Amardesh
আজঃঢাকা, সোমবার ০১ জুলাই ২০১৩, ১৭ আষাঢ় ১৪২০, ২১ শাবান ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষক হলে আমি মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক দাবি করতে পারি - সা. কাদের চৌধুরী : তিন সাফাই সাক্ষীর নামে সমন জারি

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী গতকাল সপ্তম দিনের মতো তার অসমাপ্ত জবানবন্দি দিয়েছেন। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী জবানবন্দিতে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে বলেন, সে সময় তার ধানমন্ডির বাসায় নিয়মিত আসতেন শেখ কামাল, তোফায়েল আহমেদ, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, সিরাজুল আলম খান, আবদুল কুদ্দুস মাখন, সালমান এফ রহমান, শাজাহান সিরাজসহ আরও অনেকে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে আসাদকে যখন হত্যা করা হয়, তখন তার ১০ ফুট দূরত্বের মধ্যে ছিলেন বলে দাবি করেছেন বহুল আলোচিত এ সংসদ সদস্য। বলেছেন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানের ঐতিহাসিক সমাবেশেও অংশ নিয়েছিলাম। ওই সমাবেশে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাকে স্বাধীনতার ঘোষণা বলে দাবি করা হয়ে থাকে। যদি তা-ই হয়, তাহলে দাবি করতে পারি আমি মুক্তিযুদ্ধের একজন সমর্থক ছিলাম।
এদিকে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিতে তিনজন সাক্ষীর নামে সমন (তলবনামা) জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল। এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, সাবেক প্রধান বিচারপতি মাঈনুর রেজা চৌধুরীর ভাই এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য কাইয়ুম রেজা চৌধুরী ও নিজাম আহমেদের নামে এ সমন দেয়া হয়। তবে অপর সাফাই সাক্ষী বিচারপতি শামীম হাসনাইন সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক হওয়ায় তার নামে সমন জারি করেনি ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেয়।
পরে সপ্তম দিনের মতো জবানবন্দি দেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী। সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরা এই বিএনপি নেতাকে এ সময় অসুস্থ দেখাচ্ছিল। বেশ কয়েকবার তিনি বসে পড়েন। পরে দুপুরে তার আবেদনে আজ পর্যন্ত সাক্ষ্য গ্রহণ মুলতবি করা হয়। আজকের মধ্যে জবানবন্দি শেষ করতে তাকে তাগাদা দেয়া হয়েছে।
গতকালের জবানবন্দিতে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত আমি ঢাকায় বাস করতাম। যেহেতু ঢাকায় আমাদের কোনো ড্রাইভার ছিল না, সে কারণে আমরা পিতার বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমিই গাড়ি ড্রাইভ করতাম। আমার ধানমন্ডির বাড়িটি আমার কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের আড্ডাখানা ছিল। আমার জানামতে, আমিই একমাত্র ছাত্র ছিলাম, যে ধানমন্ডিতে একাকী একটি বাড়িতে বাস করতো এবং তার একটি গাড়ি ছিল। আমার পিতা চট্টগ্রামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন। এমএলএ, এমএনএ, মন্ত্রিসভার সদস্য, স্পিকার এবং ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার পিতার কর্মকাণ্ডের স্বাক্ষর আজও বহন করছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমি প্রভৃতি। ১৯৬০ সালে যখন আমি ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম, তখন থেকে আমি নিজস্ব পদ্ধতির জীবনযাপন করতাম যা আমার পুরো শিক্ষাজীবনেই বহাল ছিল। যার মধ্যে সাদিক পাবলিক স্কুল, নটর ডেম কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময় অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৬৫ সালের শেষ এবং ’৬৬ সালের শুরুর চার মাস সময়, যখন আমি প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলাম সে সময় ছাড়া ’৬৬ সাল থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত আমি কখনোই চট্টগ্রামে আমার পারিবারিক বাসভবন গুডস হিলে বাস করিনি। চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার সামাজিক যোগাযোগের পুরোটাই ১৯৭৪ সালের পরের। ১৯৭৯ সালের আগে চট্টগ্রামের ভোটার তালিকায়ও আমার নাম ছিল না। ১৯৬৬ সালের শুরুর দিকে আমার পিতা যখন মুসলিম লীগ থেকে বহিষ্কার হন, তখন থেকে ’৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি গণপরিষদের একজন স্বতন্ত্র সদস্য ছিলেন। এ সময় তিনি আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন, যে আন্দোলনের ফলে আইয়ুব শাসনের সমাপ্তি হয়। এ সময় সাধারণভাবেই তার যোগাযোগ ছিল মুসলিম লীগার নন এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিচারপতি মাহবুব মোর্শেদ, এয়ার ভাইস মার্শাল আসগার খান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, নওয়াবজাদা নসরুল্লাহ খান, নুরুল আমীন, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ এবং ছাত্র ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে তখন আমার ঘনিষ্ঠতা ছিল। যদিও আমি নিজে কখনও কোনো ছাত্রসংগঠনের সদস্য ছিলাম না। আমার বন্ধুদের সঙ্গে ’৬৯ সালে আমি আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলাম। সে আন্দোলনের একটি ধানমন্ডি অধ্যায়ও ছিল। তারা প্রায়ই আমার ধানমন্ডির বাসায় মিলিত হতেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া আমার বন্ধুদের মধ্যে যারা ধানমন্ডিতে থাকতেন এবং যারা ধানমন্ডির বাইরে থাকতেন, তারা আমার বাসায় আসতেন। তাদের মধ্যে যাদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা ছিল, তারা হলেন তওহিদ সামাদ, আহমেদ সালমান ফজলুর রহমান (সালমান এফ রহমান), শেখ কামাল, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, নিজাম আহমেদ, খায়রুল বাশার, ইরফান খান, ইমরান আহমেদ, কাজী আনোয়ার, আবদুস সামাদ, কাইয়ুম রেজা চৌধুরীসহ আরও অনেকে। সিনিয়রদের মধ্যে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। তার সমসাময়িক যেমন আবদুর রউফ, তোফায়েল আহমেদ, খালেদ মোহাম্মদ আলী, সিরাজুল আলম খান, আবদুল কুদ্দুস মাখন, শাজাহান সিরাজদের আমন্ত্রণ জানাতেন। আন্দোলনকে বেগবান করতে তারা আমার বাড়িতে মিলিত হতেন। সিনিয়রদের এসব মিটিংয়ে আতিথেয়তা দেয়াই ছিল আমার কাজ। এসব নেতার অনেকে আমার পিতার সঙ্গেও প্রায়ই দেখা করতেন। তিনি বলেন, ছাত্রলীগ এবং ছাত্র ইউনিয়নের বন্ধুদের সঙ্গে আমিও ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানের ঐতিহাসিক সমাবেশে অংশ নিয়েছিলাম। সে ঐতিহাসিক বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের আকাঙ্ক্ষাই ব্যক্ত করেছিলেন। এটা দাবি করা হয়ে থাকে যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ কার্যত স্বাধীনতার ঘোষণা। ওই ঐতিহাসিক সমাবেশে আমার উপস্থিতি সুনিশ্চিত করতে পারেন—এমন বহুসংখ্যক ব্যক্তির মধ্যে রয়েছেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম, তোফায়েল আহমেদ, মনিরুল হক চৌধুরী, নূরে আলম সিদ্দিকী, শাজাহান সিরাজ, সালমান এফ রহমান, খায়রুল বাশার, নিজাম আহমেদ, কাইয়ুম রেজা চৌধুরী, ড. বেলাল বাকী, তওহিদ সামাদসহ আরও অনেকে। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আমার পিতা ফজলুল কাদের চৌধুরীর একাধিক বৈঠক হয়। ওইসব বৈঠকের খবর সে সময়কার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছিল।
মধ্যাহ্ন বিরতির আগে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী তার অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে গতকালের মতো জবানবন্দি শেষ করার আবেদন জানান। এ সময় ট্রাইব্যুনাল বলে, আপনাকে তো জবানবন্দি শেষ করতে হবে। আপনি ইতিহাসের কথা বলছেন, তা শুনে আমাদের কী লাভ। এ সময় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, আমার বিরুদ্ধে তো ইতিহাসের কথাই বলা হয়েছে। পলাশী থেকে শুরু করা হয়েছে। দেড় বছর আমার বিরুদ্ধে বলা হয়েছে। অথচ আমাকে বলতে দেয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, সাঈদী সাহেবের মামলার সময় বলা হয়েছে, এখনকার সাঈদীর বিচার হচ্ছে না। দেলু শিকদারের বিচার হচ্ছে। আমার ব্যাপারে বলা হচ্ছে ফজলুল কাদের চৌধুরীর ছেলের বিচার হচ্ছে, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিচার হচ্ছে না। আপনাদের লিমিটেশন আমি বুঝি, আমার লিমিটেশনও আমি বুঝি। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকেও দীর্ঘ জবানবন্দিতে আপত্তি জানানো হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল আজ পর্যন্ত জবানবন্দি মুলতবি করে। একইসঙ্গে আজকের মধ্যে জবানবন্দি শেষ করতে বলা হয়।
সাফাই সাক্ষ্য দিতে তিন সাক্ষীর নামে সমন জারি : সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিতে তিন সাক্ষীর নামে সমন (তলবনামা) জারি করেছে প্রথম ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেয়। আদেশে এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, সাবেক প্রধান বিচারপতি মাঈনুর রেজা চৌধুরীর ভাই এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য কাইয়ুম রেজা চৌধুরী ও নিজাম আহমেদের নামে এই সমন দেয়া হয়। তবে অপর সাফাই সাক্ষী বিচারপতি শামীম হাসনাইন সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক হওয়ায় তার নামে সমন জারি করেনি ট্রাইব্যুনাল। এ সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালের আদেশে বলা হয়, শামীম হাসনাইন হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার সম্মতি ছাড়া তার নামে কোনো তলবনামা জারি করা হবে না।
