রথমবারের মতো গঠিত শিক্ষা ট্রাস্ট ফান্ড থেকে ছাত্রীদের মাঝে উপবৃত্তি প্রদানকালে একথা বলেন।
জাতিকে ক্ষুধামুক্ত করতে শিক্ষিত যুব সম্প্রদায়ই মূল শক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষিত জাতি বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।
শেখ হাসিনা বলেন, অভিভাবকদের অসচ্ছলতার জন্য শিক্ষার ব্যয় বহন করতে কিংবা বই কিনতে না পারায় কোনো শিক্ষার্থীর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে—একথা আর আমরা শুনতে চাই না। ছাত্রীদের হাতে চেক তুলে দেয়ার সুযোগ পাওয়ায় গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে সহায়তা করার ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে তিনি দীর্ঘদিন থেকে চিন্তা-ভাবনা করছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীদের সহায়তা দিতে সরকার এই ফান্ড গঠনে ১ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। এই ফান্ডের অর্থের লভ্যাংশ থেকে ১ লাখ ৩৩ হাজার ছাত্রীকে ৭৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা দেয়া হবে। একজন ছাত্রী বছরে ৪ হাজার ৯০০ টাকা বৃত্তি পাবে। এর মধ্যে রয়েছে মাসিক ২শ’ টাকা, পরীক্ষার ফি ১ হাজার টাকা ও বই কেনার জন্য দেড় হাজার টাকা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীতে ছাত্ররাও এই তহবিল থেকে বৃত্তি পাবে।
অন্যান্যের মধ্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, শিক্ষা সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ও ফান্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকবাল খান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকারের পূর্ববর্তী মেয়াদে পর্যায়ক্রমে সব জেলা নিরক্ষরতামুক্ত করার প্রকল্প নেয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে বিএনপি ক্ষমতায় এসে কমিউনিটি হেলথ কেয়ারসহ দেশের মঙ্গলের জন্য নেয়া এই প্রকল্পটিও বন্ধ করে দেয়। কিন্তু এবার আমরা এমন ব্যবস্থা করতে চাই যা পরবর্তী সরকার বাতিল করে দিতে পারবে না।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কট সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুর সরকার প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক এবং ছাত্রীদের জন্য অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে জেনেছি ও তার কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছি।’
প্রাথমিকভাবে এই ফান্ডে ১ হাজার কোটি টাকা দেয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দানশীল ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের প্রতি এতে সহায়তা দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই তহবিলে অনুদানকারীরা কর রেয়াত পাবেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রীদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে উপবৃত্তিসহ অবৈতনিক শিক্ষাব্যবস্থা করতে তার সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, নারীশিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সার্বিক ক্ষমতায়নে এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। এই তহবিল আরও বড় হবে এবং এতে আরও অর্থ জমা হবে। তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সহায়তায় আগামীতে আমরা এই ফান্ড আরও বড় করতে সক্ষম হবো।