প্রসঙ্গত গত ২৭ জুন সালাহউদ্দিন কাদেরের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিতে চারজন সাক্ষীর নামের তালিকা ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেন আইনজীবীরা। ওইদিনই সাক্ষীদের নামে সমন জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন কাদেরের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম। তিনি আমার দেশ-কে বলেন, সাক্ষীদের নামে সমন জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল। আজ (রোববার) সমন জারির আদেশনামা হাতে পেয়েছি।
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিতে ১১শ’ ৫৩ জনের নামের তালিকা ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৩ জুন ট্রাইব্যুনাল এ তালিকার মধ্য থেকে থেকে মাত্র ৫ জনকে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য নির্ধারণ করে দেয়। এই ৫ জনের মধ্যে সালাহউদ্দিন কাদের নিজেই নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিচ্ছেন।
আজহারের বিরুদ্ধে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে অভিযোগ দাখিলের নির্দেশ : একই অভিযোগে আটক জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে আগামী ১৫ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। গতকাল রোববার বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন অপরাধ প্রথম ট্রাইব্যুনাল এ নির্দেশ দেয়।
এর আগে গত ৮ মে প্রসিকিউশন তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করলে ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩০ জুন দিন ধার্য করে দেয়।
প্রসিকিউটর একেএম সাইফুল ইসলাম গতকাল ট্রাইব্যুনালের কাছে দুই সপ্তাহের সময় আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের নির্দেশ দেন। এর আগে গত ১৯ মার্চ আজহারের বিরুদ্ধে তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট জমা দেয়ার পর ট্রাইব্যুনাল ৮ মে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর আগে প্রসিকিউশনে এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি আজহারকে সেফ হোমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের এ নেতাকে তদন্তের স্বার্থে সেফ হোমে নিয়ে একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয় ট্রাইব্যুনাল।
মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের আদেশে মগবাজারে আজহারের নিজ বাসা থেকে গত বছরের ২২ আগস্ট তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
আইনজীবীর ওপর সাক্ষীর হামলা, লিখিত জবাব দাখিল : জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের আইনজীবীর ওপর হামলার বিষয়ে আদালত অবমাননার লিখিত জবাব দাখিল করেছেন সাক্ষী জালাল উদ্দিন ওরফে বিচ্ছু জালাল। পরে মুজাহিদের আইনজীবী সময় আবেদন করলে আগামী ১১ জুলাই এ বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল।
গতকাল রোববার শুনানিতে আইনজীবী মুহসীন রশিদ তার লিখিত জবাবে বলেন, ঘটনার আগে-পরে দুই মাসের মধ্যে কাকরাইল এবং পল্টন এরিয়ায় অভিযুক্ত সাক্ষী বিচ্ছু জালাল যাননি। তার বিরুদ্ধে আনীত আইনজীবীর ওপর হামলার ঘটনা সম্পূর্ণ সাজানো। তিনি এসব ঘটনা সম্পর্কে জানেন না। এমন কোনো ঘটনা আদৌ সেখানে ঘটেনি।
শুনানিতে মুন্সী আহসান কবিরের ডিফেন্সের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, আমরা এই লিখিত জবাবের পাল্টা জবাব দাখিল করব এবং আমাদের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক উপস্থিত নেই। তাই সময় আবেদন করছি। পরে আগামী ১১ জুলাই দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ মে মুন্সী আহসান কবিরের ওপর প্রসিকিউশনের সাক্ষী জহির উদ্দিন ওরফে বিচ্ছু জালাল হামলা চালিয়ে তাকে কিল, ঘুসি, লাথি, মারধর ও লাঞ্ছিত করে। তারই প্রেক্ষিতে গত ২৮ মে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে ৫ জুন ট্রাইব্যুনালে বিচ্ছু জালালকে হাজির হয়ে আইনজীবীর ওপর হামলার কারণ ব্যাখ্যা করার নির্দশ দেয়। পরে গত ৫ জুন বিচ্ছু জালালের আইনজীবী সময় আবেদন করলে ৩০ জুন পর্যন্ত সময় দেয় ট্রাইব্যুনাল।
শুনানিতে জালালের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মহসীন রশিদ। অপরদিকে ছিলেন আইনজীবী আহসানুল হক হেনা, অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী ও এসএম শাহজাহান প্রমুখ।
আলীমের বিরুদ্ধে আরও দুই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ : একই অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আরও দুই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। এরা হচ্ছেন ২৮তম সাক্ষী মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের কর্মকর্তা আমিনা খাতুন ও ২৯তম সাক্ষী একই প্রতিষ্ঠানের গবেষণা কর্মকর্তা-কাম লাইব্রেরিয়ান একেএম মুমিনুল ইসলাম। ৩০তম সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আজ দিন ধার্য করেছে চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল। আবদুল আলীমের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটসহ মানবতাবিরোধী নানা অপরাধের মোট ১৭টি অভিযোগ আনা হয়েছে।